প্রিন্ট এর তারিখ : ১১ অক্টোবর ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ১১ অক্টোবর ২০২৬
মঠবাড়িয়ায় মাদ্রাসার চার শিক্ষকের বিরুদ্ধে জাল সনদে চাকরির অভিযোগ
TV 26 NEWS ডেস্ক : ||
পিরোজপুরের মঠবাড়িয়া উপজেলার তাফালবাড়িয়া হাসানিয়া আলিম মাদ্রাসার চার শিক্ষকের বিরুদ্ধে জাল নিবন্ধন সনদ ব্যবহার করে চাকরি করার অভিযোগ উঠেছে। একই সঙ্গে প্রতিষ্ঠানটিতে শিক্ষক-কর্মচারীদের অনিয়মিত উপস্থিতি, বেতন-ভাতা উত্তোলনে জাল স্বাক্ষর ব্যবহার এবং নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগও করেছেন মাদ্রাসার সাবেক ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মাওলানা মো. জাকারিয়া।
অভিযোগের বিষয়ে জেলা শিক্ষা অফিসের পরিদর্শক তাপস কুমার অনিয়ম ও দুর্নীতির ঘটনায় হতাশা প্রকাশ করেছেন। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের অবহিত করার কথাও জানিয়েছেন তিনি।
অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, মাদ্রাসাটিতে শিক্ষক-কর্মচারী রয়েছেন ২১ জন। তবে দীর্ঘদিন ধরে তাদের মধ্যে সাতজনের বেশি নিয়মিত উপস্থিত থাকেন না বলে অভিযোগ রয়েছে। অনিয়মিত শিক্ষকেরা বেতন-ভাতা উত্তোলন কিংবা বিশেষ প্রয়োজনে প্রতিষ্ঠানে এসে আগের দিনের হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর করেন বলেও অভিযোগ করা হয়েছে। বিভিন্ন সময় বেতন-ভাতা উত্তোলনে জাল স্বাক্ষর ব্যবহারের অভিযোগও রয়েছে।
মাওলানা মো. জাকারিয়া জানান, মাদ্রাসাটির চার শিক্ষক অবৈধ পন্থায় চাকরি নিয়েছেন এবং তাদের নিবন্ধন সনদ জাল। তাদের মধ্যে মো. মহিবুল্লাহ ২০১৪ সালে বিএ পদের বিপরীতে সাধারণ শিক্ষক হিসেবে চাকরিতে যোগ দেন। পরে ২০২২ সালের মার্চে প্রভাষক হিসেবে বেতন-ভাতা গ্রহণ শুরু করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। তিনি বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষের (এনটিআরসিএ) মাধ্যমে নিয়োগ না পেয়ে পরিচালনা কমিটির মাধ্যমে নিয়োগ পেয়েছেন বলেও দাবি করা হয়।
ইবতেদায়ি প্রধান মো. তৈবুর রহমানের ফাজিল সনদ নেই বলে অভিযোগ করেছেন সাবেক ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ। তার দাবি, ২০২৪ সালে তাকে ইবতেদায়ি প্রধান পদে নিয়োগ দেওয়া হয়। সংশ্লিষ্ট কয়েকজন শিক্ষকের ভাষ্য, তার নিবন্ধনের যোগ্যতা দিয়ে ওই পদে নিয়োগের সুযোগ নেই।
ইংরেজি বিভাগের প্রভাষক মো. মারুফ ২০১৪ সালে জাল নিবন্ধন সনদ ব্যবহার করে এবং এনটিআরসিএর সুপারিশ ছাড়াই চাকরিতে যোগ দেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
অন্যদিকে, ইতিহাস বিভাগের প্রভাষক মো. আলমগীর হোসেন ২০০৪ সালে জাল নিবন্ধন সনদ দিয়ে গোপনে চাকরিতে যোগ দেন বলে দাবি করেছেন মাওলানা জাকারিয়া। তার অভিযোগ, আলমগীর ২০২২ সালের মার্চ থেকে বেতন-ভাতা পেতে শুরু করেন।
মাওলানা মো. জাকারিয়া আরও অভিযোগ করেন, তাকে একদিনের জন্য ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের দায়িত্ব থেকে সরিয়ে মো. মহিবুল্লাহকে ওই দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। এ সময় মোটা অঙ্কের অর্থের বিনিময়ে একজন শিক্ষক ও চারজন কর্মচারীকে বিধিবহির্ভূতভাবে নিয়োগ দেওয়া হয় বলে দাবি করেন তিনি।
তার অভিযোগ, মাওলানা মো. রুহুল আমিন অনিয়মিত শিক্ষকদের কাছ থেকে কমিশন নিয়ে তাদের বেতন-ভাতার বিল তৈরি করেন। এ ছাড়া সাবেক অধ্যক্ষ মাওলানা মো. খলিলুর রহমান প্রতিষ্ঠানের তহবিল থেকে প্রায় দেড় লাখ টাকা তুলে নিয়েছেন বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
অভিযোগের বিষয়ে মো. মহিবুল্লাহ বলেন, আমার সব কাগজপত্র ঠিক আছে। তবে তিনি সেগুলো দেখাতে রাজি হননি। একই সঙ্গে সংবাদ প্রকাশ না করার অনুরোধ জানান।
মো. আলমগীর হোসেন প্রথমে সাংবাদিকদের সঙ্গে উত্তেজিত আচরণ করেন। পরে তিনি তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ মিথ্যা বলে দাবি করেন এবং সংবাদ প্রকাশ না করার অনুরোধ জানান।
মো. তৈবুর রহমানের বক্তব্য জানতে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি কথা বলতে রাজি হননি। ইংরেজি বিভাগের প্রভাষক মো. মারুফ অনুপস্থিত থাকায় তার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।
মাদ্রাসার ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মাওলানা মো. রুহুল আমিন বলেন, জ্যেষ্ঠতার ভিত্তিতে আমাকে অধ্যক্ষের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তবে এ বিষয়ে কোনো রেজুলেশন বা নিয়োগসংক্রান্ত চিঠি দেখাতে পারেননি তিনি। অনিয়মিত শিক্ষকদের বেতন-ভাতার বিল তৈরি এবং প্রতিষ্ঠানের তহবিল থেকে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ সম্পর্কে জানতে চাওয়া হলে তিনি স্পষ্ট কোনো জবাব দেননি
উপজেলা মাধ্যমিক একাডেমিক সুপারভাইজার মো. নজরুল ইসলাম বলেন, বেতন-ভাতার বিল তৈরির দায়িত্ব অধ্যক্ষ ও সভাপতির। তারা বিল তৈরি করে দিলে আমি আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাক্ষর করি। এ ক্ষেত্রে দায় তাদের বলে মন্তব্য করেন তিনি।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আতাউর রাব্বি বলেন, অভিযোগগুলো তদন্ত করে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সম্পাদক ও প্রকাশকঃ ফোরকানুল হক (সাকিব), ব্যবস্থাপনা সম্পাদকঃ সোহাগ আরেফিন
যোগাযোগঃ-০১৮২৮৯১৫৩২০, ০১৯৭৮৯১৫৩২০ ইমেইল : info@tv26news, contact@tv26news.comসম্পাদকীয় ও বানিজ্যিক কার্যালয়ঃ- আরামবাগ, মতিঝিল, ঢাকা- ১০০০।
কপিরাইট © ২০২৬ টিভি ২৬ নিউজ । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত