ঢাকা    সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬
ঢাকা    সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬
টিভি ২৬ নিউজ

আলমডাঙ্গায় প্রসূতির মৃত্যুর পর ক্লিনিক মালিকের কারাদণ্ড

চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গায় প্রশাসনের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে অবৈধভাবে ক্লিনিক পরিচালনা এবং চিকিৎসায় অবহেলায় এক প্রসূতির মৃত্যুর অভিযোগের পর ক্লিনিক মালিককে এক মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। একই সঙ্গে ক্লিনিকটির সব কার্যক্রম বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। রবিবার (২৫ অক্টোবর) বিকেলে আলমডাঙ্গা পৌর শহরের লোকমান হোসেন হসপিটাল অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারে সিভিল সার্জন কার্যালয় ও উপজেলা প্রশাসনের যৌথ অভিযানে এ দণ্ড দেওয়া হয়। ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও আলমডাঙ্গা উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মহেশ্বর মন্ডল। ভ্রাম্যমাণ আদালত সূত্রে জানা গেছে, লোকমান হোসেন হসপিটাল অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারে সরকারি বিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় চিকিৎসক ও সেবিকা ছিল না। ক্লিনিকের পরিবেশও ছিল অত্যন্ত অস্বাস্থ্যকর। এ ছাড়া প্রতিষ্ঠানটির বৈধ সরকারি লাইসেন্স ও পরিবেশগত ছাড়পত্র ছিল না। এসব অনিয়মের কারণে এর আগে ভ্রাম্যমাণ আদালত ক্লিনিকটির কার্যক্রম বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছিলেন। কিন্তু সেই নির্দেশ অমান্য করে ক্লিনিক মালিক লুৎফর হোসেন অবৈধভাবে কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছিলেন। সম্প্রতি ওই ক্লিনিকে কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলার সারদার চর গ্রামের গৃহবধূ সোনিয়া খাতুনের (২৮) অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে সন্তান প্রসব করানো হয়। অভিযোগ রয়েছে, ক্লিনিক মালিক লুৎফর হোসেন নিজেই অস্ত্রোপচার করেন। পরে সোনিয়ার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাঁকে কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পথে মৃত্যু হয়। অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ ও চিকিৎসায় ত্রুটির কারণে তাঁর মৃত্যু হয়েছে বলে অভিযোগ ওঠে। এসব ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে রবিবার ক্লিনিকটিতে অভিযান পরিচালনা করেন ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মহেশ্বর মন্ডল। এ সময় আগের নিষেধাজ্ঞা বহাল রেখে ক্লিনিকটির সব কার্যক্রম সম্পূর্ণ বন্ধ ঘোষণা করা হয়। পাশাপাশি অবৈধভাবে ক্লিনিক পরিচালনার দায়ে মালিক লুৎফর হোসেনকে এক মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়।

আলমডাঙ্গায় প্রসূতির মৃত্যুর পর ক্লিনিক মালিকের কারাদণ্ড