সারাদেশে প্রতিনিধি নিয়োগ দিচ্ছে ফোরকানুল হক (সাকিব) সম্পাদিত " TV 26 NEWS " আগ্রহীরা দ্রুত যোগাযোগ করুন। সব খবর সবার আগে পেতে আমাদের সাথেই থাকুন। রাজধানীর মোহাম্মদপুর থানা থেকে বদলি হওয়ার পরও ওই থানার একটি মামলায় চার্জশিট দিয়েছেন উপ-পরিদর্শক (এসআই) মাহিদুল ইসলাম। বদলিজনিত প্রস্থান বা সিসি নেওয়ার পরদিনই মামলাটির অভিযোগপত্র আদালতে দাখিল করা হয়। অভিযোগ রয়েছে, মোহাম্মদপুর থানার তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মেজবাহ উদ্দিনের যোগসাজশে এসআই মাহিদুল ওসির ক্রাইম ডাটা ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (সিডিএমএস) আইডি ব্যবহার করে ওই চার্জশিট দাখিল করেন।
অনুসন্ধানে এসআই মাহিদুল ইসলামের বদলির আদেশ, বদলিজনিত প্রস্থান (সিসি) এবং সংশ্লিষ্ট মামলার চার্জশিট বিশ্লেষণ করে এসব তথ্য পাওয়া গেছে।
নথি অনুযায়ী, চলতি বছরের ১৪ এপ্রিল রাজধানীর মোহাম্মদপুর থানা থেকে এসআই মাহিদুল ইসলামকে তেজগাঁও থানায় বদলির আদেশ দেন তেজগাঁও বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) ইবনে মিজান। এরপর ১৮ এপ্রিল মোহাম্মদপুর থানা থেকে বদলিজনিত প্রস্থান (সিসি) নেন তিনি।
কোনো কর্মকর্তা বদলিজনিত প্রস্থান নেওয়ার পর সংশ্লিষ্ট থানার সঙ্গে তার দায়িত্বগত সম্পর্ক শেষ হয়। একই সঙ্গে সিডিএমএসে তার আইডি লক হয়ে যায়। কিন্তু নথি পর্যালোচনায় দেখা যায়, মোহাম্মদপুর থানায় দায়িত্ব শেষ করে সিসি নেওয়ার পরদিনই অর্থাৎ ১৯ এপ্রিল ওই থানার একটি মামলায় চার্জশিট দাখিল করেন এসআই মাহিদুল ইসলাম।
অভিযোগ উঠেছে, ওসি মেজবাহ উদ্দিনের সিডিএমএস আইডি ব্যবহার করে ওই চার্জশিট দাখিল করা হয়েছে এবং এর পেছনে মোহাম্মদপুর থানার তৎকালীন ওসি মেজবাহ উদ্দিনের যোগসাজশ ছিল।
মোহাম্মদপুর থানা পুলিশের একাধিক কর্মকর্তা জানান, আমরা যেহেতু সরকারি চাকরি করি আমাদের যে কোনো সময় বদলির অর্ডার হতে পারে। যদি কোনো মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তার বদলির অর্ডার হয় ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে অনুমতি নিয়ে তার কাছে থাকা মামলার ডকেট (কাগজপত্র) দ্রুততম সময়ের মধ্যে হস্তান্তর করে সিসি নিয়ে নিতে হয়। সিসি নেওয়ার আগ পর্যন্ত আপনি মামলার চার্জশিট ও ফাইনাল রিপোর্ট মামলার তদন্ত যে কোনো কিছু করতে পারবেন। সেটির সুযোগ থাকে। কিন্তু আপনি যখন থানা থেকে সিসি নেবেন তখন আপনার সঙ্গে এই থানার সমস্ত সম্পর্ক শেষ। আপনি কোনোভাবেই মামলার কোনো বিষয়ে হস্তক্ষেপ করতে পারবেন না।
চার মাসের মধ্যে চার্জশিট
মোহাম্মদপুর থানার এ বছরের জানুয়ারি মাসের ৩ নম্বর মামলার নথি পর্যালোচনায় দেখা যায়, গত ২ জানুয়ারি অবসরপ্রাপ্ত পাইলট সৈয়দ নাজিম মাহমুদ তিনজনের নাম উল্লেখ করে মোহাম্মদপুর থানায় মামলা করেন। মামলাটি দণ্ডবিধির ৩৪২, ৩৮৫, ৩৮৬ ও ৩৪ ধারায় করা হয়। মামলাটি তদন্তের দায়িত্ব পান তৎকালীন মোহাম্মদপুর থানার এসআই মাহিদুল ইসলাম।
মামলা রুজুর প্রায় চার মাসের মধ্যে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়। তবে অভিযোগপত্র দাখিলের সময় এসআই মাহিদুল আর মোহাম্মদপুর থানায় কর্মরত ছিলেন না। এর আগেই তিনি বদলির আদেশ পেয়ে ১৮ এপ্রিল সিসি নিয়ে মোহাম্মদপুর থানা ছাড়েন। পরদিন ১৯ এপ্রিল তিনি অভিযোগপত্র (অভিযোগপত্র নম্বর-২৫৮) দাখিল করেন।
ঘটনা তদন্তে সহকারী কমিশনার
এসআই মাহিদুলের বদলির পরও চার্জশিট দাখিলের বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর বিষয়টি তদন্তের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। গত বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) তেজগাঁও বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার ইবনে মিজান বিষয়টি তদন্তের দায়িত্ব দেন মোহাম্মদপুর জোনের সহকারী পুলিশ কমিশনার (এসি) আব্দুল্লাহ আল মামুনকে। ঘটনার বিষয়ে তদন্ত করে আগামী সাত দিনের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
অভিযুক্ত এসআই ও ওসির বক্তব্য
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে বদলির পরও চার্জশিট দেওয়া এসআই মাহিদুল ইহলাম জানান, আমি সিসি নিয়েছি ১৮ তারিখ সেটা সঠিক। কিন্তু আমি নিয়ম মেনেই চার্জশিট দিয়েছি। আমার আইডি যদি লক হয়ে যায় তাহলে আমি চার্জশিট দিয়েছি কীভাবে। আমি রাত ১২টার আগে সিডিএমএস এন্ট্রি দিয়েছিলাম, ত্রুটির কারণে সেটি পরদিন নিয়েছে।
আপনি তো আপনার আইডি দিয়ে চার্জশিট দাখিল করেননি। তৎকালীন ওসি মেজবাহ উদ্দিনের সিডিএমএস আইডি দিয়ে চার্জশিট দাখিল করেছেন- এমন তথ্য আছে। এ বিষয়ে কী বলবেন? জবাবে তিনি বলেন, আমি তার সিডিএমএস আইডি ব্যবহার করিনি, বিষয়টি সঠিক নয়।
বদলির পরেও কীভাবে এসআই মাহিদুল মামলার চার্জশিট দিয়েছেন সে বিষয়টি জানতে চাওয়া হলে তৎকালীন (বর্তমানে ডিবি রমনায় কর্মরত) ওসি মেজবাহ উদ্দিন জানান, বদলি হওয়ার পরেও তিনি চার্জশিটে দিতে পারবেন। যেহেতু তার একই ডিভিশনে বদলি হয়েছে। তার সিডিএমএস আইডি লক হয়নি। লক হলে তিনি কীভাবে চার্জশিট দিয়েছেন?
আপনার আইডি ব্যবহার করে চার্জশিট দিয়েছেন- এমন অভিযোগ উঠেছে। এ বিষয়ে কী বলবেন? জবাবে তিনি বলেন, তিনি আমার ইউজার আইডি পাসওয়ার্ড জানবেন কীভাবে? আমার ইউজার আইডি পাসওয়ার্ড তো তার কাছে থাকার কথা নয়। আর আমি তো ওখান থেকে চলে এসেছি, এখন এটা নিয়ে এত ঘাঁটাঘাঁটি করে কী লাভ।
মামলার বিচারে প্রভাব পড়ে : আইনজীবী
এ বিষয়ে জানতে চাইলে সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী মনজিল মোরসেদ বলেন, যে থানায় কোনো পুলিশ কর্মকর্তার দায়িত্ব বা পোস্টিং নেই, সেই থানার মামলায় তদন্ত কর্মকর্তা হিসেবে রিপোর্ট দাখিল করার বিষয়টি প্রশ্নবিদ্ধ। কারণ একজন তদন্ত কর্মকর্তা নির্দিষ্ট থানার কর্মকর্তা হিসেবে একটি মামলার তদন্ত করেন। পরবর্তীতে ওই থানায় তার পোস্টিং না থাকলে সেখানে তার দায়িত্ব পালনের এখতিয়ার নিয়েও প্রশ্ন ওঠে।
তিনি বলেন, কোনো কর্মকর্তা যদি এক তারিখে থানা থেকে ক্লিয়ারেন্স নিয়ে বদলি হয়ে চলে যান, কিন্তু পরদিন ওই মামলার চার্জশিটে স্বাক্ষর করেন, তাহলে বিষয়টি অবশ্যই প্রশ্নের জন্ম দেবে। কারণ চার্জশিট দাখিলের দিন ওই কর্মকর্তার সংশ্লিষ্ট থানায় দায়িত্ব বা কর্তৃত্ব ছিল কি না, সেটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।
মনজিল মোরসেদ বলেন, এ ধরনের ঘটনায় তদন্ত কর্মকর্তার ভুল বা অসতর্কতার কারণে মামলাটি দুর্বল হওয়ার সুযোগ রয়েছে। বিচার পর্যায়ে আসামিপক্ষ বিষয়টি জানতে পারলে তারা জেরার সময় এ বিষয়ে প্রশ্ন তুলতে পারে। তখন তদন্ত কর্মকর্তার ওই দিন মামলার রিপোর্ট দাখিলের আইনগত কর্তৃত্ব ছিল কি না, সেটি আদালতের সামনে আসবে। এতে আসামিপক্ষ সুবিধা পাওয়ার সুযোগ তৈরি হতে পারে এবং মামলাটিও দুর্বল হয়ে পড়তে পারে।
আদালত চাইলে বিষয়টি খতিয়ে দেখে অধিকতর তদন্তের জন্য মামলাটি ফেরতও দিতে পারেন। তবে সাধারণত রিপোর্ট গ্রহণের পর্যায়ে এ ধরনের বিষয় পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই করা হয় না। বিচারপর্বে আসামিপক্ষ বিষয়টি তুলে ধরলে তখন এর গুরুত্ব বাড়তে পারে।
এই আইনজীবী আরও বলেন, দায়িত্বে না থাকা থানার মামলায় রিপোর্ট দাখিল করা সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তার জন্য দায়িত্বে অবহেলা বা অসদাচরণের বিষয়ও হতে পারে। পুলিশের দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট আইন, বিধিবিধান ও শর্ত রয়েছে। সেই দায়িত্বের বাইরে গিয়ে কোনো কর্মকর্তা রিপোর্ট দাখিল করলে তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ রয়েছে।
তবে যদি তিনি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের অনুমতি নিয়ে থাকেন, তাহলে সেটি তার পক্ষে একটি সুরক্ষার বিষয় হতে পারে। কিন্তু এমন কোনো অনুমতি না থাকলে বিষয়টি তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা বা মিসকন্ডাক্ট হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।
মনজিল মোরসেদ বলেন, যে থানায় তার দায়িত্বই নেই, সেই থানার মামলায় তিনি কীভাবে রিপোর্ট দাখিল করেন এটা তো তিনি করতে পারেন না।
তদন্ত রিপোর্টের অপেক্ষায় পুলিশ
এ বিষয়ে জানতে চাইলে তেজগাঁও বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার মো. ইবনে মিজান জানান, এই বিষয়টি আমাদের নজরে এসেছে। এখানে কারো কোনো গাফিলতি আছে কি না, এটা ইচ্ছাকৃত নাকি অনিচ্ছাকৃত এবং আইনগতভাবে হয়েছে কি না সে বিষয়টি তদন্ত করার জন্য মোহাম্মদপুর জোনের সহকারী পুলিশ কমিশনার আব্দুল্লাহ আল মামুনকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। আগামী সাত দিনের মধ্যে বিষয়টি তদন্ত করে রিপোর্ট দেওয়ার জন্য বলা হয়েছে।
এখন তদন্তে বেরিয়ে আসবে, সিসি নেওয়ার পর এসআই মাহিদুল কীভাবে চার্জশিট দাখিল করল, তার সিডিএমএস আইডি কীভাবে ব্যবহার করা হয়েছিল এবং এতে তৎকালীন ওসি মেজবাহ উদ্দিনের কোনো সংশ্লিষ্টতা ছিল কি না।

শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
রাজধানীর মোহাম্মদপুর থানা থেকে বদলি হওয়ার পরও ওই থানার একটি মামলায় চার্জশিট দিয়েছেন উপ-পরিদর্শক (এসআই) মাহিদুল ইসলাম। বদলিজনিত প্রস্থান বা সিসি নেওয়ার পরদিনই মামলাটির অভিযোগপত্র আদালতে দাখিল করা হয়। অভিযোগ রয়েছে, মোহাম্মদপুর থানার তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মেজবাহ উদ্দিনের যোগসাজশে এসআই মাহিদুল ওসির ক্রাইম ডাটা ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (সিডিএমএস) আইডি ব্যবহার করে ওই চার্জশিট দাখিল করেন।
অনুসন্ধানে এসআই মাহিদুল ইসলামের বদলির আদেশ, বদলিজনিত প্রস্থান (সিসি) এবং সংশ্লিষ্ট মামলার চার্জশিট বিশ্লেষণ করে এসব তথ্য পাওয়া গেছে।
নথি অনুযায়ী, চলতি বছরের ১৪ এপ্রিল রাজধানীর মোহাম্মদপুর থানা থেকে এসআই মাহিদুল ইসলামকে তেজগাঁও থানায় বদলির আদেশ দেন তেজগাঁও বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) ইবনে মিজান। এরপর ১৮ এপ্রিল মোহাম্মদপুর থানা থেকে বদলিজনিত প্রস্থান (সিসি) নেন তিনি।
কোনো কর্মকর্তা বদলিজনিত প্রস্থান নেওয়ার পর সংশ্লিষ্ট থানার সঙ্গে তার দায়িত্বগত সম্পর্ক শেষ হয়। একই সঙ্গে সিডিএমএসে তার আইডি লক হয়ে যায়। কিন্তু নথি পর্যালোচনায় দেখা যায়, মোহাম্মদপুর থানায় দায়িত্ব শেষ করে সিসি নেওয়ার পরদিনই অর্থাৎ ১৯ এপ্রিল ওই থানার একটি মামলায় চার্জশিট দাখিল করেন এসআই মাহিদুল ইসলাম।
অভিযোগ উঠেছে, ওসি মেজবাহ উদ্দিনের সিডিএমএস আইডি ব্যবহার করে ওই চার্জশিট দাখিল করা হয়েছে এবং এর পেছনে মোহাম্মদপুর থানার তৎকালীন ওসি মেজবাহ উদ্দিনের যোগসাজশ ছিল।
মোহাম্মদপুর থানা পুলিশের একাধিক কর্মকর্তা জানান, আমরা যেহেতু সরকারি চাকরি করি আমাদের যে কোনো সময় বদলির অর্ডার হতে পারে। যদি কোনো মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তার বদলির অর্ডার হয় ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে অনুমতি নিয়ে তার কাছে থাকা মামলার ডকেট (কাগজপত্র) দ্রুততম সময়ের মধ্যে হস্তান্তর করে সিসি নিয়ে নিতে হয়। সিসি নেওয়ার আগ পর্যন্ত আপনি মামলার চার্জশিট ও ফাইনাল রিপোর্ট মামলার তদন্ত যে কোনো কিছু করতে পারবেন। সেটির সুযোগ থাকে। কিন্তু আপনি যখন থানা থেকে সিসি নেবেন তখন আপনার সঙ্গে এই থানার সমস্ত সম্পর্ক শেষ। আপনি কোনোভাবেই মামলার কোনো বিষয়ে হস্তক্ষেপ করতে পারবেন না।
চার মাসের মধ্যে চার্জশিট
মোহাম্মদপুর থানার এ বছরের জানুয়ারি মাসের ৩ নম্বর মামলার নথি পর্যালোচনায় দেখা যায়, গত ২ জানুয়ারি অবসরপ্রাপ্ত পাইলট সৈয়দ নাজিম মাহমুদ তিনজনের নাম উল্লেখ করে মোহাম্মদপুর থানায় মামলা করেন। মামলাটি দণ্ডবিধির ৩৪২, ৩৮৫, ৩৮৬ ও ৩৪ ধারায় করা হয়। মামলাটি তদন্তের দায়িত্ব পান তৎকালীন মোহাম্মদপুর থানার এসআই মাহিদুল ইসলাম।
মামলা রুজুর প্রায় চার মাসের মধ্যে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়। তবে অভিযোগপত্র দাখিলের সময় এসআই মাহিদুল আর মোহাম্মদপুর থানায় কর্মরত ছিলেন না। এর আগেই তিনি বদলির আদেশ পেয়ে ১৮ এপ্রিল সিসি নিয়ে মোহাম্মদপুর থানা ছাড়েন। পরদিন ১৯ এপ্রিল তিনি অভিযোগপত্র (অভিযোগপত্র নম্বর-২৫৮) দাখিল করেন।
ঘটনা তদন্তে সহকারী কমিশনার
এসআই মাহিদুলের বদলির পরও চার্জশিট দাখিলের বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর বিষয়টি তদন্তের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। গত বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) তেজগাঁও বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার ইবনে মিজান বিষয়টি তদন্তের দায়িত্ব দেন মোহাম্মদপুর জোনের সহকারী পুলিশ কমিশনার (এসি) আব্দুল্লাহ আল মামুনকে। ঘটনার বিষয়ে তদন্ত করে আগামী সাত দিনের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
অভিযুক্ত এসআই ও ওসির বক্তব্য
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে বদলির পরও চার্জশিট দেওয়া এসআই মাহিদুল ইহলাম জানান, আমি সিসি নিয়েছি ১৮ তারিখ সেটা সঠিক। কিন্তু আমি নিয়ম মেনেই চার্জশিট দিয়েছি। আমার আইডি যদি লক হয়ে যায় তাহলে আমি চার্জশিট দিয়েছি কীভাবে। আমি রাত ১২টার আগে সিডিএমএস এন্ট্রি দিয়েছিলাম, ত্রুটির কারণে সেটি পরদিন নিয়েছে।
আপনি তো আপনার আইডি দিয়ে চার্জশিট দাখিল করেননি। তৎকালীন ওসি মেজবাহ উদ্দিনের সিডিএমএস আইডি দিয়ে চার্জশিট দাখিল করেছেন- এমন তথ্য আছে। এ বিষয়ে কী বলবেন? জবাবে তিনি বলেন, আমি তার সিডিএমএস আইডি ব্যবহার করিনি, বিষয়টি সঠিক নয়।
বদলির পরেও কীভাবে এসআই মাহিদুল মামলার চার্জশিট দিয়েছেন সে বিষয়টি জানতে চাওয়া হলে তৎকালীন (বর্তমানে ডিবি রমনায় কর্মরত) ওসি মেজবাহ উদ্দিন জানান, বদলি হওয়ার পরেও তিনি চার্জশিটে দিতে পারবেন। যেহেতু তার একই ডিভিশনে বদলি হয়েছে। তার সিডিএমএস আইডি লক হয়নি। লক হলে তিনি কীভাবে চার্জশিট দিয়েছেন?
