প্রিন্ট এর তারিখ : ১৮ অক্টোবর ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ১৭ অক্টোবর ২০২৬
ডিমের দামে পরিবর্তন, স্বস্তি নেই সবজিতে
TV 26 NEWS ডেস্ক : ||
মাসিক আয় বাড়ছে না, অথচ প্রতিদিনই বাড়ছে সংসার চালানোর খরচ। নতুন শীতকালীন সবজি বাজারে আসতে শুরু করলেও কমেনি দাম। অধিকাংশ সবজি কিনতে কেজিপ্রতি গুনতে হচ্ছে ৮০ টাকার বেশি। কিছু পণ্যে লাগামহীন দাম। মুরগির বাজারও চড়া। মাছের দামও সাধারণ ক্রেতাদের নাগালের বাইরে। এর মধ্যে ডিমের দামে কিছুটা কমতি দেখা গেলেও তা সামগ্রিক বাজার ব্যয়ে তেমন স্বস্তি আনতে পারছে না। ফলে নিত্যপণ্যের বাড়তি দামে আয়ের সঙ্গে ব্যয়ের হিসাব মেলাতে হিমশিম খাচ্ছেন নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের মানুষ।
আজ শনিবার রাজধানীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা যায়, বাজারভেদে পণ্যের দামে কিছুটা পার্থক্য থাকলেও অধিকাংশ সবজি, মাছ ও মুরগি বিক্রি হচ্ছে চড়া দামে। এতে সীমিত আয়ের ক্রেতাদের প্রয়োজনের তুলনায় কম পণ্য কিনে ফিরতে হচ্ছে।
সবজির দামে স্বস্তি নেই
শীতের আগাম সবজি বাজারে উঠতে শুরু করেছে। তবে সরবরাহ বাড়ার সুফল এখনো খুচরা বাজারে সেভাবে দেখা যাচ্ছে না। প্রতি কেজি টমেটো বিক্রি হচ্ছে ১৬০ টাকা এবং গাজর ১০০ থেকে ১২০ টাকায়। নতুন আসা সিমের দাম ১২০ থেকে ১৪০ টাকা। কাঁচা মরিচ বিক্রি হচ্ছে ১৪০ টাকা কেজি দরে। বাঁধা কপি প্রতি পিস ৬০ থেকে ৭০ টাকা, ফুলকপি ৮০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।
এ ছাড়া লম্বা বেগুনের কেজি ৮০ টাকা, সাদা গোল বেগুন ১০০ টাকা এবং কালো গোল বেগুন ১৪০ টাকা। দেশি শসা ১০০ টাকা, করলা ও কাকরোল ৮০ টাকা এবং ঝিঙা ও বরবটি ৭০ থেকে ৮০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। ছোট আকারের ফুলকপি ৭০ থেকে ৮০ টাকা এবং প্রতিটি চালকুমড়া ৬০ টাকায় বিক্রি হতে দেখা গেছে।
তবে তুলনামূলক কম দামে পাওয়া যাচ্ছে পেঁপে ও মিষ্টি কুমড়া। প্রতি কেজি পেঁপে ৩০ টাকা এবং মিষ্টি কুমড়া ৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
ডিমে কিছুটা স্বস্তি, চড়া মুরগি ও মাছ
সবজির পাশাপাশি আমিষজাতীয় পণ্যের দামও চাপে রেখেছে ক্রেতাদের। চলতি সপ্তাহে ডিমের দাম ডজনপ্রতি প্রায় ১০ টাকা কমেছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট বিক্রেতারা। বর্তমানে প্রতি ডজন লাল ডিম ১৪০ থেকে ১৪৫ টাকা এবং সাদা ডিম ১৩০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
তবে মুরগির বাজারে তেমন স্বস্তি নেই। প্রতি কেজি ব্রয়লার মুরগি বিক্রি হচ্ছে ১৮০ থেকে ১৯০ টাকায়। সোনালি বা কক মুরগির দাম ৩১০ থেকে ৩৩০ টাকা কেজি।
মাছের বাজারেও চড়া দাম অব্যাহত রয়েছে। আকার ও মানভেদে প্রতি কেজি রুই ও কাতলা মাছ ৩০০ থেকে ৬০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। তেলাপিয়া মাছের কেজি ২৩০ টাকা এবং পাঙাস ২২০ টাকা। ফলে তুলনামূলক কম দামের মাছ কিনতেও বাড়তি অর্থ ব্যয় করতে হচ্ছে ক্রেতাদের।
বাড়তি খরচের চাপে ক্রেতারা
বিক্রেতারা বলছেন, পাইকারি বাজারে কিছু পণ্যের সরবরাহ বাড়লেও পরিবহন ব্যয় ও অন্যান্য খরচের কারণে খুচরা পর্যায়ে দাম কমছে না। শীত পুরোপুরি শুরু হলে সবজির সরবরাহ আরও বাড়বে এবং দাম কমতে পারে বলে আশা করছেন তারা।
খুচরা কাঁচামাল বিক্রেতা মো. সেলিম বলেন, পাইকারি বাজারে কিছু পণ্যের সরবরাহ আগের চেয়ে ভালো। শীত পুরোপুরি শুরু হলে সরবরাহ আরও বাড়বে। আশা করছি, দ্রুতই সবজির দাম স্বাভাবিক পর্যায়ে চলে আসবে।
অন্যদিকে বাজারে নিয়মিত তদারকির অভাব ও বাড়তি দামের কারণে ক্ষোভ জানিয়েছেন ক্রেতারা। বাজার করতে আসা গৃহিণী সায়মা আক্তার বলেন, প্রতিটি জিনিসের দাম এখন লাগামছাড়া। বাজারে কোনও তদারকি নেই। ব্রয়লার মুরগি কিংবা সাধারণ মাছও যদি কেজিপ্রতি ২০০ টাকার ওপরে কিনতে হয়, তবে সীমিত আয়ে পরিবার চালানো অসম্ভব। ডিমের দাম সামান্য কমলেও সামগ্রিক বাজার খরচে তার কোনও প্রভাবই পড়ছে না।’
সব মিলিয়ে, ডিমের দামে সামান্য পরিবর্তন ছাড়া নিত্যপণ্যের বাজারে বড় কোনও স্বস্তি নেই। শীতকালীন সবজির সরবরাহ বাড়লে দাম কমবে এমন প্রত্যাশা থাকলেও আপাতত বাড়তি বাজার খরচের চাপ সামলাতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে।
সম্পাদক ও প্রকাশকঃ ফোরকানুল হক (সাকিব), ব্যবস্থাপনা সম্পাদকঃ সোহাগ আরেফিন
যোগাযোগঃ-০১৮২৮৯১৫৩২০, ০১৯৭৮৯১৫৩২০ ইমেইল : info@tv26news, contact@tv26news.comসম্পাদকীয় ও বানিজ্যিক কার্যালয়ঃ- আরামবাগ, মতিঝিল, ঢাকা- ১০০০।
কপিরাইট © ২০২৬ টিভি ২৬ নিউজ । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত