ঢাকা    শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
ঢাকা    শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
টিভি ২৬ নিউজ

শিক্ষাঙ্গন

নোবিপ্রবিতে শিক্ষার্থীকে মারধর ও র‍্যাগিংয়ের অভিযোগ

নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (নোবিপ্রবি) পরিসংখ্যান বিভাগের ২১তম ব্যাচের শিক্ষার্থী জহিরুল ইসলাম রকিকে বিভাগের একটি শ্রেণিকক্ষে আটকে রেখে মারধর ও র‍্যাগিংয়ের অভিযোগ উঠেছে একই বিভাগের ২০তম ব্যাচের শিক্ষার্থী মো. রিয়াজ উদ্দিন চৌধুরীর বিরুদ্ধে। গত বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) সেশনের কথা বলে ডেকে নিয়ে তাকে মারধর করা হয় বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী। এর আগে দেয়ালে নিজের নাম লেখার ঘটনাকে কেন্দ্র করে তাকে কান ধরে দাঁড় করানো, এক পায়ে দাঁড় করিয়ে রাখা, বিভিন্ন কাজ করতে বাধ্য করাসহ শারীরিক ও মানসিকভাবে হেনস্তা করার অভিযোগও করেছেন রকি। ভুক্তভোগী জহিরুল ইসলাম রকি জানান, গত বৃহস্পতিবার ২০তম ব্যাচের শিক্ষার্থীরা সেশনের কথা বলে তাদের বিভাগে ডেকে নেন। সেশনের একপর্যায়ে ২১তম ব্যাচের সব নারী শিক্ষার্থীকে কক্ষ থেকে বের করে দেওয়া হয়। এরপর ২০তম ব্যাচের শিক্ষার্থী রিয়াজ উদ্দিন চৌধুরী তাকে একটি শ্রেণিকক্ষে আটকে রেখে সবার সামনে মারধর করেন বলে অভিযোগ করেন তিনি। রকি বলেন, ‘আমাকে ডিপার্টমেন্টের মধ্যে আটকে রেখে সবার সামনে মারধর করা হয়েছে। ওই সময় আমি খুব ভয় পেয়ে যাই। এখনো বিষয়টি মনে পড়লে আতঙ্ক লাগে।’ রকি আরও জানান, এর আগে বিভাগের দেয়ালে নিজের নাম লেখার বিষয়কে কেন্দ্র করে তাকে ডেকে নেওয়া হয়। সেখানে ২০তম ও ২১তম ব্যাচের শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন। এ সময় তাকে কান ধরে বেঞ্চের ওপর এক পায়ে দাঁড় করিয়ে রাখা, এক হাত উঁচু করে অন্য হাত দিয়ে বিভিন্ন কাজ করানো এবং বিভিন্ন ধরনের হাসি দিতে বাধ্য করাসহ নানা আচরণের মাধ্যমে মানসিকভাবে হেনস্তা করা হয় বলে অভিযোগ তার। এ ছাড়া র‍্যাগিংয়ের অংশ হিসেবে তাকে বিভাগের নোটিশ গ্রুপসহ গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন গ্রুপ থেকে প্রায় ২০ থেকে ২৫ দিন সরিয়ে রাখা হয়েছিল বলেও অভিযোগ করেন রকি। এতে সিটি পরীক্ষার সময়সূচি, ক্লাসের দিন-সময় এবং বিভাগের অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ তথ্য তিনি জানতে পারেননি বলে জানান। রকি বলেন, ‘আমি কোনো নোটিশ গ্রুপে ছিলাম না। তাই অনুমান করে বিশ্ববিদ্যালয়ে আসতাম। এমনও হয়েছে, দুই দিন শুধু শুধু বিশ্ববিদ্যালয়ে এসেছি। ডিপার্টমেন্টে এসে জানতে পারি কখন ক্লাস হবে, কখন পরীক্ষা।’ বর্তমানে নিজের নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন রকি। তিনি বলেন, ‘আমি বর্তমানে মানসিক বিপর্যয়ের মধ্যে আছি। সবসময় ভয় ও আতঙ্ক কাজ করছে। ডিপার্টমেন্টে যেতেও এখন ভয় লাগে। এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ও কোর্স কো-অর্ডিনেটরকে জানিয়েছি।’ প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, ২১তম ব্যাচের নারী শিক্ষার্থীদের কক্ষ থেকে বের করে দেওয়ার পর সেশনের মধ্যে রিয়াজ রকিকে চড় মারেন। এ সময় রিয়াজের সহপাঠীরা তাকে থামানোর চেষ্টা করলেও তিনি রকিকে আরও জোরে আঘাত করেন বলে তাদের দাবি। পরে বিষয়টি সমাধানের জন্য ২০তম ব্যাচের শিক্ষার্থীরা ১৯তম ব্যাচের শিক্ষার্থীদের ডেকে আনেন। এরপর ১৯তম ব্যাচের শিক্ষার্থীরা ২১তম ব্যাচের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলেন। একপর্যায়ে রকি ছাড়া অন্য সবাইকে কক্ষ থেকে চলে যেতে বলা হয়। অভিযোগের বিষয়ে মো. রিয়াজ উদ্দিন চৌধুরী বলেন, ‘আমাদের ২০ ব্যাচ ও ২১ ব্যাচের মধ্যে একটি অভ্যন্তরীণ সমস্যা তৈরি হয়েছিল। ঘটনাটি হঠাৎ উত্তেজনার মুহূর্তে ঘটে গেছে। আমিই হাত তুলে ফেলেছি। আমি বুঝতে পারছি, এটা আমার ভুল হয়েছে। এমনটা আমার করা উচিত হয়নি।’ এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর এ.এফ.এম. আরিফুর রহমান বলেন, ‘ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী ফোন করে বিষয়টি জানিয়েছে। আমি তাকে বিভাগীয় চেয়ারম্যানকে জানানোর কথা বলেছি এবং লিখিত অভিযোগ দিতে বলেছি। অভিযোগের ভিত্তিতে আমরা ব্যবস্থা নেব।’

নোবিপ্রবিতে শিক্ষার্থীকে মারধর ও র‍্যাগিংয়ের অভিযোগ