প্রিন্ট এর তারিখ : ০৮ নভেম্বর ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ০৭ নভেম্বর ২০২৬
সাড়ে চার বছরেও শেষ হয়নি সড়কের কাজ
TV 26 NEWS ডেস্ক : ||
ফরিদপুরের সদরপুরে প্রায় চার কোটি টাকা ব্যয়ে জাইকার অর্থায়নে নির্মিত একটি এইচবিবি (হেরিংবোন বন্ড) সড়কের কাজ সাড়ে চার বছরেও শেষ হয়নি। ২০২২ সালের এপ্রিলে কাজ শুরু হলেও এ পর্যন্ত অর্ধেকের কম কাজ সম্পন্ন হয়েছে। অথচ এরই মধ্যে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান বিল বাবদ এক কোটি ৮২ লাখ টাকা তুলে নিয়েছে। এদিকে দীর্ঘদিন ধরে কাজ ফেলে রাখায় পদ্মাবেষ্টিত চরাঞ্চলের দিয়ারা নারিকেলবাড়িয়া ইউনিয়নের হাজার হাজার বাসিন্দা চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন।
উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, জাপান আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থার (জাইকা) অর্থায়নে ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের অধীনে ২০২২ সালের ২৬ এপ্রিল সড়কটির নির্মাণকাজ শুরু হয়। চার হাজার ৭১২ মিটার দীর্ঘ এই সড়ক নির্মাণে বরাদ্দ দেওয়া হয় তিন কোটি ৭৬ লাখ ৬১ হাজার টাকা। কাজটি পায় এম এস মোল্যা কনস্ট্রাকশন নামে একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। ইউনিয়নের নন্দলালপুর ঘাট থেকে শুরু হয়ে সড়কটি ওয়াহেদ মোল্যারকান্দি এলাকার কালা মিয়া শিকদারের দোকান পর্যন্ত বিস্তৃত। তবে আংশিক কিছু কাজ করার পর দীর্ঘদিন ধরে পুরো প্রকল্পটি অসমাপ্ত পড়ে রয়েছে।
পদ্মাবেষ্টিত দিয়ারা নারিকেলবাড়িয়া ইউনিয়নটি যোগাযোগ ও অবকাঠামোগত দিক থেকে এমনিতেই বেশ পিছিয়ে রয়েছে। বর্ষা মৌসুমে ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকা পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় স্বাভাবিক যাতায়াত পুরোপুরি ব্যাহত হয়। কৃষিপণ্য পরিবহন, শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয় যাতায়াতসহ দৈনন্দিন নানা কাজে চরম দুর্ভোগে পড়েন এখানকার বাসিন্দারা।
নন্দলালপুর গ্রামের বাসিন্দা রাজা মিয়া ও ওয়াহেদ মোল্যারকান্দি গ্রামের বাসিন্দা আজগর হোসেন ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, সড়কটির কাজ শুরু হলে দীর্ঘদিনের যোগাযোগ সমস্যার অবসান ঘটবে বলে আশা করেছিলেন তারা। কিন্তু সাড়ে চার বছর পার হয়ে গেলেও সামান্য কিছু কাজ করে তা ফেলে রাখা হয়েছে। বর্ষায় তাদের দুর্ভোগের অন্ত থাকে না। অতি দ্রুত সড়কটির বাকি নির্মাণকাজ শেষ করার জোর দাবি জানান তারা।
দিয়ারা নারিকেলবাড়িয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. নাসিরউদ্দিন সরদার বলেন, ‘সড়কটি ইউনিয়নের মানুষের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে বর্ষা মৌসুমে যোগাযোগব্যবস্থা অনেকটাই বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। নির্মাণকাজ অসমাপ্ত থাকায় সাধারণ মানুষকে অবর্ণনীয় দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে দ্রুত কাজ শেষ করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন।’
অভিযোগের বিষয়ে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এম এস মোল্যা কনস্ট্রাকশনের মালিক মো. কামরুজ্জামান টিটু মোবাইল ফোনে জানান, মোট দৈর্ঘ্যের মধ্যে প্রায় এক হাজার ১০০ মিটার সড়ক ইতোমধ্যে নদীতে বিলীন হয়ে গেছে। অবশিষ্ট তিন হাজার ৬০০ মিটারের মধ্যে দুই হাজার ৪০০ মিটারের নির্মাণকাজ শেষ হয়েছে এবং পুরো সড়কে মাটি ভরাটের কাজও অনেক আগেই সম্পন্ন করা হয়েছে। তাঁর দাবি, এ সড়কে বছরে মাত্র চার মাস কাজ করা সম্ভব হয়, বাকি সময় পানিতে প্লাবিত থাকায় কাজ করা যায় না। তবে বর্ষা শেষ হওয়ায় ইতোমধ্যে কাজ শুরুর প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। দুয়েক দিনের মধ্যে নির্মাণকাজ শুরু হবে এবং আশা করছি, আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে কাজ শেষ করে কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করতে পারব।
তৎকালীন উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মুহাম্মদ আবু এহসান মিয়া জানান, তাঁর দায়িত্ব পালনকালে প্রকল্পটির কাজ শুরু হয়েছিল। প্রকল্পের অগ্রগতি ও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের কাজের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট নথিপত্র দেখে বিস্তারিত বলা যাবে।
বর্তমান উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা নুরুনাহার বেগম জানান, প্রকল্পটির বিষয়ে খোঁজ নেওয়া হচ্ছে। কাজের অগ্রগতি, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের বিল পরিশোধ এবং বাকি
কাজের বিষয়ে নথিপত্র যাচাই করে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং সড়কটির নির্মাণকাজ দ্রুত শেষ করার বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হবে।
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের প্রকল্প পরিচালক মো. মজিবুর রহমান (যুগ্ম সচিব) জানান, বারবার তাগাদা দিলেও ঠিকাদার চুক্তি অনুযায়ী কাজ শেষ করেননি। তাই ঠিকাদারের বিরুদ্ধে টার্মিনেশন ও দুই বছরের জন্য কালো তালিকাভুক্ত করার মতো আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি আরও বলেন, দুর্গম চরাঞ্চলের যোগাযোগ চ্যালেঞ্জ থাকা সত্ত্বেও গত ৩০ জুন শেষ হওয়া প্রকল্পের মেয়াদ আরও দুই বছর বাড়ানোর প্রক্রিয়া চলছে; অনুমোদন পেলেই নারিকেলবাড়িয়া ইউনিয়নের অসমাপ্ত কাজটি পুনঃদরপত্রের মাধ্যমে সম্পন্ন করা হবে।
সম্পাদক ও প্রকাশকঃ ফোরকানুল হক (সাকিব), ব্যবস্থাপনা সম্পাদকঃ সোহাগ আরেফিন
যোগাযোগঃ- +8801828-915320, +8801978-915320 ইমেইল : info@tv26news, contact@tv26news.comসম্পাদকীয় ও বানিজ্যিক কার্যালয়ঃ- আরামবাগ, মতিঝিল, ঢাকা- ১০০০।
কপিরাইট © ২০২৬ টিভি ২৬ নিউজ । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত