ঢাকা    শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬
ঢাকা    শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬
টিভি ২৬ নিউজ

রেলওয়ের বনায়নের গাছ উজাড়, টিলা কেটে সমতল

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের জঙ্গলভাটিয়ারিতে রেলওয়ে ও সরকারি খাসজমির বনায়নের গাছ কেটে উজাড় করার অভিযোগ উঠেছে। তিন সপ্তাহ ধরে ফৌজদারহাট জলিল রেলস্টেশনের উত্তর-পূর্ব পাশে এবং পোর্ট লিংক-২ কনটেইনার ডিপোর দক্ষিণ পাশে জঙ্গলভাটিয়ারি এলাকায় প্রকাশ্যে বনায়নের গাছ কাটার এ তৎপরতা চলছে। একই সঙ্গে টিলা কেটে সমতল করা হয়েছে বিস্তীর্ণ এলাকা। এতে পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য হুমকির মুখে পড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। তবে রেলওয়ে কর্মকর্তা জানিয়েছেন বনায়নের জায়গায় গাছ কাটার কোনো  তথ্য তার জানা নেই।  ওই বনায়নের জমি ফৌজদারহাট জলিল রেলস্টেশন থেকে আধা কিলোমিটারের মধ্যে। বাংলাদেশ রেলওয়ের চট্টগ্রাম বিভাগীয় ভূ-সম্পত্তি কর্মকর্তার চট্টগ্রামের পাহাড়তলীর দপ্তর থেকে ৭-৮ কিলোমিটার দূরে। জানা গেছে, এ পর্যন্ত বনায়নের শতাধিক গাছ কাটা হয়েছে। এর মধ্যে ৩০ থেকে ৩৫টি বড় গাছ রয়েছে। ইতোমধ্যে সাত ট্রাক কেটে নেওয়া কাঠ সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। অবশিষ্ট গাছ কেটে টুকরো করে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। গতকাল শুক্রবার সকালেও কিছু টুকরো ভ্যানে করে নিয়ে যাওয়া হয়। গাছ কাটার আগে ৪০ শতক আয়তনের টিলা কেটে মাটি দিয়ে পাশের নিচু জমি ভরাট করা হয়েছে। ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের সীতাকুণ্ডের ভাটিয়ারী পোর্টলিংক রোড দিয়ে প্রায় আধা কিলোমিটার পূর্বে পোর্টলিংক ০২ নামে একটি কনটেইনার ডিপো রয়েছে। ওই ডিপোর দক্ষিণ-পূর্ব পাশে পাহাড়ের পাদদেশে রয়েছে গাছে ঘেরা বিশাল একটি এলাকা। স্থানীয়রা বলছেন, রেলওয়ে ও সরকারি খাসজমিতে রেলওয়ের সৃজিত বনায়ন রয়েছে। ব্রিটিশ আমল থেকেই এখানে বনায়ন করা হচ্ছে। রেলওয়ে অতীতে বনায়নের গাছ টেন্ডার ডেকে বিক্রিও করেছে। কিন্তু এখন কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তি সেখানকার একাংশের বড় একটি টিলা কেটে সমতল করেছেন। গত ২০ দিনে ছোট-বড় শতাধিক গাছ কাটা হয়েছে বলে জানান স্থানীয় বাসিন্দা আবদুল আউয়াল। একাধিক সূত্র জানায়, গাছ ও টিলা কাটার সঙ্গে স্থানীয় বিএনপি এবং জামায়াতের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত একাধিক প্রভাবশালী ব্যক্তি জড়িত। কেউ কেউ তাদের নেপথ্যে পার্শ্ববর্তী কনটেইনার ডিপোর জড়িত থাকার ইঙ্গিত করেছেন। সমতল করা ওই জমিতে ডিপো বর্ধিত করা হতে পারে বলে তারা শুনেছেন।  গত বুধবার দুপুরে সরেজমিন দেখা যায়, কাটা গাছের বিশাল স্তূপ থেকে ৭ থেকে ৮ জন শ্রমিক গাছের গুঁড়ি ও ডালপালা টুকরো করছিলেন। আশপাশে উঁচু টিলা কাটার চিহ্নও দেখা যায়। গাছ কাটার কাজে নিয়োজিত রহমান মনির জানান, গাছগুলো রেলওয়ে ও সরকারি খাসজমির বনায়নের। প্রভাবশালী ব্যক্তিরা টেন্ডারের মাধ্যমে গাছগুলো নিয়েছেন। তাদের সঙ্গে মৌখিক চুক্তিতে তিনি গাছ কাটছেন। প্রতিটি গাছ কাটার জন্য তিন থেকে পাঁচ হাজার টাকা মজুরি পাবেন। তবে তাদের নাম প্রকাশ করতে রাজি হননি সংশ্লিষ্ট শ্রমিকেরা। স্থানীয়ভাবে দাবি করা হচ্ছে, গাছগুলোর প্রতিটি ১০ হাজার থেকে ১৫ হাজার টাকা দরে বিক্রি করা হয়েছে। এ ছাড়া বনায়ন এলাকায় ভূমিহীন বসতিদের রেলওয়ে কর্মকর্তার নাম ভাঙিয়ে উচ্ছেদের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে প্রভাবশালীদের বিরুদ্ধে। প্রকাশ্যে দীর্ঘদিন ধরে গাছ কাটা হলেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর পদক্ষেপের বিষয়ে স্পষ্ট তথ্য পাওয়া যায়নি। ফৌজদারহাট ফরেস্ট চেকপোস্টের বন কর্মকর্তা সাজ্জাত হোসেন বলেন, এগুলো রেলওয়ের জায়গা এবং গাছগুলোও রেলওয়ের। গাছ কাটার অনুমতি দেওয়া হয়েছে কিনা কিংবা টেন্ডার প্রক্রিয়ার মাধ্যমে গাছগুলো কাটার ব্যবস্থা করা হয়েছে কিনা, সে বিষয়ে তিনি নিশ্চিত নন। তিনি আরও বলেন, এক সপ্তাহ আগে খবর পেয়ে গাছের কাটা অংশের স্তূপ দেখতে পান। গাছগুলো পরিবহনের খবর পেলে ট্রাকসহ জব্দ করা। বাংলাদেশ রেলওয়ের চট্টগ্রাম বিভাগীয় ভূ-সম্পত্তি কর্মকর্তা মো. খোরশেদ আলম চৌধুরী বলেন, গাছ কাটার বিষয়টি আমার জানা নেই। রেলওয়ে বনায়নের গাছ কাটা হলে অবশ্যই টেন্ডার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে। কিন্তু কোনো টেন্ডার দেওয়া হয়নি।

রেলওয়ের বনায়নের গাছ  উজাড়, টিলা কেটে সমতল