প্রিন্ট এর তারিখ : ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ২৩ জুলাই ২০২৬
দুই বছর সেতুর নির্মাণকাজ বন্ধ, ঠিকাদার পলাতক
TV 26 NEWS ডেস্ক : ||
জীবনের ঝুঁকি নিয়ে যুগের পর যুগ খেয়া নৌকায় পারাপার করতেন বংশী নদীর দুই তীরের ১০ গ্রামের বাসিন্দারা। এ দুর্ভোগ লাঘবে বিগত দিনে বিভিন্ন সময়ে এলাকাবাসী মানববন্ধন, বিক্ষোভ, সমাবেশসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করেছেন। দীর্ঘদিনের আন্দোলন ও দাবির মুখে অবশেষে সেতু নির্মাণের উদ্যোগ নেয় সরকার। ২০১৯ সালের ২১ জুলাই ৮২০ ফুট দৈর্ঘ্য ও ২৪ ফুট প্রস্থের নলাম সেতুর নির্মাণকাজের উদ্বোধন করা হয়।
ঢাকার সাভার ও ধামরাই উপজেলার মিলনস্থল বংশী নদীর ওপর নির্মাণাধীন নলাম সেতুটি দুই তীরে অবস্থিত মাইঝাল, পাইছাল, উনাইল, ধামসোনা, গোপালবাড়ীসহ ১০টি গ্রামের মানুষের কাছে শুধু একটি অবকাঠামো নয়, এটি একটি উন্নত যোগাযোগ, নিরাপদ যাতায়াত এবং অর্থনৈতিক অগ্রগতির মাধ্যম।
প্রকল্পটির ব্যয় নির্ধারণ করা হয় ২১ কোটি ৫৩ লাখ টাকা। ২০২২ সালের মধ্যে কাজ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও পরবর্তীতে তিন দফা সময় বাড়িয়ে ২০২৬ সাল পর্যন্ত নেওয়া হয়। কিন্তু এখনও সেতুর নির্মাণকাজ অসম্পূর্ণ। দীর্ঘদিন কাজ প্রায় বন্ধ। এতে এলাকাবাসীর মধ্যে দেখা দিয়েছে ক্ষোভ ও হতাশা। তাদের প্রশ্ন, আর কত বছর অপেক্ষা করলে স্বপ্নের নলাম সেতু বাস্তবে রূপ নেবে? আর কতদিন খেয়া নৌকার ওপর নির্ভর করে চলবে ১০ গ্রামের হাজারো মানুষের জীবন? এলাকায় সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, সেতুটির পশ্চিম পাশের একটি পিলার এখনও হয়নি। ফলে শেষ স্প্যানটি বসানো বাকি রয়েছে। সেতুর দুই প্রান্তের সংযোগ সড়কও হয়নি। সেতুটির নির্মাণকাজ প্রায় ৮০ শতাংশ শেষ হলেও অবশিষ্ট কাজ কবে শেষ হবে কেউ জানে না।
বর্তমানে নদী পারাপারের একমাত্র ভরসা খেয়া নৌকা। প্রতিদিন স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থী, চাকরিজীবী, কৃষক, ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষকে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করে নদী পার হতে হয়। সবচেয়ে ভয়াবহ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয় কোনো রোগী কিংবা প্রসূতিকে হাসপাতালে নেওয়ার সময়। অনেক ক্ষেত্রে একটি নৌকার অপেক্ষাই জীবন-মৃত্যুর প্রশ্ন হয়ে দাঁড়ায়। এলাকাবাসীর অভিযোগ, সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কার্যকর তদারকির অভাব এবং ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের দায়িত্বহীনতার কারণেই প্রকল্পটি ঝুলে আছে।
নলাম গ্রামের ব্যবসায়ী আফজাল হোসেন জানান, সেতুটি সম্পন্ন হলে বদলে দিতে পারে হাজারো মানুষের জীবন। কিন্তু সাত বছর পেরিয়ে গেলেও সেই স্বপ্ন আর বাস্তবে দৃশ্যমান হচ্ছে না। মাইঝাইল গ্রামের পল্লি চিকিৎসক প্রিয়জীবন দাস বলেন, একটি সেতুর অভাবে ১০ গ্রামের হাজারো মানুষ প্রতিদিন দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন। আমরা এলাকাবাসী সেতুর কাজ দ্রুত শেষ করার দাবিতে মানববন্ধন করেছি, সংশ্লিষ্টদের দৃষ্টি আকর্ষণের চেষ্টা করেছি। কিন্তু এখন পর্যন্ত দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি হয়নি। তিনি আরও বলেন, দ্রুত নির্মাণকাজ পুনরায় শুরু করে শেষ না করা হলে ১০ গ্রামের মানুষকে সঙ্গে নিয়ে আন্দোলনে যেতে বাধ্য হব আমরা।
এ ব্যাপারে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কহিনুর অ্যান্ড খোরশেদা এন্টারপ্রাইজের বক্তব্য জানতে তাদের ফোন নম্বরে একাধিকবার কল দিলেও কেউ রিসিভ করেননি। জানা গেছে, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের পর থেকে ঠিকাদার পলাতক রয়েছেন। তখন থেকেই সেতুর কাজও বন্ধ রয়েছে। সাভার উপজেলা প্রকৌশলী কর্মকর্তা মিনারুল ইসলাম জানান, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করতে না পারায় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে একাধিকবার নোটিশ দেওয়া হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ ও কার্যাদেশ বাতিলের জন্য নির্বাহী প্রকৌশলীর কাছে সুপারিশ করা হয়েছে। একই সঙ্গে সেতুর অবশিষ্ট কাজ সম্পন্ন করতে নতুন করে টেন্ডার আহ্বানেরও প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।
সাভার ইউএনও মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে দ্রুত কাজ পুনরায় শুরুর উদ্যোগ নেওয়া হবে।
সম্পাদক ও প্রকাশকঃ ফোরকানুল হক (সাকিব), ব্যবস্থাপনা সম্পাদকঃ সোহাগ আরেফিন
যোগাযোগঃ-০১৮২৮৯১৫৩২০, ০১৯৭৮৯১৫৩২০ ইমেইল : info@tv26news, contact@tv26news.comসম্পাদকীয় ও বানিজ্যিক কার্যালয়ঃ- আরামবাগ, মতিঝিল, ঢাকা- ১০০০।
কপিরাইট © ২০২৬ টিভি ২৬ নিউজ । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত