সারাদেশে প্রতিনিধি নিয়োগ দিচ্ছে ফোরকানুল হক (সাকিব) সম্পাদিত " TV 26 NEWS " আগ্রহীরা দ্রুত যোগাযোগ করুন। সব খবর সবার আগে পেতে আমাদের সাথেই থাকুন। সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জ ও উল্লাপাড়া উপজেলার সীমান্তবর্তী ফুলজোড় নদী থেকে অবৈধভাবে বালু ও মাটি উত্তোলনের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় এক আওয়ামী লীগ নেতার বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় নদীভাঙনের আশঙ্কার পাশাপাশি হুমকির মুখে পড়েছে নদীতীরবর্তী ফসলি জমি। জমি হারানোর শঙ্কায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় কৃষক ও জমির মালিকেরা।
স্থানীয়দের অভিযোগ, হাটিকুমরুল ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও আলোকদিয়া গ্রামের বাসিন্দা জাকির হোসেনের নেতৃত্বে দীর্ঘদিন ধরে ড্রেজার দিয়ে ফুলজোড় নদী থেকে বালু ও মাটি উত্তোলন করা হচ্ছে।
সরেজমিনে আলোকদিয়া এলাকায় গিয়ে নদীর তলদেশ খনন করে বালু ও মাটি উত্তোলনের দৃশ্য দেখা যায়। স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, নদী থেকে বালু উত্তোলনের কার্যক্রম ক্রমেই আশপাশের ফসলি জমির দিকে বিস্তৃত হচ্ছে। এতে নদীতীরবর্তী জমি ভাঙনের ঝুঁকিতে পড়ার আশঙ্কা করছেন তারা।
স্থানীয়দের ভাষ্য, আগে গোপনে বালু উত্তোলন করা হলেও বর্তমানে দুর্গাপূজার ছুটিতে প্রকাশ্যেই এ কার্যক্রম চালানো হচ্ছে। তাদের অভিযোগ, অব্যাহতভাবে বালু উত্তোলনের ফলে নদীর তীর দুর্বল হয়ে পড়ছে, যা ভবিষ্যতে ভাঙনের ঝুঁকি বাড়াতে পারে।
নদীতীরবর্তী এসব জমিতে মৌসুমভেদে ধান ও গমসহ বিভিন্ন ফসল চাষ করেন কৃষকেরা। তাদের আশঙ্কা, বালু উত্তোলন বন্ধ না হলে নদীভাঙনে আবাদি জমি বিলীন হতে পারে। এতে ফসল উৎপাদন কমে যাওয়ার পাশাপাশি কৃষিনির্ভর পরিবারগুলোর জীবিকাও হুমকির মুখে পড়বে।
হাটিকুমরুল ইউনিয়নের আলোকদিয়া গ্রামের ইউপি সদস্য চান আলী অভিযোগ করে বলেন, নিয়মনীতি উপেক্ষা করে জাকির হোসেনের নেতৃত্বে ফুলজোড় নদী থেকে বালু ও মাটি উত্তোলন করা হচ্ছে।
তিনি বলেন, নদীর তলদেশের বেশ গভীর পর্যন্ত খনন করা হয়েছে। বালু উত্তোলনের কার্যক্রম ফসলি জমির দিকেও এগিয়ে যাচ্ছে। এতে নদীতীরে ভাঙনের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।
স্থানীয় জমির মালিক আবদুস সাত্তার, মনিরুল, পরান আক্তার হোসেন ও শামীমসহ অনেকে জানান, প্রথমে নদীর তীর কেটে বালু উত্তোলন করা হতো। এখন সেই কার্যক্রম তাদের ফসলি জমির কাছাকাছি চলে এসেছে। এভাবে বালু উত্তোলন চলতে থাকলে জমি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি চাষাবাদ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা করছেন তারা।
জমির মালিকদের দাবি, এসব জমিতে ধান ও গম চাষ করে তারা জীবিকা নির্বাহ করেন। জমি ক্ষতিগ্রস্ত হলে তাদের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়তে হবে।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে জাকির হোসেন বলেন, তিনি জিলানী নামের এক ব্যক্তির কাছে জমি ইজারা দিয়েছেন। ওই ব্যক্তি সেখানে বালু ও মাটি উত্তোলন করছেন। এ কার্যক্রমে তারাও অংশীদার বলে জানান তিনি। পাশাপাশি বালু উত্তোলনের অনুমতি রয়েছে বলেও দাবি করেন জাকির।
তবে সিরাজগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী সাজ্জাদ হোসেন বলেন, ওই এলাকায় বালু বা মাটি উত্তোলনের কোনও অনুমতি দেওয়া হয়নি। তার ভাষ্য অনুযায়ী, সেখানে বালু উত্তোলনের কার্যক্রম সম্পূর্ণ অবৈধ। এ বিষয়ে উপজেলা প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ করার পরামর্শ দেন তিনি।
বিষয় : কৃষক

শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৩ অক্টোবর ২০২৬
সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জ ও উল্লাপাড়া উপজেলার সীমান্তবর্তী ফুলজোড় নদী থেকে অবৈধভাবে বালু ও মাটি উত্তোলনের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় এক আওয়ামী লীগ নেতার বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় নদীভাঙনের আশঙ্কার পাশাপাশি হুমকির মুখে পড়েছে নদীতীরবর্তী ফসলি জমি। জমি হারানোর শঙ্কায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় কৃষক ও জমির মালিকেরা।
স্থানীয়দের অভিযোগ, হাটিকুমরুল ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও আলোকদিয়া গ্রামের বাসিন্দা জাকির হোসেনের নেতৃত্বে দীর্ঘদিন ধরে ড্রেজার দিয়ে ফুলজোড় নদী থেকে বালু ও মাটি উত্তোলন করা হচ্ছে।
সরেজমিনে আলোকদিয়া এলাকায় গিয়ে নদীর তলদেশ খনন করে বালু ও মাটি উত্তোলনের দৃশ্য দেখা যায়। স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, নদী থেকে বালু উত্তোলনের কার্যক্রম ক্রমেই আশপাশের ফসলি জমির দিকে বিস্তৃত হচ্ছে। এতে নদীতীরবর্তী জমি ভাঙনের ঝুঁকিতে পড়ার আশঙ্কা করছেন তারা।
স্থানীয়দের ভাষ্য, আগে গোপনে বালু উত্তোলন করা হলেও বর্তমানে দুর্গাপূজার ছুটিতে প্রকাশ্যেই এ কার্যক্রম চালানো হচ্ছে। তাদের অভিযোগ, অব্যাহতভাবে বালু উত্তোলনের ফলে নদীর তীর দুর্বল হয়ে পড়ছে, যা ভবিষ্যতে ভাঙনের ঝুঁকি বাড়াতে পারে।
নদীতীরবর্তী এসব জমিতে মৌসুমভেদে ধান ও গমসহ বিভিন্ন ফসল চাষ করেন কৃষকেরা। তাদের আশঙ্কা, বালু উত্তোলন বন্ধ না হলে নদীভাঙনে আবাদি জমি বিলীন হতে পারে। এতে ফসল উৎপাদন কমে যাওয়ার পাশাপাশি কৃষিনির্ভর পরিবারগুলোর জীবিকাও হুমকির মুখে পড়বে।
হাটিকুমরুল ইউনিয়নের আলোকদিয়া গ্রামের ইউপি সদস্য চান আলী অভিযোগ করে বলেন, নিয়মনীতি উপেক্ষা করে জাকির হোসেনের নেতৃত্বে ফুলজোড় নদী থেকে বালু ও মাটি উত্তোলন করা হচ্ছে।
তিনি বলেন, নদীর তলদেশের বেশ গভীর পর্যন্ত খনন করা হয়েছে। বালু উত্তোলনের কার্যক্রম ফসলি জমির দিকেও এগিয়ে যাচ্ছে। এতে নদীতীরে ভাঙনের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।
স্থানীয় জমির মালিক আবদুস সাত্তার, মনিরুল, পরান আক্তার হোসেন ও শামীমসহ অনেকে জানান, প্রথমে নদীর তীর কেটে বালু উত্তোলন করা হতো। এখন সেই কার্যক্রম তাদের ফসলি জমির কাছাকাছি চলে এসেছে। এভাবে বালু উত্তোলন চলতে থাকলে জমি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি চাষাবাদ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা করছেন তারা।
জমির মালিকদের দাবি, এসব জমিতে ধান ও গম চাষ করে তারা জীবিকা নির্বাহ করেন। জমি ক্ষতিগ্রস্ত হলে তাদের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়তে হবে।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে জাকির হোসেন বলেন, তিনি জিলানী নামের এক ব্যক্তির কাছে জমি ইজারা দিয়েছেন। ওই ব্যক্তি সেখানে বালু ও মাটি উত্তোলন করছেন। এ কার্যক্রমে তারাও অংশীদার বলে জানান তিনি। পাশাপাশি বালু উত্তোলনের অনুমতি রয়েছে বলেও দাবি করেন জাকির।
তবে সিরাজগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী সাজ্জাদ হোসেন বলেন, ওই এলাকায় বালু বা মাটি উত্তোলনের কোনও অনুমতি দেওয়া হয়নি। তার ভাষ্য অনুযায়ী, সেখানে বালু উত্তোলনের কার্যক্রম সম্পূর্ণ অবৈধ। এ বিষয়ে উপজেলা প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ করার পরামর্শ দেন তিনি।

আপনার মতামত লিখুন