প্রিন্ট এর তারিখ : ০৭ অক্টোবর ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ০৭ অক্টোবর ২০২৬
ফটিকছড়িতে ছাগল বিতরণে অনিয়মের অভিযোগ
TV 26 NEWS ডেস্ক : ||
সরকারের সমন্বিত প্রাণিসম্পদ উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় চট্টগ্রামের ফটিকছড়িতে ছাগল বিতরণে নানা অনিয়ম ও অসংগতির অভিযোগ উঠেছে। মাস্টাররোলে নাম না থাকা ব্যক্তিকে ছাগল দেওয়া, উপকারভোগীদের স্বাক্ষর জাল, একাধিক ব্যক্তির নামে একই মোবাইল নম্বর ব্যবহার এবং বিনামূল্যের ছাগলের জন্য টাকা নেওয়ার অভিযোগ করেছেন কয়েকজন উপকারভোগী।
দক্ষিণ ফটিকছড়ির খিরাম ইউনিয়নের জঙ্গল মগকাটা গ্রামের সুরেশ চাকমার নাম প্রকল্পের মাস্টাররোলে নেই। তবে তার দাবি, তিনি প্রকল্পের আওতায় দুটি ছাগল পেয়েছেন। কোনো কাগজে স্বাক্ষর করেননি বলেও জানান তিনি। তার অভিযোগ, প্রকল্পের মাঠকর্মী দীপঙ্কর চাকমাকে টাকা দেওয়ার পর তিনি ছাগল পেয়েছেন।
একই এলাকার শোভা চাকমা ও জীবন পুরন চাকমার নাম মাস্টাররোলে থাকলেও সেখানে থাকা স্বাক্ষর তাদের নয় বলে দাবি করেছেন তারা। জীবন পুরন বলেন, ছাগল পেতে তাকে এক হাজার টাকা দিতে হয়েছে।
খিরাম ইউনিয়নের মাস্টাররোলে একাধিক উপকারভোগীর নামে একই মোবাইল নম্বর ব্যবহারের তথ্য পাওয়া গেছে। নম্বরটি মাঠকর্মী দীপঙ্কর চাকমার বলে জানা গেছে। তবে দীপঙ্কর বলেন, অনেক উপকারভোগীর নিজস্ব মোবাইল না থাকায় একই নম্বর ব্যবহার করা হয়েছে।
বিনামূল্যের ছাগলের জন্য ৮০০ থেকে ১ হাজার ২০০ টাকা নেওয়ার অভিযোগের বিষয়ে দীপঙ্কর চাকমা বলেন, পরিবহন খরচ বাবদ এসব টাকা নেওয়া হয়েছে। তবে এ অর্থ নেওয়ার সরকারি অনুমোদন বা রসিদের বিষয়ে তিনি সুনির্দিষ্ট ব্যাখ্যা দেননি।
প্রকল্পের দ্বিতীয় ধাপের কার্যাদেশে মেসার্স তুষার এন্টারপ্রাইজ ও মেসার্স লুৎফা এন্টারপ্রাইজের নাম থাকলেও ট্রেজারি-সংক্রান্ত তথ্য অনুযায়ী ‘দুর্বার ট্রেডিং ইন্টারন্যাশনাল’ নামে তৃতীয় একটি প্রতিষ্ঠান অর্থ উত্তোলন করেছে বলে জানা গেছে। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের কাছ থেকে সুনির্দিষ্ট ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি।
ছাগল গ্রহণ কমিটিতে উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা ও ভেটেরিনারি সার্জন থাকলেও তারা ছাগল গ্রহণের বিষয়ে অবহিত ছিলেন না বলে জানা গেছে। উপজেলা ভেটেরিনারি সার্জন ডা. জাহাঙ্গীর মাহমুদ রাকিব বলেন, ছাগল বিতরণ বা টিকাদানের বিষয়ে তাকে জানানো হয়নি।
প্রকল্পের প্রথম ধাপে উপকারভোগীদের জন্য বরাদ্দ ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা নগদ সহায়তা বিতরণ না করে ফেরত দেওয়া হয়েছে বলেও সংশ্লিষ্ট নথিতে তথ্য পাওয়া গেছে। তবে কেন অর্থ বিতরণ করা হয়নি, সে বিষয়ে সুনির্দিষ্ট ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি।
অভিযোগের বিষয়ে উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. আবদুল মমিন বলেন, প্রকল্পের সব উপকরণ ও অর্থ উপকারভোগীদের মধ্যে বিতরণ করা হয়েছে। তবে তিনি স্বীকার করেন, ‘কিছু ভায়োলেশন হয়েছে, যা ঠিক হয়নি।’ সময়মতো পরিপত্র না পাওয়ায় এসব হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
এর আগে অভিযোগ তদন্তে জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা মো. জাহাঙ্গীর আলমকে প্রধান করে দুই সদস্যের কমিটি গঠন করা হলেও কয়েকদিন পরই তাকে সিলেটে বদলি করা হয়। এতে তদন্তের অগ্রগতি নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
প্রকল্প পরিচালক ড. অসীম কুমার দাশ বলেন, নিয়ম অনুযায়ী উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তার ইউএনওর সঙ্গে সমন্বয় করে প্রকল্প বাস্তবায়নের কথা থাকলেও তা করা হয়নি। বিষয়টি তদন্তে কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্তে অর্থ গ্রহণে অনিয়ম প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা করা হবে বলেও জানান তিনি।
এদিকে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর জীবনমান নিয়ে কাজ করা বাংলাদেশ আদিবাসী ফোরামের চট্টগ্রাম উত্তর জেলা সমন্বয়ক জুনিয়া ত্রিপুরা অভিযোগগুলোর যথাযথ তদন্ত করে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
সম্পাদক ও প্রকাশকঃ ফোরকানুল হক (সাকিব), ব্যবস্থাপনা সম্পাদকঃ সোহাগ আরেফিন
যোগাযোগঃ-০১৮২৮৯১৫৩২০, ০১৯৭৮৯১৫৩২০ ইমেইল : info@tv26news, contact@tv26news.comসম্পাদকীয় ও বানিজ্যিক কার্যালয়ঃ- আরামবাগ, মতিঝিল, ঢাকা- ১০০০।
কপিরাইট © ২০২৬ টিভি ২৬ নিউজ । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত