ঢাকা    বুধবার, ০৭ অক্টোবর ২০২৬
ঢাকা    বুধবার, ০৭ অক্টোবর ২০২৬
টিভি ২৬ নিউজ

খতনার পর ৫০ শিশু অসুস্থ, সেন্টমার্টিনের চেয়ারম্যানকে শোকজ

স্বাস্থ্য বিভাগের সঙ্গে আগে থেকে প্রয়োজনীয় সমন্বয় না করা ও অব্যবস্থাপনার অভিযোগে কক্সবাজারের সেন্টমার্টিন ইউনিয়ন পরিষদের (ভারপ্রাপ্ত) চেয়ারম্যান ফয়েজুল ইসলামকে শোকজ করা হয়েছে। দ্বীপে একটি মেডিক্যাল ক্যাম্পে খতনা করানোর পর অর্ধশতাধিক শিশু ইনফেকশন ও রক্তক্ষরণে অসুস্থ হয়ে পড়ার ঘটনায় বুধবার (৭ অক্টোবর) তাকে শোকজ করা হয় বলে জানিয়েছেন টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এস এম অনীক চৌধুরী। এদিকে অসুস্থ শিশুদের চিকিৎসাসেবা দিতে বুধবার টেকনাফ থেকে একটি মেডিক্যাল টিম সেন্টমার্টিনে পাঠানো হয়েছে। সকালেই শাহপরীর দ্বীপ জেটিঘাট থেকে উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তার নেতৃত্বে রওনা হয়ে দুপুর ১২টার দিকে টিমটি দ্বীপে পৌঁছে। পরে স্থানীয় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন শিশুদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা করে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও ওষুধ দেওয়া হয়। চিকিৎসকদের ভাষ্য অনুযায়ী, বর্তমানে অসুস্থ শিশুরা শঙ্কামুক্ত রয়েছে। মেডিক্যাল টিমে ছিলেন- শিশু বিশেষজ্ঞ ডা. নওশাদ আলম কানন, ডা. আশরাফুল ইসলাম ও উপসহকারী শাওখাত হোসেন মিতু। তারা প্রয়োজনীয় ওষুধপত্র ও চিকিৎসা সরঞ্জাম সঙ্গে নিয়ে দ্বীপে যান। উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, গত ৩ অক্টোবর সেন্টমার্টিন ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান ফয়েজুল ইসলাম তার নামে প্রায় ১২০ জনের একটি প্রতিনিধি দলকে দিয়ে সেন্টমার্টিনে ধর্মীয়, চিকিৎসা ও জনকল্যাণমূলক কার্যক্রম পরিচালনার অনুমতি নেয়। প্রতিনিধি দলে ১২ চিকিৎসক ছিলেন। এসব কার্যক্রমের মধ্যে ছিল অসহায় শিশুদের বিনামূল্যে খতনা, ধর্মীয় মাহফিল ও বিভিন্ন মাদ্রাসায় দাওয়াতি কার্যক্রম। পরদিন ৪ অক্টোবর দলটি সেন্টমার্টিনে পৌঁছে অবকাশ রিসোর্টের একটি আবাসিক হোটেলে ‘আল মোমিন সমাজ কল্যাণ ফাউন্ডেশন’-এর ব্যানারে বিনামূল্যে খতনা কর্মসূচি পরিচালনা করে। সেখানে ৫ থেকে ১৫ বছর বয়সী প্রায় ২১০ শিশুর খতনা করানো হয়। এর দুই দিন পর খতনা করানো অন্তত ৫০ শিশু ইনফেকশন ও রক্তক্ষরণে অসুস্থ হয়ে পড়ে। ভুক্তভোগী শিশুদের পরিবারের সদস্যদের অভিযোগ, খতনা করানোর সময় প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যবিধি ও চিকিৎসা সংক্রান্ত সতর্কতা যথাযথভাবে নিশ্চিত করা হয়নি। একসঙ্গে বিপুলসংখ্যক শিশুর খতনা করানোর কারণে চিকিৎসাসেবায় অবহেলা হয়ে থাকতে পারে বলেও অভিযোগ করেন তারা। এ ছাড়া বিনামূল্যে খতনা করানোর কথা বলা হলেও কয়েকজনের কাছ থেকে টাকা নেওয়ার অভিযোগও উঠেছে। ইউএনও এস এম অনীক চৌধুরী বলেন, ‘টেকনাফ থেকে ওষুধপত্রসহ একটি মেডিক্যাল টিম সেন্টমার্টিনে পৌঁছে খতনা করানোর পর অসুস্থ হয়ে পড়া শিশুদের চিকিৎসাসেবা দিয়েছে। বর্তমানে তারা শঙ্কামুক্ত রয়েছে। এ ঘটনায় স্বাস্থ্য বিভাগের সঙ্গে আগে থেকে প্রয়োজনীয় সমন্বয় না করা ও অব্যবস্থাপনার কারণে দ্বীপের চেয়ারম্যানকে শোকজ করা হয়েছে। এ ছাড়া মেডিক্যাল টিমের প্রতিবেদন পাওয়ার পর খতনা কার্যক্রমের সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। টাকা নেওয়ার অভিযোগের বিষয়টিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।’ এ বিষয়ে সেন্টমার্টিন ইউনিয়ন পরিষদের (ভারপ্রাপ্ত) চেয়ারম্যান ফয়েজুল ইসলাম বলেন, ‘আমি একটি মেডিক্যাল টিম নিয়ে এসেছিলাম। তবে খতনা করানোর সময় তাদের কোনও গাফিলতি ছিল না। এটি সামান্য একটি বিষয়কে বড় করা হয়েছে। এখন শিশুরা চিকিৎসা পেয়ে সুস্থ আছে। মূলত ১২০ জনের খতনা করানোর কথা ছিল। এ সময় স্থানীয় লোকজন জড়ো হতে থাকে। তাই বাধ্য হয়ে বাকি শিশুদেরও খতনা করানো হয়। তবে পরে বাকিদের কাছ থেকে টাকা নেওয়ার বিষয়টি আমিও জেনেছি। তবে শোকজের চিঠি এখনো হাতে পায়নি।’ এদিকে, খতনা কর্মসূচিতে নেতৃত্ব দেওয়া চিকিৎসকদের বক্তব্য জানতে অনুমতি নেওয়ার সময় স্থানীয় প্রশাসনের কাছে দেওয়া নম্বরে একাধিকবার ফোন করা হলেও তারা সাড়া দেননি। প্রশাসন জানিয়েছে, মেডিক্যাল টিমের প্রতিবেদন পাওয়ার পর শিশুদের অসুস্থতার কারণ, চিকিৎসা কার্যক্রমে কোনও গাফিলতি ছিল কি না এবং বিনামূল্যের খতনা কর্মসূচির নামে টাকা নেওয়ার অভিযোগের বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

খতনার পর ৫০ শিশু অসুস্থ, সেন্টমার্টিনের চেয়ারম্যানকে শোকজ