ঢাকা    রোববার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬
ঢাকা    রোববার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬
টিভি ২৬ নিউজ

ইলিশ ধরায় নিষেধাজ্ঞা মানছেন না জেলেরা, ১৬ দিনে আটক ১২৭

লক্ষ্মীপুরে মা ইলিশ রক্ষায় ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা থাকলেও মেঘনা নদীতে মাছ ধরা চলছেই। জেলেদের অভিযোগ, নৌ-পুলিশকে অর্থের বিনিময়ে ম্যানেজ করে কেউ কেউ রাত-দিন ইলিশ ধরছেন। তবে নৌ-পুলিশ এ অভিযোগ অস্বীকার করেছে। মৎস্য বিভাগ জানিয়েছে, ২৩ অক্টোবর পর্যন্ত ১৬ দিনে ১৯৬ অভিযানে ১২৭ জেলেকে আটক করা হয়েছে। জেলা মৎস্য অফিস সূত্রে জানা গেছে, আশ্বিন মাসের ভরা পূর্ণিমার আগে-পরে ইলিশের ডিম ছাড়ার সময়। এ সময় সাগর থেকে ঝাঁকে ঝাঁকে ইলিশ মেঘনা নদীতে আসে। এ বিবেচনায় প্রতি বছরের মতো এবারও ৭ অক্টোবর মধ্যরাত থেকে ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত মেঘনা নদীতে ২২ দিন ইলিশ ধরা নিষিদ্ধ করেছে সরকার। লক্ষ্মীপুরের আলেকজান্ডার থেকে চাঁদপুরের ষাটনল পর্যন্ত ১০০ কিলোমিটার এলাকায় এ নিষেধাজ্ঞা কার্যকর রয়েছে। নিষেধাজ্ঞার সময় ইলিশ আহরণ, পরিবহন, বাজারজাত ও মজুত নিষিদ্ধ। জেলেদের অভিযোগ, নিষেধাজ্ঞার ১৬ দিন পার হলেও অনেকে খাদ্য সহায়তা পাননি। বিকল্প পেশা বা কাজ না থাকায় বাধ্য হয়ে অনেকে নদীতে যাচ্ছেন বলেও জানিয়েছেন তারা। খাদ্য সহায়তা হিসেবে বরাদ্দ করা ভিজিএফের চাল প্রকৃত জেলেদের বদলে অপেশাদার, দোকানদার ও রিকশাচালকদের দেওয়া হচ্ছে বলেও অভিযোগ তাদের। জেলেদের ভাষ্য, যারা চাল পেয়েছেন, তাদের কেউ কেউ ওজনে কম পাওয়ার অভিযোগ করেছেন। অনেক জেলে আইন মেনে নদীতে না গেলেও পাশের জেলার জেলেরা নদীতে নামছেন বলেও তারা দাবি করেন। জেলায় ৫৪ হাজার নিবন্ধিত জেলের মধ্যে ৪২ হাজার ১৫০ জনের জন্য ১৫৩ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ দিয়েছে সরকার। ফলে ১১ হাজার ৮৫০ জন জেলে খাদ্য সহায়তার বাইরে থেকে গেছে। প্রকৃত জেলেরা যেন এ সহায়তা থেকে বঞ্চিত না হন, সেই দাবি তাদের। জেলা মৎস্য কর্মকর্তার কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ২৩ অক্টোবর পর্যন্ত ১৬ দিনে ১৯৬টি অভিযানে ১২৭ জেলেকে আটক করা হয়েছে। তাদের মধ্যে ৬৭ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে সাজা এবং ৬০ জনকে ১ লাখ ৫৭ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। এ সময় ৯১টি নিয়মিত মামলা করা হয়। অভিযানে ৩১ লাখ ৬০ হাজার মিটার কারেন্ট জাল, একটি স্পিডবোট, ১৮টি নৌকা ও প্রায় ৪ টন ইলিশ জব্দ করা হয়েছে। অভিযান পরিচালনার সময় কর্মকর্তারা হামলার শিকার হয়েছেন বলেও জানানো হয়েছে। মজুচৌধুরীর হাট নৌ-পুলিশের উপপরিদর্শক আবদুর রহমান বলেন, ‘স্বল্প জনবল নিয়ে প্রতিনিয়ত নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়নে কাজ করছে নৌ-পুলিশ। জেলেদের সঙ্গে আঁতাত, অনিয়ম বা ম্যানেজের বিষয়টির সঙ্গে নৌ-পুলিশ জড়িত নয়। সব সময় নদীতে টহল অব্যাহত রাখা হয়েছে।’ জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. জসিম উদ্দিন বলেন, ‘জাটকা সংরক্ষণ ও মা ইলিশ রক্ষায় ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা চলছে। এ সময় সব ধরনের ইলিশ সংরক্ষণ, আহরণ, পরিবহন, বাজারজাত ও মজুত নিষিদ্ধ রয়েছে। এটি অমান্য করলে জেল-জরিমানার বিধান রয়েছে। কোনোভাবে ছাড় দেওয়া হবে না। অভিযান অব্যাহত রয়েছে।’

ইলিশ ধরায় নিষেধাজ্ঞা মানছেন না জেলেরা,  ১৬ দিনে আটক ১২৭