পাহাড়ে সাধারণ মানুষের বন্ধু সেনাবাহিনী: শত্রু সশস্ত্র গোষ্ঠী ও স্বার্থান্বেষী মহলের
পার্বত্য চট্টগ্রামে পাহাড়ি ও বাঙালি দুই জনগোষ্ঠীর কাছেই সেনাবাহিনী এখন এক আস্থার নাম, নিরাপত্তা ও উন্নয়নের প্রতীক। কিন্তু যেসব আঞ্চলিক সশস্ত্র সংগঠন ও স্বার্থান্বেষী মহল দীর্ঘদিন ধরে পাহাড়ে চাঁদাবাজি, অপহরণ ও বিভেদের রাজনীতি চালিয়ে আসছে, তাদের চোখে সেনাবাহিনীই সবচেয়ে বড় শত্রু।স্বাধীনতার পর থেকেই পাহাড়ে বিভিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠী স্বায়ত্তশাসন ও বিচ্ছিন্নতার দাবিতে সহিংসতা শুরু করে। এর ফলে সাধারণ মানুষ এক অনিশ্চিত ও ভয়াবহ পরিস্থিতির মুখে পড়ে। এই অবস্থায় সেনাবাহিনী দায়িত্ব নেয় শান্তি ও শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তারা শুধুমাত্র নিরাপত্তা নিশ্চিত করেই থেমে থাকেনি- শিক্ষা, স্বাস্থ্য, অবকাঠামো, কৃষি ও মানবিক উন্নয়নেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে চলেছে।রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবানের দুর্গম এলাকায় সেনাবাহিনীর নির্মিত সড়ক, সেতু, স্কুল ও স্বাস্থ্যকেন্দ্র আজ পাহাড়ি জনগণের জীবনমান উন্নয়নের বড় অবলম্বন। স্থানীয়দের মতে, সেনাবাহিনীর উপস্থিতি না থাকলে পাহাড়ে এমন শান্তিপূর্ণ পরিবেশ কখনও ফিরে আসতো না। এক পাহাড়ি শিক্ষক বলেন, "সেনাবাহিনী এখন আমাদের নিরাপত্তার পাশাপাশি উন্নয়নের অংশীদার। সন্তানদের পড়াশোনায়, গ্রামের সড়ক উন্নয়নে তারা সবসময় পাশে থাকে।"দুর্গম এলাকায় চিকিৎসা সেবা, বিনামূল্যে ওষুধ বিতরণ, শিক্ষা উপকরণ প্রদান, পানির উৎস উন্নয়নসহ নানা মানবিক উদ্যোগে সেনাবাহিনী আজ পাহাড়ের মানুষের বন্ধুতে পরিণত হয়েছে। বন্যা বা ভূমিধসের মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগে প্রথমেই উদ্ধারকাজে নামে সেনা সদস্যরা। এমনকি ধর্মীয় উৎসব, ক্রীড়া প্রতিযোগিতা ও সামাজিক অনুষ্ঠানে তাদের উপস্থিতি এখন নিয়মিত। খাগড়াছড়ির দুর্গম পানছড়ি উপজেলার লোগাং এলাকার ত্রিপুরা সম্প্রদায়ের এক প্রবীণ বলেন, "যখনই বিপদ আসে, প্রথমে সেনাবাহিনী আসে। তারা আমাদের সন্তানদেরও পড়াশোনায় সাহায্য করে। তাই তারা আমাদের ভরসার জায়গা।"অন্যদিকে, পাহাড়ে অবৈধ অস্ত্রধারী ও সশস্ত্র সংগঠনগুলোর জন্য সেনাবাহিনী এক ভয়ংকর প্রতিপক্ষ। কারণ সেনাবাহিনীর উপস্থিতিতে তাদের চাঁদাবাজি, অপহরণ ও অবৈধ আয়ের পথ বন্ধ হয়ে যায়। স্থানীয় ব্যবসায়ীরা জানান, অতীতে পাহাড়ের প্রায় প্রতিটি নির্মাণ প্রকল্প, বাজার ও পণ্য পরিবহনে সন্ত্রাসীদের চাঁদা দিতে হতো। কিন্তু সেনাবাহিনীর কঠোর নজরদারির ফলে এখন সেই প্রবণতা অনেকটাই কমে এসেছে। রাঙামাটির কাপ্তাই উপজেলার এক স্থানীয় ঠিকাদার বলেন, "আগে প্রতিটি কাজেই চাঁদা দিতে হতো। এখন সেনাবাহিনীর কারণে আমরা নির্ভয়ে কাজ করতে পারছি। তাই তারা আমাদের বন্ধু, আর সন্ত্রাসীরা তাদের শত্রু মনে করে।" বিশ্লেষকরা মনে করেন, সেনাবাহিনীর কারণে পাহাড়ে আইনের শাসন ও রাষ্ট্রীয় কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা পেয়েছে, যা সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলোর জন্য বড় হুমকি। ফলে তারা সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে নানা অপপ্রচার ও গুজব ছড়িয়ে বিভ্রান্তি তৈরির চেষ্টা করছে।১৯৯৭ সালের পার্বত্য শান্তিচুক্তির মাধ্যমে পাহাড়ে স্থায়ী শান্তির প্রত্যাশা জাগলেও, চুক্তিবিরোধী একটি অংশ পুনরায় অস্ত্র তুলে নেয়। তারা স্থানীয় জনগণকে ভয়ভীতি দেখিয়ে নিজেদের আধিপত্য বজায় রাখতে চায়।সেনাবাহিনী এই পরিস্থিতিতে ধৈর্য ও সংযমের সঙ্গে কাজ করে যাচ্ছে। তারা নিরস্ত্রীকরণ, পুনর্বাসন ও উন্নয়ন কার্যক্রম চালিয়ে জনগণকে মূলধারায় ফিরিয়ে আনছে। এক নিরাপত্তা বিশ্লেষকের ভাষায়, "সেনাবাহিনী পাহাড়ে শুধু নিরাপত্তা বাহিনী নয়, বরং শান্তিচুক্তি বাস্তবায়নের অন্যতম শক্তি। আর এ কারণেই স্বার্থান্বেষী মহল সেনাবাহিনীকে টার্গেট করে বিভ্রান্তি ছড়াতে চায়।" কিছু বিদেশি তহবিলনির্ভর এনজিও ও মানবাধিকার সংগঠন সময়ে সময়ে পাহাড়ের ঘটনাবলী বিকৃতভাবে উপস্থাপন করে, যাতে সেনাবাহিনীর ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ হয়। এ বিষয়ে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এসব সংগঠন আন্তর্জাতিক মহলে সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে প্রচারণা চালিয়ে অর্থ সংগ্রহের চেষ্টা করে। কিন্তু বাস্তবে পাহাড়ে সেনাবাহিনীর কর্মকাণ্ডই মানবিক ও উন্নয়নমুখী, যা সাধারণ মানুষ প্রত্যক্ষভাবে অনুভব করছে।আজ পার্বত্য চট্টগ্রামের সকল জাতিগোষ্ঠীর মানুষ একবাক্যে বলছে, সেনাবাহিনী থাকলে পাহাড়ে শান্তি থাকে। বাঙালি হোক বা পাহাড়ি, সবাই চায় নিরাপত্তা ও উন্নয়ন। সেনাবাহিনীর পরিচালিত স্কুলে পাহাড়ি শিশুরা সমান সুযোগ পাচ্ছে, স্থানীয় বাজারে ব্যবসা-বাণিজ্য নির্বিঘ্ন চলছে, দুর্গম পাহাড়ে চিকিৎসা পৌঁছে যাচ্ছে- এসবই জনগণের আস্থার ভিত্তি আরও শক্ত করছে। খাগড়াছড়ির এক মারমা তরুণীর ভাষায়, "আমরা এখন ভয়ে নয়, নিশ্চিন্তে স্কুলে যাই। সেনাবাহিনী না থাকলে হয়তো তা সম্ভব হতো না।"পার্বত্য চট্টগ্রামে সেনাবাহিনী এখন শুধু নিরাপত্তা বাহিনী নয়, বরং তারা শান্তি, উন্নয়ন ও সম্প্রীতির ধারক। অন্যদিকে, অবৈধ সশস্ত্র গোষ্ঠী ও স্বার্থান্বেষী মহল সেনাবাহিনীর এই ভূমিকাকে নিজেদের অস্তিত্বের জন্য হুমকি হিসেবে দেখে। তাই তারা বিভ্রান্তি ছড়াতে নানা অপপ্রচারে লিপ্ত। কিন্তু বাস্তবতা একটাই- "সাধারণ পাহাড়ি ও বাঙালি জনগণের কাছে সেনাবাহিনী বন্ধু, আর সন্ত্রাসী ও চাঁদাবাজ গোষ্ঠীর কাছে সেনাবাহিনী ভয়ংকর শত্রু।" পার্বত্য চট্টগ্রামে শান্তি ও উন্নয়নের ধারাকে টিকিয়ে রাখতে হলে সেনাবাহিনীর এই ইতিবাচক ভূমিকা আরও জোরদার করা সময়ের দাবি।