ঢাকা    বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬
ঢাকা    বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬
টিভি ২৬ নিউজ
নোটিশ
  • টিভি ২৬ নিউজ  সারাদেশে প্রতিনিধি নিয়োগ দিচ্ছে ফোরকানুল হক (সাকিব) সম্পাদিত " TV 26 NEWS " আগ্রহীরা দ্রুত যোগাযোগ করুন। সব খবর সবার আগে পেতে আমাদের সাথেই থাকুন।
সর্বশেষ

পাহাড়ে আধিপত্যের লড়াই, বলি সাধারণ মানুষ: সমাধান কোথায়?



পাহাড়ে আধিপত্যের লড়াই, বলি সাধারণ মানুষ: সমাধান কোথায়?

সম্পাদকীয়

পাহাড়ের সবুজ প্রকৃতি, বৈচিত্র্যময় সংস্কৃতি ও শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের আকাঙ্ক্ষা আজ বারবার প্রশ্নের মুখে পড়ছে। পার্বত্য অঞ্চলে আধিপত্য বিস্তার, প্রভাব প্রতিষ্ঠা এবং নিয়ন্ত্রণকে কেন্দ্র করে সশস্ত্র আঞ্চলিক সংগঠনগুলোর বিরোধের মাশুল দিতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে। সংঘাতের প্রতিটি ঘটনায় মানুষের মনে নতুন করে জন্ম নিচ্ছে নিরাপত্তাহীনতা, অনিশ্চয়তা ও আতঙ্ক। প্রশ্ন হচ্ছে—পাহাড়ের মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাপনের অধিকার আর কত দিন সংঘাতের কাছে জিম্মি থাকবে?

পাহাড়ে বসবাসকারী মানুষের প্রধান চাওয়া খুবই সাধারণ—নিরাপদে বেঁচে থাকা, নির্বিঘ্নে চলাফেরা করা, জীবিকা নির্বাহ করা এবং সন্তানদের ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করা। কিন্তু সশস্ত্র বিরোধ, ভয়ভীতি, চাঁদাবাজি, অপহরণ ও পাল্টাপাল্টি হামলার অভিযোগের পরিবেশে সেই স্বাভাবিক জীবনই যখন ব্যাহত হয়, তখন উন্নয়ন ও শান্তির প্রতিশ্রুতি অর্থহীন হয়ে পড়ে। কোনো পক্ষের আধিপত্য প্রতিষ্ঠার লড়াইয়ে নিরীহ মানুষের প্রাণহানি, পরিবারগুলোর সর্বস্ব হারানো কিংবা জনজীবনে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়া কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না।

সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হলো, এসব সংঘাতের প্রভাব শুধু তাৎক্ষণিক প্রাণহানি বা সহিংসতার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে না। শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা ব্যাহত হয়, ব্যবসা-বাণিজ্য ক্ষতিগ্রস্ত হয়, কৃষক ও শ্রমজীবী মানুষ জীবিকা নিয়ে অনিশ্চয়তায় পড়েন। ভয় ও অবিশ্বাসের পরিবেশ বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মানুষের মধ্যকার সামাজিক সম্পর্ককেও দুর্বল করে দেয়। পাহাড়ের যে মানুষগুলো দীর্ঘদিন ধরে শান্তি, অধিকার ও মর্যাদার প্রত্যাশা করে আসছেন, তারাই শেষ পর্যন্ত সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হন।

সমাধান কি শুধু নিরাপত্তা অভিযান?

