বিশ্বকাপ ফাইনালের আগে আলোচনায় এনসো ফার্নান্দেসের টোপো জিও উদযাপন। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সেমিফাইনালে গোল করার পর যে ভঙ্গিতে উদযাপন করেছিলেন, ফাইনালের আগে আবারও একইভাবে দুই হাত কানের পেছনে নিয়ে সেই উদযাপন করতে দেখা গেল আর্জেন্টিনার এই মিডফিল্ডারকে। রোববার দিবাগত রাত ১টায় মেটলাইফ স্টেডিয়ামে স্পেনের বিপক্ষে খেলতে নামবে আর্জেন্টিনা। তার আগে বৃহস্পতিবার রাতে আটলান্টা থেকে নিউইয়র্কের উদ্দেশে রওনা হয় লিওনেল মেসির দল। তবে বজ্রঝড়ের কারণে ফ্লাইট বিলম্বিত হওয়ায় মধ্যরাতে নিউজার্সিতে পৌঁছায় বর্তমান বিশ্ব চ্যাম্পিয়নরা। বিমানে ওঠার আগে এনসোর টোপো জিও উদযাপন আবারও মনে করিয়ে দেয় ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সেমিফাইনালের সেই মুহূর্তকে। রিভার প্লেট থেকে উঠে আসা এই মিডফিল্ডারের উদযাপনের পেছনে রয়েছে দীর্ঘ ইতিহাস। ১৯৫৮ সালে ইতালীয় শিল্পী মারিয়া পেরেগো তৈরি করেছিলেন টোপো জিও চরিত্রটি। ১৯৮০ ও ১৯৯০-এর দশকে লাতিন আমেরিকায় জনপ্রিয় হয়ে ওঠা এই ফোমের ইঁদুর চরিত্রটি শিশুদের টেলিভিশনের অন্যতম পরিচিত প্রতীকে পরিণত হয়েছিল। তবে ফুটবলে এসে এই অঙ্গভঙ্গি ভিন্ন অর্থ বহন করতে শুরু করে। ২০০১ সালের ৮ এপ্রিল বোকা জুনিয়র্স ও রিভার প্লেটের সুপারক্লাসিকো ম্যাচে গোলের পর হুয়ান রোমান রিকেলমে প্রথম আলোচনায় আনেন টোপো জিও উদযাপন। ক্লাবের তৎকালীন সভাপতি মাউরিসিও মাক্রির বক্সের সামনে দাঁড়িয়ে করা সেই উদযাপনকে তখন চুক্তি সংক্রান্ত বিরোধ ও ক্লাব পরিচালনা নিয়ে অসন্তোষের প্রতিবাদ হিসেবে দেখা হয়েছিল। যদিও পরে রিকেলমে রসিকতা করে জানিয়েছিলেন, উদযাপনটি তিনি তাঁর মেয়েকে উৎসর্গ করেছিলেন। এরপর সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এই উদযাপন ফুটবলারদের প্রতিবাদ বা বিশেষ বার্তা দেওয়ার এক ধরনের প্রতীকে পরিণত হয়। ২০২২ কাতার বিশ্বকাপে নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে ম্যাচের পর লিওনেল মেসিকেও এই ভঙ্গিতে দেখা গিয়েছিল। সেই উদযাপনটি ছিল তৎকালীন ডাচ কোচ লুই ফন গালের উদ্দেশে করা এক প্রতিক্রিয়া। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সেমিফাইনালে দুই দেশের ফুটবলীয় ও রাজনৈতিক ইতিহাসের প্রেক্ষাপটে এই উদযাপন করেছিলেন এনসো। ম্যাচের উত্তেজনার মধ্যে আর্জেন্টিনার খেলোয়াড়দের ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জ নিয়ে প্রদর্শিত ব্যানারের পর তাঁর উদযাপনও আলাদা মাত্রা পেয়েছিল। এদিকে ফাইনালের প্রস্তুতিতে ফিফা দুই দলের সূচিতে কিছু পরিবর্তন এনেছে। শুক্রবার সংবাদমাধ্যমের জন্য উন্মুক্ত থাকবে আর্জেন্টিনা ও স্পেনের অনুশীলন। এদিন সাংবাদিকরা দুই দলের তিনজন করে খেলোয়াড়ের সঙ্গে কথা বলার সুযোগ পাবেন এবং অনুশীলনের প্রথম ১৫ মিনিট দেখতে পারবেন। পরে আর্জেন্টিনা কোচ লিওনেল স্কালোনি ও স্পেন কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্তে সংবাদ সম্মেলনে অংশ নেবেন। তবে শুক্রবার দুই দলের অনুশীলনই থাকবে সংবাদমাধ্যম ও দর্শকদের জন্য বন্ধ। ফাইনালের আগে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি সেখানেই সম্পন্ন করবে আর্জেন্টিনা ও স্পেন।