খুলনা রেলস্টেশনের দেয়ালে আঁকা বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের গ্রাফিতি কালি দেওয়ার ঘটনায় এখনও কাউকে শনাক্ত করতে পারেনি পুলিশ। এ ঘটনায় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সমালোচনা চলছে। শনিবার ঘটনাস্থলে গিয়ে নতুন করে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের গ্রাফিতি আঁকার নির্দেশ দেন খুলনা সিটি করপোরেশনের (কেসিসি) প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু। দুপুরে গ্রাফিতি আঁকা শুরু হয়েছে। এর আগে বৃহস্পতিবার রাতে গ্রাফিতিতে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের মুখ কালি দিয়ে ঢেকে দেয় দুর্বৃত্তরা। শুক্রবার দুপুরে বিষয়টি সবার নজরে আসে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের খুলনায় আগমন উপলক্ষে খুলনা সিটি করপোরেশনের (কেসিসি) উদ্যোগে রেলস্টেশনের দেয়ালে জুলাই অভ্যুত্থান, সুন্দরবন, ষাটগম্বুজ মসজিদ, পাটশিল্পের গ্রাফিতির সঙ্গে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, কাজী নজরুল ইসলামসহ খুলনা অঞ্চলের শিল্প, সাহিত্য ও সংস্কৃতিতে অবদান রাখা গুণীজনদের প্রতিকৃতি আঁকা হয়। দৃষ্টিনন্দন এসব গ্রাফিতি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ইতিবাচক আলোচনা চলছিল। এর মধ্যে কালি দেয়ার ঘটনায় নিন্দা ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছে মানুষ। শনিবার দুপুরে কেসিসির জেষ্ঠ্য কর্মকর্তাদের নিয়ে ঘটনাস্থলে যান কেসিসি প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু। তিনি বলেন, ‘এটি একটা হিংস্রতা এবং একজন বিশ্ববরেণ্য কবির প্রতি অসম্মান। পছন্দ-অপছন্দ আমাদের থাকতে পারে, কিন্তু তাই বলে অমর্যাদাকর ও সমাজে বিদ্বেষ সৃষ্টি হয়-এমন কোনো কাজ থেকে আমাদের বিরত থাকা উচিত।’ তিনি বলেন, ‘একটা ছবি মুছে দিয়ে একটা মানুষকে অস্বীকার করার সুযোগ নাই। যারা এটি করেছেন, তাদেরকে মানুষ ঘৃণার চোখেই দেখেছে। তাদের প্রতি আমাদের আহ্বান থাকবে, আপনারা এসব কাজ থেকে বিরত থাকুন। রাজনৈতিক প্রতিহিংসায় যেন আমাদের এই ধরনের চিত্রকর্মের ওপরে আঘাত না আসে। কোনো কারণেই যেন আমরা বিভক্ত না হই।’ কেসিসি প্রশাসক বলেন, ‘আজকের মধ্যেই আমরা গ্রাফিতি নতুন করে অঙ্কন করবো। পাশাপাশি পুলিশকে বলেছি, যারা এটি করেছে তাদের খুঁজে বের করার জন্য। আমরা চাই, এই ধরনের কাজে আর কেউ অংশ না নিক।’ খুলনা থানার ওসি লোকমান হোসেন বলেন, ‘জড়িতদের খুঁজে বের করতে পুলিশ কাজ করছে। এখনও কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।’ এর আগে ১০ অক্টোবর ঢাকায় রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের গ্রাফিতির মুখমণ্ডলে কালি দেয়ার ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় রাষ্ট্র সংলাপ ফোরামের সদস্যসচিব আল নূর মোহাম্মদ আয়াশসহ চারজনকে আটক করে পুলিশ।