ঢাকা    বুধবার, ০৭ অক্টোবর ২০২৬
ঢাকা    বুধবার, ০৭ অক্টোবর ২০২৬
টিভি ২৬ নিউজ
নোটিশ
  • টিভি ২৬ নিউজ  সারাদেশে প্রতিনিধি নিয়োগ দিচ্ছে ফোরকানুল হক (সাকিব) সম্পাদিত " TV 26 NEWS " আগ্রহীরা দ্রুত যোগাযোগ করুন। সব খবর সবার আগে পেতে আমাদের সাথেই থাকুন।
সর্বশেষ

রক্তে শর্করা বাড়া সবসময় দুশ্চিন্তার কারণ নয়


TV 26 NEWS ডেস্ক :
TV 26 NEWS ডেস্ক :
প্রকাশ ০৭ অক্টোবর ২০২৬ | ১০:১৮ এএম
| প্রিন্ট সংস্করণ | ফটো কার্ড

রক্তে শর্করা বাড়া সবসময় দুশ্চিন্তার কারণ নয়
প্রতীকী ছবি

খাবার, শরীরচর্চা, ঘুম কিংবা মানসিক চাপ— প্রতিদিনের জীবনযাপনের নানা বিষয় শরীরের ভেতরের স্বাভাবিক কার্যক্রমে প্রভাব ফেলে। এর মধ্যে রক্তে শর্করার মাত্রাও সময়ভেদে কিছুটা ওঠানামা করে। বিশেষ করে খাবারের সঙ্গে রক্তে শর্করার পরিবর্তনের বিষয়টি নিয়ে অনেকের মধ্যেই নানা ধরনের ধারণা ও উদ্বেগ রয়েছে। খাবারের পর হঠাৎ রক্তে শর্করার মাত্রা বেড়ে গেলে অনেকের মধ্যেই উদ্বেগ তৈরি হয়। মনে হতে পারে, এটি হয়তো ডায়াবেটিস বা অন্য কোনো শারীরিক সমস্যার লক্ষণ। তবে সাময়িকভাবে রক্তে শর্করা বেড়ে যাওয়া সবসময় অসুস্থতার ইঙ্গিত নয়। কখন এই বৃদ্ধি শরীরের স্বাভাবিক প্রতিক্রিয়া আর কখন তা সতর্ক হওয়ার কারণ— তা জানা গুরুত্বপূর্ণ।

খাবারের কার্বোহাইড্রেট ও চিনি হজম হয়ে গ্লুকোজে পরিণত হয়। এরপর গ্লুকোজ রক্তে প্রবেশ করলে স্বাভাবিকভাবেই রক্তে শর্করার মাত্রা বাড়ে। এ সময় শরীর ইনসুলিন তৈরি করে, যা গ্লুকোজকে রক্ত থেকে কোষে পৌঁছাতে সাহায্য করে। ফলে কিছু সময় পর রক্তে শর্করার মাত্রা আবার কমতে শুরু করে। শুধু খাবার নয়, শারীরিক পরিশ্রম, মানসিক চাপ কিংবা শরীরে অ্যাড্রেনালিনের মাত্রা বেড়ে গেলেও সাময়িকভাবে রক্তে শর্করা বাড়তে পারে। তাই দিনের বিভিন্ন সময়ে রক্তে শর্করার কিছুটা ওঠানামা হওয়া স্বাভাবিক।

সুস্থ মানুষের ক্ষেত্রে হঠাৎ বৃদ্ধি স্বাভাবিক

সুস্থ মানুষের ক্ষেত্রে খাবারের পর রক্তে শর্করার মাত্রা কিছুটা বেড়ে যাওয়া স্বাভাবিক। সাধারণত খাবার খাওয়ার প্রায় এক ঘণ্টা পর রক্তে শর্করার মাত্রা সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছাতে পারে। এরপর শরীরের স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় তা কমতে থাকে এবং প্রায় দুই ঘণ্টার মধ্যে স্বাভাবিকের দিকে ফিরে আসে। এ ধরনের সাময়িক বৃদ্ধি বা ‘স্পাইক’ সাধারণত ক্ষতিকর নয়। বরং খাবার থেকে পাওয়া গ্লুকোজ শরীরের কোষগুলোতে শক্তির উৎস হিসেবে ব্যবহৃত হওয়ার স্বাভাবিক প্রক্রিয়ারই অংশ এটি।

তবে রক্তে শর্করার মাত্রা দীর্ঘ সময় ধরে বেশি থাকা বা নিয়মিতভাবে অস্বাভাবিক মাত্রায় বেড়ে যাওয়ার বিষয়টি উপেক্ষা করা ঠিক নয়। রক্তে শর্করা দীর্ঘ সময় বেশি থাকলে শরীরে ইনসুলিন প্রতিরোধের ঝুঁকি বাড়তে পারে, যা পরবর্তী সময়ে প্রিডায়াবেটিস বা টাইপ-২ ডায়াবেটিসের সঙ্গে সম্পর্কিত হতে পারে। ডায়াবেটিসে আক্রান্ত ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে দীর্ঘ সময় রক্তে শর্করা বেশি থাকলে চোখ, স্নায়ু ও হৃদ্‌যন্ত্রসহ শরীরের বিভিন্ন অঙ্গ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ঝুঁকি বাড়ে। তাই একবারের সাময়িক স্পাইকের চেয়ে রক্তে শর্করার মাত্রা দীর্ঘ সময় ধরে কেমন থাকছে এবং নিয়মিত কী ধরনের পরিবর্তন হচ্ছে, সেটি বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

সুস্থ মানুষের কি গ্লুকোজ মনিটর দরকার

ডায়াবেটিস নেই এমন সুস্থ মানুষের জন্য নিয়মিতভাবে গ্লুকোজ মনিটর বা কন্টিনিউয়াস গ্লুকোজ মনিটর (সিজিএম) ব্যবহার সাধারণত প্রয়োজন হয় না। শুধু খাবারের পর রক্তে শর্করার সাময়িক ওঠানামা দেখেই নিজের শরীরে সমস্যা আছে বলে ধরে নেওয়ার কারণ নেই। অতিরিক্তভাবে রক্তে শর্করার প্রতিটি পরিবর্তন পর্যবেক্ষণ করলে বরং অপ্রয়োজনীয় দুশ্চিন্তা তৈরি হতে পারে। প্রয়োজন হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে রক্তে শর্করা পরীক্ষা করাই বেশি যুক্তিযুক্ত।

কার্বোহাইড্রেট পুরোপুরি বাদ দেওয়া ঠিক নয়

রক্তে শর্করা বাড়তে পারে— এমন আশঙ্কায় খাবার থেকে কার্বোহাইড্রেট পুরোপুরি বাদ দেওয়ার প্রয়োজন নেই। কার্বোহাইড্রেট শরীরের গুরুত্বপূর্ণ শক্তির উৎস। বরং পরিমিত কার্বোহাইড্রেটের সঙ্গে প্রোটিন, আঁশযুক্ত শাকসবজি ও স্বাস্থ্যকর চর্বির সমন্বয় করে খাবার খাওয়া ভালো। খাবারে অতিরিক্ত চিনি ও মিষ্টিজাতীয় খাবার কমানোর পাশাপাশি আঁশ ও প্রোটিনসমৃদ্ধ খাবার বেছে নিলে রক্তে শর্করার দ্রুত বৃদ্ধির প্রবণতা কমাতে সহায়তা করতে পারে। নিয়মিত শারীরিক পরিশ্রম এবং পর্যাপ্ত ঘুমও সামগ্রিকভাবে রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

সবার শরীরে প্রতিক্রিয়া এক নয়

একই খাবার খাওয়ার পরও সবার রক্তে শর্করার মাত্রা একইভাবে বাড়ে না। খাবারের ধরন ও পরিমাণের পাশাপাশি ঘুম, মানসিক চাপ, শারীরিক পরিশ্রম এবং ব্যক্তির নিজস্ব বিপাকীয় বৈশিষ্ট্যও এতে প্রভাব ফেলে। ফলে অন্য কারও রক্তে শর্করার ওঠানামার সঙ্গে নিজের মাত্রা মিলিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া ঠিক নয়।

রক্তে শর্করার সাময়িক বৃদ্ধি দেখেই আতঙ্কিত হওয়ার প্রয়োজন নেই। খাবারের পর কিছুটা বাড়া শরীরের স্বাভাবিক প্রক্রিয়ারই অংশ হতে পারে। তবে মাত্রা যদি দীর্ঘ সময় বেশি থাকে, বারবার অস্বাভাবিকভাবে বাড়ে কিংবা ডায়াবেটিসের অন্যান্য ঝুঁকি বা উপসর্গ থাকে, তখন বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা প্রয়োজন। রক্তে শর্করার একটি নির্দিষ্ট মুহূর্তের মাত্রার চেয়ে নিয়মিত ওঠানামার ধরন, জীবনযাপন ও সামগ্রিক স্বাস্থ্য পরিস্থিতির দিকে নজর দেওয়াই বেশি গুরুত্বপূর্ণ।  

বিষয় : ডায়াবেটিস শরীরচর্চা

আপনার মতামত লিখুন

টিভি ২৬ নিউজ

বুধবার, ০৭ অক্টোবর ২০২৬


রক্তে শর্করা বাড়া সবসময় দুশ্চিন্তার কারণ নয়

প্রকাশের তারিখ : ০৭ অক্টোবর ২০২৬

featured Image

খাবার, শরীরচর্চা, ঘুম কিংবা মানসিক চাপ— প্রতিদিনের জীবনযাপনের নানা বিষয় শরীরের ভেতরের স্বাভাবিক কার্যক্রমে প্রভাব ফেলে। এর মধ্যে রক্তে শর্করার মাত্রাও সময়ভেদে কিছুটা ওঠানামা করে। বিশেষ করে খাবারের সঙ্গে রক্তে শর্করার পরিবর্তনের বিষয়টি নিয়ে অনেকের মধ্যেই নানা ধরনের ধারণা ও উদ্বেগ রয়েছে। খাবারের পর হঠাৎ রক্তে শর্করার মাত্রা বেড়ে গেলে অনেকের মধ্যেই উদ্বেগ তৈরি হয়। মনে হতে পারে, এটি হয়তো ডায়াবেটিস বা অন্য কোনো শারীরিক সমস্যার লক্ষণ। তবে সাময়িকভাবে রক্তে শর্করা বেড়ে যাওয়া সবসময় অসুস্থতার ইঙ্গিত নয়। কখন এই বৃদ্ধি শরীরের স্বাভাবিক প্রতিক্রিয়া আর কখন তা সতর্ক হওয়ার কারণ— তা জানা গুরুত্বপূর্ণ।

খাবারের কার্বোহাইড্রেট ও চিনি হজম হয়ে গ্লুকোজে পরিণত হয়। এরপর গ্লুকোজ রক্তে প্রবেশ করলে স্বাভাবিকভাবেই রক্তে শর্করার মাত্রা বাড়ে। এ সময় শরীর ইনসুলিন তৈরি করে, যা গ্লুকোজকে রক্ত থেকে কোষে পৌঁছাতে সাহায্য করে। ফলে কিছু সময় পর রক্তে শর্করার মাত্রা আবার কমতে শুরু করে। শুধু খাবার নয়, শারীরিক পরিশ্রম, মানসিক চাপ কিংবা শরীরে অ্যাড্রেনালিনের মাত্রা বেড়ে গেলেও সাময়িকভাবে রক্তে শর্করা বাড়তে পারে। তাই দিনের বিভিন্ন সময়ে রক্তে শর্করার কিছুটা ওঠানামা হওয়া স্বাভাবিক।

সুস্থ মানুষের ক্ষেত্রে হঠাৎ বৃদ্ধি স্বাভাবিক

সুস্থ মানুষের ক্ষেত্রে খাবারের পর রক্তে শর্করার মাত্রা কিছুটা বেড়ে যাওয়া স্বাভাবিক। সাধারণত খাবার খাওয়ার প্রায় এক ঘণ্টা পর রক্তে শর্করার মাত্রা সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছাতে পারে। এরপর শরীরের স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় তা কমতে থাকে এবং প্রায় দুই ঘণ্টার মধ্যে স্বাভাবিকের দিকে ফিরে আসে। এ ধরনের সাময়িক বৃদ্ধি বা ‘স্পাইক’ সাধারণত ক্ষতিকর নয়। বরং খাবার থেকে পাওয়া গ্লুকোজ শরীরের কোষগুলোতে শক্তির উৎস হিসেবে ব্যবহৃত হওয়ার স্বাভাবিক প্রক্রিয়ারই অংশ এটি।

তবে রক্তে শর্করার মাত্রা দীর্ঘ সময় ধরে বেশি থাকা বা নিয়মিতভাবে অস্বাভাবিক মাত্রায় বেড়ে যাওয়ার বিষয়টি উপেক্ষা করা ঠিক নয়। রক্তে শর্করা দীর্ঘ সময় বেশি থাকলে শরীরে ইনসুলিন প্রতিরোধের ঝুঁকি বাড়তে পারে, যা পরবর্তী সময়ে প্রিডায়াবেটিস বা টাইপ-২ ডায়াবেটিসের সঙ্গে সম্পর্কিত হতে পারে। ডায়াবেটিসে আক্রান্ত ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে দীর্ঘ সময় রক্তে শর্করা বেশি থাকলে চোখ, স্নায়ু ও হৃদ্‌যন্ত্রসহ শরীরের বিভিন্ন অঙ্গ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ঝুঁকি বাড়ে। তাই একবারের সাময়িক স্পাইকের চেয়ে রক্তে শর্করার মাত্রা দীর্ঘ সময় ধরে কেমন থাকছে এবং নিয়মিত কী ধরনের পরিবর্তন হচ্ছে, সেটি বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

সুস্থ মানুষের কি গ্লুকোজ মনিটর দরকার

ডায়াবেটিস নেই এমন সুস্থ মানুষের জন্য নিয়মিতভাবে গ্লুকোজ মনিটর বা কন্টিনিউয়াস গ্লুকোজ মনিটর (সিজিএম) ব্যবহার সাধারণত প্রয়োজন হয় না। শুধু খাবারের পর রক্তে শর্করার সাময়িক ওঠানামা দেখেই নিজের শরীরে সমস্যা আছে বলে ধরে নেওয়ার কারণ নেই। অতিরিক্তভাবে রক্তে শর্করার প্রতিটি পরিবর্তন পর্যবেক্ষণ করলে বরং অপ্রয়োজনীয় দুশ্চিন্তা তৈরি হতে পারে। প্রয়োজন হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে রক্তে শর্করা পরীক্ষা করাই বেশি যুক্তিযুক্ত।

কার্বোহাইড্রেট পুরোপুরি বাদ দেওয়া ঠিক নয়

রক্তে শর্করা বাড়তে পারে— এমন আশঙ্কায় খাবার থেকে কার্বোহাইড্রেট পুরোপুরি বাদ দেওয়ার প্রয়োজন নেই। কার্বোহাইড্রেট শরীরের গুরুত্বপূর্ণ শক্তির উৎস। বরং পরিমিত কার্বোহাইড্রেটের সঙ্গে প্রোটিন, আঁশযুক্ত শাকসবজি ও স্বাস্থ্যকর চর্বির সমন্বয় করে খাবার খাওয়া ভালো। খাবারে অতিরিক্ত চিনি ও মিষ্টিজাতীয় খাবার কমানোর পাশাপাশি আঁশ ও প্রোটিনসমৃদ্ধ খাবার বেছে নিলে রক্তে শর্করার দ্রুত বৃদ্ধির প্রবণতা কমাতে সহায়তা করতে পারে। নিয়মিত শারীরিক পরিশ্রম এবং পর্যাপ্ত ঘুমও সামগ্রিকভাবে রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

সবার শরীরে প্রতিক্রিয়া এক নয়

একই খাবার খাওয়ার পরও সবার রক্তে শর্করার মাত্রা একইভাবে বাড়ে না। খাবারের ধরন ও পরিমাণের পাশাপাশি ঘুম, মানসিক চাপ, শারীরিক পরিশ্রম এবং ব্যক্তির নিজস্ব বিপাকীয় বৈশিষ্ট্যও এতে প্রভাব ফেলে। ফলে অন্য কারও রক্তে শর্করার ওঠানামার সঙ্গে নিজের মাত্রা মিলিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া ঠিক নয়।

রক্তে শর্করার সাময়িক বৃদ্ধি দেখেই আতঙ্কিত হওয়ার প্রয়োজন নেই। খাবারের পর কিছুটা বাড়া শরীরের স্বাভাবিক প্রক্রিয়ারই অংশ হতে পারে। তবে মাত্রা যদি দীর্ঘ সময় বেশি থাকে, বারবার অস্বাভাবিকভাবে বাড়ে কিংবা ডায়াবেটিসের অন্যান্য ঝুঁকি বা উপসর্গ থাকে, তখন বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা প্রয়োজন। রক্তে শর্করার একটি নির্দিষ্ট মুহূর্তের মাত্রার চেয়ে নিয়মিত ওঠানামার ধরন, জীবনযাপন ও সামগ্রিক স্বাস্থ্য পরিস্থিতির দিকে নজর দেওয়াই বেশি গুরুত্বপূর্ণ।  


টিভি ২৬ নিউজ

সম্পাদক ও প্রকাশকঃ~ ফোরকানুল হক (সাকিব)

কপিরাইট © ২০২৬ টিভি ২৬ নিউজ । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত