সারাদেশে প্রতিনিধি নিয়োগ দিচ্ছে ফোরকানুল হক (সাকিব) সম্পাদিত " TV 26 NEWS " আগ্রহীরা দ্রুত যোগাযোগ করুন। সব খবর সবার আগে পেতে আমাদের সাথেই থাকুন। বিমান বাহিনীর সাবেক কর্মকর্তা তাহসিফ সাউরির লাশ উদ্ধারের ঘটনায় করা হত্যা মামলায় তার বান্ধবী জেরিকা তাসনিম দিশাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আরও সাত দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করেছে নৌ-পুলিশ।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা টঙ্গী নৌ-পুলিশ ফাঁড়ির ইন্সপেক্টর ফিরোজ উদ্দিন বুধবার (৪ নভেম্বর) এ আবেদন করেন।
বিষয়টি নিশ্চিত করে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী মুহাম্মদ শামছুদ্দোহা সুমন বলেন, ‘ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মঞ্জুরুল ইসলামের আদালতে রিমান্ড বিষয়ে শুনানি হবে।’
এদিকে রিমান্ডে দিশা গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছেন বলে আবেদনে বলেছেন তদন্ত কর্মকর্তা। রিমান্ড আবেদনের সাত কারণের কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
এ আসামিকে চার দিনের রিমান্ডে পেয়ে মামলার ঘটনার ঘটনার মূল রহস্য উদঘাটনের জন্য ঘটনার বিষয়ে ব্যাপকভাবে বিভিন্ন কৌশল অবলম্বন করে জিজ্ঞাসাবাদ করি। জিজ্ঞাসাবাদে আসামি জানায়, তাহসিফ সাউরির সাথে ঘটনার আগে ২৭ অক্টোবর রাতের বেলা উত্তরা ‘নেস্ট বার অ্যান্ড রেস্টুরেন্ট’ যায়। ২৭ অক্টোবর সন্ধ্যা বেলা একাধিকবার সিপি ফাইভ স্টার স্ন্যাকস খায়। মোটরসাইকেল গ্যারেজে তাহসিফ সাউরিসহ দিশা একসাথে যায়। দিশা ‘নেস্ট বার অ্যান্ড রেস্টুরেন্টে’ একত্রে ছিলেন এবং বিভিন্ন জায়গায় সাউরির সাথে বাইকে ঘোরাঘুরি করেছেন মর্মে বক্তব্য প্রদান করেন। এছাড়াও তদন্তে দিশা মামলার ঘটনা সম্পর্কে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য প্রদান করেছে, যা তদন্তের স্বার্থে গোপন রেখে যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। এ আসামি অত্যন্ত চতুর প্রকৃতির হওয়ায় একাধিক প্রশ্নের জবাব কৌশলে এড়িয়ে যায় এবং নিরবতা পালন করে।
তদন্তে সন্দিগ্ধ আসামি আহমেদ শাহরিয়ার রেজা দীপ বর্তমানে পুলিশ হেফাজতে রিমান্ডে রয়েছে। দিশা ও দীপের বক্তব্য ক্রস চেক করা প্রয়োজন। এছাড়া তাহসিফ সাউরির মোবাইল কললিস্ট পর্যালোচনায় দিশা একাধিকবার কথা বলার তথ্য প্রমাণ পাওয়া যাচ্ছে। প্রাথমিকভাবে দিশা মামলার ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার তথ্য প্রমাণ পাওয়া যাচ্ছে। মামলার সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে মূল রহস্য উদঘাটনসহ ঘটনার সাথে জড়িত আসামিদের গ্রেফতার করাসহ ৭ কারণের জন্য আসামিকে নিবিড়ভাবে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পুনরায় সাত দিনের রিমান্ড একান্ত প্রয়োজন।
>>ঘটনার দিন তাহসিফ সাউরির সাথে সন্দিগ্ধ আসামি দিশার উত্তরা ১৮ নম্বর সেক্টর রুআপ কমপ্লেক্সে সিপি ফাইভ স্টার নামক ফাস্ট ফুডে স্ন্যানস খাওয়ার ক্ষেত্রে কোনও আবেগপ্রবণ কথাবার্তা কিংবা বাক-বিতন্ডা হয়েছিল কিনা তার তথ্য যাচাই করা প্রয়োজন।
>>ঘটনার দিন তাহসিফ দিশার ‘নেস্ট বার অ্যান্ড রেস্টুরেন্টে’ কোনও কথাকাটাকাটি কিংবা বাক-বিতন্ডা হয়েছিল কিনা তার তথ্য যাচাই-বাছাই করা প্রয়োজন।
>>ঘটনার দিন বা কিংবা আগে উভয়ের মধ্যে সম্পর্কের কোনও টানাপড়েন যাচ্ছিল কিনা তা যাচাই-বাছাই করা প্রয়োজন।
>>মামলার ঘটনার মূল রহস্য উদঘাটন।
>>অজ্ঞাতনামা অপর আসামিদের গ্রেফতার ও শনাক্ত।
>>আলামত উদ্ধার।
>>দিশা ও দীপের বক্তব্য ক্রস চেক করা।
এর আগে শনিবার রাত ২টার দিকে কাফরুল এলাকা থেকে দিশাকে গ্রেফতার করা হয়। পরদিন দিশার চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করে আদালত। পরে আবার সাত দিনের রিমান্ড আবেদন এলো।
ক্ষমতাচ্যুত শেখ হাসিনার দেশত্যাগের ‘ভিডিও ধারণকারী’ হিসেবে আলোচনায় থাকা তাহসিফ সাউরির ভাসমান লাশ গত ২৮ অক্টোবর বিকালে তুরাগের রাজাবাড়ী ঘাট এলাকা থেকে উদ্ধার করে নৌ পুলিশ।
তিনি ২৭ অক্টোবর সন্ধ্যায় ‘দীপের ডাকে’ বাসার নিচে নামেন এবং নিজের বাইক নিয়ে বাসা থেকে বের হয়ে গিয়েছিলেন।
দীপ ২৯ অক্টোবর বলেছিলেন, রেস্তোরাঁয় একসঙ্গে রাতের খাবার খেয়ে উত্তরা হাউজবিল্ডিং এলাকা থেকে তাহসিফের কাছ থেকে আলাদা হয়ে যান।
তিন দিনেও মামলা না হওয়ায় তাকে নিয়ে কী সিদ্ধান্ত হবে, সেই আলোচনার মধ্যে ৩০ অক্টোবর রাতে তাকে তাকে নৌ পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
ওই দিন রাতে তাহসিফের বাবা মামলা করার পর দীপকে গ্রেফতার দেখানো হয়। পরদিন দীপকে চার দিনের রিমান্ড দেয় আদালত। চার দিনের রিমান্ড শেষে বুধবার দীপকে আরও তিন দিনের রিমান্ড দেয় আদালত।
এদিকে দীপের দেওয়া তথ্যেই ৩০ অক্টোবর সকালে টঙ্গীর মাজার বস্তি এলাকা থেকে তাহসিফের বাইকটি উদ্ধার করা হয়।
‘মাদকস্পট’ হিসেবে পরিচিত ওই এলাকায় মধ্যরাতে তাহসিফের সঙ্গে যাওয়ার কথা স্বীকারও করে দীপ। একপর্যায়ে তাকে নিয়ে শুক্রবার টঙ্গীর ওই এলাকা পরিদর্শনেও গিয়েছিলেন পিবিআই কর্মকর্তারা।
বিষয় : তাহসিফ সাউরি হত্যাকাণ্ড

বুধবার, ০৪ নভেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৪ নভেম্বর ২০২৬
বিমান বাহিনীর সাবেক কর্মকর্তা তাহসিফ সাউরির লাশ উদ্ধারের ঘটনায় করা হত্যা মামলায় তার বান্ধবী জেরিকা তাসনিম দিশাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আরও সাত দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করেছে নৌ-পুলিশ।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা টঙ্গী নৌ-পুলিশ ফাঁড়ির ইন্সপেক্টর ফিরোজ উদ্দিন বুধবার (৪ নভেম্বর) এ আবেদন করেন।
বিষয়টি নিশ্চিত করে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী মুহাম্মদ শামছুদ্দোহা সুমন বলেন, ‘ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মঞ্জুরুল ইসলামের আদালতে রিমান্ড বিষয়ে শুনানি হবে।’
এদিকে রিমান্ডে দিশা গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছেন বলে আবেদনে বলেছেন তদন্ত কর্মকর্তা। রিমান্ড আবেদনের সাত কারণের কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
এ আসামিকে চার দিনের রিমান্ডে পেয়ে মামলার ঘটনার ঘটনার মূল রহস্য উদঘাটনের জন্য ঘটনার বিষয়ে ব্যাপকভাবে বিভিন্ন কৌশল অবলম্বন করে জিজ্ঞাসাবাদ করি। জিজ্ঞাসাবাদে আসামি জানায়, তাহসিফ সাউরির সাথে ঘটনার আগে ২৭ অক্টোবর রাতের বেলা উত্তরা ‘নেস্ট বার অ্যান্ড রেস্টুরেন্ট’ যায়। ২৭ অক্টোবর সন্ধ্যা বেলা একাধিকবার সিপি ফাইভ স্টার স্ন্যাকস খায়। মোটরসাইকেল গ্যারেজে তাহসিফ সাউরিসহ দিশা একসাথে যায়। দিশা ‘নেস্ট বার অ্যান্ড রেস্টুরেন্টে’ একত্রে ছিলেন এবং বিভিন্ন জায়গায় সাউরির সাথে বাইকে ঘোরাঘুরি করেছেন মর্মে বক্তব্য প্রদান করেন। এছাড়াও তদন্তে দিশা মামলার ঘটনা সম্পর্কে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য প্রদান করেছে, যা তদন্তের স্বার্থে গোপন রেখে যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। এ আসামি অত্যন্ত চতুর প্রকৃতির হওয়ায় একাধিক প্রশ্নের জবাব কৌশলে এড়িয়ে যায় এবং নিরবতা পালন করে।
