ঢাকা    শুক্রবার, ০৯ অক্টোবর ২০২৬
ঢাকা    শুক্রবার, ০৯ অক্টোবর ২০২৬
টিভি ২৬ নিউজ
নোটিশ
  • টিভি ২৬ নিউজ  সারাদেশে প্রতিনিধি নিয়োগ দিচ্ছে ফোরকানুল হক (সাকিব) সম্পাদিত " TV 26 NEWS " আগ্রহীরা দ্রুত যোগাযোগ করুন। সব খবর সবার আগে পেতে আমাদের সাথেই থাকুন।
সর্বশেষ

ধর্ষণের অভিযোগে মাদ্রাসা মুহতামিমকে গণধোলাই, উদ্ধারে গিয়ে ওসিসহ ৩ পুলিশ আহত


TV 26 NEWS ডেস্ক :
TV 26 NEWS ডেস্ক :
প্রকাশ ০৮ অক্টোবর ২০২৬ | ০৪:৫১ পিএম
| প্রিন্ট সংস্করণ

ধর্ষণের অভিযোগে মাদ্রাসা মুহতামিমকে গণধোলাই, উদ্ধারে গিয়ে ওসিসহ ৩ পুলিশ আহত
মাদ্রাসার মুহতামিমকে আটক করতে গিয়ে বিক্ষুব্ধ জনতার হামলায় ওসিসহ ৩ পুলিশ আহত।

কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে একাধিক মাদ্রাসাছাত্রকে বলাৎকারের অভিযোগে এক মাদ্রাসার মুহতামিম ও শিক্ষককে আটক করতে গিয়ে বিক্ষুব্ধ জনতার হামলায় দৌলতপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাসহ (ওসি) তিন পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন। এ সময় পুলিশের একটি পিকআপ ভ্যান ভাঙচুর করা হয়।

আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে উপজেলার খলিশাকুন্ডি ইউনিয়নের মালিথাপাড়া এলাকায় অবস্থিত মার্কাজুল মাদ্রাসায় এ ঘটনা ঘটে।

অভিযুক্ত মাদ্রাসা শিক্ষকের নাম আশিকুল্লাহ (৪০)। তিনি যশোরের বাঘারপাড়া থানার জামদিয়া এলাকার মৃত ক্বারী এনামুল্লাহর ছেলে এবং ওই মাদ্রাসার হেফজ বিভাগের শিক্ষক ও মুহতামিম হিসেবে দায়িত্বরত ছিলেন।

জনতার হাত থেকে অভিযুক্ত শিক্ষককে উদ্ধার ও আটক করতে গিয়ে আহত হয়েছেন দৌলতপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খালেদুর রহমান, সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) নজরুল ইসলাম ও কনস্টেবল আজম হোসেন। তাঁদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দা ও ভুক্তভোগী পরিবার সূত্রে জানা যায়, মার্কাজুল মাদ্রাসার হেফজ বিভাগে পড়ুয়া একাধিক ছাত্রকে বিভিন্ন সময় আশিকুল্লাহ যৌন নির্যাতন করে আসছিলেন। বিষয়টি জানাজানি হলে বৃহস্পতিবার দুপুরে ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্য ও বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী মাদ্রাসায় গিয়ে তাঁকে অবরুদ্ধ করে মারধর শুরু করেন।

ভুক্তভোগী এক শিক্ষার্থী অভিযোগ করে বলে, ‘মাদ্রাসার হুজুর বিভিন্ন সময়ে আমার ওপর জোরপূর্বক নির্যাতন চালিয়েছেন। উপায় না পেয়ে বিষয়টি আমি পরিবারকে জানাই। পরে পরিবারের লোকজন এসে মাদ্রাসায় হুজুরকে আটকে রাখে।’

ভুক্তভোগী আরেক শিক্ষার্থীর স্বজন ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘মৃত মায়ের শেষ ইচ্ছা পূরণ করতে ছেলেকে হাফেজ বানানোর উদ্দেশ্যে মাদ্রাসায় দিয়েছিলাম। অথচ সেখানে আমার ছেলে এমন পাশবিক নির্যাতনের শিকার হলো। আমরা এই ঘটনার সুষ্ঠু বিচার ও অভিযুক্তের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।’

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে খলিশাকুন্ডি ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান বেলাল হোসেন বলেন, ‘মাদ্রাসার ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে একাধিক শিক্ষার্থীকে নির্যাতনের অভিযোগ ওঠার পর স্থানীয়রা ক্ষুব্ধ হয়ে তাঁকে অবরুদ্ধ করে। পরে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং শিক্ষককে উদ্ধার করে হেফাজতে নেয়।’

এ বিষয়ে দৌলতপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খালেদুর রহমান বলেন, ‘অভিযুক্ত শিক্ষককে উত্তেজিত জনতার হাত থেকে উদ্ধার করে হেফাজতে নেওয়ার সময় জনতার হামলায় আমিসহ তিন পুলিশ সদস্য আহত হয়েছি। অভিযুক্ত শিক্ষককে আটক করে থানায় আনা হয়েছে। ভুক্তভোগীদের পরিবারের পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

পুলিশের ওসিসহ আহত তিন পুলিশ সদস্য হাসপাতালে চিকিৎসা নেওয়ার বিষয়ে দৌলতপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. তৌহিদুল হাসান তুহিন বলেন, আহতদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।

বিষয় : শিশু পুলিশ খুলনা বিভাগ কুষ্টিয়া

আপনার মতামত লিখুন

টিভি ২৬ নিউজ

শুক্রবার, ০৯ অক্টোবর ২০২৬


ধর্ষণের অভিযোগে মাদ্রাসা মুহতামিমকে গণধোলাই, উদ্ধারে গিয়ে ওসিসহ ৩ পুলিশ আহত

প্রকাশের তারিখ : ০৮ অক্টোবর ২০২৬

featured Image

কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে একাধিক মাদ্রাসাছাত্রকে বলাৎকারের অভিযোগে এক মাদ্রাসার মুহতামিম ও শিক্ষককে আটক করতে গিয়ে বিক্ষুব্ধ জনতার হামলায় দৌলতপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাসহ (ওসি) তিন পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন। এ সময় পুলিশের একটি পিকআপ ভ্যান ভাঙচুর করা হয়।

আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে উপজেলার খলিশাকুন্ডি ইউনিয়নের মালিথাপাড়া এলাকায় অবস্থিত মার্কাজুল মাদ্রাসায় এ ঘটনা ঘটে।

অভিযুক্ত মাদ্রাসা শিক্ষকের নাম আশিকুল্লাহ (৪০)। তিনি যশোরের বাঘারপাড়া থানার জামদিয়া এলাকার মৃত ক্বারী এনামুল্লাহর ছেলে এবং ওই মাদ্রাসার হেফজ বিভাগের শিক্ষক ও মুহতামিম হিসেবে দায়িত্বরত ছিলেন।

জনতার হাত থেকে অভিযুক্ত শিক্ষককে উদ্ধার ও আটক করতে গিয়ে আহত হয়েছেন দৌলতপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খালেদুর রহমান, সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) নজরুল ইসলাম ও কনস্টেবল আজম হোসেন। তাঁদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দা ও ভুক্তভোগী পরিবার সূত্রে জানা যায়, মার্কাজুল মাদ্রাসার হেফজ বিভাগে পড়ুয়া একাধিক ছাত্রকে বিভিন্ন সময় আশিকুল্লাহ যৌন নির্যাতন করে আসছিলেন। বিষয়টি জানাজানি হলে বৃহস্পতিবার দুপুরে ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্য ও বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী মাদ্রাসায় গিয়ে তাঁকে অবরুদ্ধ করে মারধর শুরু করেন।

ভুক্তভোগী এক শিক্ষার্থী অভিযোগ করে বলে, ‘মাদ্রাসার হুজুর বিভিন্ন সময়ে আমার ওপর জোরপূর্বক নির্যাতন চালিয়েছেন। উপায় না পেয়ে বিষয়টি আমি পরিবারকে জানাই। পরে পরিবারের লোকজন এসে মাদ্রাসায় হুজুরকে আটকে রাখে।’

ভুক্তভোগী আরেক শিক্ষার্থীর স্বজন ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘মৃত মায়ের শেষ ইচ্ছা পূরণ করতে ছেলেকে হাফেজ বানানোর উদ্দেশ্যে মাদ্রাসায় দিয়েছিলাম। অথচ সেখানে আমার ছেলে এমন পাশবিক নির্যাতনের শিকার হলো। আমরা এই ঘটনার সুষ্ঠু বিচার ও অভিযুক্তের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।’

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে খলিশাকুন্ডি ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান বেলাল হোসেন বলেন, ‘মাদ্রাসার ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে একাধিক শিক্ষার্থীকে নির্যাতনের অভিযোগ ওঠার পর স্থানীয়রা ক্ষুব্ধ হয়ে তাঁকে অবরুদ্ধ করে। পরে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং শিক্ষককে উদ্ধার করে হেফাজতে নেয়।’

এ বিষয়ে দৌলতপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খালেদুর রহমান বলেন, ‘অভিযুক্ত শিক্ষককে উত্তেজিত জনতার হাত থেকে উদ্ধার করে হেফাজতে নেওয়ার সময় জনতার হামলায় আমিসহ তিন পুলিশ সদস্য আহত হয়েছি। অভিযুক্ত শিক্ষককে আটক করে থানায় আনা হয়েছে। ভুক্তভোগীদের পরিবারের পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

পুলিশের ওসিসহ আহত তিন পুলিশ সদস্য হাসপাতালে চিকিৎসা নেওয়ার বিষয়ে দৌলতপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. তৌহিদুল হাসান তুহিন বলেন, আহতদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।


টিভি ২৬ নিউজ

সম্পাদক ও প্রকাশকঃ~ ফোরকানুল হক (সাকিব)

কপিরাইট © ২০২৬ টিভি ২৬ নিউজ । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত