সারাদেশে প্রতিনিধি নিয়োগ দিচ্ছে ফোরকানুল হক (সাকিব) সম্পাদিত " TV 26 NEWS " আগ্রহীরা দ্রুত যোগাযোগ করুন। সব খবর সবার আগে পেতে আমাদের সাথেই থাকুন। সৌদি আরবে ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় নিহত কুমিল্লার মোহাম্মদ নাসরুল্লাহ বদরের পরিবারের কান্না থামছে না। স্বামীর মৃত্যুর খবর পেয়ে তিন সন্তানকে নিয়ে রোববার রাতেই ঢাকা থেকে গ্রামের বাড়িতে আসেন স্ত্রী মাহবুবা আক্তার। তিন শিশুর ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগের পাশাপাশি পরিবারের এখন সবচেয়ে বড় অপেক্ষা প্রিয়জনের মরদেহ দেশে ফিরে পাওয়ার।
নিহত নাসরুল্লাহ রাজধানীর জামিয়া আরাবিয়া রবিউল উলুম মাদ্রাসার সহকারী অধ্যাপক ছিলেন। তিনি কুমিল্লার নাঙ্গলকোট উপজেলার ঢালুয়া ইউনিয়নের বদরপুর এলাকার মাওলানা মোহাম্মদ উল্লাহর ছেলে। সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের কিং খালেদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হামলায় তিনি নিহত হন।
সোমবার কুমিল্লার নাঙ্গলকোট উপজেলার ঢালুয়া ইউনিয়নের বদরপুর গ্রামে নাসরুল্লাহর বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, প্রিয়জনকে হারানোর শোকের পাশাপাশি চরম দুশ্চিন্তায় দিন কাটছে পরিবারটির। স্বজনদের কান্না আর আহাজারিতে ভারী হয়ে উঠেছে পরিবেশ। আত্মীয়স্বজন ও প্রতিবেশীরা ভিড় করছেন বাড়িতে। কেউ পরিবারের সদস্যদের সান্ত্বনা দেওয়ার চেষ্টা করছেন, কেউবা নিজের চোখের পানি ধরে রাখতে পারছেন না।
ছোট ছোট সন্তানদের মুখের দিকে তাকিয়ে বারবার কান্নায় ভেঙে পড়ছেন মাহবুবা। যে মানুষটির সঙ্গে সন্তানদের ভবিষ্যৎ নিয়ে স্বপ্ন দেখতেন, তাঁর অনুপস্থিতিতে সেই স্বপ্ন এখন অনিশ্চিত। সন্তানদের পড়াশোনা, খাবার, চিকিৎসা ও সংসারের খরচ কীভাবে চলবে, সেই প্রশ্নের উত্তর জানা নেই তাঁর।
পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, নিহতের ছেলে সাত বছরের জামিল আহমেদ দ্বিতীয় শ্রেণিতে পড়ে। পাঁচ বছরের নাবিলা আক্তার এবার প্লে শ্রেণিতে ভর্তি হয়েছে। আর তিন বছরের আহমাদুল্লাহ জাওয়াদ এখনো মায়ের কোলে। এই তিন শিশুর ভবিষ্যৎ এখন অনিশ্চয়তার মুখে। তাদের বাবা মো. নাসরুল্লাহ বদরপুরী আর ফিরবেন না। পরিবারের ভরণপোষণের দায়িত্ব যাঁর কাঁধে ছিল, সেই মানুষটি এখন হাজার মাইল দূরে সৌদি আরবে। তাঁর মরদেহ দেশে ফেরার অপেক্ষায় দিন গুনছেন স্ত্রী মাহবুবা আক্তার ও স্বজনেরা।
স্বামীকে হারানোর শোক কিছুতেই সামলে উঠতে পারছেন না মাহবুবা। তিনি বলেন, ‘সন্তানদের নিয়ে কীভাবে সামনে এগোব, কীভাবে তাদের লেখাপড়া ও ভরণপোষণের ব্যবস্থা করব? তিন সন্তানের ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তায় আছি। পাশাপাশি স্বামীর মরদেহ ফিরে পাওয়ার অপেক্ষায় রয়েছি। আশা করি, সৌদি আরব ও বাংলাদেশ সরকার এ বিষয়ে সহায়তা করবে।’
এদিকে ছেলের মৃত্যুর খবর মেনে নিতে পারছেন না বাবা মাওলানা মোহাম্মদ উল্লাহ। শোকাহত কণ্ঠে তিনি বলেন, ‘আমার ছেলেটা আল্লাহর ঘরের উদ্দেশে গিয়েছিল। কিন্তু সে ওমরাহ করতে পারেনি। সে এভাবে মারা যাবে, তা আমি কখনো কল্পনাও করতে পারিনি। কত নির্মমভাবে আমার ছেলেটা মারা গেছে, আল্লাহ ভালো জানেন। হয়তো আল্লাহপাক তাকে এভাবেই কবুল করেছেন।’
ছেলের মরদেহ একবার দেখার আকুতি জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আমরা সরকারের কাছে দাবি জানাই, দ্রুত আমার ছেলের মরদেহ যেন দেশে ফিরিয়ে আনা হয়। আমার আদরের সন্তানকে একবার দেখতে চাই।’
নাঙ্গলকোট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আবু রায়হান বলেন, ‘নিহত ও আহতদের পরিবারের সদস্যদের সান্ত্বনা দিতে তাদের সঙ্গে দেখা করেছি। নিহত নাসরুল্লাহ বদরের মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনতে সরকারি সব ধরনের সহায়তার আশ্বাস দিয়েছি।’