তদন্তে সন্দিগ্ধ আসামি আহমেদ শাহরিয়ার রেজা দীপ বর্তমানে পুলিশ হেফাজতে রিমান্ডে রয়েছে। দিশা ও দীপের বক্তব্য ক্রস চেক করা প্রয়োজন। এছাড়া তাহসিফ সাউরির মোবাইল কললিস্ট পর্যালোচনায় দিশা একাধিকবার কথা বলার তথ্য প্রমাণ পাওয়া যাচ্ছে। প্রাথমিকভাবে দিশা মামলার ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার তথ্য প্রমাণ পাওয়া যাচ্ছে। মামলার সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে মূল রহস্য উদঘাটনসহ ঘটনার সাথে জড়িত আসামিদের গ্রেফতার করাসহ ৭ কারণের জন্য আসামিকে নিবিড়ভাবে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পুনরায় সাত দিনের রিমান্ড একান্ত প্রয়োজন।
>>ঘটনার দিন তাহসিফ সাউরির সাথে সন্দিগ্ধ আসামি দিশার উত্তরা ১৮ নম্বর সেক্টর রুআপ কমপ্লেক্সে সিপি ফাইভ স্টার নামক ফাস্ট ফুডে স্ন্যানস খাওয়ার ক্ষেত্রে কোনও আবেগপ্রবণ কথাবার্তা কিংবা বাক-বিতন্ডা হয়েছিল কিনা তার তথ্য যাচাই করা প্রয়োজন।
>>ঘটনার দিন তাহসিফ দিশার ‘নেস্ট বার অ্যান্ড রেস্টুরেন্টে’ কোনও কথাকাটাকাটি কিংবা বাক-বিতন্ডা হয়েছিল কিনা তার তথ্য যাচাই-বাছাই করা প্রয়োজন।
>>ঘটনার দিন বা কিংবা আগে উভয়ের মধ্যে সম্পর্কের কোনও টানাপড়েন যাচ্ছিল কিনা তা যাচাই-বাছাই করা প্রয়োজন।
>>মামলার ঘটনার মূল রহস্য উদঘাটন।
>>অজ্ঞাতনামা অপর আসামিদের গ্রেফতার ও শনাক্ত।
>>আলামত উদ্ধার।
>>দিশা ও দীপের বক্তব্য ক্রস চেক করা।
এর আগে শনিবার রাত ২টার দিকে কাফরুল এলাকা থেকে দিশাকে গ্রেফতার করা হয়। পরদিন দিশার চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করে আদালত। পরে আবার সাত দিনের রিমান্ড আবেদন এলো।
ক্ষমতাচ্যুত শেখ হাসিনার দেশত্যাগের ‘ভিডিও ধারণকারী’ হিসেবে আলোচনায় থাকা তাহসিফ সাউরির ভাসমান লাশ গত ২৮ অক্টোবর বিকালে তুরাগের রাজাবাড়ী ঘাট এলাকা থেকে উদ্ধার করে নৌ পুলিশ।
তিনি ২৭ অক্টোবর সন্ধ্যায় ‘দীপের ডাকে’ বাসার নিচে নামেন এবং নিজের বাইক নিয়ে বাসা থেকে বের হয়ে গিয়েছিলেন।
দীপ ২৯ অক্টোবর বলেছিলেন, রেস্তোরাঁয় একসঙ্গে রাতের খাবার খেয়ে উত্তরা হাউজবিল্ডিং এলাকা থেকে তাহসিফের কাছ থেকে আলাদা হয়ে যান।
তিন দিনেও মামলা না হওয়ায় তাকে নিয়ে কী সিদ্ধান্ত হবে, সেই আলোচনার মধ্যে ৩০ অক্টোবর রাতে তাকে তাকে নৌ পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
ওই দিন রাতে তাহসিফের বাবা মামলা করার পর দীপকে গ্রেফতার দেখানো হয়। পরদিন দীপকে চার দিনের রিমান্ড দেয় আদালত। চার দিনের রিমান্ড শেষে বুধবার দীপকে আরও তিন দিনের রিমান্ড দেয় আদালত।
এদিকে দীপের দেওয়া তথ্যেই ৩০ অক্টোবর সকালে টঙ্গীর মাজার বস্তি এলাকা থেকে তাহসিফের বাইকটি উদ্ধার করা হয়।
‘মাদকস্পট’ হিসেবে পরিচিত ওই এলাকায় মধ্যরাতে তাহসিফের সঙ্গে যাওয়ার কথা স্বীকারও করে দীপ। একপর্যায়ে তাকে নিয়ে শুক্রবার টঙ্গীর ওই এলাকা পরিদর্শনেও গিয়েছিলেন পিবিআই কর্মকর্তারা।

আপনার মতামত লিখুন