সারাদেশে প্রতিনিধি নিয়োগ দিচ্ছে ফোরকানুল হক (সাকিব) সম্পাদিত " TV 26 NEWS " আগ্রহীরা দ্রুত যোগাযোগ করুন। সব খবর সবার আগে পেতে আমাদের সাথেই থাকুন।
দেশে টানা বৃষ্টিপাতের পাশাপাশি ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যে ভারী বর্ষণ অব্যাহত থাকায় ফেনীর মুহুরী, কহুয়া ও সিলোনীয়া নদীর বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ ভেঙে বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। গত কয়েকদিনের অব্যাহত বৃষ্টিতে জেলার নদ-নদীর পানি বাড়তে শুরু করায় সম্ভাব্য বন্যা পরিস্থিতি মোকাবেলায় সংশ্লিষ্ট সব সরকারি দপ্তর, জনপ্রতিনিধি ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনকে সর্বাত্মক প্রস্তুতি নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন জেলা প্রশাসক ও জেলা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি মনিরা হক।
মঙ্গলবার (৭ জুলাই) জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত জেলা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির জরুরি সভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব নির্দেশনা দেন।
জেলা প্রশাসক মনিরা হক বলেন, সম্ভাব্য বন্যা পরিস্থিতি মোকাবেলায় সব ধরনের আগাম প্রস্তুতি নিশ্চিত করতে হবে। বৃষ্টিপাতের পরিমাণ নিয়মিত মনিটরিং, এনটিআরসির সঙ্গে সমন্বয় করে যোগাযোগ ও নেটওয়ার্ক সচল রাখা, পর্যাপ্ত শুকনা খাবার মজুদ রাখা এবং হাসপাতালগুলোতে সাপের কামড়ের চিকিৎসায় প্রয়োজনীয় অ্যান্টিভেনম প্রস্তুত রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ নিয়মিত মনিটরিং করতে হবে এবং প্রয়োজনীয় সংখ্যক স্বেচ্ছাসেবক প্রস্তুত রাখতে হবে। ইউনিয়ন ও ওয়ার্ডভিত্তিক কমিটি সক্রিয় করে সম্ভাব্য দুর্যোগ মোকাবিলার প্রস্তুতি বাস্তবায়নের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট সব দপ্তরকে নিজ নিজ দায়িত্ব অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
সভায় পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মনিরুল ইসলাম জানান, বর্তমানে জেলার নদ-নদীর পানি বিপৎসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। তবে সীমান্তবর্তী ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যে ভারী বৃষ্টিপাত হলে উজান থেকে নেমে আসা ঢলে ফেনীসহ আশপাশের বিস্তীর্ণ এলাকা যেকোনো সময় প্লাবিত হতে পারে। তাই পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।
জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা মো. মাহবুব আলম বলেন, সম্ভাব্য বন্যা পরিস্থিতি মোকাবেলায় জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় আগাম প্রস্তুতি গ্রহণ করা হচ্ছে। পরিস্থিতির অবনতি হলে দ্রুত ত্রাণ বিতরণ ও উদ্ধার কার্যক্রম পরিচালনার জন্য সংশ্লিষ্ট সব ব্যবস্থাও প্রস্তুত রাখা হচ্ছে।
এদিকে জেলায় টানা বৃষ্টিপাত অব্যাহত রয়েছে। ফেনী আবহাওয়া অফিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. মজিবুর রহমান জানান, গত ২৪ ঘণ্টায় (সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত) ফেনীতে ৯১ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। আগামী কয়েকদিনও বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকতে পারে বলে তিনি জানান।
জরুরি সভায় স্থানীয় সরকার বিভাগের উপ-পরিচালক মো. দিদারুল আলম, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মোহাম্মদ আল আমিন সরকার, জেলা বিএনপির সদস্য সচিব আলাল উদ্দিন আলাল, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সুলতানা নাসরীন কান্তা, জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. দেলোয়ার হোসেন, জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক কৃষিবিদ মোহাম্মদ আতিক উল্যাহ, পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির সিনিয়র জিএম মুহাম্মদ নুরুল হোসাইন, দৈনিক ফেনীর সময় সম্পাদক মোহাম্মদ শাহাদাত হোসেন, বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির সেক্রেটারি সালাহ উদ্দিন মামুনসহ জেলা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্য, বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা এবং সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।

শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৭ জুলাই ২০২৬
দেশে টানা বৃষ্টিপাতের পাশাপাশি ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যে ভারী বর্ষণ অব্যাহত থাকায় ফেনীর মুহুরী, কহুয়া ও সিলোনীয়া নদীর বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ ভেঙে বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। গত কয়েকদিনের অব্যাহত বৃষ্টিতে জেলার নদ-নদীর পানি বাড়তে শুরু করায় সম্ভাব্য বন্যা পরিস্থিতি মোকাবেলায় সংশ্লিষ্ট সব সরকারি দপ্তর, জনপ্রতিনিধি ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনকে সর্বাত্মক প্রস্তুতি নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন জেলা প্রশাসক ও জেলা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি মনিরা হক।
মঙ্গলবার (৭ জুলাই) জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত জেলা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির জরুরি সভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব নির্দেশনা দেন।
জেলা প্রশাসক মনিরা হক বলেন, সম্ভাব্য বন্যা পরিস্থিতি মোকাবেলায় সব ধরনের আগাম প্রস্তুতি নিশ্চিত করতে হবে। বৃষ্টিপাতের পরিমাণ নিয়মিত মনিটরিং, এনটিআরসির সঙ্গে সমন্বয় করে যোগাযোগ ও নেটওয়ার্ক সচল রাখা, পর্যাপ্ত শুকনা খাবার মজুদ রাখা এবং হাসপাতালগুলোতে সাপের কামড়ের চিকিৎসায় প্রয়োজনীয় অ্যান্টিভেনম প্রস্তুত রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ নিয়মিত মনিটরিং করতে হবে এবং প্রয়োজনীয় সংখ্যক স্বেচ্ছাসেবক প্রস্তুত রাখতে হবে। ইউনিয়ন ও ওয়ার্ডভিত্তিক কমিটি সক্রিয় করে সম্ভাব্য দুর্যোগ মোকাবিলার প্রস্তুতি বাস্তবায়নের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট সব দপ্তরকে নিজ নিজ দায়িত্ব অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
সভায় পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মনিরুল ইসলাম জানান, বর্তমানে জেলার নদ-নদীর পানি বিপৎসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। তবে সীমান্তবর্তী ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যে ভারী বৃষ্টিপাত হলে উজান থেকে নেমে আসা ঢলে ফেনীসহ আশপাশের বিস্তীর্ণ এলাকা যেকোনো সময় প্লাবিত হতে পারে। তাই পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।
জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা মো. মাহবুব আলম বলেন, সম্ভাব্য বন্যা পরিস্থিতি মোকাবেলায় জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় আগাম প্রস্তুতি গ্রহণ করা হচ্ছে। পরিস্থিতির অবনতি হলে দ্রুত ত্রাণ বিতরণ ও উদ্ধার কার্যক্রম পরিচালনার জন্য সংশ্লিষ্ট সব ব্যবস্থাও প্রস্তুত রাখা হচ্ছে।
এদিকে জেলায় টানা বৃষ্টিপাত অব্যাহত রয়েছে। ফেনী আবহাওয়া অফিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. মজিবুর রহমান জানান, গত ২৪ ঘণ্টায় (সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত) ফেনীতে ৯১ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। আগামী কয়েকদিনও বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকতে পারে বলে তিনি জানান।
জরুরি সভায় স্থানীয় সরকার বিভাগের উপ-পরিচালক মো. দিদারুল আলম, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মোহাম্মদ আল আমিন সরকার, জেলা বিএনপির সদস্য সচিব আলাল উদ্দিন আলাল, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সুলতানা নাসরীন কান্তা, জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. দেলোয়ার হোসেন, জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক কৃষিবিদ মোহাম্মদ আতিক উল্যাহ, পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির সিনিয়র জিএম মুহাম্মদ নুরুল হোসাইন, দৈনিক ফেনীর সময় সম্পাদক মোহাম্মদ শাহাদাত হোসেন, বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির সেক্রেটারি সালাহ উদ্দিন মামুনসহ জেলা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্য, বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা এবং সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।

আপনার মতামত লিখুন