ঢাকা    বুধবার, ০৭ অক্টোবর ২০২৬
ঢাকা    বুধবার, ০৭ অক্টোবর ২০২৬
টিভি ২৬ নিউজ
নোটিশ
  • টিভি ২৬ নিউজ  সারাদেশে প্রতিনিধি নিয়োগ দিচ্ছে ফোরকানুল হক (সাকিব) সম্পাদিত " TV 26 NEWS " আগ্রহীরা দ্রুত যোগাযোগ করুন। সব খবর সবার আগে পেতে আমাদের সাথেই থাকুন।
সর্বশেষ

রাবিতে সাংবাদিকদের ওপর হামলা

জড়িত ৭ ছাত্রদল নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজিসহ নানা অভিযোগ


TV 26 NEWS ডেস্ক :
TV 26 NEWS ডেস্ক :
প্রকাশ ০৭ অক্টোবর ২০২৬ | ১২:৩০ পিএম
| প্রিন্ট সংস্করণ | ফটো কার্ড

জড়িত ৭ ছাত্রদল নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজিসহ নানা অভিযোগ

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) কর্মরত সাংবাদিক ও শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার ঘটনায় প্রকাশিত ভিডিও ফুটেজে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সাত নেতাকর্মীকে শনাক্ত করা হয়েছে। তাদের কয়েকজনের বিরুদ্ধে এর আগেও চাঁদাবাজিসহ বিভিন্ন অভিযোগ উঠেছিল। কেউ আবার নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের সঙ্গে যুক্ত বলেও জানা গেছে।

শনাক্ত সাতজন হলেন— বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সহসভাপতি আহসান হাবিব, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হাসিবুল ইসলাম, সহসভাপতি শরিফুল ইসলাম, সহসভাপতি তাকবীর আহমেদ ইমন, সহসাধারণ সম্পাদক সৈয়দ সাজহারুল ইসলাম (সাজু), সহদপ্তর সম্পাদক শাহরিয়ার আলম অথই এবং অর্থনীতি বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থী বিশাল চক্রবর্তী।

জানা গেছে, আহসান হাবিব আইন বিভাগের ২০১৩-১৪ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী। বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের এই সহসভাপতিকে ২০২৪ সালের ১৯ অক্টোবর চাঁদাবাজির অভিযোগে সাময়িকভাবে বহিষ্কার করা হয়েছিল।

একই ঘটনায় ইতিহাস বিভাগের ২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী ও শাখা ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হাসিবুল ইসলামকেও বহিষ্কার করা হয়। পরে তাদের বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার করে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের কমিটিতে যুক্ত করা হয়।

ছাত্রদলের সহসভাপতি তাকবীর আহমেদ ইমন ও সহসাধারণ সম্পাদক সৈয়দ সাজহারুল ইসলাম (সাজু)-এর বিরুদ্ধেও ২০২৪ সালের ১০ ডিসেম্বর চাঁদাবাজির অভিযোগ ওঠে। তাদের বিরুদ্ধে মারধর, পুলিশে তুলে দেওয়া এবং আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার ভয় দেখানোর অভিযোগও করা হয়।

এছাড়া হামলায় জড়িত বিশাল চক্রবর্তীর বিরুদ্ধে ছাত্রলীগের তৎকালীন বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সাধারণ সম্পাদক আসাদুল্লাহিল গালিবের সঙ্গে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ততার তথ্যও রয়েছে।

জিয়া হলের প্রভোস্টকে অব্যাহতি

এদিকে সাংবাদিকদের দাবির মুখে রাবির শহীদ জিয়াউর রহমান হলের প্রভোস্টকে অব্যাহতি দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। একই সঙ্গে সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে তিন দিনের মধ্যে ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছে তারা।

গত সোমবার রাতে আন্দোলনরত সাংবাদিক ও শিক্ষার্থীদের সঙ্গে মতবিনিময় শেষে এ সিদ্ধান্ত জানান উপাচার্য অধ্যাপক ড. ফরিদুল ইসলাম। তিনি বলেন, সাংবাদিকদের সেন্টিমেন্টের প্রতি সম্মান জানিয়ে আমরা জিয়া হলের প্রভোস্টকে অব্যাহতি দিয়েছি। বাকি বিষয়গুলো তদন্তসাপেক্ষে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

হল প্রভোস্টের বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে, সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনায় তিনি তাৎক্ষণিকভাবে কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেননি। হামলার সিসিটিভি ফুটেজ চাওয়া হলেও তিনি তা দিতে অস্বীকৃতি জানান। পরে হামলার গুরুত্বপূর্ণ ওই ফুটেজ মুছে ফেলারও অভিযোগ ওঠে।

ক্যাম্পাসে সাংবাদিক সংগঠনগুলোর বয়কট

এদিকে হামলার ঘটনায় সুষ্ঠু তদন্ত সাপেক্ষে বিচার না হওয়ার পর্যন্ত সব ধরনের প্রশাসনিক নিউজ সংগ্রহ করা স্থগিত করেছে ক্যাম্পাসের তিন সাংবাদিক সংগঠন। সোমবার দিবাগত রাতে এই সিদ্ধান্ত জানায় সাংবাদিক সংগঠনগুলো।

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতির (রাবিসাস) সভাপতি মীর কাদির বলেন, হামলার ঘটনায় দায়ের করা অজ্ঞাতনামা মামলায় তদন্ত কমিটির রিপোর্টের ভিত্তিতে মূল অপরাধীদের নাম অন্তর্ভুক্ত করতে হবে এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন অনুযায়ী তাদের সর্বোচ্চ শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। এর জন্য রাবি প্রশাসন তিনদিন সময় চেয়েছে। এই দাবিগুলো আদায় না হওয়া পর্যন্ত রাবি প্রশাসনের কোনো ধরনের কর্মসূচি সাংবাদিকরা কাভার করবেন না।

এর আগে, সাংবাদিকদের ওপর ছাত্রদলের হামলায় জড়িতদের নাম উল্লেখ করে মামলা, গ্রেপ্তার ও একাডেমিক বহিষ্কারের দাবিতে প্রশাসন ভবন ঘেরাও করেন সাংবাদিক সংগঠনগুলোর নেতাকর্মী ও সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষার্থীরা। পরে প্রশাসন ভবনের প্রধান ফটকেও তালা দেন শিক্ষার্থীরা।

আপনার মতামত লিখুন

টিভি ২৬ নিউজ

বুধবার, ০৭ অক্টোবর ২০২৬


জড়িত ৭ ছাত্রদল নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজিসহ নানা অভিযোগ

প্রকাশের তারিখ : ০৭ অক্টোবর ২০২৬

featured Image

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) কর্মরত সাংবাদিক ও শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার ঘটনায় প্রকাশিত ভিডিও ফুটেজে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সাত নেতাকর্মীকে শনাক্ত করা হয়েছে। তাদের কয়েকজনের বিরুদ্ধে এর আগেও চাঁদাবাজিসহ বিভিন্ন অভিযোগ উঠেছিল। কেউ আবার নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের সঙ্গে যুক্ত বলেও জানা গেছে।

শনাক্ত সাতজন হলেন— বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সহসভাপতি আহসান হাবিব, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হাসিবুল ইসলাম, সহসভাপতি শরিফুল ইসলাম, সহসভাপতি তাকবীর আহমেদ ইমন, সহসাধারণ সম্পাদক সৈয়দ সাজহারুল ইসলাম (সাজু), সহদপ্তর সম্পাদক শাহরিয়ার আলম অথই এবং অর্থনীতি বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থী বিশাল চক্রবর্তী।

জানা গেছে, আহসান হাবিব আইন বিভাগের ২০১৩-১৪ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী। বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের এই সহসভাপতিকে ২০২৪ সালের ১৯ অক্টোবর চাঁদাবাজির অভিযোগে সাময়িকভাবে বহিষ্কার করা হয়েছিল।

একই ঘটনায় ইতিহাস বিভাগের ২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী ও শাখা ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হাসিবুল ইসলামকেও বহিষ্কার করা হয়। পরে তাদের বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার করে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের কমিটিতে যুক্ত করা হয়।

ছাত্রদলের সহসভাপতি তাকবীর আহমেদ ইমন ও সহসাধারণ সম্পাদক সৈয়দ সাজহারুল ইসলাম (সাজু)-এর বিরুদ্ধেও ২০২৪ সালের ১০ ডিসেম্বর চাঁদাবাজির অভিযোগ ওঠে। তাদের বিরুদ্ধে মারধর, পুলিশে তুলে দেওয়া এবং আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার ভয় দেখানোর অভিযোগও করা হয়।

এছাড়া হামলায় জড়িত বিশাল চক্রবর্তীর বিরুদ্ধে ছাত্রলীগের তৎকালীন বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সাধারণ সম্পাদক আসাদুল্লাহিল গালিবের সঙ্গে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ততার তথ্যও রয়েছে।

জিয়া হলের প্রভোস্টকে অব্যাহতি

এদিকে সাংবাদিকদের দাবির মুখে রাবির শহীদ জিয়াউর রহমান হলের প্রভোস্টকে অব্যাহতি দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। একই সঙ্গে সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে তিন দিনের মধ্যে ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছে তারা।

গত সোমবার রাতে আন্দোলনরত সাংবাদিক ও শিক্ষার্থীদের সঙ্গে মতবিনিময় শেষে এ সিদ্ধান্ত জানান উপাচার্য অধ্যাপক ড. ফরিদুল ইসলাম। তিনি বলেন, সাংবাদিকদের সেন্টিমেন্টের প্রতি সম্মান জানিয়ে আমরা জিয়া হলের প্রভোস্টকে অব্যাহতি দিয়েছি। বাকি বিষয়গুলো তদন্তসাপেক্ষে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

হল প্রভোস্টের বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে, সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনায় তিনি তাৎক্ষণিকভাবে কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেননি। হামলার সিসিটিভি ফুটেজ চাওয়া হলেও তিনি তা দিতে অস্বীকৃতি জানান। পরে হামলার গুরুত্বপূর্ণ ওই ফুটেজ মুছে ফেলারও অভিযোগ ওঠে।

ক্যাম্পাসে সাংবাদিক সংগঠনগুলোর বয়কট

এদিকে হামলার ঘটনায় সুষ্ঠু তদন্ত সাপেক্ষে বিচার না হওয়ার পর্যন্ত সব ধরনের প্রশাসনিক নিউজ সংগ্রহ করা স্থগিত করেছে ক্যাম্পাসের তিন সাংবাদিক সংগঠন। সোমবার দিবাগত রাতে এই সিদ্ধান্ত জানায় সাংবাদিক সংগঠনগুলো।

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতির (রাবিসাস) সভাপতি মীর কাদির বলেন, হামলার ঘটনায় দায়ের করা অজ্ঞাতনামা মামলায় তদন্ত কমিটির রিপোর্টের ভিত্তিতে মূল অপরাধীদের নাম অন্তর্ভুক্ত করতে হবে এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন অনুযায়ী তাদের সর্বোচ্চ শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। এর জন্য রাবি প্রশাসন তিনদিন সময় চেয়েছে। এই দাবিগুলো আদায় না হওয়া পর্যন্ত রাবি প্রশাসনের কোনো ধরনের কর্মসূচি সাংবাদিকরা কাভার করবেন না।

এর আগে, সাংবাদিকদের ওপর ছাত্রদলের হামলায় জড়িতদের নাম উল্লেখ করে মামলা, গ্রেপ্তার ও একাডেমিক বহিষ্কারের দাবিতে প্রশাসন ভবন ঘেরাও করেন সাংবাদিক সংগঠনগুলোর নেতাকর্মী ও সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষার্থীরা। পরে প্রশাসন ভবনের প্রধান ফটকেও তালা দেন শিক্ষার্থীরা।


টিভি ২৬ নিউজ

সম্পাদক ও প্রকাশকঃ~ ফোরকানুল হক (সাকিব)

কপিরাইট © ২০২৬ টিভি ২৬ নিউজ । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত