প্রিন্ট এর তারিখ : ০৭ অক্টোবর ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ০৭ অক্টোবর ২০২৬
১০ হাজার রোহিঙ্গাকে ফেরত, আরও পাঠাতে মিয়ানমারের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে আলোচনায় মালয়েশিয়া
TV 26 NEWS ডেস্ক : ||
এ বছর ইতিমধ্যেই ১০ হাজারের অধিক রোহিঙ্গাকে মিয়ানমারে প্রত্যাবাসন করা হয়েছে বলে উল্লেখ করেছেন মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম। চলতি সপ্তাহে কুয়ালালামপুরে মিয়ানমারের প্রেসিডেন্ট মিন অং হ্লাইংয়ের সঙ্গে আসন্ন বৈঠকে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের এ গতি আরও জোরদার করার প্রস্তাব তুলবেন তিনি।
মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) মার্কিন সংবাদমাধ্যম ব্লুমবার্গের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সাবেক জান্তাপ্রধান মিন অং হ্লাইং এখন মিয়ানমারের প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। পার্লামেন্টে আনোয়ার ইব্রাহিম বলেন, মালয়েশিয়ায় থাকা রোহিঙ্গাদের নিজ দেশে ফেরত পাঠাতে তিনি মিন অং হ্লাইংয়ের সঙ্গে আলোচনা করবেন। তার মতে, মিন অং হ্লাইংয়ের মালয়েশিয়া সফরের অন্যতম মূল বিষয় হলো দেশটিতে থাকা রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসন নিয়ে কথা বলা। যদিও তিনি এর বিস্তারিত কিছু বলেননি।
মালয়েশিয়ায় আনুমানিক দুই লাখ রোহিঙ্গা শরণার্থী রয়েছে। গত সপ্তাহে যুদ্ধবিধ্বস্ত মিয়ানমারের পাঁচ হাজারের বেশি মানুষকে ফেরত পাঠানোর পরিকল্পনার প্রথম ধাপে ১ হাজার ৪৭৬ জন মিয়ানমারের নাগরিককে পাঠানো হয়। মিয়ানমারের সঙ্গে সমন্বয় করে চলা এই কর্মসূচিকে মালয়েশিয়া সরকার ‘স্বেচ্ছায় ও পর্যায়ক্রমিক প্রত্যাবাসন’ হিসেবে বর্ণনা করেছে। তবে মিয়ানমারে চলমান সংঘাতের কারণে জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থাসহ বিভিন্ন গোষ্ঠীর মধ্যে এ নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
আনোয়ার ইব্রাহিম বলেন, মিয়ানমারকে আমরা যে শর্ত দিয়েছি, তার মধ্যে প্রথমত তাদের নিজস্ব নাগরিকদের ফেরত নিতে হবে এবং নিজ দেশের মানুষের সঙ্গে মানবিক আচরণের নিশ্চয়তা দিতে হবে। তিনি আরও বলেন, যেসব মানবাধিকার সংগঠন এ পরিকল্পনা নিয়ে উদ্বেগ জানিয়েছে, তারা মালয়েশিয়ার শরণার্থী সমস্যার কোনো বিকল্প সমাধানও দেয়নি। জানুয়ারি থেকে ফেরত পাঠানো ১০ হাজারের বেশি মানুষ সবাই নিজ নিজ সম্মতিতেই গিয়েছেন বলে তিনি জানান।
আইনপ্রণেতাদের উদ্দেশে আনোয়ার বলেন, মিয়ানমার সরকার ও তাদের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আমাদের পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে আশ্বাস দিয়েছেন। প্রেসিডেন্টও আমাকে আশ্বাস দিয়েছেন। তাদের প্রত্যাবাসনের বিষয়ে আমরা সর্বোচ্চ এতটুকুই করতে পারি। তা না হলে এর কোনো সমাধান নেই।
২০২১ সালে আং সান সু চির নির্বাচিত সরকারের বিরুদ্ধে সামরিক অভ্যুত্থানের পর থেকে মিন অং হ্লাইং প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। আনোয়ার জানান, থাইল্যান্ড, কম্বোডিয়া, লাওস ও ভিয়েতনামও মিয়ানমারের প্রেসিডেন্টকে তাদের দেশ সফরের আমন্ত্রণ জানিয়েছে।
দীর্ঘদিন ধরে মালয়েশিয়া মিয়ানমারের নাগরিকদের, বিশেষ করে নির্যাতনের শিকার রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিয়ে আসছে। তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে রোহিঙ্গাদের প্রতি সাধারণ মানুষের মনোভাব অনেকটা কঠোর হয়েছে। সোশ্যাল মিডিয়ায় এ গোষ্ঠী নিয়ে প্রতিকূল ও কখনো কখনো ভুয়া তথ্যও ছড়াচ্ছে।
মালয়েশিয়া তার অভ্যন্তরীণ আইনে শরণার্থীদের আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি দেয় না। ফলে তারা কাজের অধিকার থেকে বঞ্চিত থাকে এবং গ্রেফতার বা অভিবাসন আটকের ঝুঁকিতে থাকে। ইতোমধ্যে সরকার শরণার্থী ব্যবস্থাপনায় জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থার ভূমিকা পর্যালোচনা করছে। মঙ্গলবার আনোয়ার ইব্রাহিম বলেন, দেশ যেন আন্তর্জাতিক নিয়ম মেনে চলে, সেজন্য জাতিসংঘের সঙ্গে আলোচনা করবে মালয়েশিয়া।
পার্লামেন্টে তিনি আরও বলেন, আমাদের দেশের বিষয় আমাদের নিজস্ব প্রতিষ্ঠান দিয়েই পরিচালিত হওয়া উচিত। কে যোগ্য, কে যোগ্য নয় তা কোনো বিদেশি কর্মকর্তা ঠিক করে দেবেন না।
সম্পাদক ও প্রকাশকঃ ফোরকানুল হক (সাকিব), ব্যবস্থাপনা সম্পাদকঃ সোহাগ আরেফিন
যোগাযোগঃ-০১৮২৮৯১৫৩২০, ০১৯৭৮৯১৫৩২০ ইমেইল : info@tv26news, contact@tv26news.comসম্পাদকীয় ও বানিজ্যিক কার্যালয়ঃ- আরামবাগ, মতিঝিল, ঢাকা- ১০০০।
কপিরাইট © ২০২৬ টিভি ২৬ নিউজ । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত