বৈদ্যুতিক মিস্ত্রি কাউসার আহমেদ ব্যাংক থেকে দুই লাখ টাকা ঋণ নিতে যান। ব্যাংক কর্তৃপক্ষ ঋণ না দেওয়ায় ব্যাংক লুটের পরিকল্পনা করেন তিনি। রাতে নিরাপত্তাকর্মীকে প্রাণনাশের ভয় দেখিয়ে ভল্ট ভাঙার চেষ্টা করলে ব্যর্থ হন। একপর্যায়ে স্থানীয়দের হাতে আটক হন তিনি। গত বুধবার দিবাগত রাতে এ ঘটনা ঘটেছে উপজেলার কৃষি ব্যাংকের সোহাগী বাজার শাখায়। ওই যুবকের নাম কাউসার আহমেদ। তিনি সোহাগী ইউনিয়নের বৃ-কাঁঠালিয়া গ্রামের কৃষক রতন মিয়ার ছেলে। আজ বৃহস্পতিবার আটক কাউসার আহমেদের বিরুদ্ধে মামলা দায়েরর পর আদালতে পাঠানো হয়। ব্যাংক সংশ্লিষ্টজন ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কাউসার আহমেদ ঈশ্বরগঞ্জ কৃষি ব্যাংকের সোহাগী বাজার শাখা থেকে ঋণ নিতে যান। ঋণ না পেয়েই ব্যাংক থেকে সব টাকা লুটের পরিকল্পনা করেন। বুধবার দিবাগত রাতে সোহাগী বাজার শাখা ব্যাংকের প্রধান ফটকের তালা কেটে ব্যাংকের ভেতরে যান কাউসার আহমেদ। সেখানে নিরাপত্তা দায়িত্বে থাকা মাজহারুল ইসলাম সাগরকে ছুরির ভয় দেখিয়ে বেঁধে ফেলেন। ব্যাংকের ভল্টে সংরক্ষিত রাখা টাকা নেওয়ার জন্য ভল্ট ভাঙার চেষ্টা করে। এ সময় ব্যাংকের নিরাপত্তা প্রহরী কৌশলে নিচে গিয়ে চিৎকার দিলে আশপাশের স্থানীয় লোকজন গিয়ে কাউসারকে আটক করে। পরে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি ব্যাংক লুটের পরিকল্পনার কথা জানান। ব্যাংকের নিরাপত্তা প্রহরী মাজহারুল ইসলাম বলেন, রাতে ব্যাংকের ভেতরে ঢুকে ডাকাডাকি শুরু করে। ঘুম থেকে উঠে কাছে যেতেই কাউসার ছুরি ধরে তাঁকে দড়ি দিয়ে বেঁধে ফেলেন। বাঁধন ঢিলেঢালা হওয়ায় কৌশলে তিনি সেটি খুলে দ্রুত নিচে নেমে যান এবং আশপাশের লোকজন ডাকতে থাকেন। পরে কয়েকজনসহ কাউসারকে আটক করা হয়। ঈশ্বরগঞ্জ কৃষি ব্যাংক সোহাগী বাজার শাখার ব্যবস্থাপক নাজমুল হক বলেন, ‘উনি ব্যাংকে ঋণ নিতে এসেছিলেন। এ ঘটনায় কাউসারের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ দিলে সেটি মামলা হিসেবে নথিভুক্ত করে পুলিশ। ব্যাংকে নিরাপত্তা জোরদার বাড়ানো হয়েছে।’ এ বিষয়ে ঈশ্বরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাজ্জাদ রোমন জানান, বিয়ে করার জন্য কাউসার ঋণ নিয়েছিল। তারপর ব্যাংকের ভল্ট দেখে ব্যাংক লুটের পরিকল্পনা করে। গ্রেপ্তারের পর তাঁকে কোর্টে পাঠানো হয়েছে।’