ঢাকা    মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬
ঢাকা    মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬
টিভি ২৬ নিউজ

শাহাদাতকে প্রশাসক করায় সরকারের বিরুদ্ধে মামলা হওয়া উচিত: এনসিপি নেতা আরিফ

চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (চসিক) মেয়াদোত্তীর্ণ মেয়র বিএনপি নেতা শাহাদাত হোসেনকে একই করপোরেশনের প্রশাসক নিয়োগ দেওয়ায় সরকারের বিরুদ্ধে মামলা হওয়া উচিত বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) চট্টগ্রাম মহানগরের সদস্যসচিব আরিফ মঈনুদ্দিন। সোমবার (২৬ সেপ্টেম্বর) দুপুরে নগরের চকবাজারের আলী প্লাজায় চট্টগ্রাম মহানগর এনসিপির দলীয় কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ মন্তব্য করেন তিনি। সংবাদ সম্মেলনে আরিফ মঈনুদ্দিন বলেন, ‘চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়রের মেয়াদ ইতোমধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছে। মেয়াদোত্তীর্ণ একজন ব্যক্তিকে পুনরায় চসিকের প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া সম্পূর্ণ বেআইনি, অযৌক্তিক এবং জনআকাঙ্ক্ষার পরিপন্থি। এমন অগণতান্ত্রিক সিদ্ধান্তের জন্য সরকারের বিরুদ্ধে মামলা হওয়া উচিত। একইসঙ্গে অবিলম্বে এই বিতর্কিত নিয়োগ বাতিল করে নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় প্রশাসক নিয়োগের দাবি জানাই। পাশাপাশি সিটি করপোরেশনে নির্বাচন দিয়ে গণতন্ত্রের পথে যাত্রা করার জন্য সরকারকে আহ্বান জানাচ্ছি আমরা।’ মহানগর এনসিপির আহ্বায়ক মীর মোহাম্মদ শোয়াইবের সভাপতিত্বে সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক জসিম উদ্দিন ওপেল, সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক সাজ্জাদ হোসেন এবং সাংগঠনিক সম্পাদক জুবায়ের হোসেনসহ মহানগরের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ। সভাপতির বক্তব্যে মীর মোহাম্মদ শোয়াইব বলেন, ‘জনগণের মতামত উপেক্ষা করে এ ধরনের সিদ্ধান্ত চট্টগ্রামবাসীর ওপর চাপিয়ে দেওয়া কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। অবিলম্বে চসিকের প্রশাসক পদে এই বিতর্কিত নিয়োগ পুনর্বিবেচনা না করা হলে নগরবাসীকে সঙ্গে নিয়ে কঠোর আন্দোলন গড়ে তোলা হবে।’ প্রসঙ্গত, আদালতের রায়ে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র হওয়া বিএনপি নেতা শাহাদাত হোসেনকে একই করপোরেশনের প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ দিয়েছে সরকার। রবিবার (২৫ অক্টোবর) স্থানীয় সরকার বিভাগের এক প্রজ্ঞাপনে তাকে পূর্ণকালীন প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। এর আগে গত মার্চেও শাহাদাত হোসেনকে প্রশাসক হিসেবে নিয়োগের প্রস্তাব তৈরি করেছিল স্থানীয় সরকার বিভাগ। তবে তখন আদেশ জারি হয়নি। নির্বাচিত পরিষদের মেয়াদ শেষ হওয়া এবং মেয়র পদে তার দায়িত্ব পালন নিয়ে প্রশ্নের মধ্যে এবার তাকে প্রশাসক নিয়োগ দেওয়া হলো। স্থানীয় সরকার বিভাগের উপসচিব জুয়েল রানা স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, স্থানীয় সরকার (সিটি করপোরেশন) (সংশোধন) আইন, ২০২৬-এর ধারা ৪ অনুযায়ী পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত শাহাদাত হোসেন প্রশাসকের দায়িত্ব পালন করবেন। এ জন্য তিনি বিধি মোতাবেক মাসিক সম্মানি ও অন্যান্য ভাতা পাবেন। জনস্বার্থে জারি করা এ আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে। চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের ২০২১ সালে নির্বাচিত পরিষদের প্রথম সভা হয়েছিল ওই বছরের ২৩ ফেব্রুয়ারি। সে হিসাবে পরিষদের পাঁচ বছরের মেয়াদ চলতি বছরের ২২ ফেব্রুয়ারি শেষ হয়েছে। তবে শাহাদাত হোসেন তখন দাবি করেছিলেন, আদালতের আদেশে তার মেয়াদ ২০২৯ সালের নভেম্বর পর্যন্ত। অন্যদিকে স্থানীয় সরকার বিভাগের নথিতে বলা হয়, আদালত তাকে মেয়র ঘোষণা করলেও মেয়াদের বিষয়ে আলাদা নির্দেশনা দেননি। ওই প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত মার্চে শাহাদাতকে পূর্ণকালীন প্রশাসক করার প্রস্তাব তৈরি হলেও আদেশ জারি হয়নি। এর আগে নির্বাচন আয়োজনের জন্য গত ৩ ফেব্রুয়ারি নির্বাচন কমিশনকে চিঠি দিয়েছিল স্থানীয় সরকার বিভাগ। এরপরও বিভিন্ন সময়ে মেয়রের মেয়াদ ২০২৯ সাল পর্যন্ত বলে একাধিকবার সাংবাদিকদের কাছে দাবি করেছেন শাহাদাত। সবশেষ গত ১৮ জুলাই চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের ‘আমাদের চট্টগ্রাম’ অ্যাপ উদ্বোধনের অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে নিজের মেয়াদ ২০২৯ সাল পর্যন্ত আছে বলে জানান শাহাদাত। ওই অনুষ্ঠানে তিনি বলেছিলেন, ‌‘মেয়র পদে ২০২৯ সাল পর্যন্ত মেয়াদ রয়েছে আমার। জোর করে মেয়র পদে বসিনি। আদালতের আদেশে মেয়রের দায়িত্ব নিয়েছি। আদালত আমাকে পাঁচ বছরের জন্য অর্থাৎ ২০২৯ সাল পর্যন্ত মেয়র হিসেবে বৈধতা দিয়েছেন। তাই আদালতের এ আদেশের বিরুদ্ধে কারও অভিযোগ বা আপত্তি থাকলে পুনরায় আদালতের কাছে যেতে পারেন।’

শাহাদাতকে প্রশাসক করায় সরকারের বিরুদ্ধে মামলা হওয়া উচিত: এনসিপি নেতা আরিফ