পি কে হালদারসহ ২৮ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিল করবে দুদক
জালিয়াতি করে আর্থিক প্রতিষ্ঠান রিলায়েন্স ফাইন্যান্স লিমিটেড থেকে ৩৪ কোটি ৪৫ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে এই প্রতিষ্ঠানের সাবেক এমডি পি কে হালদারসহ ২৮ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট দিচ্ছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। এরই মধ্যে চার্জশিটটির অনুমোদন দিয়েছে কমিশন। তদন্ত কর্মকর্তা শিগগির এটি আদালতে দাখিল করবেন। দুদক জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. আকতারুল ইসলাম বুধবার এক ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের এই তথ্য জানিয়েছেন।
দুদক জানায়, পি. কে. হালদারের সরাসরি সহায়তায় প্রতারনা, জালিয়াতি করে নওশেরুল ইসলামের মালিকানাধীন কাগজে প্রতিষ্ঠান ন্যাচার এন্টারপ্রাইজের নামে ওই পরিমাণ অর্থ আত্মসাত করা হয়। পরে ওই অর্থ আত্মসাতকারিদের মাঝে ভাগাভাগি করা হয়।
পি কে হালদার এনআরবি গ্লোবাল ব্যাংকের এমডির দায়িত্বেও ছিলেন। তিনি অদৃশ্য শক্তির ছত্রছায়ায় থেকে এক সময়ে দুর্দান্ত প্রতাপে দেশের পুরো অর্থিক খাত নিয়ন্ত্রণ করেছেন। জালিয়াতি করে উল্লেখযোগ্য সবক'টি আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে হাজার হাজার কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন। এর আগে তিনিসহ সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে প্রায় অর্ধশত মামলা দায়ের করা হয়। বর্তমানে তিনি ভারতের একটি কারাগারে আটক আছেন।
রিলায়েন্স ফাইন্যান্স লিমিটেড থেকে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে ২০২২ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি পি কে হালদারসহ ২১ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেছিল দুদক। দীর্ঘ সময়ের তদন্ত শেষে কমিশনে প্রতিবেদন দেওয়া হলে চার্জশিট দায়েরের অনুমোদন দেওয়া হয়।
চার্জশিটভুক্ত অন্য আসামীরা হলেন, ন্যাচার এন্টারপ্রাইজের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. নওশেরুল ইসলাম, এই কোম্পানির পরিচালক ও নওশেরুল ইসলামের স্ত্রী মমতাজ বেগম, এফএএস ফাইন্যান্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্টের সাবেক চেয়ারম্যান মো. সিদ্দিকুর রহমান, সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান মো. জাহাঙ্গীর আলম, অঞ্জন কুমার রায়, মো. আতাহারুল ইসলাম, কাজী মাহজাবিন মমতাজ, মাহফুজা রহমান বেবী, সোমা ঘোষ, সাবেক সিনিয়র অফিসার তাসনিয়া তাহসিন রোজালিন, মিসেস মৌসুমী পাল, সাবেক ডেপুটি ম্যানেজার আহসান রাকিব, সাবেক এসইভিপি এবং সিএডির প্রধান প্রাণ গৌরাঙ্গ দে, সাবেক এসভিপি এবং কর্পোরেট ফিনান্স অ্যান্ড রিকভারি এবং আইন বিভাগের প্রধান মো. জাহাঙ্গীর আলম ভূইয়া প্রমুখ।