রংপুরে লায়ন্স ইন্টারন্যাশনাল কার্যালয়ে দফায় দফায় তালা ভাঙা ও নতুন করে তালা ঝোলানোর ঘটনা ঘটেছে। এ সময় বাধা দিতে গিয়ে নিরাপত্তা বিভাগের ইনচার্জসহ তিনজনকে পিটিয়ে আহত করার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে আন্তর্জাতিক সংগঠনটির স্থানীয় কার্যালয়ে উত্তেজনা বিরাজ করছে। শনিবার (১০ অক্টোবর) বিকাল ৫টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত রংপুর নগরীর জিএল রায় রোডে অবস্থিত লায়ন্স স্কুল অ্যান্ড কলেজ ক্যাম্পাসের পঞ্চম তলায় সংগঠনটির কার্যালয়ে এসব ঘটনা ঘটে। পুলিশ, প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শনিবার বিকেল ৫টার দিকে ৪০ থেকে ৫০ জনের একটি দল লায়ন্স স্কুল অ্যান্ড কলেজের সামনে গিয়ে ফটক খুলে দিতে বলে। এ সময় নিরাপত্তা বিভাগের ইনচার্জ অবসরপ্রাপ্ত সার্জেন্ট গোলাম রব্বানী তাদের জানান, স্কুল বন্ধ রয়েছে। তখন তারা লায়ন্স ইন্টারন্যাশনাল কার্যালয়ে যাওয়ার কথা বলে জোর করে ভেতরে প্রবেশের চেষ্টা করেন। বাধা দিলে গোলাম রব্বানী এবং নিরাপত্তাকর্মী পলাশ চন্দ্র দাস ও আশরাফুল ইসলামকে মারধর করা হয় বলে অভিযোগ উঠেছে। পরে ওই ব্যক্তিরা ভবনের পঞ্চম তলায় অবস্থিত লায়ন্স ইন্টারন্যাশনাল কার্যালয়ের তালা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করেন। কিছুক্ষণ অবস্থানের পর তারা কার্যালয়ে নতুন তালা ঝুলিয়ে চলে যান। এর কিছুক্ষণ পর ২০ থেকে ২৫ জনের আরেকটি দল সেখানে গিয়ে সেই তালা ভেঙে নতুন করে তালা ঝুলিয়ে দেয়। এভাবে প্রায় এক ঘণ্টা ধরে কার্যালয়টিতে দফায় দফায় তালা ভাঙা ও দখল-পাল্টা দখলের ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এ বিষয়ে লায়ন্স ইন্টারন্যাশনালের প্রেসিডেন্ট দাবি করা মঞ্জুর মুরাদ লাভলু বলেন, তারা সংগঠনের পক্ষ থেকে নগরীর মাহিগঞ্জ এলাকার একটি মাদ্রাসায় অন্ধ শিক্ষার্থীদের মধ্যে উন্নত মানের খাবার বিতরণসহ বিভিন্ন কর্মসূচিতে ছিলেন। এ সময় খবর পান, ৪০ থেকে ৫০ জন অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তি লায়ন্স স্কুল অ্যান্ড কলেজের প্রধান ফটক দিয়ে জোর করে প্রবেশের চেষ্টা করেন এবং নিরাপত্তা বিভাগের প্রধানসহ তিন নিরাপত্তাকর্মীকে মারধর করেন। পরে তাঁরা কার্যালয়ের তালা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে কিছুক্ষণ অবস্থান করেন এবং নতুন তালা ঝুলিয়ে চলে যান। মঞ্জুর মুরাদ লাভলু আরও বলেন, পুরো ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজ রয়েছে। ২০২৬-২৭ মেয়াদের জন্য তিনি ক্লাবের সদস্যদের প্রত্যক্ষ ভোটে প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হয়ে দায়িত্ব পালন করছেন। তবে ফরিদ আহাম্মেদ রুমি নামে এক ব্যক্তি সংগঠনের ই-মেইল ও সার্ভার হ্যাক করে নিজেকে প্রেসিডেন্ট দাবি করছেন বলে তাঁর অভিযোগ। এ ঘটনায় সাইবার সুরক্ষা আইনে করা মামলাটি তদন্তের জন্য আদালত পুলিশকে দায়িত্ব দিয়েছেন। শনিবারের ঘটনাতেও থানায় মামলা করার প্রস্তুতি চলছে। অন্যদিকে, নিজেকে ২০২৬-২৭ মেয়াদের নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট দাবি করে ফরিদ আহাম্মেদ রুমি বলেন, কিছু ব্যক্তি নিজেদের স্বার্থ হাসিলের জন্য কার্যালয়টি দখল করে রেখেছেন। তাঁরা সেখানে গিয়ে কার্যালয়টি সবার জন্য উন্মুক্ত করে দিয়েছেন। তবে তাঁরা চলে আসার পর ২০ থেকে ২৫ জনের একটি দল গিয়ে আবারও তালা ভেঙে নতুন তালা ঝুলিয়ে দিয়েছে বলে তিনি জানতে পেরেছেন। রংপুর মহানগর পুলিশের কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাজমুল কাদের বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়েছিল। তবে সেখানে কাউকে পাওয়া যায়নি। লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এদিকে, কার্যালয়ের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে দুই পক্ষের পাল্টাপাল্টি অবস্থানের ঘটনায় সংগঠনটির স্থানীয় কার্যালয়ে উত্তেজনা বিরাজ করছে।