ঢাকা    শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর ২০২৬
ঢাকা    শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর ২০২৬
টিভি ২৬ নিউজ
নোটিশ
  • টিভি ২৬ নিউজ  সারাদেশে প্রতিনিধি নিয়োগ দিচ্ছে ফোরকানুল হক (সাকিব) সম্পাদিত " TV 26 NEWS " আগ্রহীরা দ্রুত যোগাযোগ করুন। সব খবর সবার আগে পেতে আমাদের সাথেই থাকুন।
সর্বশেষ

জুলাই স্মারক-৩: ক্যালেন্ডারে নেই, তবু ইতিহাসে অমর ‘৩৬ জুলাই’


TV 26 NEWS ডেস্ক :
TV 26 NEWS ডেস্ক :
প্রকাশ ০৬ নভেম্বর ২০২৬ | ১২:২০ পিএম
| প্রিন্ট সংস্করণ | ফটো কার্ড

জুলাই স্মারক-৩: ক্যালেন্ডারে নেই, তবু ইতিহাসে অমর ‘৩৬ জুলাই’

ক্যালেন্ডারের পাতায় জুলাই মাসের শেষ দিন ৩১ তারিখ। তারপর শুরু হয় আগস্ট। কিন্তু বাংলাদেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক ইতিহাসে জন্ম নিয়েছে এক ব্যতিক্রমী তারিখ: ৩৬ জুলাই।

এটি কোনো প্রচলিত ক্যালেন্ডারের তারিখ নয়। এটি একটি আন্দোলনের ভাষা। একটি সময়ের প্রতীক। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টকে জুলাইয়ের ধারাবাহিকতায় স্মরণ করার একটি বিশেষ অভিব্যক্তি।

ঢাকার শাহবাগে নির্মিত ‘৩৬ জুলাই স্মৃতিস্তম্ভ’ সেই প্রতীকী তারিখকে স্থায়ীভাবে স্মরণ করিয়ে দেওয়ার একটি উদ্যোগ।

২০২৪ সালের জুলাই মাসে সরকারি চাকরিতে কোটা সংস্কারের দাবিতে শুরু হওয়া আন্দোলন একপর্যায়ে ব্যাপক গণআন্দোলনে রূপ নেয়। আন্দোলনের বিভিন্ন পর্যায়ে প্রাণহানি, সংঘর্ষ, গ্রেপ্তার ও দমন-পীড়নের অভিযোগ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তোলে।

জুলাই পেরিয়ে আগস্টেও আন্দোলন অব্যাহত থাকে। ৫ আগস্ট শেখ হাসিনার সরকারের পতনের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের রাজনীতিতে বড় ধরনের পরিবর্তন ঘটে।

এই ধারাবাহিক ঘটনাপ্রবাহ থেকেই আন্দোলনকারীদের মধ্যে ৫ আগস্টকে ‘৩৬ জুলাই’ হিসেবে অভিহিত করার প্রচলন তৈরি হয়।

শাহবাগ শুধু ঢাকার একটি ব্যস্ত মোড় নয়। বিভিন্ন সময়ে বাংলাদেশের সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক আন্দোলনের গুরুত্বপূর্ণ সমাবেশস্থল হিসেবে পরিচিত এই এলাকা।

এখানে প্রতিবাদ হয়েছে। দাবি উঠেছে। রাজনৈতিক ও সামাজিক প্রশ্নে মানুষ একত্র হয়েছেন। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণের ফলে শাহবাগের এই ঐতিহাসিক পরিচয়ের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে আরেকটি অধ্যায়।

প্রতিদিন অসংখ্য মানুষ এই এলাকা দিয়ে যাতায়াত করেন। কেউ শিক্ষার্থী, কেউ চাকরিজীবী, কেউ পথচারী। তাঁদের অনেকের কাছেই স্মৃতিস্তম্ভটি ইতিহাস সম্পর্কে জানার একটি সূচনা।

একটি শিশু হয়তো তার বাবাকে জিজ্ঞেস করবে, ‘জুলাই মাসে ৩৬ তারিখ হয় কীভাবে?’ সেই প্রশ্ন থেকেই শুরু হতে পারে ইতিহাসের আলোচনা।

কেন মানুষ রাজপথে নেমেছিল? কী দাবি ছিল তাদের? কেন এত মানুষের জীবন বিপন্ন হয়েছিল? কীভাবে একটি ছাত্র আন্দোলন বৃহত্তর গণআন্দোলনে পরিণত হয়েছিল?

এমন প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গিয়ে নতুন প্রজন্ম শুধু একটি রাজনৈতিক ঘটনার কথা জানবে না, জানতে পারবে নাগরিক অধিকার, রাষ্ট্রীয় জবাবদিহি ও গণতান্ত্রিক আন্দোলনের ইতিহাসও।

স্মৃতিস্তম্ভের গুরুত্ব তখনই বাড়ে, যখন তার সঙ্গে যুক্ত থাকে নির্ভরযোগ্য ঐতিহাসিক তথ্য। কেন এটি নির্মিত হয়েছে, কোন ঘটনার স্মরণে, কারা এর সঙ্গে যুক্ত ছিলেন—এসব তথ্য সহজ ভাষায় তুলে ধরা জরুরি।

কারণ ইতিহাস সম্পর্কে জানার আগ্রহ তৈরি করাও একটি স্মারকের গুরুত্বপূর্ণ কাজ।

ক্যালেন্ডারে ৩৬ জুলাই বলে কোনো দিন নেই। কিন্তু বাংলাদেশের ইতিহাসে এই নামটি একটি বিশেষ রাজনৈতিক সময়ের স্মারক হয়ে আছে। শাহবাগের স্মৃতিস্তম্ভ সেই ইতিহাসের কথা মনে করিয়ে দেয়: একটি তারিখ কখনো কখনো শুধু সময় নয়, একটি প্রজন্মের অভিজ্ঞতাও ধারণ করে।

আপনার মতামত লিখুন

টিভি ২৬ নিউজ

শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর ২০২৬


জুলাই স্মারক-৩: ক্যালেন্ডারে নেই, তবু ইতিহাসে অমর ‘৩৬ জুলাই’

প্রকাশের তারিখ : ০৬ নভেম্বর ২০২৬

featured Image

ক্যালেন্ডারের পাতায় জুলাই মাসের শেষ দিন ৩১ তারিখ। তারপর শুরু হয় আগস্ট। কিন্তু বাংলাদেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক ইতিহাসে জন্ম নিয়েছে এক ব্যতিক্রমী তারিখ: ৩৬ জুলাই।

এটি কোনো প্রচলিত ক্যালেন্ডারের তারিখ নয়। এটি একটি আন্দোলনের ভাষা। একটি সময়ের প্রতীক। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টকে জুলাইয়ের ধারাবাহিকতায় স্মরণ করার একটি বিশেষ অভিব্যক্তি।

ঢাকার শাহবাগে নির্মিত ‘৩৬ জুলাই স্মৃতিস্তম্ভ’ সেই প্রতীকী তারিখকে স্থায়ীভাবে স্মরণ করিয়ে দেওয়ার একটি উদ্যোগ।

২০২৪ সালের জুলাই মাসে সরকারি চাকরিতে কোটা সংস্কারের দাবিতে শুরু হওয়া আন্দোলন একপর্যায়ে ব্যাপক গণআন্দোলনে রূপ নেয়। আন্দোলনের বিভিন্ন পর্যায়ে প্রাণহানি, সংঘর্ষ, গ্রেপ্তার ও দমন-পীড়নের অভিযোগ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তোলে।

জুলাই পেরিয়ে আগস্টেও আন্দোলন অব্যাহত থাকে। ৫ আগস্ট শেখ হাসিনার সরকারের পতনের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের রাজনীতিতে বড় ধরনের পরিবর্তন ঘটে।

এই ধারাবাহিক ঘটনাপ্রবাহ থেকেই আন্দোলনকারীদের মধ্যে ৫ আগস্টকে ‘৩৬ জুলাই’ হিসেবে অভিহিত করার প্রচলন তৈরি হয়।

শাহবাগ শুধু ঢাকার একটি ব্যস্ত মোড় নয়। বিভিন্ন সময়ে বাংলাদেশের সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক আন্দোলনের গুরুত্বপূর্ণ সমাবেশস্থল হিসেবে পরিচিত এই এলাকা।

এখানে প্রতিবাদ হয়েছে। দাবি উঠেছে। রাজনৈতিক ও সামাজিক প্রশ্নে মানুষ একত্র হয়েছেন। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণের ফলে শাহবাগের এই ঐতিহাসিক পরিচয়ের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে আরেকটি অধ্যায়।

প্রতিদিন অসংখ্য মানুষ এই এলাকা দিয়ে যাতায়াত করেন। কেউ শিক্ষার্থী, কেউ চাকরিজীবী, কেউ পথচারী। তাঁদের অনেকের কাছেই স্মৃতিস্তম্ভটি ইতিহাস সম্পর্কে জানার একটি সূচনা।

একটি শিশু হয়তো তার বাবাকে জিজ্ঞেস করবে, ‘জুলাই মাসে ৩৬ তারিখ হয় কীভাবে?’ সেই প্রশ্ন থেকেই শুরু হতে পারে ইতিহাসের আলোচনা।

কেন মানুষ রাজপথে নেমেছিল? কী দাবি ছিল তাদের? কেন এত মানুষের জীবন বিপন্ন হয়েছিল? কীভাবে একটি ছাত্র আন্দোলন বৃহত্তর গণআন্দোলনে পরিণত হয়েছিল?

এমন প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গিয়ে নতুন প্রজন্ম শুধু একটি রাজনৈতিক ঘটনার কথা জানবে না, জানতে পারবে নাগরিক অধিকার, রাষ্ট্রীয় জবাবদিহি ও গণতান্ত্রিক আন্দোলনের ইতিহাসও।

স্মৃতিস্তম্ভের গুরুত্ব তখনই বাড়ে, যখন তার সঙ্গে যুক্ত থাকে নির্ভরযোগ্য ঐতিহাসিক তথ্য। কেন এটি নির্মিত হয়েছে, কোন ঘটনার স্মরণে, কারা এর সঙ্গে যুক্ত ছিলেন—এসব তথ্য সহজ ভাষায় তুলে ধরা জরুরি।

কারণ ইতিহাস সম্পর্কে জানার আগ্রহ তৈরি করাও একটি স্মারকের গুরুত্বপূর্ণ কাজ।

ক্যালেন্ডারে ৩৬ জুলাই বলে কোনো দিন নেই। কিন্তু বাংলাদেশের ইতিহাসে এই নামটি একটি বিশেষ রাজনৈতিক সময়ের স্মারক হয়ে আছে। শাহবাগের স্মৃতিস্তম্ভ সেই ইতিহাসের কথা মনে করিয়ে দেয়: একটি তারিখ কখনো কখনো শুধু সময় নয়, একটি প্রজন্মের অভিজ্ঞতাও ধারণ করে।


টিভি ২৬ নিউজ

সম্পাদক ও প্রকাশকঃ~ ফোরকানুল হক (সাকিব)

কপিরাইট © ২০২৬ টিভি ২৬ নিউজ । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত