ঢাকা    শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর ২০২৬
ঢাকা    শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর ২০২৬
টিভি ২৬ নিউজ
নোটিশ
  • টিভি ২৬ নিউজ  সারাদেশে প্রতিনিধি নিয়োগ দিচ্ছে ফোরকানুল হক (সাকিব) সম্পাদিত " TV 26 NEWS " আগ্রহীরা দ্রুত যোগাযোগ করুন। সব খবর সবার আগে পেতে আমাদের সাথেই থাকুন।

শুষ্ক মৌসুম ঘিরে তৎপর ইটভাটার মালিকরা


TV 26 NEWS ডেস্ক :
TV 26 NEWS ডেস্ক :
প্রকাশ ১৬ অক্টোবর ২০২৬ | ০৮:২৩ পিএম
| প্রিন্ট সংস্করণ

শুষ্ক মৌসুম ঘিরে তৎপর ইটভাটার মালিকরা
ছবি সংগৃহীত

শুষ্ক মৌসুম সামনে রেখে চট্টগ্রাম অঞ্চলে তৎপর হয়ে উঠেছেন অবৈধ ইটভাটার মালিকেরা। ইট তৈরির কাঁচামাল হিসেবে কৃষিজমির উপরিভাগের মাটি ও পাহাড়ের মাটি সংগ্রহের পাশাপাশি ইট পোড়াতে জ্বালানি কাঠ জোগাড়েও সক্রিয় তাঁরা। পরিবেশ অধিদপ্তর ইতিমধ্যে চট্টগ্রামের বেশ কয়েকটি ইটভাটাকে আসন্ন মৌসুমে কার্যক্রম বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছে। তবে অতীতের অভিজ্ঞতায় এসব নির্দেশ কতটা কার্যকর হবে, তা নিয়ে সংশয় রয়েছে।

চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ের এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিভাগের ১১ জেলায় মোট ১ হাজার ৫৩৬টি ইটভাটার মধ্যে ৯৭৬টি, অর্থাৎ ৬৩ দশমিক ৫ শতাংশ অবৈধ। বৈধ ইটভাটার তুলনায় অবৈধ ভাটার সংখ্যা প্রায় দ্বিগুণ। সবচেয়ে উদ্বেগজনক পরিস্থিতি তিন পার্বত্য জেলায়। সেখানে কোনো ইটভাটার অনুমোদন না থাকলেও ১৪২টি ভাটা পরিচালিত হচ্ছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, চট্টগ্রাম জেলায় সবচেয়ে বেশি ইটভাটা রয়েছে। জেলার ৪১৯টি ভাটার মধ্যে বৈধ মাত্র ৮২টি। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ইটভাটা কুমিল্লায়—২৭৪টির মধ্যে বৈধ ১৬৮টি। এ ছাড়া কক্সবাজারে ৭৮টির মধ্যে ৪৬টি, ফেনীতে ১০৩টির মধ্যে ৬০টি, নোয়াখালীতে ১১৬টির মধ্যে ৬৬টি, লক্ষ্মীপুরে ১৫৭টির মধ্যে ৯১টি, ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ১৫১টির মধ্যে ৭৫টি এবং চাঁদপুরে ৯৬টির মধ্যে ৫৩টি ইটভাটা অবৈধ। তিন পার্বত্য জেলার মধ্যে রাঙামাটিতে ২৮টি, খাগড়াছড়িতে ৪৪টি ও বান্দরবানে ৭০টি ইটভাটার সব কটিই অবৈধ।

পরিবেশ আইন অনুযায়ী, এক দশক আগেই ১২০ ফুট চিমনিবিশিষ্ট সনাতন প্রযুক্তির ইটভাটাকে অবৈধ ঘোষণা করা হয়। পাশাপাশি ইট পোড়াতে কাঠের পরিবর্তে বিকল্প জ্বালানি ব্যবহার এবং মাটির ইটের বদলে ব্লক ইটের উৎপাদন ও ব্যবহার উৎসাহিত করে আসছে সরকার। কিন্তু এত বছরেও প্রত্যাশিত পরিবর্তন আসেনি। পরিবেশ অধিদপ্তরের অভিযানে চিমনি ভেঙে দেওয়া কিংবা বন্ধের নোটিশ দেওয়ার পরও অনেক ক্ষেত্রে ইটভাটাগুলো আবার চালু হচ্ছে।

আইন অনুযায়ী, আবাসিক এলাকা, পাহাড়, বনভূমি, জলাভূমি ও কৃষিজমির নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে ইটভাটা স্থাপন নিষিদ্ধ। তারপরও এসব এলাকার আশপাশে ইটভাটার কার্যক্রম চলার অভিযোগ রয়েছে।

বিজিসি ট্রাস্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ও পরিবেশবিদ ড. মো. মনজুরুল কিবরিয়া বলেন, 'অবৈধ ইটভাটা বন্ধে আইনের কঠোর প্রয়োগ প্রয়োজন। বিশেষ করে বনজ কাঠ ও কৃষিজমির উপরিভাগের মাটি ইটভাটায় ব্যবহার রোধে শুষ্ক মৌসুমের শুরু থেকেই সরকারি সংস্থাগুলোর নজরদারি ও অভিযান চালানো দরকার। সনাতন প্রযুক্তির যেসব ইটভাটা একবার বন্ধ করা হয়, সেগুলো যাতে আবার চালু হতে না পারে, সে বিষয়ে নজরদারি গুরুত্বপূর্ণ। পাশাপাশি আধুনিক, প্রযুক্তিনির্ভর ও পরিবেশবান্ধব ইটভাটা স্থাপন এবং মাটির ইটের পরিবর্তে ব্লক ইটের উৎপাদন ও ব্যবহার বাড়াতে সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা ও প্রণোদনা বাড়ানো গেলে অবৈধ ইটভাটার সংখ্যা কমে আসবে।'

দ্রুত নগরায়ণ, নতুন আবাসন ও অবকাঠামো নির্মাণের কারণে চট্টগ্রামে ইটের চাহিদা বাড়ছে। এই চাহিদাকে কাজে লাগিয়ে অঞ্চলে অবৈধ ইটভাটার কার্যক্রম বিস্তারের অভিযোগ রয়েছে। পরিবেশ অধিদপ্তরের হিসাব অনুযায়ী, চট্টগ্রাম জেলার ৪১৯টি ইটভাটার মধ্যে ৩৩৭টিই বিভিন্ন কারণে অবৈধ। জেলার রাঙ্গুনিয়া ও সাতকানিয়া উপজেলায় সবচেয়ে বেশি ইটভাটা রয়েছে। সাতকানিয়ার ৭০টি ইটভাটার মধ্যে ৪৫টি এবং রাঙ্গুনিয়ার ৬৯টির মধ্যে ৬৬টিই অবৈধ। এ ছাড়া লোহাগাড়ায় ৪৮টি, চন্দনাইশে ৩২টি, ফটিকছড়িতে ৫৫টি, রাউজানে ৩৭টি ও হাটহাজারীতে ৩৫টি ইটভাটা রয়েছে। এসব ভাটার বেশির ভাগই অবৈধ বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, রাঙ্গুনিয়া উপজেলার দক্ষিণ রাজানগর, ইসলামপুর, নিশ্চিন্তাপুর ও কোদালা ইউনিয়নে বেশির ভাগ ইটভাটার অবস্থান। পাহাড়ি এলাকায় অবস্থিত এসব ভাটায় রাঙামাটি থেকে চোরাই পথে বনজ কাঠ এনে পোড়ানোর অভিযোগ রয়েছে। পাশাপাশি পাহাড়, টিলা ও কৃষিজমি থেকে মাটি কেটে ইট তৈরির কাঁচামাল হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে।

আসন্ন শুষ্ক মৌসুম সামনে রেখে এবারও ইটভাটার মালিকেরা জ্বালানি কাঠ ও মাটি সংগ্রহে তৎপর হয়ে উঠেছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। কম দামে কাঠ সংগ্রহের জন্য সংরক্ষিত বনাঞ্চল ও সামাজিক বনায়নের গাছ কাটার অভিযোগও রয়েছে। অবৈধ ইটভাটার কার্যক্রম ঠেকাতে পরিবেশ অধিদপ্তর নিয়মিত অভিযান, নোটিশ ও সচেতনতামূলক কার্যক্রম চালাচ্ছে।

গত ২ সেপ্টেম্বর রাঙ্গুনিয়া উপজেলায় অবৈধভাবে পরিচালিত ১৭টি ইটভাটাকে বন্ধের নোটিশ দেয় পরিবেশ অধিদপ্তর। সনাতন প্রযুক্তির ড্রাম চিমনি ও ফিক্সড চিমনিবিশিষ্ট এসব ভাটায় আসন্ন মৌসুমে আগুন না জ্বালানো এবং জ্বালানি কাঠ ও কৃষিজমির উপরিভাগের মাটি ব্যবহার থেকে বিরত থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়। অন্যান্য উপজেলাতেও অবৈধ ইটভাটা বন্ধে পরিবেশ অধিদপ্তর ও জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। তবে অভিযোগ রয়েছে, প্রত্যন্ত অঞ্চলে অভিযান চালানোর কিছুদিন পরই অনেক ভাটা আবার চালু হয়ে যায়।

পরিবেশ অধিদপ্তর চট্টগ্রাম জেলা কার্যালয়ের উপপরিচালক মো. মোজাহিদুর রহমান বলেন, 'পরিবেশগত ছাড়পত্র ছাড়া কোনো ইটভাটা পরিচালনার সুযোগ নেই। সনাতন প্রযুক্তির ইটভাটাগুলো বন্ধে নিয়মিত অভিযান চলছে। আসন্ন মৌসুমে যাতে জ্বালানি কাঠ ও কৃষিজমির উপরিভাগের মাটি ব্যবহার করা না হয়, সে জন্য ইতিমধ্যে অবৈধ ইটভাটাগুলোকে সতর্ক করা হয়েছে। এরপরও কোনো ভাটায় অবৈধ কার্যক্রমের অভিযোগ পেলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।'

অবৈধ ইটভাটা ও ইট পোড়াতে জ্বালানি কাঠের ব্যবহার বন্ধে চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ের উদ্যোগে গঠিত একটি মনিটরিং কমিটিও কাজ করছে। তবে জ্বালানি কাঠের ব্যবহার রোধে কমিটির কার্যক্রম সম্পর্কে জানতে কমিটির সদস্য ও চট্টগ্রাম উত্তর বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা ড. আবু নাসের মোহসিন হোসেনের সঙ্গে মঙ্গলবার একাধিকবার ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি সাড়া দেননি।

সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, পরিবেশ অধিদপ্তর ও স্থানীয় প্রশাসন মাঝেমধ্যে ইটভাটায় অভিযান চালালেও অনেক মালিক নামমাত্র জরিমানা দিয়ে পার পেয়ে যান। কিছুদিন বন্ধ রাখার পর আবারও ভাটা চালু করা হয়। পর্যাপ্ত বাজেট ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের সংকটের কারণে সব অবৈধ ইটভাটায় নিয়মিত অভিযান চালানোও কঠিন হয়ে পড়ে। পাশাপাশি প্রশাসন, পুলিশ ও স্থানীয় রাজনৈতিক ব্যক্তিদের সঙ্গে সমঝোতা করে কোনো কোনো ইটভাটা পরিচালনার অভিযোগ রয়েছে।

বিষয় : শুষ্ক মৌসুম ঘিরে তৎপর ইটভাটার মালিকরা

আপনার মতামত লিখুন

টিভি ২৬ নিউজ

শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর ২০২৬


শুষ্ক মৌসুম ঘিরে তৎপর ইটভাটার মালিকরা

প্রকাশের তারিখ : ১৬ অক্টোবর ২০২৬

featured Image

শুষ্ক মৌসুম সামনে রেখে চট্টগ্রাম অঞ্চলে তৎপর হয়ে উঠেছেন অবৈধ ইটভাটার মালিকেরা। ইট তৈরির কাঁচামাল হিসেবে কৃষিজমির উপরিভাগের মাটি ও পাহাড়ের মাটি সংগ্রহের পাশাপাশি ইট পোড়াতে জ্বালানি কাঠ জোগাড়েও সক্রিয় তাঁরা। পরিবেশ অধিদপ্তর ইতিমধ্যে চট্টগ্রামের বেশ কয়েকটি ইটভাটাকে আসন্ন মৌসুমে কার্যক্রম বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছে। তবে অতীতের অভিজ্ঞতায় এসব নির্দেশ কতটা কার্যকর হবে, তা নিয়ে সংশয় রয়েছে।

চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ের এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিভাগের ১১ জেলায় মোট ১ হাজার ৫৩৬টি ইটভাটার মধ্যে ৯৭৬টি, অর্থাৎ ৬৩ দশমিক ৫ শতাংশ অবৈধ। বৈধ ইটভাটার তুলনায় অবৈধ ভাটার সংখ্যা প্রায় দ্বিগুণ। সবচেয়ে উদ্বেগজনক পরিস্থিতি তিন পার্বত্য জেলায়। সেখানে কোনো ইটভাটার অনুমোদন না থাকলেও ১৪২টি ভাটা পরিচালিত হচ্ছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, চট্টগ্রাম জেলায় সবচেয়ে বেশি ইটভাটা রয়েছে। জেলার ৪১৯টি ভাটার মধ্যে বৈধ মাত্র ৮২টি। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ইটভাটা কুমিল্লায়—২৭৪টির মধ্যে বৈধ ১৬৮টি। এ ছাড়া কক্সবাজারে ৭৮টির মধ্যে ৪৬টি, ফেনীতে ১০৩টির মধ্যে ৬০টি, নোয়াখালীতে ১১৬টির মধ্যে ৬৬টি, লক্ষ্মীপুরে ১৫৭টির মধ্যে ৯১টি, ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ১৫১টির মধ্যে ৭৫টি এবং চাঁদপুরে ৯৬টির মধ্যে ৫৩টি ইটভাটা অবৈধ। তিন পার্বত্য জেলার মধ্যে রাঙামাটিতে ২৮টি, খাগড়াছড়িতে ৪৪টি ও বান্দরবানে ৭০টি ইটভাটার সব কটিই অবৈধ।

পরিবেশ আইন অনুযায়ী, এক দশক আগেই ১২০ ফুট চিমনিবিশিষ্ট সনাতন প্রযুক্তির ইটভাটাকে অবৈধ ঘোষণা করা হয়। পাশাপাশি ইট পোড়াতে কাঠের পরিবর্তে বিকল্প জ্বালানি ব্যবহার এবং মাটির ইটের বদলে ব্লক ইটের উৎপাদন ও ব্যবহার উৎসাহিত করে আসছে সরকার। কিন্তু এত বছরেও প্রত্যাশিত পরিবর্তন আসেনি। পরিবেশ অধিদপ্তরের অভিযানে চিমনি ভেঙে দেওয়া কিংবা বন্ধের নোটিশ দেওয়ার পরও অনেক ক্ষেত্রে ইটভাটাগুলো আবার চালু হচ্ছে।

আইন অনুযায়ী, আবাসিক এলাকা, পাহাড়, বনভূমি, জলাভূমি ও কৃষিজমির নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে ইটভাটা স্থাপন নিষিদ্ধ। তারপরও এসব এলাকার আশপাশে ইটভাটার কার্যক্রম চলার অভিযোগ রয়েছে।

বিজিসি ট্রাস্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ও পরিবেশবিদ ড. মো. মনজুরুল কিবরিয়া বলেন, 'অবৈধ ইটভাটা বন্ধে আইনের কঠোর প্রয়োগ প্রয়োজন। বিশেষ করে বনজ কাঠ ও কৃষিজমির উপরিভাগের মাটি ইটভাটায় ব্যবহার রোধে শুষ্ক মৌসুমের শুরু থেকেই সরকারি সংস্থাগুলোর নজরদারি ও অভিযান চালানো দরকার। সনাতন প্রযুক্তির যেসব ইটভাটা একবার বন্ধ করা হয়, সেগুলো যাতে আবার চালু হতে না পারে, সে বিষয়ে নজরদারি গুরুত্বপূর্ণ। পাশাপাশি আধুনিক, প্রযুক্তিনির্ভর ও পরিবেশবান্ধব ইটভাটা স্থাপন এবং মাটির ইটের পরিবর্তে ব্লক ইটের উৎপাদন ও ব্যবহার বাড়াতে সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা ও প্রণোদনা বাড়ানো গেলে অবৈধ ইটভাটার সংখ্যা কমে আসবে।'

দ্রুত নগরায়ণ, নতুন আবাসন ও অবকাঠামো নির্মাণের কারণে চট্টগ্রামে ইটের চাহিদা বাড়ছে। এই চাহিদাকে কাজে লাগিয়ে অঞ্চলে অবৈধ ইটভাটার কার্যক্রম বিস্তারের অভিযোগ রয়েছে। পরিবেশ অধিদপ্তরের হিসাব অনুযায়ী, চট্টগ্রাম জেলার ৪১৯টি ইটভাটার মধ্যে ৩৩৭টিই বিভিন্ন কারণে অবৈধ। জেলার রাঙ্গুনিয়া ও সাতকানিয়া উপজেলায় সবচেয়ে বেশি ইটভাটা রয়েছে। সাতকানিয়ার ৭০টি ইটভাটার মধ্যে ৪৫টি এবং রাঙ্গুনিয়ার ৬৯টির মধ্যে ৬৬টিই অবৈধ। এ ছাড়া লোহাগাড়ায় ৪৮টি, চন্দনাইশে ৩২টি, ফটিকছড়িতে ৫৫টি, রাউজানে ৩৭টি ও হাটহাজারীতে ৩৫টি ইটভাটা রয়েছে। এসব ভাটার বেশির ভাগই অবৈধ বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, রাঙ্গুনিয়া উপজেলার দক্ষিণ রাজানগর, ইসলামপুর, নিশ্চিন্তাপুর ও কোদালা ইউনিয়নে বেশির ভাগ ইটভাটার অবস্থান। পাহাড়ি এলাকায় অবস্থিত এসব ভাটায় রাঙামাটি থেকে চোরাই পথে বনজ কাঠ এনে পোড়ানোর অভিযোগ রয়েছে। পাশাপাশি পাহাড়, টিলা ও কৃষিজমি থেকে মাটি কেটে ইট তৈরির কাঁচামাল হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে।

আসন্ন শুষ্ক মৌসুম সামনে রেখে এবারও ইটভাটার মালিকেরা জ্বালানি কাঠ ও মাটি সংগ্রহে তৎপর হয়ে উঠেছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। কম দামে কাঠ সংগ্রহের জন্য সংরক্ষিত বনাঞ্চল ও সামাজিক বনায়নের গাছ কাটার অভিযোগও রয়েছে। অবৈধ ইটভাটার কার্যক্রম ঠেকাতে পরিবেশ অধিদপ্তর নিয়মিত অভিযান, নোটিশ ও সচেতনতামূলক কার্যক্রম চালাচ্ছে।

গত ২ সেপ্টেম্বর রাঙ্গুনিয়া উপজেলায় অবৈধভাবে পরিচালিত ১৭টি ইটভাটাকে বন্ধের নোটিশ দেয় পরিবেশ অধিদপ্তর। সনাতন প্রযুক্তির ড্রাম চিমনি ও ফিক্সড চিমনিবিশিষ্ট এসব ভাটায় আসন্ন মৌসুমে আগুন না জ্বালানো এবং জ্বালানি কাঠ ও কৃষিজমির উপরিভাগের মাটি ব্যবহার থেকে বিরত থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়। অন্যান্য উপজেলাতেও অবৈধ ইটভাটা বন্ধে পরিবেশ অধিদপ্তর ও জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। তবে অভিযোগ রয়েছে, প্রত্যন্ত অঞ্চলে অভিযান চালানোর কিছুদিন পরই অনেক ভাটা আবার চালু হয়ে যায়।

পরিবেশ অধিদপ্তর চট্টগ্রাম জেলা কার্যালয়ের উপপরিচালক মো. মোজাহিদুর রহমান বলেন, 'পরিবেশগত ছাড়পত্র ছাড়া কোনো ইটভাটা পরিচালনার সুযোগ নেই। সনাতন প্রযুক্তির ইটভাটাগুলো বন্ধে নিয়মিত অভিযান চলছে। আসন্ন মৌসুমে যাতে জ্বালানি কাঠ ও কৃষিজমির উপরিভাগের মাটি ব্যবহার করা না হয়, সে জন্য ইতিমধ্যে অবৈধ ইটভাটাগুলোকে সতর্ক করা হয়েছে। এরপরও কোনো ভাটায় অবৈধ কার্যক্রমের অভিযোগ পেলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।'

অবৈধ ইটভাটা ও ইট পোড়াতে জ্বালানি কাঠের ব্যবহার বন্ধে চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ের উদ্যোগে গঠিত একটি মনিটরিং কমিটিও কাজ করছে। তবে জ্বালানি কাঠের ব্যবহার রোধে কমিটির কার্যক্রম সম্পর্কে জানতে কমিটির সদস্য ও চট্টগ্রাম উত্তর বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা ড. আবু নাসের মোহসিন হোসেনের সঙ্গে মঙ্গলবার একাধিকবার ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি সাড়া দেননি।

সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, পরিবেশ অধিদপ্তর ও স্থানীয় প্রশাসন মাঝেমধ্যে ইটভাটায় অভিযান চালালেও অনেক মালিক নামমাত্র জরিমানা দিয়ে পার পেয়ে যান। কিছুদিন বন্ধ রাখার পর আবারও ভাটা চালু করা হয়। পর্যাপ্ত বাজেট ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের সংকটের কারণে সব অবৈধ ইটভাটায় নিয়মিত অভিযান চালানোও কঠিন হয়ে পড়ে। পাশাপাশি প্রশাসন, পুলিশ ও স্থানীয় রাজনৈতিক ব্যক্তিদের সঙ্গে সমঝোতা করে কোনো কোনো ইটভাটা পরিচালনার অভিযোগ রয়েছে।


টিভি ২৬ নিউজ

সম্পাদক ও প্রকাশকঃ~ ফোরকানুল হক (সাকিব)

কপিরাইট © ২০২৬ টিভি ২৬ নিউজ । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত