সারাদেশে প্রতিনিধি নিয়োগ দিচ্ছে ফোরকানুল হক (সাকিব) সম্পাদিত " TV 26 NEWS " আগ্রহীরা দ্রুত যোগাযোগ করুন। সব খবর সবার আগে পেতে আমাদের সাথেই থাকুন। চট্টগ্রামের আনোয়ারায় সড়ক দুর্ঘটনায় আহত ছয় বছরের শিশু মোহাম্মদ আয়ানের মৃত্যুর ঘটনায় চিকিৎসায় অবহেলা ও ভুল চিকিৎসার অভিযোগে বিক্ষোভের পর হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে ১৩ লাখ টাকায় সমঝোতা হয়েছে স্বজনদের। বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত চারটার দিকে দীর্ঘ বৈঠকের পর এ সমঝোতা হয়। এর আগে প্রায় ২৪ ঘণ্টা শিশুটির লাশ নিয়ে হাসপাতালে অবস্থান করেন স্বজন ও স্থানীয় বাসিন্দারা।
বুধবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে উপজেলার বটতলী রুস্তমহাট এলাকার সাঙ্গু ট্রমা অ্যান্ড জেনারেল হাসপাতাল পিএলসিতে বিক্ষোভ শুরু হয়। পরদিন বৃহস্পতিবার দিনভর চলে এই বিক্ষোভ। স্বজনদের অভিযোগ, প্রাথমিক চিকিৎসায় অবহেলা ও ভুল চিকিৎসার কারণে আয়ানের মৃত্যু হয়েছে।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সমঝোতার অংশ হিসেবে শিশুর স্বজনদের নগদ ২ লাখ টাকা দেওয়া হয়েছে। আরও ৩ লাখ টাকা আগামী সোমবার ইসলামী ব্যাংকের চেকের মাধ্যমে দেওয়ার কথা রয়েছে। বাকি ৮ লাখ টাকা আগামী ২০ অক্টোবরের মধ্যে পরিশোধের জন্য স্ট্যাম্পে অঙ্গীকার করা হয়েছে।
বৈঠকে নিহত শিশুর পক্ষে প্রাইভেট কারের মালিক আবদুল মান্নান, স্থানীয় গিয়াস উদ্দিন, নুরুল আবছার, মোহাম্মদ কাইয়ূম, শিশুটির মামা মো. সাইফুল ইসলাম, আলী আব্বাস, ইলিয়াছ ও কাসেম খান আকাশ উপস্থিত ছিলেন। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের পক্ষে ব্যবস্থাপক মোহাম্মদ ইসমাঈল, পরিচালক হারুন ইবনে গনিসহ পাঁচজন প্রতিনিধি এবং থানার পুলিশের একজন সদস্য উপস্থিত ছিলেন।
নিহত শিশুর মামা মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে ক্ষতিপূরণ হিসেবে ১৩ লাখ টাকার চুক্তি হয়েছে। নগদ ২ লাখ টাকা দিয়েছেন। পরবর্তীতে একটি চেক আর স্ট্যাম্পের মাধ্যমে বাকি টাকা দেওয়ার কথা রয়েছে।’
মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘এরপর আমরা লাশ বাড়িতে নিয়ে আসি। শুক্রবার রাত আটটার দিকে জানাজা শেষে বাড়ির পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়।’
আনোয়ারা থানার উপপরিদর্শক মোমেন কান্তি দেব বলেন, ‘চিকিৎসায় অবহেলার অভিযোগ নিয়ে স্বজনেরা হাসপাতালে বিক্ষোভ করেছিলেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। পরে দুই পক্ষের মধ্যে আপস-সমঝোতার বৈঠক হয়। নিহতের স্বজনেরা কোনো আইনি পদক্ষেপ না নিয়ে লিখিত স্ট্যাম্পের সমঝোতাপত্রে সই করে লাশ নিয়ে যান।’
প্রত্যক্ষদর্শী ও শিশুটির স্বজনদের ভাষ্য, বুধবার বিকেল পাঁচটার দিকে নানার বাড়িতে স্থানীয় বাসিন্দা আবদুল মান্নানের প্রাইভেট কারের ধাক্কায় আয়ানের মাথায় গুরুতর আঘাত লাগে। স্বজনেরা তাকে দ্রুত সাঙ্গু ট্রমা অ্যান্ড জেনারেল হাসপাতাল পিএলসির জরুরি বিভাগে নেন।
স্বজনদের অভিযোগ, সেখানে দায়িত্বরত চিকিৎসক মোহাম্মদ আরমান প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে শিশুটিকে বাড়িতে নেওয়ার পরামর্শ দেন। রাত ১০টার দিকে অবস্থার উন্নতি না হওয়ায় আয়ানকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর চিকিৎসকেরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
সাঙ্গু ট্রমা অ্যান্ড জেনারেল হাসপাতাল পিএলসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মিজানুর রহমান বলেন, ‘শিশুটি যে ব্যক্তির গাড়িতে গুরুতর আহত হয়েছে, সে ব্যক্তিও এখানে এসে লোকজন জড়ো করে আমাদের কাছে ২০ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ দাবি করে। টাকা না দেওয়া পর্যন্ত তাঁরা হাসপাতাল ভাঙচুর ও কর্মচারীদের মারধর করেন।’
মিজানুর রহমান বলেন, ‘হাসপাতাল রক্ষার জন্য আমরা নিরুপায় হয়ে তাঁদের বেআইনি দাবি মানতে বাধ্য হয়েছি। না হলে তাঁরা সেদিন রাতে হাসপাতাল জ্বালিয়ে দেওয়ার হুমকি দেয়।’
মিজানুর রহমান আরও বলেন, ‘দাবি করা ২০ লাখ টাকার মধ্যে ১৩ লাখ টাকায় সমঝোতা হয়েছে। ২ লাখ টাকা নগদ দেওয়ার পর তাঁরা লাশ নিয়ে বাড়িতে চলে যান। মানুষকে সেবা দিতে এসে আমরা হুমকির মুখে পড়েছি। চিকিৎসক ও দায়িত্বরত কর্মীরা আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন।’
এদিকে শিশুমৃত্যুর ঘটনায় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক জামশেদ গিয়াস উদ্দিনকে প্রধান করে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটির সদস্যসচিব চিকিৎসক বিবি জয়নাব রিমা ও সদস্য চিকিৎসক ইকবাল মাহমুদ বেলাল হোসেন।
আনোয়ারা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা মাহতাব উদ্দিন চৌধুরী তদন্ত কমিটি গঠনের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
তদন্ত কমিটির প্রধান জামশেদ গিয়াস উদ্দিন বলেন, ‘আমরা আগামীকাল রোববার ঘটনাস্থল ও হাসপাতাল পরিদর্শন করে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেব। এরপর পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
নিহত আয়ান সাতকানিয়ার বাসিন্দা মোহাম্মদ আরফাত ও বটতলী ইউনিয়নের দক্ষিণ চাপাতলী সাদেক আলী তালুকদার বাড়ির কুমকুম আক্তার দম্পতির একমাত্র ছেলে। পোশাকশ্রমিক কুমকুম দীর্ঘদিন ধরে সন্তানকে নিয়ে বাবার বাড়িতে থাকতেন।
ঘটনাটি নিয়ে এলাকায় মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। সচেতন মহলের বক্তব্য, ভুল চিকিৎসা ও চিকিৎসকদের অবহেলার অভিযোগে আইনি ব্যবস্থা না নিয়ে টাকার বিনিময়ে সমঝোতা চিকিৎসাসেবার মান ও রোগীর নিরাপত্তার জন্য নেতিবাচক দৃষ্টান্ত হতে পারে।

শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১০ অক্টোবর ২০২৬
চট্টগ্রামের আনোয়ারায় সড়ক দুর্ঘটনায় আহত ছয় বছরের শিশু মোহাম্মদ আয়ানের মৃত্যুর ঘটনায় চিকিৎসায় অবহেলা ও ভুল চিকিৎসার অভিযোগে বিক্ষোভের পর হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে ১৩ লাখ টাকায় সমঝোতা হয়েছে স্বজনদের। বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত চারটার দিকে দীর্ঘ বৈঠকের পর এ সমঝোতা হয়। এর আগে প্রায় ২৪ ঘণ্টা শিশুটির লাশ নিয়ে হাসপাতালে অবস্থান করেন স্বজন ও স্থানীয় বাসিন্দারা।
বুধবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে উপজেলার বটতলী রুস্তমহাট এলাকার সাঙ্গু ট্রমা অ্যান্ড জেনারেল হাসপাতাল পিএলসিতে বিক্ষোভ শুরু হয়। পরদিন বৃহস্পতিবার দিনভর চলে এই বিক্ষোভ। স্বজনদের অভিযোগ, প্রাথমিক চিকিৎসায় অবহেলা ও ভুল চিকিৎসার কারণে আয়ানের মৃত্যু হয়েছে।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সমঝোতার অংশ হিসেবে শিশুর স্বজনদের নগদ ২ লাখ টাকা দেওয়া হয়েছে। আরও ৩ লাখ টাকা আগামী সোমবার ইসলামী ব্যাংকের চেকের মাধ্যমে দেওয়ার কথা রয়েছে। বাকি ৮ লাখ টাকা আগামী ২০ অক্টোবরের মধ্যে পরিশোধের জন্য স্ট্যাম্পে অঙ্গীকার করা হয়েছে।
বৈঠকে নিহত শিশুর পক্ষে প্রাইভেট কারের মালিক আবদুল মান্নান, স্থানীয় গিয়াস উদ্দিন, নুরুল আবছার, মোহাম্মদ কাইয়ূম, শিশুটির মামা মো. সাইফুল ইসলাম, আলী আব্বাস, ইলিয়াছ ও কাসেম খান আকাশ উপস্থিত ছিলেন। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের পক্ষে ব্যবস্থাপক মোহাম্মদ ইসমাঈল, পরিচালক হারুন ইবনে গনিসহ পাঁচজন প্রতিনিধি এবং থানার পুলিশের একজন সদস্য উপস্থিত ছিলেন।
নিহত শিশুর মামা মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে ক্ষতিপূরণ হিসেবে ১৩ লাখ টাকার চুক্তি হয়েছে। নগদ ২ লাখ টাকা দিয়েছেন। পরবর্তীতে একটি চেক আর স্ট্যাম্পের মাধ্যমে বাকি টাকা দেওয়ার কথা রয়েছে।’
মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘এরপর আমরা লাশ বাড়িতে নিয়ে আসি। শুক্রবার রাত আটটার দিকে জানাজা শেষে বাড়ির পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়।’
আনোয়ারা থানার উপপরিদর্শক মোমেন কান্তি দেব বলেন, ‘চিকিৎসায় অবহেলার অভিযোগ নিয়ে স্বজনেরা হাসপাতালে বিক্ষোভ করেছিলেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। পরে দুই পক্ষের মধ্যে আপস-সমঝোতার বৈঠক হয়। নিহতের স্বজনেরা কোনো আইনি পদক্ষেপ না নিয়ে লিখিত স্ট্যাম্পের সমঝোতাপত্রে সই করে লাশ নিয়ে যান।’
প্রত্যক্ষদর্শী ও শিশুটির স্বজনদের ভাষ্য, বুধবার বিকেল পাঁচটার দিকে নানার বাড়িতে স্থানীয় বাসিন্দা আবদুল মান্নানের প্রাইভেট কারের ধাক্কায় আয়ানের মাথায় গুরুতর আঘাত লাগে। স্বজনেরা তাকে দ্রুত সাঙ্গু ট্রমা অ্যান্ড জেনারেল হাসপাতাল পিএলসির জরুরি বিভাগে নেন।
স্বজনদের অভিযোগ, সেখানে দায়িত্বরত চিকিৎসক মোহাম্মদ আরমান প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে শিশুটিকে বাড়িতে নেওয়ার পরামর্শ দেন। রাত ১০টার দিকে অবস্থার উন্নতি না হওয়ায় আয়ানকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর চিকিৎসকেরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
সাঙ্গু ট্রমা অ্যান্ড জেনারেল হাসপাতাল পিএলসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মিজানুর রহমান বলেন, ‘শিশুটি যে ব্যক্তির গাড়িতে গুরুতর আহত হয়েছে, সে ব্যক্তিও এখানে এসে লোকজন জড়ো করে আমাদের কাছে ২০ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ দাবি করে। টাকা না দেওয়া পর্যন্ত তাঁরা হাসপাতাল ভাঙচুর ও কর্মচারীদের মারধর করেন।’
মিজানুর রহমান বলেন, ‘হাসপাতাল রক্ষার জন্য আমরা নিরুপায় হয়ে তাঁদের বেআইনি দাবি মানতে বাধ্য হয়েছি। না হলে তাঁরা সেদিন রাতে হাসপাতাল জ্বালিয়ে দেওয়ার হুমকি দেয়।’
মিজানুর রহমান আরও বলেন, ‘দাবি করা ২০ লাখ টাকার মধ্যে ১৩ লাখ টাকায় সমঝোতা হয়েছে। ২ লাখ টাকা নগদ দেওয়ার পর তাঁরা লাশ নিয়ে বাড়িতে চলে যান। মানুষকে সেবা দিতে এসে আমরা হুমকির মুখে পড়েছি। চিকিৎসক ও দায়িত্বরত কর্মীরা আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন।’
এদিকে শিশুমৃত্যুর ঘটনায় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক জামশেদ গিয়াস উদ্দিনকে প্রধান করে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটির সদস্যসচিব চিকিৎসক বিবি জয়নাব রিমা ও সদস্য চিকিৎসক ইকবাল মাহমুদ বেলাল হোসেন।
আনোয়ারা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা মাহতাব উদ্দিন চৌধুরী তদন্ত কমিটি গঠনের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
তদন্ত কমিটির প্রধান জামশেদ গিয়াস উদ্দিন বলেন, ‘আমরা আগামীকাল রোববার ঘটনাস্থল ও হাসপাতাল পরিদর্শন করে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেব। এরপর পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
নিহত আয়ান সাতকানিয়ার বাসিন্দা মোহাম্মদ আরফাত ও বটতলী ইউনিয়নের দক্ষিণ চাপাতলী সাদেক আলী তালুকদার বাড়ির কুমকুম আক্তার দম্পতির একমাত্র ছেলে। পোশাকশ্রমিক কুমকুম দীর্ঘদিন ধরে সন্তানকে নিয়ে বাবার বাড়িতে থাকতেন।
ঘটনাটি নিয়ে এলাকায় মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। সচেতন মহলের বক্তব্য, ভুল চিকিৎসা ও চিকিৎসকদের অবহেলার অভিযোগে আইনি ব্যবস্থা না নিয়ে টাকার বিনিময়ে সমঝোতা চিকিৎসাসেবার মান ও রোগীর নিরাপত্তার জন্য নেতিবাচক দৃষ্টান্ত হতে পারে।

আপনার মতামত লিখুন