অবশ্যই নয়। মানুষের জীবন ও সম্পদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে রাষ্ট্রের কার্যকর ভূমিকার বিকল্প নেই। সশস্ত্র সহিংসতা, অবৈধ অস্ত্রের ব্যবহার, অপহরণ, চাঁদাবাজি এবং হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে হবে। একই সঙ্গে নিরাপত্তা কার্যক্রম পরিচালনার ক্ষেত্রে নিরীহ নাগরিকদের অধিকার ও মর্যাদা রক্ষা করতে হবে। কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর পরিচয় নয়, অপরাধের প্রমাণ ও আইনের ভিত্তিতেই ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।

তবে এটিও মনে রাখতে হবে, পাহাড়ের সংকটের সমাধান কেবল আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তৎপরতায় সীমাবদ্ধ নয়। দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক, সামাজিক, অর্থনৈতিক ও ভূমিসংক্রান্ত সমস্যার ন্যায়সংগত সমাধান ছাড়া স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠা কঠিন। পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি বাস্তবায়নের অগ্রগতি, ভূমি বিরোধ নিষ্পত্তি, স্থানীয় জনগোষ্ঠীর অধিকার, প্রশাসনিক জবাবদিহি এবং ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার বিষয়গুলোকে গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করতে হবে।

সংলাপই হোক সংঘাত নিরসনের পথ

সশস্ত্র সংগঠনগুলোর প্রতি স্পষ্ট বার্তা থাকা প্রয়োজন—সাধারণ মানুষের জীবনকে ঝুঁকির মধ্যে ফেলে কোনো রাজনৈতিক বা সাংগঠনিক লক্ষ্য অর্জনের চেষ্টা গ্রহণযোগ্য নয়। বিরোধ থাকলে তার সমাধান হতে হবে সংলাপ, রাজনৈতিক উদ্যোগ ও আইনসম্মত প্রক্রিয়ার মাধ্যমে। অস্ত্রের ভাষা সাময়িকভাবে কাউকে প্রভাব বিস্তারের সুযোগ দিলেও তা দীর্ঘমেয়াদি শান্তি ও জনআস্থা প্রতিষ্ঠা করতে পারে না।

সরকারকেও কার্যকর, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও ধারাবাহিক সংলাপের উদ্যোগ নিতে হবে। স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, বিভিন্ন সম্প্রদায়ের প্রতিনিধি, নাগরিক সমাজ, নারী, তরুণ এবং শান্তিপ্রিয় সামাজিক নেতৃত্বকে আলোচনায় যুক্ত করা প্রয়োজন। শুধু আনুষ্ঠানিক বৈঠক নয়, আলোচনার সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন এবং তার অগ্রগতি জনসমক্ষে তুলে ধরাও জরুরি। সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে সহিংসতা পরিহার, সাধারণ নাগরিকদের সুরক্ষা এবং বিরোধ নিষ্পত্তির শান্তিপূর্ণ পথ অনুসরণে দায়বদ্ধ হতে হবে।

জবাবদিহি ছাড়া শান্তি টেকসই হবে না

পাহাড়ে সংঘটিত হত্যাকাণ্ড, অপহরণ, হামলা কিংবা চাঁদাবাজির প্রতিটি বিশ্বাসযোগ্য অভিযোগ নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করতে হবে। অপরাধী যে পক্ষেরই হোক, তার পরিচয় বা প্রভাব যেন বিচারপ্রক্রিয়ায় বাধা না হয়ে দাঁড়ায়। ভুক্তভোগী পরিবারকে আইনি সহায়তা, প্রয়োজনীয় ক্ষতিপূরণ ও পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করতে হবে। পাশাপাশি সংঘাতপ্রবণ এলাকায় শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, যোগাযোগব্যবস্থা ও কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়াতে হবে, যাতে তরুণদের সামনে সহিংসতার বাইরে সম্মানজনক ভবিষ্যৎ গড়ার পথ উন্মুক্ত হয়।

গণমাধ্যমেরও দায়িত্ব রয়েছে সংবেদনশীল ও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করার। যাচাইহীন তথ্য, গুজব কিংবা কোনো সম্প্রদায়কে সামগ্রিকভাবে দায়ী করে প্রচার সংঘাত আরও বাড়াতে পারে। তাই তথ্য যাচাই, ভুক্তভোগীদের বক্তব্য তুলে ধরা এবং সব পক্ষের বক্তব্যের যথাযথ প্রতিফলন নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

পাহাড়ের মানুষ শান্তি চায়, আধিপত্যের যুদ্ধ নয়

পাহাড়ের সংকটের সমাধান কোনো একক পক্ষের বিজয়ে নয়; সমাধান এমন একটি পরিবেশ প্রতিষ্ঠায়, যেখানে মানুষ ভয় ছাড়াই বাঁচতে পারবেন, নিজের অধিকার প্রয়োগ করতে পারবেন এবং ন্যায়বিচার পাবেন। নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, রাজনৈতিক সংলাপ এগিয়ে নেওয়া, দীর্ঘদিনের বিরোধ নিষ্পত্তি করা এবং অপরাধের জবাবদিহি নিশ্চিত করা—এই চারটি পথে সমন্বিতভাবে এগোতে হবে।

রাষ্ট্র, সশস্ত্র সংগঠন, রাজনৈতিক নেতৃত্ব ও স্থানীয় সমাজ—সবারই দায়িত্ব রয়েছে। তবে সবচেয়ে বড় দায়িত্ব তাদের, যাদের হাতে সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা ও সহিংসতা বন্ধ করার বাস্তব সুযোগ রয়েছে।

পাহাড় কোনো পক্ষের আধিপত্য বিস্তারের যুদ্ধক্ষেত্র নয়; এটি মানুষের বসতি, জীবিকা, সংস্কৃতি ও ভবিষ্যতের ঠিকানা। সেই ঠিকানায় শান্তি ফিরিয়ে আনার জন্য আর কত প্রাণহানি প্রয়োজন—এই প্রশ্নের উত্তর আর প্রতিশ্রুতিতে সীমাবদ্ধ রাখা যায় না। এখন প্রয়োজন কার্যকর উদ্যোগ, দৃশ্যমান অগ্রগতি এবং মানুষের জীবনের প্রতি নিঃশর্ত দায়বদ্ধতা।

সাধারণ মানুষের জীবন ও নিরাপত্তার চেয়ে বড় কোনো আধিপত্য হতে পারে না। পাহাড়ে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার স্বার্থে এখনই সহিংসতা বন্ধ, সংলাপ শুরু এবং ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার সময়।

আপনার মতামত লিখুন

টিভি ২৬ নিউজ

বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬


পাহাড়ে আধিপত্যের লড়াই, বলি সাধারণ মানুষ: সমাধান কোথায়?

প্রকাশের তারিখ : ১৪ অক্টোবর ২০২৬

featured Image

সম্পাদকীয়

পাহাড়ের সবুজ প্রকৃতি, বৈচিত্র্যময় সংস্কৃতি ও শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের আকাঙ্ক্ষা আজ বারবার প্রশ্নের মুখে পড়ছে। পার্বত্য অঞ্চলে আধিপত্য বিস্তার, প্রভাব প্রতিষ্ঠা এবং নিয়ন্ত্রণকে কেন্দ্র করে সশস্ত্র আঞ্চলিক সংগঠনগুলোর বিরোধের মাশুল দিতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে। সংঘাতের প্রতিটি ঘটনায় মানুষের মনে নতুন করে জন্ম নিচ্ছে নিরাপত্তাহীনতা, অনিশ্চয়তা ও আতঙ্ক। প্রশ্ন হচ্ছে—পাহাড়ের মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাপনের অধিকার আর কত দিন সংঘাতের কাছে জিম্মি থাকবে?

পাহাড়ে বসবাসকারী মানুষের প্রধান চাওয়া খুবই সাধারণ—নিরাপদে বেঁচে থাকা, নির্বিঘ্নে চলাফেরা করা, জীবিকা নির্বাহ করা এবং সন্তানদের ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করা। কিন্তু সশস্ত্র বিরোধ, ভয়ভীতি, চাঁদাবাজি, অপহরণ ও পাল্টাপাল্টি হামলার অভিযোগের পরিবেশে সেই স্বাভাবিক জীবনই যখন ব্যাহত হয়, তখন উন্নয়ন ও শান্তির প্রতিশ্রুতি অর্থহীন হয়ে পড়ে। কোনো পক্ষের আধিপত্য প্রতিষ্ঠার লড়াইয়ে নিরীহ মানুষের প্রাণহানি, পরিবারগুলোর সর্বস্ব হারানো কিংবা জনজীবনে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়া কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না।

সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হলো, এসব সংঘাতের প্রভাব শুধু তাৎক্ষণিক প্রাণহানি বা সহিংসতার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে না। শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা ব্যাহত হয়, ব্যবসা-বাণিজ্য ক্ষতিগ্রস্ত হয়, কৃষক ও শ্রমজীবী মানুষ জীবিকা নিয়ে অনিশ্চয়তায় পড়েন। ভয় ও অবিশ্বাসের পরিবেশ বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মানুষের মধ্যকার সামাজিক সম্পর্ককেও দুর্বল করে দেয়। পাহাড়ের যে মানুষগুলো দীর্ঘদিন ধরে শান্তি, অধিকার ও মর্যাদার প্রত্যাশা করে আসছেন, তারাই শেষ পর্যন্ত সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হন।

সমাধান কি শুধু নিরাপত্তা অভিযান?

অবশ্যই নয়। মানুষের জীবন ও সম্পদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে রাষ্ট্রের কার্যকর ভূমিকার বিকল্প নেই। সশস্ত্র সহিংসতা, অবৈধ অস্ত্রের ব্যবহার, অপহরণ, চাঁদাবাজি এবং হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে হবে। একই সঙ্গে নিরাপত্তা কার্যক্রম পরিচালনার ক্ষেত্রে নিরীহ নাগরিকদের অধিকার ও মর্যাদা রক্ষা করতে হবে। কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর পরিচয় নয়, অপরাধের প্রমাণ ও আইনের ভিত্তিতেই ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।

তবে এটিও মনে রাখতে হবে, পাহাড়ের সংকটের সমাধান কেবল আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তৎপরতায় সীমাবদ্ধ নয়। দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক, সামাজিক, অর্থনৈতিক ও ভূমিসংক্রান্ত সমস্যার ন্যায়সংগত সমাধান ছাড়া স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠা কঠিন। পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি বাস্তবায়নের অগ্রগতি, ভূমি বিরোধ নিষ্পত্তি, স্থানীয় জনগোষ্ঠীর অধিকার, প্রশাসনিক জবাবদিহি এবং ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার বিষয়গুলোকে গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করতে হবে।

সংলাপই হোক সংঘাত নিরসনের পথ

সশস্ত্র সংগঠনগুলোর প্রতি স্পষ্ট বার্তা থাকা প্রয়োজন—সাধারণ মানুষের জীবনকে ঝুঁকির মধ্যে ফেলে কোনো রাজনৈতিক বা সাংগঠনিক লক্ষ্য অর্জনের চেষ্টা গ্রহণযোগ্য নয়। বিরোধ থাকলে তার সমাধান হতে হবে সংলাপ, রাজনৈতিক উদ্যোগ ও আইনসম্মত প্রক্রিয়ার মাধ্যমে। অস্ত্রের ভাষা সাময়িকভাবে কাউকে প্রভাব বিস্তারের সুযোগ দিলেও তা দীর্ঘমেয়াদি শান্তি ও জনআস্থা প্রতিষ্ঠা করতে পারে না।

সরকারকেও কার্যকর, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও ধারাবাহিক সংলাপের উদ্যোগ নিতে হবে। স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, বিভিন্ন সম্প্রদায়ের প্রতিনিধি, নাগরিক সমাজ, নারী, তরুণ এবং শান্তিপ্রিয় সামাজিক নেতৃত্বকে আলোচনায় যুক্ত করা প্রয়োজন। শুধু আনুষ্ঠানিক বৈঠক নয়, আলোচনার সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন এবং তার অগ্রগতি জনসমক্ষে তুলে ধরাও জরুরি। সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে সহিংসতা পরিহার, সাধারণ নাগরিকদের সুরক্ষা এবং বিরোধ নিষ্পত্তির শান্তিপূর্ণ পথ অনুসরণে দায়বদ্ধ হতে হবে।

জবাবদিহি ছাড়া শান্তি টেকসই হবে না

পাহাড়ে সংঘটিত হত্যাকাণ্ড, অপহরণ, হামলা কিংবা চাঁদাবাজির প্রতিটি বিশ্বাসযোগ্য অভিযোগ নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করতে হবে। অপরাধী যে পক্ষেরই হোক, তার পরিচয় বা প্রভাব যেন বিচারপ্রক্রিয়ায় বাধা না হয়ে দাঁড়ায়। ভুক্তভোগী পরিবারকে আইনি সহায়তা, প্রয়োজনীয় ক্ষতিপূরণ ও পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করতে হবে। পাশাপাশি সংঘাতপ্রবণ এলাকায় শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, যোগাযোগব্যবস্থা ও কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়াতে হবে, যাতে তরুণদের সামনে সহিংসতার বাইরে সম্মানজনক ভবিষ্যৎ গড়ার পথ উন্মুক্ত হয়।

গণমাধ্যমেরও দায়িত্ব রয়েছে সংবেদনশীল ও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করার। যাচাইহীন তথ্য, গুজব কিংবা কোনো সম্প্রদায়কে সামগ্রিকভাবে দায়ী করে প্রচার সংঘাত আরও বাড়াতে পারে। তাই তথ্য যাচাই, ভুক্তভোগীদের বক্তব্য তুলে ধরা এবং সব পক্ষের বক্তব্যের যথাযথ প্রতিফলন নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

পাহাড়ের মানুষ শান্তি চায়, আধিপত্যের যুদ্ধ নয়

পাহাড়ের সংকটের সমাধান কোনো একক পক্ষের বিজয়ে নয়; সমাধান এমন একটি পরিবেশ প্রতিষ্ঠায়, যেখানে মানুষ ভয় ছাড়াই বাঁচতে পারবেন, নিজের অধিকার প্রয়োগ করতে পারবেন এবং ন্যায়বিচার পাবেন। নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, রাজনৈতিক সংলাপ এগিয়ে নেওয়া, দীর্ঘদিনের বিরোধ নিষ্পত্তি করা এবং অপরাধের জবাবদিহি নিশ্চিত করা—এই চারটি পথে সমন্বিতভাবে এগোতে হবে।

রাষ্ট্র, সশস্ত্র সংগঠন, রাজনৈতিক নেতৃত্ব ও স্থানীয় সমাজ—সবারই দায়িত্ব রয়েছে। তবে সবচেয়ে বড় দায়িত্ব তাদের, যাদের হাতে সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা ও সহিংসতা বন্ধ করার বাস্তব সুযোগ রয়েছে।

পাহাড় কোনো পক্ষের আধিপত্য বিস্তারের যুদ্ধক্ষেত্র নয়; এটি মানুষের বসতি, জীবিকা, সংস্কৃতি ও ভবিষ্যতের ঠিকানা। সেই ঠিকানায় শান্তি ফিরিয়ে আনার জন্য আর কত প্রাণহানি প্রয়োজন—এই প্রশ্নের উত্তর আর প্রতিশ্রুতিতে সীমাবদ্ধ রাখা যায় না। এখন প্রয়োজন কার্যকর উদ্যোগ, দৃশ্যমান অগ্রগতি এবং মানুষের জীবনের প্রতি নিঃশর্ত দায়বদ্ধতা।

সাধারণ মানুষের জীবন ও নিরাপত্তার চেয়ে বড় কোনো আধিপত্য হতে পারে না। পাহাড়ে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার স্বার্থে এখনই সহিংসতা বন্ধ, সংলাপ শুরু এবং ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার সময়।


টিভি ২৬ নিউজ

সম্পাদক ও প্রকাশকঃ~ ফোরকানুল হক (সাকিব)

কপিরাইট © ২০২৬ টিভি ২৬ নিউজ । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত