সারাদেশে প্রতিনিধি নিয়োগ দিচ্ছে ফোরকানুল হক (সাকিব) সম্পাদিত " TV 26 NEWS " আগ্রহীরা দ্রুত যোগাযোগ করুন। সব খবর সবার আগে পেতে আমাদের সাথেই থাকুন। জিম্বাবুয়ের কাছে হারের পর পরশু রাতে থমথমে চেহারায় আবুধাবির শেখ আবু জায়েদ স্টেডিয়াম থেকে বের হলেন বিসিবি সভাপতি তামিম ইকবাল। আগের বিসিবি সভাপতিরা যা করতেন, তামিমও ব্যতিক্রম নন। তিনিও দলের খেলা দেখতে বিদেশে ছুটে যাচ্ছেন। খেলোয়াড়দের সঙ্গে বসছেন, কথা বলছেন। কিন্তু ফল তো ঘুরেফিরে একই। বরং ৫০ ওভারের ক্রিকেটে বাংলাদেশ যেভাবে পথ হারিয়ে ফেলেছে, ২০২৭ বিশ্বকাপের আগে তা এক বড় অশনিসংকেত।
পরিসংখ্যানের আয়নায় যদি দেখা যায়, গত দুই বছরে ওয়ানডে ক্রিকেটে বাংলাদেশের অধঃপতনের চিত্র দেশের ক্রিকেটপ্রেমীদের শঙ্কিত করে তুলবে নিশ্চিত। গত ২ বছরে বাংলাদেশ বিদেশের মাঠে যে ১৯ ওয়ানডে খেলেছে, তার ১৫টিতেই হেরেছে। বৃষ্টিতে ভেসে গেছে ১টি, জিতেছে মাত্র ৩টি। গত ২ বছর বাংলাদেশ বিদেশের মাঠে কোনো ওয়ানডে সিরিজ জেতেনি। এর মধ্যে সমশক্তির প্রতিপক্ষ আফগানিস্তান ও ওয়েস্ট ইন্ডিজের কাছে ধবলধোলাই হওয়ার ঘটনাও আছে। গত জুলাইয়ে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে সিরিজও বাংলাদেশ জিততে পারেনি। ওয়ানডেতে শান্ত-লিটনদের এই মলিন পরিসংখ্যান দেখে বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের বিখ্যাত কথাটাই বলতে হয়, ‘পথিক, তুমি পথ হারাইয়াছ’।
মাঝে বাংলাদেশের তো ২০২৭ ওয়ানডে বিশ্বকাপ খেলার যোগ্যতা অর্জন করাই কঠিন হয়ে গিয়েছিল। ভাগ্য ভালো, গত এক বছরে দেশের মাঠে বাংলাদেশ টানা চারটি ওয়ানডে সিরিজ খেলার সুযোগ পেয়েছিল। নিজেদের চেনা কন্ডিশনে চারটি সিরিজ জিতে বাংলাদেশ র্যাঙ্কিংয়ে নিজেদের জায়গা ঠিক রেখে কোনোভাবে ২০২৭ ওয়ানডে বিশ্বকাপে খেলার যোগ্যতা অর্জন করেছে। মজার ব্যাপার, যে অধিনায়কের অধীনে বাংলাদেশ টানা চারটি সিরিজ জিতে বিশ্বকাপ খেলার যোগ্যতা অর্জন করল, সেই মেহেদী হাসান মিরাজকে সরিয়ে দেওয়া হলো যোগ্যতা অর্জনের পরই। ২০২৭ বিশ্বকাপ শুরু হতে এখনো বছরখানেক বাকি। তার আগে প্রস্তুতিমূলক সিরিজ হিসেবে ধরা হচ্ছে আরব আমিরাতে চলমান ত্রিদেশীয় সিরিজ। সিরিজের শুরুতেই জিম্বাবুয়ের কাছে ধাক্কা। পরের ম্যাচ আফগানিস্তানের বিপক্ষে, আগামী বুধবার। বাংলাদেশ আদৌ সিরিজের ফাইনাল খেলতে পারবে কি না, সে প্রশ্ন পরে।
সবচেয়ে বড় প্রশ্ন, ৫০ ওভারের ক্রিকেটে বাংলাদেশের করুণ দশা কেন? বিশেষ করে বিদেশের মাঠে। যেখানে জিম্বাবুয়েও এখন বাংলাদেশকে নিয়ে খেলে। অথচ ৫০ ওভারের সংস্করণ কি না বাংলাদেশের কাছে ‘প্রিয়’ হয়ে উঠেছিল দেশ-বিদেশে ধারাবাহিক সাফল্যে। প্রধান কারণ যদি বলা হয়, অবশ্যই ব্যাটিং ব্যর্থতা। সর্বশেষ জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ভালো একটা শুরুর পরও বাংলাদেশ ধসে গেছে বাজে ব্যাটিংয়ে। এমনিতে বড় স্কোর গড়তে পারে। রান তাড়ায় বাংলাদেশ আরও দুর্বল। অবস্থা এমনই দাঁড়িয়েছে, উগান্ডাও যদি শান্তদের ৩০০ ছুঁইছুঁই লক্ষ্য দেয়, রানা তাড়ায় গলদঘর্ম হয়ে যাবে। এমনকি পাও হড়কাতে পারেন শান্তরা! নিজেদের সর্বশেষ ১০ ওয়ানডের আটটিতেই ২৪০ পেরোনো লক্ষ্য তাড়া করতে ব্যর্থ হয়েছে বাংলাদেশ। অবস্থা এতটাই করুণ, ওয়ানডেতে পুরো ৫০ ওভার খেলতে পারছে না বাংলাদেশ। চলমান ত্রিদেশীয় সিরিজের বাকি দুই দলের বিপক্ষে সবশেষ ৬ ম্যাচের একটিতেও ৫০ ওভার ব্যাটিং করতে পারেনি বাংলাদেশ। জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে সবশেষ হারের পর নিজেদের ব্যাটিং ব্যর্থতা নিয়ে বাংলাদেশের ভারপ্রাপ্ত অধিনায়ক তাওহীদ হৃদয়ের সরল স্বীকারোক্তি, ‘আসলে আমরা কিছু বোকার মতো ভুল করেছি। আশা করি, এগুলো দ্রুত কাটিয়ে উঠতে পারব।’
‘বোকার মতো’ ভুল করলে জিম্বাবুয়েও যখন চেপে ধরে, তাহলে দক্ষিণ আফ্রিকার মতো কঠিন কন্ডিশনে আগামী বিশ্বকাপে ইংল্যান্ড-নিউজিল্যান্ড-দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষেও যদি ভুলের পুনরাবৃত্তি হয়, বাংলাদেশের জন্য কী অপেক্ষা করছে, ভাবুন!
বিষয় : বাংলাদেশ ক্রিকেট খেলা ক্রিকেট

মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৯ অক্টোবর ২০২৬
জিম্বাবুয়ের কাছে হারের পর পরশু রাতে থমথমে চেহারায় আবুধাবির শেখ আবু জায়েদ স্টেডিয়াম থেকে বের হলেন বিসিবি সভাপতি তামিম ইকবাল। আগের বিসিবি সভাপতিরা যা করতেন, তামিমও ব্যতিক্রম নন। তিনিও দলের খেলা দেখতে বিদেশে ছুটে যাচ্ছেন। খেলোয়াড়দের সঙ্গে বসছেন, কথা বলছেন। কিন্তু ফল তো ঘুরেফিরে একই। বরং ৫০ ওভারের ক্রিকেটে বাংলাদেশ যেভাবে পথ হারিয়ে ফেলেছে, ২০২৭ বিশ্বকাপের আগে তা এক বড় অশনিসংকেত।
পরিসংখ্যানের আয়নায় যদি দেখা যায়, গত দুই বছরে ওয়ানডে ক্রিকেটে বাংলাদেশের অধঃপতনের চিত্র দেশের ক্রিকেটপ্রেমীদের শঙ্কিত করে তুলবে নিশ্চিত। গত ২ বছরে বাংলাদেশ বিদেশের মাঠে যে ১৯ ওয়ানডে খেলেছে, তার ১৫টিতেই হেরেছে। বৃষ্টিতে ভেসে গেছে ১টি, জিতেছে মাত্র ৩টি। গত ২ বছর বাংলাদেশ বিদেশের মাঠে কোনো ওয়ানডে সিরিজ জেতেনি। এর মধ্যে সমশক্তির প্রতিপক্ষ আফগানিস্তান ও ওয়েস্ট ইন্ডিজের কাছে ধবলধোলাই হওয়ার ঘটনাও আছে। গত জুলাইয়ে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে সিরিজও বাংলাদেশ জিততে পারেনি। ওয়ানডেতে শান্ত-লিটনদের এই মলিন পরিসংখ্যান দেখে বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের বিখ্যাত কথাটাই বলতে হয়, ‘পথিক, তুমি পথ হারাইয়াছ’।
মাঝে বাংলাদেশের তো ২০২৭ ওয়ানডে বিশ্বকাপ খেলার যোগ্যতা অর্জন করাই কঠিন হয়ে গিয়েছিল। ভাগ্য ভালো, গত এক বছরে দেশের মাঠে বাংলাদেশ টানা চারটি ওয়ানডে সিরিজ খেলার সুযোগ পেয়েছিল। নিজেদের চেনা কন্ডিশনে চারটি সিরিজ জিতে বাংলাদেশ র্যাঙ্কিংয়ে নিজেদের জায়গা ঠিক রেখে কোনোভাবে ২০২৭ ওয়ানডে বিশ্বকাপে খেলার যোগ্যতা অর্জন করেছে। মজার ব্যাপার, যে অধিনায়কের অধীনে বাংলাদেশ টানা চারটি সিরিজ জিতে বিশ্বকাপ খেলার যোগ্যতা অর্জন করল, সেই মেহেদী হাসান মিরাজকে সরিয়ে দেওয়া হলো যোগ্যতা অর্জনের পরই। ২০২৭ বিশ্বকাপ শুরু হতে এখনো বছরখানেক বাকি। তার আগে প্রস্তুতিমূলক সিরিজ হিসেবে ধরা হচ্ছে আরব আমিরাতে চলমান ত্রিদেশীয় সিরিজ। সিরিজের শুরুতেই জিম্বাবুয়ের কাছে ধাক্কা। পরের ম্যাচ আফগানিস্তানের বিপক্ষে, আগামী বুধবার। বাংলাদেশ আদৌ সিরিজের ফাইনাল খেলতে পারবে কি না, সে প্রশ্ন পরে।
সবচেয়ে বড় প্রশ্ন, ৫০ ওভারের ক্রিকেটে বাংলাদেশের করুণ দশা কেন? বিশেষ করে বিদেশের মাঠে। যেখানে জিম্বাবুয়েও এখন বাংলাদেশকে নিয়ে খেলে। অথচ ৫০ ওভারের সংস্করণ কি না বাংলাদেশের কাছে ‘প্রিয়’ হয়ে উঠেছিল দেশ-বিদেশে ধারাবাহিক সাফল্যে। প্রধান কারণ যদি বলা হয়, অবশ্যই ব্যাটিং ব্যর্থতা। সর্বশেষ জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ভালো একটা শুরুর পরও বাংলাদেশ ধসে গেছে বাজে ব্যাটিংয়ে। এমনিতে বড় স্কোর গড়তে পারে। রান তাড়ায় বাংলাদেশ আরও দুর্বল। অবস্থা এমনই দাঁড়িয়েছে, উগান্ডাও যদি শান্তদের ৩০০ ছুঁইছুঁই লক্ষ্য দেয়, রানা তাড়ায় গলদঘর্ম হয়ে যাবে। এমনকি পাও হড়কাতে পারেন শান্তরা! নিজেদের সর্বশেষ ১০ ওয়ানডের আটটিতেই ২৪০ পেরোনো লক্ষ্য তাড়া করতে ব্যর্থ হয়েছে বাংলাদেশ। অবস্থা এতটাই করুণ, ওয়ানডেতে পুরো ৫০ ওভার খেলতে পারছে না বাংলাদেশ। চলমান ত্রিদেশীয় সিরিজের বাকি দুই দলের বিপক্ষে সবশেষ ৬ ম্যাচের একটিতেও ৫০ ওভার ব্যাটিং করতে পারেনি বাংলাদেশ। জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে সবশেষ হারের পর নিজেদের ব্যাটিং ব্যর্থতা নিয়ে বাংলাদেশের ভারপ্রাপ্ত অধিনায়ক তাওহীদ হৃদয়ের সরল স্বীকারোক্তি, ‘আসলে আমরা কিছু বোকার মতো ভুল করেছি। আশা করি, এগুলো দ্রুত কাটিয়ে উঠতে পারব।’
‘বোকার মতো’ ভুল করলে জিম্বাবুয়েও যখন চেপে ধরে, তাহলে দক্ষিণ আফ্রিকার মতো কঠিন কন্ডিশনে আগামী বিশ্বকাপে ইংল্যান্ড-নিউজিল্যান্ড-দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষেও যদি ভুলের পুনরাবৃত্তি হয়, বাংলাদেশের জন্য কী অপেক্ষা করছে, ভাবুন!

আপনার মতামত লিখুন