হাসপাতালেই প্রসূতিকে মারধর, নবজাতককে ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা
ফরিদপুর জেনারেল (সদর) হাসপাতালে সদ্য সন্তান জন্ম দেওয়া এক গৃহবধূকে মারধর করে নবজাতককে ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে তার শ্বশুরবাড়ির লোকজনের বিরুদ্ধে। আজ বুধবার বিকেল ৫টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। ৯৯৯-এ কল পেয়ে কোতোয়ালি থানা-পুলিশ হাসপাতালে গেলে অভিযুক্তরা পালিয়ে যায়।
ভুক্তভোগী নুসরাত আক্তার (২০) জেলা সদরের কানাইপুর ইউনিয়নের মৃগী তেতুলতলা গ্রামের মাইনুদ্দিন শেখের মেয়ে। তিনি নবজাতক সন্তানসহ হাসপাতালের গাইনি ও লেবার ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন।
পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, প্রায় দেড় বছর আগে একই ইউনিয়নের উলুকান্দা গ্রামের কবির মৃধার ছেলে সৌদিপ্রবাসী সিয়াম মৃধার সঙ্গে পারিবারিকভাবে নুসরাতের বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকেই তার ওপর নির্যাতন চালাতে শুরু করেন শ্বশুরবাড়ির সদস্যরা। নুসরাতের গর্ভে সন্তান আসার পরও নির্যাতন বন্ধ হয়নি। প্রায় ১০ মাস আগে স্বামী সিয়াম মৃধা সৌদি আরব চলে গেলে শাশুড়ি আছিয়া বেগম ও পরিবারের অন্য সদস্যরা তার ওপর নির্যাতন চালাতে থাকে। দুই মাস আগে গর্ভবতী অবস্থায় তাকে বাড়ি থেকে বের করে দেওয়া হয় বলেও দাবি পরিবারের। একই সঙ্গে ডিভোর্সের হুমকির অভিযোগও করা হয়।
পরিবারের ভাষ্য, গতকাল মঙ্গলবার সকালে প্রসববেদনা উঠলে নুসরাতকে ফরিদপুর জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে দুপুরে অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে তিনি এক পুত্রসন্তানের জন্ম দেন। বুধবার বিকেলে শাশুড়ি আছিয়া বেগমের নেতৃত্বে চার থেকে পাঁচজন এসে নবজাতককে জোর করে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। বাধা দিলে অসুস্থ নুসরাতকে কিল-ঘুষি ও চড়-থাপ্পড় মারা হয়। হাসপাতালের একাধিক প্রত্যক্ষদর্শীও মারধরের ঘটনা দেখেছেন বলে জানায় পরিবার।
নুসরাতের মা মর্জিনা বেগম বলেন, ‘আমরা গরিব হওয়ায় চাহিদামতো কিছু না দেওয়ায় মেয়েকে বিয়ের পর থেকেই ওর স্বামী, শাশুড়ি ও ননদ নির্যাতন করতে থাকে। আজ হাসপাতালে এসেই আমার নাতিকে নিয়ে যেতে চায়। তখন আমার অসুস্থ মেয়ে বাধা দিলে চড়-থাপ্পড়, কিল-ঘুষি মারতে থাকে। খবর পেয়ে আমি দৌড়ে এলে আমাকেও হাসপাতালের মধ্যে কিল-ঘুষি ও লাথি দিয়ে ফেলে দেয়।’
মর্জিনা বেগম আরও অভিযোগ করেন, ‘ওর স্বামী তিন মাস আগে আমার ছেলেকে সৌদি আরব নিয়ে রেখেছে। সেখানে আমার ছেলেকেও আটকে রেখে মারধর করা হচ্ছে। কোনো কাজও দিচ্ছে না, কাগজপাতিও করে দিচ্ছে না। ছেলে আমার প্রতিদিন ফোন করে কান্নাকাটি করছে। আমি প্রশাসনের কাছে এসবের বিচারের দাবি জানাই, ওরা আমার ছেলে ও মেয়ের জীবন নষ্ট করে দিয়েছে।’
ঘটনা সম্পর্কে কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মাহামুদুল হাসান বলেন, ‘পারিবারিক বিরোধের জেরে নবজাতক সন্তানকে নিয়ে যেতে গিয়েছিল শ্বশুরবাড়ির লোকজন। আমরা বাচ্চাটিকে মায়ের হেফাজতে রাখতে বলেছি। মাকে সব রকমের নিরাপত্তা ও সহায়তা দেওয়া হবে। এ ছাড়া কোনো অভিযোগ দিলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’