ঢাকা    বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬
ঢাকা    বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬
টিভি ২৬ নিউজ

ফটক টপকে যন্তর মন্তরে ঢোকায় সিজেপির দুই নেতা পাঁচ দিনের বিচার বিভাগীয় হেফাজতে

ভারতের রাজধানী দিল্লির যন্তর মন্তরে বিক্ষোভ করতে গিয়ে আটক ককরোচ জনতা পার্টির (সিপিজে) দুই নেতা সৌরভ দাস ও আশুতোষ রাঙ্কাকে পাঁচ দিনের বিচার বিভাগীয় হেফাজতে পাঠিয়েছেন আদালত। মঙ্গলবার পুলিশি ব্যারিকেড অতিক্রম করে যন্তর মন্তরে প্রবেশের অভিযোগে তাদের আটক করা হয়েছিল। একই ঘটনায় আটক দলের আরেক নেতা অজিঙ্কা শিন্দেকে ব্যক্তিগত বন্ডে মুক্তি দেওয়া হয়েছে। বুধবার সকালে দিল্লির মন্দির মার্গ এলাকার একটি ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে তিন নেতাকে হাজির করা হয়। তাদের বিরুদ্ধে অনুপ্রবেশ, বন্ডের শর্ত লঙ্ঘন ও সরকারি কর্মকর্তার দায়িত্ব পালনে বাধা দেওয়ার অভিযোগ আনা হয়েছে। দিল্লি পুলিশের সূত্রের বরাতে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সৌরভ দাস ও আশুতোষ রাঙ্কা আবারও ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহিতার (বিএনএসএস) ১৬৩ ধারা লঙ্ঘন করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এর আগে শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রাখার শর্তে তারা এক বছরের জন্য বন্ডে স্বাক্ষর করেছিলেন। সেই শর্ত ভাঙার অভিযোগে তাদের বিচার বিভাগীয় হেফাজতে পাঠানো হয়েছে। সিপিজের প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে দুই নেতাকে পাঁচ দিনের বিচার বিভাগীয় হেফাজতে পাঠানোর তথ্য জানান। এ পদক্ষেপের সমালোচনা করে তিনি অভিযোগ করেন, সরকার ভিন্নমত দমনের চেষ্টা করছে। সিপিজের আইনি দলের প্রধান রত্না সিং এক্সে দেওয়া এক পোস্টে বলেন, মঙ্গলবারের ঘটনায় সৌরভ দাস, আশুতোষ রাঙ্কা ও অজিঙ্কা শিন্দেকে আটক করেছে দিল্লি পুলিশ। তাদের বিরুদ্ধে অনুপ্রবেশ, বন্ডের শর্ত লঙ্ঘন ও সরকারি কর্মকর্তার কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগ আনা হয়েছে। রত্না সিং আরও অভিযোগ করেন, গভীর রাত পর্যন্ত ওই তিন নেতাকে তাদের আইনজীবীদের সঙ্গে দেখা করতে দেওয়া হয়নি। রাত তিনটার দিকে একটি ব্যক্তিগত ভ্যানে করে তাদের পার্লামেন্ট স্ট্রিট থানায় নেওয়া হয়। এর আগে গত শনিবার দিল্লিতে বিক্ষোভের ঘটনায় আটক হওয়ার পর সৌরভ দাস ও আশুতোষ রাঙ্কা ৫০ হাজার রুপির বন্ডে মুক্তি পেয়েছিলেন। সে সময় এক বছরের মধ্যে শান্তিভঙ্গের কোনো ঘটনায় জড়াবেন না বলে অঙ্গীকার করেছিলেন তারা। প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে সিপিজে ও বিরোধী দলগুলোর চলমান বিক্ষোভের মধ্যে এ ঘটনা ঘটল। ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) কার্যক্রমে অনিয়মের অভিযোগ তুলে তারা এই আন্দোলন করছে। গত ১১ অক্টোবর দিল্লির পুলিশ কমিশনার অনুরাগ কুমার এক আদেশে রামলীলা ময়দান, বুরারি গ্রাউন্ড ও সিবিডি গ্রাউন্ডকে বিক্ষোভ-সমাবেশের নির্ধারিত স্থান হিসেবে ঘোষণা করেন। একই সঙ্গে অনুমোদিত বিক্ষোভস্থলের তালিকা থেকে যন্তর মন্তরের নাম বাদ দেওয়া হয়। সিপিজে এ সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করে বলেছে, রাজধানীর কেন্দ্রস্থল থেকে বিক্ষোভ সরিয়ে নেওয়া হলে আন্দোলনের দৃশ্যমানতা ও প্রভাব কমে যাবে।

ফটক টপকে যন্তর মন্তরে ঢোকায় সিজেপির দুই নেতা পাঁচ দিনের বিচার বিভাগীয় হেফাজতে