বিষয় : নিহত কুমিল্লা সৌদি আরব ক্ষেপণাস্ত্র হামলা

মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৩ অক্টোবর ২০২৬
সৌদি আরবে ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় নিহত কুমিল্লার মোহাম্মদ নাসরুল্লাহ বদরের পরিবারের কান্না থামছে না। স্বামীর মৃত্যুর খবর পেয়ে তিন সন্তানকে নিয়ে রোববার রাতেই ঢাকা থেকে গ্রামের বাড়িতে আসেন স্ত্রী মাহবুবা আক্তার। তিন শিশুর ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগের পাশাপাশি পরিবারের এখন সবচেয়ে বড় অপেক্ষা প্রিয়জনের মরদেহ দেশে ফিরে পাওয়ার।
নিহত নাসরুল্লাহ রাজধানীর জামিয়া আরাবিয়া রবিউল উলুম মাদ্রাসার সহকারী অধ্যাপক ছিলেন। তিনি কুমিল্লার নাঙ্গলকোট উপজেলার ঢালুয়া ইউনিয়নের বদরপুর এলাকার মাওলানা মোহাম্মদ উল্লাহর ছেলে। সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের কিং খালেদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হামলায় তিনি নিহত হন।
সোমবার কুমিল্লার নাঙ্গলকোট উপজেলার ঢালুয়া ইউনিয়নের বদরপুর গ্রামে নাসরুল্লাহর বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, প্রিয়জনকে হারানোর শোকের পাশাপাশি চরম দুশ্চিন্তায় দিন কাটছে পরিবারটির। স্বজনদের কান্না আর আহাজারিতে ভারী হয়ে উঠেছে পরিবেশ। আত্মীয়স্বজন ও প্রতিবেশীরা ভিড় করছেন বাড়িতে। কেউ পরিবারের সদস্যদের সান্ত্বনা দেওয়ার চেষ্টা করছেন, কেউবা নিজের চোখের পানি ধরে রাখতে পারছেন না।
ছোট ছোট সন্তানদের মুখের দিকে তাকিয়ে বারবার কান্নায় ভেঙে পড়ছেন মাহবুবা। যে মানুষটির সঙ্গে সন্তানদের ভবিষ্যৎ নিয়ে স্বপ্ন দেখতেন, তাঁর অনুপস্থিতিতে সেই স্বপ্ন এখন অনিশ্চিত। সন্তানদের পড়াশোনা, খাবার, চিকিৎসা ও সংসারের খরচ কীভাবে চলবে, সেই প্রশ্নের উত্তর জানা নেই তাঁর।
পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, নিহতের ছেলে সাত বছরের জামিল আহমেদ দ্বিতীয় শ্রেণিতে পড়ে। পাঁচ বছরের নাবিলা আক্তার এবার প্লে শ্রেণিতে ভর্তি হয়েছে। আর তিন বছরের আহমাদুল্লাহ জাওয়াদ এখনো মায়ের কোলে। এই তিন শিশুর ভবিষ্যৎ এখন অনিশ্চয়তার মুখে। তাদের বাবা মো. নাসরুল্লাহ বদরপুরী আর ফিরবেন না। পরিবারের ভরণপোষণের দায়িত্ব যাঁর কাঁধে ছিল, সেই মানুষটি এখন হাজার মাইল দূরে সৌদি আরবে। তাঁর মরদেহ দেশে ফেরার অপেক্ষায় দিন গুনছেন স্ত্রী মাহবুবা আক্তার ও স্বজনেরা।
স্বামীকে হারানোর শোক কিছুতেই সামলে উঠতে পারছেন না মাহবুবা। তিনি বলেন, ‘সন্তানদের নিয়ে কীভাবে সামনে এগোব, কীভাবে তাদের লেখাপড়া ও ভরণপোষণের ব্যবস্থা করব? তিন সন্তানের ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তায় আছি। পাশাপাশি স্বামীর মরদেহ ফিরে পাওয়ার অপেক্ষায় রয়েছি। আশা করি, সৌদি আরব ও বাংলাদেশ সরকার এ বিষয়ে সহায়তা করবে।’
এদিকে ছেলের মৃত্যুর খবর মেনে নিতে পারছেন না বাবা মাওলানা মোহাম্মদ উল্লাহ। শোকাহত কণ্ঠে তিনি বলেন, ‘আমার ছেলেটা আল্লাহর ঘরের উদ্দেশে গিয়েছিল। কিন্তু সে ওমরাহ করতে পারেনি। সে এভাবে মারা যাবে, তা আমি কখনো কল্পনাও করতে পারিনি। কত নির্মমভাবে আমার ছেলেটা মারা গেছে, আল্লাহ ভালো জানেন। হয়তো আল্লাহপাক তাকে এভাবেই কবুল করেছেন।’
ছেলের মরদেহ একবার দেখার আকুতি জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আমরা সরকারের কাছে দাবি জানাই, দ্রুত আমার ছেলের মরদেহ যেন দেশে ফিরিয়ে আনা হয়। আমার আদরের সন্তানকে একবার দেখতে চাই।’
নাঙ্গলকোট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আবু রায়হান বলেন, ‘নিহত ও আহতদের পরিবারের সদস্যদের সান্ত্বনা দিতে তাদের সঙ্গে দেখা করেছি। নিহত নাসরুল্লাহ বদরের মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনতে সরকারি সব ধরনের সহায়তার আশ্বাস দিয়েছি।’

আপনার মতামত লিখুন