ঢাকা    বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২৬
ঢাকা    বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২৬
টিভি ২৬ নিউজ

রুবিওর সঙ্গে বৈঠক করতে মুম্বাইতেই যেতে হলো জয়শঙ্করকে, মার্কিন তেল কেনায় তাগিদ ওয়াশিংটনের

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবির সঙ্গে মুম্বাই গিয়েই দেখা করেছেন ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর। গতকাল মঙ্গলবার এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। জ্বালানি খাতে সহযোগিতা বাড়ানো এবং দুই দেশের মধ্যে একটি বাণিজ্য চুক্তি চূড়ান্ত করার লক্ষ্যে এই আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। রুবিও ভারত সফর করলেও, দিল্লিতে যাচ্ছেন না। বার্তা সংস্থা এপির খবরে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ভারত কয়েক মাস ধরে স্থবির হয়ে থাকা বাণিজ্য আলোচনা আবারও এগিয়ে নিতে চায়। মার্কিন শুল্ক আরোপ এবং ভারতের রুশ তেল কেনাকে কেন্দ্র করে দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা তৈরি হওয়ায় এই আলোচনা দীর্ঘদিন ধরে আটকে আছে। মঙ্গলবার মুম্বাইয়ে সাংবাদিকদের রুবিও বলেন, ‘আমরা (বাণিজ্য) চুক্তির খুব, খুব কাছাকাছি পৌঁছে গেছি। আমার মতে, চুক্তি স্বাক্ষর করার আগ পর্যন্ত যতটা কাছাকাছি পৌঁছানো সম্ভব, আমরা এখন ঠিক ততটাই কাছে রয়েছি। চূড়ান্ত করার জন্য অল্প কয়েকটি বিষয় বাকি আছে। আমার মনে হয়, শিগগিরই সেগুলোর সমাধান হয়ে যাবে।’ ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জয়শঙ্কর বলেন, দুই দেশের সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করার উপায় নিয়ে তাঁরা আলোচনা করেছেন। আলোচনায় বাণিজ্য, জ্বালানি, প্রযুক্তি ও প্রতিরক্ষা খাতের পাশাপাশি আঞ্চলিক পরিস্থিতিও উঠে এসেছে। জয়শঙ্কর ও রুবিও ভারতের সফররত সংযুক্ত আরব আমিরাতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী শেখ আবদুল্লাহ বিন জায়েদ আল নাহিয়ানের সঙ্গে ত্রিপক্ষীয় বৈঠকও করেন। রুবিও জানান, তিন দেশের কর্মকর্তারা ‘আঞ্চলিক জ্বালানি নিরাপত্তা এবং অভিন্ন অর্থনৈতিক অগ্রাধিকারগুলো এগিয়ে নেওয়ার’ বিষয়ে আলোচনা করেছেন। ২০২৫ সালের আগস্টে বাণিজ্য আলোচনা ভেঙে পড়ার পর যুক্তরাষ্ট্র ভারতের অধিকাংশ পণ্যের ওপর সর্বোচ্চ ৫০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপ করে। তবে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে দুই দেশের মধ্যে সম্মত হওয়া একটি কাঠামোগত সমঝোতার আওতায় এই শুল্কের হার কমিয়ে ১৮ শতাংশ করা হয়। এরপরও বাণিজ্য আলোচনা আর এগোয়নি। চলতি মাসের শুরুতে ভারতের অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন বলেছিলেন, বাণিজ্য আলোচনা ‘একটি পর্যায়ে এসে থমকে গেছে।’ তবে গত সপ্তাহে ভারতের বাণিজ্য ও শিল্পমন্ত্রী পীযূষ গোয়েল বলেন, প্রস্তাবিত বাণিজ্য চুক্তির প্রথম ধাপ চূড়ান্ত করার প্রক্রিয়া শেষ পর্যায়ে রয়েছে। ভারতের বক্তব্য, তাদের ওপর চূড়ান্ত শুল্কের হার ভিয়েতনামের মতো প্রতিযোগী উৎপাদনকারী দেশগুলোর শুল্কহারের কাছাকাছি হওয়া উচিত। ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর পর থেকে ভারত ছাড়ে পাওয়া রুশ অপরিশোধিত তেল কিনে আসছে। এ কারণে বিভিন্ন সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ভারতের সম্পর্কে টানাপোড়েন তৈরি হয়েছে। ভারত সরকার জানিয়েছে, তারা জ্বালানি আমদানি বাড়াবে। এর মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র থেকেও জ্বালানি আমদানি বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি সরবরাহকারীর সংখ্যা বাড়িয়ে জ্বালানির উৎসে বৈচিত্র্য আনা হবে, যাতে বাজারের স্থিতিশীলতা বজায় থাকে এবং জ্বালানির দাম সাধারণ মানুষের নাগালের মধ্যে রাখা যায়। দুই দেশের মধ্যে মতপার্থক্য থাকা সত্ত্বেও প্রতিরক্ষা ও প্রযুক্তি খাতে সহযোগিতা আরও গভীর হচ্ছে। ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে চীনের প্রভাব মোকাবিলায় ভারতকে গুরুত্বপূর্ণ শক্তি হিসেবে বিবেচনা করে ওয়াশিংটন। ভারত সফরের আগে চলতি সপ্তাহে উজবেকিস্তান সফর করেন রুবিও। তাঁর এই সফরের উদ্দেশ্য ছিল বাণিজ্য সম্প্রসারণ এবং মধ্য এশিয়ার দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক জোরদার করা। যুক্তরাষ্ট্র থেকে ভারত ছাড়ার আগে শনিবার সাংবাদিকদের রুবিও বলেন, ভারত তার জ্বালানি সরবরাহের উৎসে বৈচিত্র্য এনেছে। তবে দেশটি এখনো উল্লেখযোগ্য পরিমাণে রুশ তেল কিনছে। ফলে রাতারাতি অন্য সরবরাহকারীদের কাছ থেকে তেল আমদানি শুরু করা ভারতের জন্য কঠিন। তিনি বলেন, ‘উদাহরণ হিসেবে ভারতের মতো দেশগুলোর কথা বলা যায়। তারা স্বেচ্ছায় নিজেদের জ্বালানি সরবরাহের উৎসে বৈচিত্র্য এনেছে। তারপরও তারা রাশিয়া থেকে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ জ্বালানি কিনছে। কারণ, এক দিন থেকে আরেক দিনের মধ্যে জ্বালানি সরবরাহের উৎস পুরোপুরি বদলে ফেলা কঠিন। তবে ভারত যুক্তরাষ্ট্রের একটি গুরুত্বপূর্ণ মিত্র ও অংশীদারও।’ যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, আজ বুধবার গুজরাট রাজ্যের জামনগর শহরে একটি তেল শোধনাগার পরিদর্শন করবেন রুবিও। এ ছাড়া তিনি ব্যবসায়ী নেতাদের সঙ্গেও বৈঠক করবেন। ভারতীয় ধনকুবের মুকেশ আম্বানির মালিকানাধীন রিলায়েন্স ইন্ডাস্ট্রিজ জামনগরের এই শোধনাগার পরিচালনা করে। এটি বিশ্বের বৃহত্তম তেল পরিশোধন কমপ্লেক্স। গত মার্চে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষণা করেন, রিলায়েন্স ইন্ডাস্ট্রিজ যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস অঙ্গরাজ্যের ব্রাউনসভিলে একটি তেল শোধনাগার স্থাপনের জন্য ৩০০ বিলিয়ন বা ৩০ হাজার কোটি ডলার বিনিয়োগ করছে।

রুবিওর সঙ্গে বৈঠক করতে মুম্বাইতেই যেতে হলো জয়শঙ্করকে, মার্কিন তেল কেনায় তাগিদ ওয়াশিংটনের