আপনার আইডি ব্যবহার করে চার্জশিট দিয়েছেন- এমন অভিযোগ উঠেছে। এ বিষয়ে কী বলবেন? জবাবে তিনি বলেন, তিনি আমার ইউজার আইডি পাসওয়ার্ড জানবেন কীভাবে? আমার ইউজার আইডি পাসওয়ার্ড তো তার কাছে থাকার কথা নয়। আর আমি তো ওখান থেকে চলে এসেছি, এখন এটা নিয়ে এত ঘাঁটাঘাঁটি করে কী লাভ।
মামলার বিচারে প্রভাব পড়ে : আইনজীবী
এ বিষয়ে জানতে চাইলে সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী মনজিল মোরসেদ বলেন, যে থানায় কোনো পুলিশ কর্মকর্তার দায়িত্ব বা পোস্টিং নেই, সেই থানার মামলায় তদন্ত কর্মকর্তা হিসেবে রিপোর্ট দাখিল করার বিষয়টি প্রশ্নবিদ্ধ। কারণ একজন তদন্ত কর্মকর্তা নির্দিষ্ট থানার কর্মকর্তা হিসেবে একটি মামলার তদন্ত করেন। পরবর্তীতে ওই থানায় তার পোস্টিং না থাকলে সেখানে তার দায়িত্ব পালনের এখতিয়ার নিয়েও প্রশ্ন ওঠে।
তিনি বলেন, কোনো কর্মকর্তা যদি এক তারিখে থানা থেকে ক্লিয়ারেন্স নিয়ে বদলি হয়ে চলে যান, কিন্তু পরদিন ওই মামলার চার্জশিটে স্বাক্ষর করেন, তাহলে বিষয়টি অবশ্যই প্রশ্নের জন্ম দেবে। কারণ চার্জশিট দাখিলের দিন ওই কর্মকর্তার সংশ্লিষ্ট থানায় দায়িত্ব বা কর্তৃত্ব ছিল কি না, সেটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।
মনজিল মোরসেদ বলেন, এ ধরনের ঘটনায় তদন্ত কর্মকর্তার ভুল বা অসতর্কতার কারণে মামলাটি দুর্বল হওয়ার সুযোগ রয়েছে। বিচার পর্যায়ে আসামিপক্ষ বিষয়টি জানতে পারলে তারা জেরার সময় এ বিষয়ে প্রশ্ন তুলতে পারে। তখন তদন্ত কর্মকর্তার ওই দিন মামলার রিপোর্ট দাখিলের আইনগত কর্তৃত্ব ছিল কি না, সেটি আদালতের সামনে আসবে। এতে আসামিপক্ষ সুবিধা পাওয়ার সুযোগ তৈরি হতে পারে এবং মামলাটিও দুর্বল হয়ে পড়তে পারে।
আদালত চাইলে বিষয়টি খতিয়ে দেখে অধিকতর তদন্তের জন্য মামলাটি ফেরতও দিতে পারেন। তবে সাধারণত রিপোর্ট গ্রহণের পর্যায়ে এ ধরনের বিষয় পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই করা হয় না। বিচারপর্বে আসামিপক্ষ বিষয়টি তুলে ধরলে তখন এর গুরুত্ব বাড়তে পারে।
এই আইনজীবী আরও বলেন, দায়িত্বে না থাকা থানার মামলায় রিপোর্ট দাখিল করা সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তার জন্য দায়িত্বে অবহেলা বা অসদাচরণের বিষয়ও হতে পারে। পুলিশের দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট আইন, বিধিবিধান ও শর্ত রয়েছে। সেই দায়িত্বের বাইরে গিয়ে কোনো কর্মকর্তা রিপোর্ট দাখিল করলে তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ রয়েছে।
তবে যদি তিনি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের অনুমতি নিয়ে থাকেন, তাহলে সেটি তার পক্ষে একটি সুরক্ষার বিষয় হতে পারে। কিন্তু এমন কোনো অনুমতি না থাকলে বিষয়টি তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা বা মিসকন্ডাক্ট হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।
মনজিল মোরসেদ বলেন, যে থানায় তার দায়িত্বই নেই, সেই থানার মামলায় তিনি কীভাবে রিপোর্ট দাখিল করেন এটা তো তিনি করতে পারেন না।
তদন্ত রিপোর্টের অপেক্ষায় পুলিশ
এ বিষয়ে জানতে চাইলে তেজগাঁও বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার মো. ইবনে মিজান জানান, এই বিষয়টি আমাদের নজরে এসেছে। এখানে কারো কোনো গাফিলতি আছে কি না, এটা ইচ্ছাকৃত নাকি অনিচ্ছাকৃত এবং আইনগতভাবে হয়েছে কি না সে বিষয়টি তদন্ত করার জন্য মোহাম্মদপুর জোনের সহকারী পুলিশ কমিশনার আব্দুল্লাহ আল মামুনকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। আগামী সাত দিনের মধ্যে বিষয়টি তদন্ত করে রিপোর্ট দেওয়ার জন্য বলা হয়েছে।
এখন তদন্তে বেরিয়ে আসবে, সিসি নেওয়ার পর এসআই মাহিদুল কীভাবে চার্জশিট দাখিল করল, তার সিডিএমএস আইডি কীভাবে ব্যবহার করা হয়েছিল এবং এতে তৎকালীন ওসি মেজবাহ উদ্দিনের কোনো সংশ্লিষ্টতা ছিল কি না।

আপনার মতামত লিখুন