সারাদেশে প্রতিনিধি নিয়োগ দিচ্ছে ফোরকানুল হক (সাকিব) সম্পাদিত " TV 26 NEWS " আগ্রহীরা দ্রুত যোগাযোগ করুন। সব খবর সবার আগে পেতে আমাদের সাথেই থাকুন। সংস্কারের কথা বলে রাস্তার পুরোনো ইট তুলে নেওয়ার চার মাস পেরিয়ে গেলেও নতুন করে কাজ শুরু হয়নি। ফলে বৃষ্টিতে ইটবিহীন সড়কে জমেছে কাদাপানি। দুর্ভোগে পড়েছেন যশোরের মণিরামপুর উপজেলার বাকোশপোল গ্রামের বাসিন্দারা।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, ঈদুল আজহার আগে নতুন করে রাস্তার কাজ হবে, এমন কথা বলে ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান নিস্তার ফারুক প্রায় ৭০০ ফুট রাস্তার পুরোনো ইট তুলে নেন। এরপর আর শুরু হয়নি সংস্কারকাজ। এখন স্থানীয়ভাবে বলা হচ্ছে, নির্বাচন শেষ না হলে রাস্তার কাজ হবে না।
সরেজমিনে দেখা গেছে, যশোরের মণিরামপুর উপজেলা সদরের বাকোশপোল গ্রামের সিদ্দিক মোড়ের অদূরে গয়েশপুর নিমতলা মোড় অভিমুখী ইটের সলিং রাস্তার আব্দুল কাদের চৌকিদারের বাড়ির সামনে থেকে গোবিন্দ মাস্টারের বাড়ি পর্যন্ত প্রায় ৭০০ ফুট রাস্তার পুরোনো ইট তুলে নেওয়া হয়েছে। ইট না থাকায় রাস্তার বিভিন্ন স্থানে বৃষ্টির পানি জমে কাদায় পরিণত হয়েছে। এতে পথচারী, স্থানীয় বাসিন্দা ও যানবাহন চলাচলে তৈরি হয়েছে ভোগান্তি।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, ঈদুল আজহার আগে রাস্তার নতুন কাজ শুরু হবে বলে তাদের জানানো হয়েছিল। সে অনুযায়ী চেয়ারম্যানের উদ্যোগে পুরোনো ইট তুলে নেওয়া হয়। কিন্তু কয়েক মাস পেরিয়ে গেলেও নতুন করে রাস্তার কাজ শুরু হয়নি, বরং ইট তুলে নেওয়া অংশ এখন বর্ষার পানিতে চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে।
উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার (পিআইও) দপ্তর সূত্রে জানা গেছে, দরপত্র আহ্বানের মাধ্যমে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের এক কোটি ৪৬ লাখ ৭০ হাজার ৫১০ টাকা চুক্তিমূল্যে মণিরামপুর উপজেলার শ্যামকুড়, হেলাঞ্চি ও বাকোশপোল গ্রামে মোট ১ দশমিক ৯৮০ কিলোমিটার রাস্তা হেরিং বন্ড (এইচবিবি) সলিংয়ের কাজের দায়িত্ব পান বাঘারপাড়া উপজেলার মেসার্স তন্নি এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী আবু হুরায়রা। চুক্তি অনুযায়ী, ৩১ মার্চ ২০২৬ কাজ শুরু করে ১০ জুনের মধ্যে তা শেষ করার সময় নির্ধারণ করে দেওয়া হয় ঠিকাদারকে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান হেলাঞ্চি ও শ্যামকুড় এলাকার কাজ শেষ করলেও বাকোশপোল গ্রামের আব্দুর রশিদের বাড়ি থেকে আব্দুল গফুরের বাড়ি পর্যন্ত ৬৫০ মিটার রাস্তার কাজ এখনো শুরু করেনি। ফলে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বাকোশপোল এলাকার কাজটি শেষ হয়নি।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, পিআইও দপ্তরের যথাযথ তদারকির অভাব এবং ঠিকাদারের অবহেলায় এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।
রাস্তার পুরোনো ইট তুলে নেওয়ার বিষয়ে ইউপি চেয়ারম্যান নিস্তার ফারুক বলেন, এইচবিবি সলিংয়ের জন্য বাকোশপোলের রাস্তাটির টেন্ডার হওয়ার পর ওই রাস্তার ৬০০ থেকে ৭০০ ফুট পুরোনো ইটের সলিং, যা আমাদের পরিষদের সলিং ছিল, সেটা আমরা তুলে নিয়েছি। কিছু ইট কাজে লাগানো হয়েছে। কিছু পরিষদে স্তূপ করে রাখা আছে।
কাজ শুরু না হওয়ার বিষয়ে চেয়ারম্যান বলেন, ইট তুলে নেওয়ার পর বৃষ্টির কারণে ঠিকাদার কাজ করতে পারেননি। বহুবার ঠিকাদার আর পিআইও দপ্তরে কথা বলে কাজ সম্পন্নের তাগিদ দিয়েছি। ঠিকাদার শুরু করবে বলে এখনো কাজ করেনি। বিষয়টি নিয়ে আমি নিজেও বিপদে আছি।
ঠিকাদার আবু হুরায়রা বলেন, মণিরামপুরে তিনটি রাস্তার মধ্যে দুটির কাজ শেষ হয়েছে। বৃষ্টির কারণে একটির কাজ করা সম্ভব হয়নি। অতি দ্রুত সেখানকার কাজ শুরু করা হবে।
তবে সরকারি প্রকল্পের নির্ধারিত সময়সীমা এরই মধ্যে পেরিয়ে গেছে। এ বিষয়ে মণিরামপুর উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) সেলিম খান বলেন, ঠিকাদারকে জুনের মধ্যে কাজ শেষ করার জন্য সময় নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছিল। কাজের মেয়াদ শেষ হওয়ার পর তিনি আর সময় বাড়ানোর আবেদন করেননি। আমরা ঠিকাদারকে কাজ শেষ করতে তাগিদ দিচ্ছি। কাজ না করলে বিল দেওয়া হবে না।

রোববার, ০৪ অক্টোবর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৩ অক্টোবর ২০২৬
সংস্কারের কথা বলে রাস্তার পুরোনো ইট তুলে নেওয়ার চার মাস পেরিয়ে গেলেও নতুন করে কাজ শুরু হয়নি। ফলে বৃষ্টিতে ইটবিহীন সড়কে জমেছে কাদাপানি। দুর্ভোগে পড়েছেন যশোরের মণিরামপুর উপজেলার বাকোশপোল গ্রামের বাসিন্দারা।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, ঈদুল আজহার আগে নতুন করে রাস্তার কাজ হবে, এমন কথা বলে ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান নিস্তার ফারুক প্রায় ৭০০ ফুট রাস্তার পুরোনো ইট তুলে নেন। এরপর আর শুরু হয়নি সংস্কারকাজ। এখন স্থানীয়ভাবে বলা হচ্ছে, নির্বাচন শেষ না হলে রাস্তার কাজ হবে না।
সরেজমিনে দেখা গেছে, যশোরের মণিরামপুর উপজেলা সদরের বাকোশপোল গ্রামের সিদ্দিক মোড়ের অদূরে গয়েশপুর নিমতলা মোড় অভিমুখী ইটের সলিং রাস্তার আব্দুল কাদের চৌকিদারের বাড়ির সামনে থেকে গোবিন্দ মাস্টারের বাড়ি পর্যন্ত প্রায় ৭০০ ফুট রাস্তার পুরোনো ইট তুলে নেওয়া হয়েছে। ইট না থাকায় রাস্তার বিভিন্ন স্থানে বৃষ্টির পানি জমে কাদায় পরিণত হয়েছে। এতে পথচারী, স্থানীয় বাসিন্দা ও যানবাহন চলাচলে তৈরি হয়েছে ভোগান্তি।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, ঈদুল আজহার আগে রাস্তার নতুন কাজ শুরু হবে বলে তাদের জানানো হয়েছিল। সে অনুযায়ী চেয়ারম্যানের উদ্যোগে পুরোনো ইট তুলে নেওয়া হয়। কিন্তু কয়েক মাস পেরিয়ে গেলেও নতুন করে রাস্তার কাজ শুরু হয়নি, বরং ইট তুলে নেওয়া অংশ এখন বর্ষার পানিতে চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে।
উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার (পিআইও) দপ্তর সূত্রে জানা গেছে, দরপত্র আহ্বানের মাধ্যমে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের এক কোটি ৪৬ লাখ ৭০ হাজার ৫১০ টাকা চুক্তিমূল্যে মণিরামপুর উপজেলার শ্যামকুড়, হেলাঞ্চি ও বাকোশপোল গ্রামে মোট ১ দশমিক ৯৮০ কিলোমিটার রাস্তা হেরিং বন্ড (এইচবিবি) সলিংয়ের কাজের দায়িত্ব পান বাঘারপাড়া উপজেলার মেসার্স তন্নি এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী আবু হুরায়রা। চুক্তি অনুযায়ী, ৩১ মার্চ ২০২৬ কাজ শুরু করে ১০ জুনের মধ্যে তা শেষ করার সময় নির্ধারণ করে দেওয়া হয় ঠিকাদারকে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান হেলাঞ্চি ও শ্যামকুড় এলাকার কাজ শেষ করলেও বাকোশপোল গ্রামের আব্দুর রশিদের বাড়ি থেকে আব্দুল গফুরের বাড়ি পর্যন্ত ৬৫০ মিটার রাস্তার কাজ এখনো শুরু করেনি। ফলে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বাকোশপোল এলাকার কাজটি শেষ হয়নি।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, পিআইও দপ্তরের যথাযথ তদারকির অভাব এবং ঠিকাদারের অবহেলায় এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।
রাস্তার পুরোনো ইট তুলে নেওয়ার বিষয়ে ইউপি চেয়ারম্যান নিস্তার ফারুক বলেন, এইচবিবি সলিংয়ের জন্য বাকোশপোলের রাস্তাটির টেন্ডার হওয়ার পর ওই রাস্তার ৬০০ থেকে ৭০০ ফুট পুরোনো ইটের সলিং, যা আমাদের পরিষদের সলিং ছিল, সেটা আমরা তুলে নিয়েছি। কিছু ইট কাজে লাগানো হয়েছে। কিছু পরিষদে স্তূপ করে রাখা আছে।
কাজ শুরু না হওয়ার বিষয়ে চেয়ারম্যান বলেন, ইট তুলে নেওয়ার পর বৃষ্টির কারণে ঠিকাদার কাজ করতে পারেননি। বহুবার ঠিকাদার আর পিআইও দপ্তরে কথা বলে কাজ সম্পন্নের তাগিদ দিয়েছি। ঠিকাদার শুরু করবে বলে এখনো কাজ করেনি। বিষয়টি নিয়ে আমি নিজেও বিপদে আছি।
ঠিকাদার আবু হুরায়রা বলেন, মণিরামপুরে তিনটি রাস্তার মধ্যে দুটির কাজ শেষ হয়েছে। বৃষ্টির কারণে একটির কাজ করা সম্ভব হয়নি। অতি দ্রুত সেখানকার কাজ শুরু করা হবে।
তবে সরকারি প্রকল্পের নির্ধারিত সময়সীমা এরই মধ্যে পেরিয়ে গেছে। এ বিষয়ে মণিরামপুর উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) সেলিম খান বলেন, ঠিকাদারকে জুনের মধ্যে কাজ শেষ করার জন্য সময় নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছিল। কাজের মেয়াদ শেষ হওয়ার পর তিনি আর সময় বাড়ানোর আবেদন করেননি। আমরা ঠিকাদারকে কাজ শেষ করতে তাগিদ দিচ্ছি। কাজ না করলে বিল দেওয়া হবে না।

আপনার মতামত লিখুন