সারাদেশে প্রতিনিধি নিয়োগ দিচ্ছে ফোরকানুল হক (সাকিব) সম্পাদিত " TV 26 NEWS " আগ্রহীরা দ্রুত যোগাযোগ করুন। সব খবর সবার আগে পেতে আমাদের সাথেই থাকুন। মধ্যরাত থেকে মাছ ধরার নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হয়েছে। নিষেধাজ্ঞার আগ মুহূর্তে বুধবার সকাল থেকে রাত পর্যন্ত কক্সবাজার শহরের ফিশারিঘাট মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রে গভীর সাগর থেকে ইলিশ বোঝাই শত শত ট্রলার ফিরে এসেছে।
ফেরার পথে মহেশখালীর সোনাদিয়া চ্যানেলে জলদস্যুদের বর্বর হামলার শিকার হয়ে গুরুতর আহত আটজন মাঝিমাল্লাকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
গত ৪ দিনে ওই সমুদ্রসীমার ‘১২ বাম’ এলাকায় অন্তত ১৭টি ফিশিং ট্রলারে হামলা চালিয়েছে দস্যু দল। এতে কমপক্ষে ২৫ জন মাঝিমাল্লা আহত হয়েছেন। এই ঘটনার পর থেকে তিনটি ফিশিং ট্রলারসহ ২৪ জন মাঝিমাল্লা এখনও নিখোঁজ রয়েছেন বলে জানিয়েছেন স্থানীয় জেলে ও বোট মালিকরা।
জানা যায়, চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে বর্তমানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন, মাহমুদুল হক মাঝি (৩৯), লকিয়ত উল্লাহ (৩৩), আব্দুল মান্নান (৩৪), আব্দুল মজিদ (৩৩), সাইফুল ইসলাম (৩০), মো. হাসান (২৬), সামুন (২৫) ও কামাল হোসেন মাঝি (৩৯)। এর আগে হামলার শিকার অন্যান্য আহতদের মহেশখালী ও কক্সবাজারের বিভিন্ন স্থানীয় হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।
হাসপাতালে চিকিৎসাধীন মাহমুদুল হক মাঝি ঘটনার বর্ণনা দিয়ে জানান, সাগরে মাছ ধরার সময় হঠাৎ সশস্ত্র জলদস্যুরা এসে তাদের ফিশিং ট্রলারে হামলা চালায়।
দস্যুরা ট্রলারে উঠে মাছ, জাল, রসদসহ যন্ত্রাংশ লুট করে। মাঝিমাল্লাদের জিম্মি করে নির্মমভাবে মারধর করে। তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, সাগরে নিরাপত্তা জোরদার না করা হলে ফিশিং বোট নিয়ে মাছ ধরতে যাওয়া কোনোভাবেই নিরাপদ নয়। মূলত মাছ নিয়ে ফেরত আসা ট্রলার টার্গেট করে তারা হামলা ও লুটপাট চালায়।
কালারমারছড়া জেলে কল্যাণ মৎস্যজীবী সমবায় সমিতির সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ আমির হোসেন জানান, গত শুক্রবার থেকে রোববার পর্যন্ত সোনাদিয়া চ্যানেলের পশ্চিমে ‘১২ বাম’ নামক এলাকায় ১০-১২ জনের একটি সশস্ত্র জলদস্যু দল একের পর এক ফিশিং ট্রলারে হামলা চালায়। অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে তারা প্রতিটি ট্রলার থেকে মাছ, জাল, জ্বালানি তেল, খাদ্য রসদ, মোবাইল ফোন, নগদ টাকা ও ইঞ্জিনের গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্রাংশসহ প্রায় ৭ থেকে ৮ লাখ টাকার মালামাল লুট করে নিয়ে গেছে।
আক্রান্ত ট্রলারগুলোর মধ্যে মহেশখালীর কালারমারছড়া ইউনিয়নের মোহাম্মদ শাহ ঘোনা ঘাটের ৯টি ট্রলার রয়েছে। আহত মাঝিমাল্লারা গত ৫ অক্টোবর বিকেলে ঘাটে ফিরে এলে তাদের দ্রুত হাসপাতালে পাঠানো হয়। তবে তিনটি ট্রলারসহ ২৪ জন মাঝিমাল্লা এখনও নিখোঁজ থাকায় তাদের পরিবার ও স্বজনদের মধ্যে চরম উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা বিরাজ করছে।
কক্সবাজার ট্রলার মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো দেলোয়ার হোসেন বলেন, জেলেদের জালে কিছুটা আশানুরূপ ইলিশ ধরা পড়তে শুরু করেছে, ঠিক সেই মুহূর্তে ইলিশসহ সব ধরনের মাছ ধরায় নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে সরকার। এতে মৎস্যজীবীরা কিছুটা হতাশ।
তবে নিষেধাজ্ঞার সময়ে যাতে বিদেশি বড় বড় জাহাজগুলো বাংলাদেশের জলসীমায় এসে মাছ ধরতে না পারে সেজন্য সমুদ্রে নিয়োজিত সংস্থাগুলোর তৎপরতা জোরদার করার দাবি জানান তিনি।
এদিকে সাগরে জলদস্যুদের এই অপতৎপরতা ও ডাকাতি প্রতিরোধে জোরদার অভিযান শুরু করেছে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড। কক্সবাজার, মহেশখালী ও কুতুবদিয়া সংলগ্ন সমুদ্র এলাকায় টহল ও বিশেষ নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।
কোস্ট গার্ডের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন জানান, জলদস্যু ও ডাকাতদের দমন করতে নিয়মিত টহলের পাশাপাশি গোয়েন্দা নজরদারি এবং আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর নজর জোরদার করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার, ০৮ অক্টোবর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৮ অক্টোবর ২০২৬
মধ্যরাত থেকে মাছ ধরার নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হয়েছে। নিষেধাজ্ঞার আগ মুহূর্তে বুধবার সকাল থেকে রাত পর্যন্ত কক্সবাজার শহরের ফিশারিঘাট মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রে গভীর সাগর থেকে ইলিশ বোঝাই শত শত ট্রলার ফিরে এসেছে।
ফেরার পথে মহেশখালীর সোনাদিয়া চ্যানেলে জলদস্যুদের বর্বর হামলার শিকার হয়ে গুরুতর আহত আটজন মাঝিমাল্লাকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
গত ৪ দিনে ওই সমুদ্রসীমার ‘১২ বাম’ এলাকায় অন্তত ১৭টি ফিশিং ট্রলারে হামলা চালিয়েছে দস্যু দল। এতে কমপক্ষে ২৫ জন মাঝিমাল্লা আহত হয়েছেন। এই ঘটনার পর থেকে তিনটি ফিশিং ট্রলারসহ ২৪ জন মাঝিমাল্লা এখনও নিখোঁজ রয়েছেন বলে জানিয়েছেন স্থানীয় জেলে ও বোট মালিকরা।
জানা যায়, চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে বর্তমানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন, মাহমুদুল হক মাঝি (৩৯), লকিয়ত উল্লাহ (৩৩), আব্দুল মান্নান (৩৪), আব্দুল মজিদ (৩৩), সাইফুল ইসলাম (৩০), মো. হাসান (২৬), সামুন (২৫) ও কামাল হোসেন মাঝি (৩৯)। এর আগে হামলার শিকার অন্যান্য আহতদের মহেশখালী ও কক্সবাজারের বিভিন্ন স্থানীয় হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।
হাসপাতালে চিকিৎসাধীন মাহমুদুল হক মাঝি ঘটনার বর্ণনা দিয়ে জানান, সাগরে মাছ ধরার সময় হঠাৎ সশস্ত্র জলদস্যুরা এসে তাদের ফিশিং ট্রলারে হামলা চালায়।
দস্যুরা ট্রলারে উঠে মাছ, জাল, রসদসহ যন্ত্রাংশ লুট করে। মাঝিমাল্লাদের জিম্মি করে নির্মমভাবে মারধর করে। তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, সাগরে নিরাপত্তা জোরদার না করা হলে ফিশিং বোট নিয়ে মাছ ধরতে যাওয়া কোনোভাবেই নিরাপদ নয়। মূলত মাছ নিয়ে ফেরত আসা ট্রলার টার্গেট করে তারা হামলা ও লুটপাট চালায়।
কালারমারছড়া জেলে কল্যাণ মৎস্যজীবী সমবায় সমিতির সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ আমির হোসেন জানান, গত শুক্রবার থেকে রোববার পর্যন্ত সোনাদিয়া চ্যানেলের পশ্চিমে ‘১২ বাম’ নামক এলাকায় ১০-১২ জনের একটি সশস্ত্র জলদস্যু দল একের পর এক ফিশিং ট্রলারে হামলা চালায়। অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে তারা প্রতিটি ট্রলার থেকে মাছ, জাল, জ্বালানি তেল, খাদ্য রসদ, মোবাইল ফোন, নগদ টাকা ও ইঞ্জিনের গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্রাংশসহ প্রায় ৭ থেকে ৮ লাখ টাকার মালামাল লুট করে নিয়ে গেছে।
আক্রান্ত ট্রলারগুলোর মধ্যে মহেশখালীর কালারমারছড়া ইউনিয়নের মোহাম্মদ শাহ ঘোনা ঘাটের ৯টি ট্রলার রয়েছে। আহত মাঝিমাল্লারা গত ৫ অক্টোবর বিকেলে ঘাটে ফিরে এলে তাদের দ্রুত হাসপাতালে পাঠানো হয়। তবে তিনটি ট্রলারসহ ২৪ জন মাঝিমাল্লা এখনও নিখোঁজ থাকায় তাদের পরিবার ও স্বজনদের মধ্যে চরম উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা বিরাজ করছে।
কক্সবাজার ট্রলার মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো দেলোয়ার হোসেন বলেন, জেলেদের জালে কিছুটা আশানুরূপ ইলিশ ধরা পড়তে শুরু করেছে, ঠিক সেই মুহূর্তে ইলিশসহ সব ধরনের মাছ ধরায় নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে সরকার। এতে মৎস্যজীবীরা কিছুটা হতাশ।
তবে নিষেধাজ্ঞার সময়ে যাতে বিদেশি বড় বড় জাহাজগুলো বাংলাদেশের জলসীমায় এসে মাছ ধরতে না পারে সেজন্য সমুদ্রে নিয়োজিত সংস্থাগুলোর তৎপরতা জোরদার করার দাবি জানান তিনি।
এদিকে সাগরে জলদস্যুদের এই অপতৎপরতা ও ডাকাতি প্রতিরোধে জোরদার অভিযান শুরু করেছে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড। কক্সবাজার, মহেশখালী ও কুতুবদিয়া সংলগ্ন সমুদ্র এলাকায় টহল ও বিশেষ নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।
কোস্ট গার্ডের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন জানান, জলদস্যু ও ডাকাতদের দমন করতে নিয়মিত টহলের পাশাপাশি গোয়েন্দা নজরদারি এবং আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর নজর জোরদার করা হয়েছে।

আপনার মতামত লিখুন