সারাদেশে প্রতিনিধি নিয়োগ দিচ্ছে ফোরকানুল হক (সাকিব) সম্পাদিত " TV 26 NEWS " আগ্রহীরা দ্রুত যোগাযোগ করুন। সব খবর সবার আগে পেতে আমাদের সাথেই থাকুন। কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে আল-নূর হাসপাতালে নরমাল ডেলিভারির সময় নবজাতকের মৃত্যুর অভিযোগ তদন্তে পাঁচ সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার চৌদ্দগ্রাম উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. রশিদ আহমেদ চৌধুরী স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে এই তদন্ত কমিটি গঠনের কথা জানানো হয়েছে।
অফিস আদেশে বলা হয়েছে, আল-নূর হাসপাতালে নরমাল ডেলিভারির সময় নবজাতকের মাথায় আঘাত লেগে মৃত্যুর ঘটনায় বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে। এই ঘটনায় সংশ্লিষ্ট চিকিৎসক ও প্রতিষ্ঠানের দায় নিরূপণের লক্ষ্যে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
কমিটিতে চৌদ্দগ্রাম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জুনিয়র কনসালটেন্ট (গাইনী অ্যান্ড অবস) ডা. মোসাম্মৎ ফারজানা খন্দকারকে সভাপতি ও ডা. মহসিন বিন সুলতানকে সদস্য-সচিব করা হয়েছে। সদস্য হিসেবে আছেন– জুনিয়র কনসালটেন্ট (অ্যানেসথেসিওলজি) ডা. আবু মুহাম্মদ হাসান, মেডিকেল অফিসার ডা. সালমা আখতার ও মেডিকেল অফিসার ডা. হাসান মাহমুদ পাটোয়ারী।
ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগ, গত ৩ অক্টোবর গভীর রাতে শুভপুর ইউনিয়নের খামার পুষ্কুরণী গ্রামের প্রবাসী মোস্তাফিজুর রহমানের স্ত্রী নাজমা আক্তারের প্রসব বেদনা ওঠে। পরদিন ভোরে তাকে উপজেলা সদরের বেসরকারি আল-নূর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। দুপুর আড়াইটার দিকে ডা. খায়রাতুন হিসান কেয়া নরমাল ডেলিভারি করাতে গেলে নবজাতকের মাথায় গুরুতর আঘাত পায়। একপর্যায়ে ডা. কেয়া অন্য গাইনি চিকিৎসক নাহিদ সুলতানাকে হাসপাতালে নিয়ে আসেন। রোগীর অবস্থা দেখে তাকে দ্রুত আইসিইউ সংযুক্ত হাসপাতালে নিয়ে সিজার করাতে বলেন ডা. নাহিদ সুলতানা। এসময় অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে প্রসূতি নাজমা আক্তারের শারীরিক অবস্থা খারাপের দিকে যায়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য কুমিল্লা নগরীর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলেও ওই প্রসুতির সন্তানকে বাঁচানো যায়নি।
এই ঘটনায় সাংবাদিকদের কটাক্ষ্য করে একটি ফেসবুক পোস্ট দেন ডা. খায়রাতুন হিসান কেয়া। সমালোচনার মুখে ওই পোস্ট মুছে ফেলে পরে আরেকটি ফেসবুক পোস্টে দুঃখ প্রকাশ করেন তিনি। সেখানে তিনি লিখেন, ‘সকল সাংবাদিক ভাইদের বলছি। আমার আগের পোস্টে ভুলবশত সকল সাংবাদিককে উদ্দেশ্য করে যে লেখাটা লিখেছি সেটার জন্য দুঃখিত, শব্দ চয়নে ভুলবশত এমন হয়েছে। আমার পোস্টের লেখাটা শুধু গুটি কয়েক মানুষজনকে বলা, যারা নিজেদের সাংবাদিক বলে পরিচয় দিচ্ছে এবং আমার বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছে। আমি নিশ্চয়ই সবাইকে এক কাঠগড়ায় দাঁড় করাতে চাইনি।’
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা রশিদ আহম্মেদ চৌধুরীর ভাষ্য, আল নুর হাসপাতালে ডা. কেয়ার তত্ত্ববাধনে নরমাল ডেলিভারির সময় নবজাতকের মৃত্যুর যে অভিযোগ উঠেছে তা নজরে এসেছে। হাসপাতাল ও ডাক্তারের দায় নিরূপণে ৫ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। আগামী তিন কর্ম দিবসের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। তদন্ত রিপোর্ট পেলে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
বিষয় : মৃত্যু নবজাতক তদন্ত কমিটি

বৃহস্পতিবার, ০৮ অক্টোবর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৮ অক্টোবর ২০২৬
কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে আল-নূর হাসপাতালে নরমাল ডেলিভারির সময় নবজাতকের মৃত্যুর অভিযোগ তদন্তে পাঁচ সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার চৌদ্দগ্রাম উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. রশিদ আহমেদ চৌধুরী স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে এই তদন্ত কমিটি গঠনের কথা জানানো হয়েছে।
অফিস আদেশে বলা হয়েছে, আল-নূর হাসপাতালে নরমাল ডেলিভারির সময় নবজাতকের মাথায় আঘাত লেগে মৃত্যুর ঘটনায় বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে। এই ঘটনায় সংশ্লিষ্ট চিকিৎসক ও প্রতিষ্ঠানের দায় নিরূপণের লক্ষ্যে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
কমিটিতে চৌদ্দগ্রাম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জুনিয়র কনসালটেন্ট (গাইনী অ্যান্ড অবস) ডা. মোসাম্মৎ ফারজানা খন্দকারকে সভাপতি ও ডা. মহসিন বিন সুলতানকে সদস্য-সচিব করা হয়েছে। সদস্য হিসেবে আছেন– জুনিয়র কনসালটেন্ট (অ্যানেসথেসিওলজি) ডা. আবু মুহাম্মদ হাসান, মেডিকেল অফিসার ডা. সালমা আখতার ও মেডিকেল অফিসার ডা. হাসান মাহমুদ পাটোয়ারী।
ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগ, গত ৩ অক্টোবর গভীর রাতে শুভপুর ইউনিয়নের খামার পুষ্কুরণী গ্রামের প্রবাসী মোস্তাফিজুর রহমানের স্ত্রী নাজমা আক্তারের প্রসব বেদনা ওঠে। পরদিন ভোরে তাকে উপজেলা সদরের বেসরকারি আল-নূর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। দুপুর আড়াইটার দিকে ডা. খায়রাতুন হিসান কেয়া নরমাল ডেলিভারি করাতে গেলে নবজাতকের মাথায় গুরুতর আঘাত পায়। একপর্যায়ে ডা. কেয়া অন্য গাইনি চিকিৎসক নাহিদ সুলতানাকে হাসপাতালে নিয়ে আসেন। রোগীর অবস্থা দেখে তাকে দ্রুত আইসিইউ সংযুক্ত হাসপাতালে নিয়ে সিজার করাতে বলেন ডা. নাহিদ সুলতানা। এসময় অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে প্রসূতি নাজমা আক্তারের শারীরিক অবস্থা খারাপের দিকে যায়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য কুমিল্লা নগরীর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলেও ওই প্রসুতির সন্তানকে বাঁচানো যায়নি।
এই ঘটনায় সাংবাদিকদের কটাক্ষ্য করে একটি ফেসবুক পোস্ট দেন ডা. খায়রাতুন হিসান কেয়া। সমালোচনার মুখে ওই পোস্ট মুছে ফেলে পরে আরেকটি ফেসবুক পোস্টে দুঃখ প্রকাশ করেন তিনি। সেখানে তিনি লিখেন, ‘সকল সাংবাদিক ভাইদের বলছি। আমার আগের পোস্টে ভুলবশত সকল সাংবাদিককে উদ্দেশ্য করে যে লেখাটা লিখেছি সেটার জন্য দুঃখিত, শব্দ চয়নে ভুলবশত এমন হয়েছে। আমার পোস্টের লেখাটা শুধু গুটি কয়েক মানুষজনকে বলা, যারা নিজেদের সাংবাদিক বলে পরিচয় দিচ্ছে এবং আমার বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছে। আমি নিশ্চয়ই সবাইকে এক কাঠগড়ায় দাঁড় করাতে চাইনি।’
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা রশিদ আহম্মেদ চৌধুরীর ভাষ্য, আল নুর হাসপাতালে ডা. কেয়ার তত্ত্ববাধনে নরমাল ডেলিভারির সময় নবজাতকের মৃত্যুর যে অভিযোগ উঠেছে তা নজরে এসেছে। হাসপাতাল ও ডাক্তারের দায় নিরূপণে ৫ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। আগামী তিন কর্ম দিবসের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। তদন্ত রিপোর্ট পেলে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

আপনার মতামত লিখুন