সারাদেশে প্রতিনিধি নিয়োগ দিচ্ছে ফোরকানুল হক (সাকিব) সম্পাদিত " TV 26 NEWS " আগ্রহীরা দ্রুত যোগাযোগ করুন। সব খবর সবার আগে পেতে আমাদের সাথেই থাকুন। গাজীপুরের টঙ্গীর আউচপাড়া এলাকায় একটি আবাসিক মাদ্রাসায় ছয় বছর বয়সী মেয়েকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগ ঘিরে নতুন করে বক্তব্য দিয়েছেন শিশুটির বাবা শাহজালাল রুমি। তার দাবি, সন্তানের সঙ্গে ঘটে যাওয়া ঘটনার বিচার চাইতেই তিনি মাদ্রাসায় গিয়েছিলেন, কোনও ধরনের বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি বা প্রতিষ্ঠান দখল করার উদ্দেশ্যে নয়।
শনিবার (২৪ অক্টোবর) রাত ৩টার দিকে গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে কথা বলার সময় তিনি নিজের অবস্থান তুলে ধরেন। এ ঘটনায় অভিযুক্ত শিক্ষকের ওপর হামলা, মাদ্রাসায় ভাঙচুর এবং অর্থ লুটের অভিযোগের বিষয়ে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানান তিনি।
রুমি বলেন, একজন বাবা হিসেবে মেয়ের প্রতি নির্যাতনের অভিযোগের প্রতিকার চাওয়াই ছিল তার উদ্দেশ্য। মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ তার বিরুদ্ধে জনতাকে উস্কে দেওয়ার অভিযোগ তুলেছে বলে উল্লেখ করে তিনি বলেন, প্রকৃত ঘটনা যাচাই না করে তার বিরুদ্ধে অভিযোগ আরোপ করা ঠিক নয়।
মাদ্রাসায় ভাঙচুরের অভিযোগ প্রসঙ্গে রুমি জানান, সেখানে একটি ছোট কাচের গ্লাস ভাঙার ঘটনা ঘটেছিল। এর ক্ষতিপূরণ দিতেও তিনি সম্মত হয়েছেন বলে দাবি করেন। তার বক্তব্য, শিক্ষক ঘটনাস্থলে আসার আগেই গ্লাসটি ভেঙেছিল এবং এ বিষয়ে ভিডিও রেকর্ড রয়েছে।
অন্যদিকে, মাদ্রাসা থেকে ১৭ লাখ টাকা নেওয়ার অভিযোগের বিষয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি। তার দাবি, প্রতিষ্ঠানে থাকা সিসিটিভি ফুটেজ পরীক্ষা করলেই এ অভিযোগের সত্যতা যাচাই করা সম্ভব। একই সঙ্গে মাদ্রাসায় এত পরিমাণ অর্থ সংরক্ষণের বিষয়টিও খতিয়ে দেখার আহ্বান জানান তিনি।
রুমির ভাষ্য অনুযায়ী, ঘটনার বিষয়ে তিনি তিন দিন আগেই মাদ্রাসার অধ্যক্ষকে জানিয়েছিলেন। কিন্তু অভিযোগ জানানোর পরও কার্যকর কোনও ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে তার দাবি। অধ্যক্ষের সঙ্গে দেখা করার জন্য দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করেও প্রত্যাশিত সহযোগিতা পাননি বলে অভিযোগ করেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, মেয়েদের নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে কক্ষে সিসিটিভি ক্যামেরা বসানোর আশ্বাস দেওয়া হয়েছিল। সেই আশ্বাসে আস্থা রেখেই তিনি মেয়েকে আবার মাদ্রাসায় পাঠিয়েছিলেন। তবে পরবর্তী সময়ে অভিযোগ সামনে আসায় সন্তানের নিরাপত্তা নিয়ে তার উদ্বেগ আরও বেড়েছে।
রুমি দাবি করেন, অভিযুক্ত ব্যক্তি শিশুটির নানাকে বার্তা দিয়ে ভবিষ্যতে এ ধরনের কাজ আর করবেন না বলে জানিয়েছিলেন। তবে এসব বক্তব্যের সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা প্রয়োজন।
শিশুটির বাবা অভিযোগ করেন, বাসায় ফিরে কাউকে ঘটনা জানালে মেয়েকে মেরে ফেলার হুমকি দেওয়া হয়েছিল। এ কারণে শিশুটি প্রথম তিন দিন ভয়ে বিষয়টি কাউকে জানাতে পারেনি বলে তিনি জানতে পেরেছেন। পরে শিশুটি তার মায়ের কাছে ঘটনা প্রকাশ করে বলে দাবি করেন রুমি।
তিনি বলেন, এ ধরনের অভিযোগের ক্ষেত্রে শিশুর নিরাপত্তা, মানসিক সুরক্ষা এবং নিরপেক্ষ তদন্তকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।
মাদ্রাসা বা ধর্মীয় শিক্ষাব্যবস্থার বিরুদ্ধে তার কোনও অবস্থান নেই বলে জানান রুমি। তিনি বলেন, দ্বীনি শিক্ষা দেওয়ার উদ্দেশ্যেই মেয়েকে ওই প্রতিষ্ঠানে ভর্তি করেছিলেন। তবে কোনও ব্যক্তি ধর্মীয় পরিচয় ব্যবহার করে অপরাধ করলে কিংবা সত্য গোপনের চেষ্টা করলে তার জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে।
ঘটনার পর থেকে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত থাকার কথাও জানান তিনি। তার বক্তব্য, সন্তানের সঙ্গে এমন ঘটনা ঘটার অভিযোগ শোনার পর নিজেকে সামলে রাখা কঠিন হয়ে পড়েছিল।
নিজের বিরুদ্ধে মামলা হওয়ার খবর পেয়েছেন জানিয়ে রুমি বলেন, তিনি আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল এবং আইনগত প্রক্রিয়ায় নিজের অবস্থান তুলে ধরবেন। অভিযোগ প্রমাণিত হলে আইন অনুযায়ী যে সিদ্ধান্ত আসবে, তা মেনে নেবেন বলেও জানান তিনি। তবে একই সঙ্গে মেয়ের সঙ্গে ঘটে যাওয়া ঘটনার অভিযোগেরও সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার দাবি করেন।
দেশবাসীর সহযোগিতা চেয়ে রুমি বলেন, কোনও প্রতিষ্ঠানের পরিচয় বা সামাজিক অবস্থান বিবেচনা করে নয়, বরং প্রমাণের ভিত্তিতে অভিযোগের সত্যতা যাচাই করা উচিত। তার মতে, শিশুর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় সংশ্লিষ্ট সবার দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখা জরুরি। এ সময় তার বন্ধু ও কনটেন্ট ক্রিয়েটর তাজ উপস্থিত ছিলেন।
বিষয় : মাদ্রাসা যৌন হয়রানি

শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৪ অক্টোবর ২০২৬
গাজীপুরের টঙ্গীর আউচপাড়া এলাকায় একটি আবাসিক মাদ্রাসায় ছয় বছর বয়সী মেয়েকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগ ঘিরে নতুন করে বক্তব্য দিয়েছেন শিশুটির বাবা শাহজালাল রুমি। তার দাবি, সন্তানের সঙ্গে ঘটে যাওয়া ঘটনার বিচার চাইতেই তিনি মাদ্রাসায় গিয়েছিলেন, কোনও ধরনের বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি বা প্রতিষ্ঠান দখল করার উদ্দেশ্যে নয়।
শনিবার (২৪ অক্টোবর) রাত ৩টার দিকে গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে কথা বলার সময় তিনি নিজের অবস্থান তুলে ধরেন। এ ঘটনায় অভিযুক্ত শিক্ষকের ওপর হামলা, মাদ্রাসায় ভাঙচুর এবং অর্থ লুটের অভিযোগের বিষয়ে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানান তিনি।
রুমি বলেন, একজন বাবা হিসেবে মেয়ের প্রতি নির্যাতনের অভিযোগের প্রতিকার চাওয়াই ছিল তার উদ্দেশ্য। মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ তার বিরুদ্ধে জনতাকে উস্কে দেওয়ার অভিযোগ তুলেছে বলে উল্লেখ করে তিনি বলেন, প্রকৃত ঘটনা যাচাই না করে তার বিরুদ্ধে অভিযোগ আরোপ করা ঠিক নয়।
মাদ্রাসায় ভাঙচুরের অভিযোগ প্রসঙ্গে রুমি জানান, সেখানে একটি ছোট কাচের গ্লাস ভাঙার ঘটনা ঘটেছিল। এর ক্ষতিপূরণ দিতেও তিনি সম্মত হয়েছেন বলে দাবি করেন। তার বক্তব্য, শিক্ষক ঘটনাস্থলে আসার আগেই গ্লাসটি ভেঙেছিল এবং এ বিষয়ে ভিডিও রেকর্ড রয়েছে।
অন্যদিকে, মাদ্রাসা থেকে ১৭ লাখ টাকা নেওয়ার অভিযোগের বিষয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি। তার দাবি, প্রতিষ্ঠানে থাকা সিসিটিভি ফুটেজ পরীক্ষা করলেই এ অভিযোগের সত্যতা যাচাই করা সম্ভব। একই সঙ্গে মাদ্রাসায় এত পরিমাণ অর্থ সংরক্ষণের বিষয়টিও খতিয়ে দেখার আহ্বান জানান তিনি।
রুমির ভাষ্য অনুযায়ী, ঘটনার বিষয়ে তিনি তিন দিন আগেই মাদ্রাসার অধ্যক্ষকে জানিয়েছিলেন। কিন্তু অভিযোগ জানানোর পরও কার্যকর কোনও ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে তার দাবি। অধ্যক্ষের সঙ্গে দেখা করার জন্য দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করেও প্রত্যাশিত সহযোগিতা পাননি বলে অভিযোগ করেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, মেয়েদের নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে কক্ষে সিসিটিভি ক্যামেরা বসানোর আশ্বাস দেওয়া হয়েছিল। সেই আশ্বাসে আস্থা রেখেই তিনি মেয়েকে আবার মাদ্রাসায় পাঠিয়েছিলেন। তবে পরবর্তী সময়ে অভিযোগ সামনে আসায় সন্তানের নিরাপত্তা নিয়ে তার উদ্বেগ আরও বেড়েছে।
রুমি দাবি করেন, অভিযুক্ত ব্যক্তি শিশুটির নানাকে বার্তা দিয়ে ভবিষ্যতে এ ধরনের কাজ আর করবেন না বলে জানিয়েছিলেন। তবে এসব বক্তব্যের সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা প্রয়োজন।
শিশুটির বাবা অভিযোগ করেন, বাসায় ফিরে কাউকে ঘটনা জানালে মেয়েকে মেরে ফেলার হুমকি দেওয়া হয়েছিল। এ কারণে শিশুটি প্রথম তিন দিন ভয়ে বিষয়টি কাউকে জানাতে পারেনি বলে তিনি জানতে পেরেছেন। পরে শিশুটি তার মায়ের কাছে ঘটনা প্রকাশ করে বলে দাবি করেন রুমি।
তিনি বলেন, এ ধরনের অভিযোগের ক্ষেত্রে শিশুর নিরাপত্তা, মানসিক সুরক্ষা এবং নিরপেক্ষ তদন্তকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।
মাদ্রাসা বা ধর্মীয় শিক্ষাব্যবস্থার বিরুদ্ধে তার কোনও অবস্থান নেই বলে জানান রুমি। তিনি বলেন, দ্বীনি শিক্ষা দেওয়ার উদ্দেশ্যেই মেয়েকে ওই প্রতিষ্ঠানে ভর্তি করেছিলেন। তবে কোনও ব্যক্তি ধর্মীয় পরিচয় ব্যবহার করে অপরাধ করলে কিংবা সত্য গোপনের চেষ্টা করলে তার জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে।
ঘটনার পর থেকে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত থাকার কথাও জানান তিনি। তার বক্তব্য, সন্তানের সঙ্গে এমন ঘটনা ঘটার অভিযোগ শোনার পর নিজেকে সামলে রাখা কঠিন হয়ে পড়েছিল।
নিজের বিরুদ্ধে মামলা হওয়ার খবর পেয়েছেন জানিয়ে রুমি বলেন, তিনি আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল এবং আইনগত প্রক্রিয়ায় নিজের অবস্থান তুলে ধরবেন। অভিযোগ প্রমাণিত হলে আইন অনুযায়ী যে সিদ্ধান্ত আসবে, তা মেনে নেবেন বলেও জানান তিনি। তবে একই সঙ্গে মেয়ের সঙ্গে ঘটে যাওয়া ঘটনার অভিযোগেরও সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার দাবি করেন।
দেশবাসীর সহযোগিতা চেয়ে রুমি বলেন, কোনও প্রতিষ্ঠানের পরিচয় বা সামাজিক অবস্থান বিবেচনা করে নয়, বরং প্রমাণের ভিত্তিতে অভিযোগের সত্যতা যাচাই করা উচিত। তার মতে, শিশুর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় সংশ্লিষ্ট সবার দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখা জরুরি। এ সময় তার বন্ধু ও কনটেন্ট ক্রিয়েটর তাজ উপস্থিত ছিলেন।

আপনার মতামত লিখুন