সারাদেশে প্রতিনিধি নিয়োগ দিচ্ছে ফোরকানুল হক (সাকিব) সম্পাদিত " TV 26 NEWS " আগ্রহীরা দ্রুত যোগাযোগ করুন। সব খবর সবার আগে পেতে আমাদের সাথেই থাকুন। সাগরপথে পণ্য পরিবহনের জন্য প্রয়োজনীয় জাহাজের ২০ শতাংশও নেই বাংলাদেশের। অথচ দেশের আমদানি-রপ্তানি পণ্যের ৯০ শতাংশেরও বেশি সমুদ্রপথে আনা-নেওয়া করা হয়। প্রতিবছর বাড়ছে এই চাহিদা। সে হারে বাড়ছে না দেশি জাহাজের সংখ্যা। এখন লাল-সবুজের পতাকাবাহী ১০৮টি জাহাজ থাকলেও তা দিয়ে দেশের চাহিদা মেটানো যাচ্ছে না এক-পঞ্চমাংশও। ঠিক এমন পরিস্থিতিতে জাহাজ আমদানিতে ভ্যাট অব্যাহতি পাওয়ার শর্ত হিসেবে সর্বোচ্চ বয়সসীমা ২৫ বছর থেকে কমিয়ে ১০ বছর নির্ধারণ করায় দেশীয় জাহাজ খাত আরও সংকুচিত হবে বলে আশঙ্কা করছেন ব্যবসায়ীরা। এ বিষয়ে কেএসআরএম গ্রুপের নির্বাহী পরিচালক মেহেরুল করিম বলেন, চাহিদার তুলনায় ২০ শতাংশ জাহাজও নেই বাংলাদেশের। অথচ জাহাজের বহর বেশি হলে দেশি নাবিকদের কর্মসংস্থান, নিজেদের পণ্য পরিবহন ও বৈদেশিক মুদ্রা আরও বেশি আয় করার সুযোগ আছে। উল্টো ১০ বছরের পুরোনো জাহাজ কিনতে না পারার বিধিনিষেধ আসছে। এটি এ সেক্টরকে এখন আরও সংকুচিত করবে। জানতে চাইলে নৌবাণিজ্য দপ্তর চট্টগ্রামের প্রিন্সিপাল অফিসার ক্যাপ্টেন শেখ জালাল মােহাম্মদ গাজী বলেন, সরকারের সংশোধিত প্রজ্ঞাপনে সমুদ্রগামী জাহাজ আমদানিতে ভ্যাট অব্যাহতি পাওয়ার শর্ত হিসেবে জাহাজের সর্বোচ্চ বয়সসীমা ২৫ বছর থেকে কমিয়ে ১০ বছর করা হয়েছে। একই সঙ্গে আমদানির পর অন্তত পাঁচ বছর বাংলাদেশি পতাকায় জাহাজ পরিচালনার শর্ত দেওয়া হয়েছে। এদিকে সমুদ্রবাণিজ্য বাড়লেও বাড়ছে না দেশের পতাকাবাহী জাহাজ। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে শুধু চট্টগ্রাম বন্দরে মোট ৩৫ লাখ ১৮ হাজার ৮৪১ টিইইউ (২০ ফুট দৈর্ঘ্যের সমতুল্য ইউনিট)) কনটেইনার হ্যান্ডলিং হয়েছে। আগের অর্থবছরে এটি ছিল ৩২ লাখ ৯৬ হাজার ৬৭ টিইইউ। এক বছরের ব্যবধানে কনটেইনার ওঠানামায় প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৬ দশমিক ৭৬ শতাংশের বেশি। একই সময়ে কার্গো পণ্যে প্রবৃদ্ধি হয়েছে প্রায় সাড়ে ৫ শতাংশ। সর্বশেষ অর্থবছরে জাহাজ এসেছে ৪ হাজার ৩৩৬টি। কিন্তু গত দুই বছরে দেশের পতাকাবাহী জাহাজের সংখ্যা বেড়েছে মাত্র ৭টি। চট্টগ্রাম বন্দরে মোট পণ্য পরিবহনের ২৩ শতাংশ কনটেইনার আনা-নেওয়া হয়। বাকি ৭৭ শতাংশ হচ্ছে কনটেইনারবিহীন পণ্য।
দেশে পর্যাপ্ত জাহাজ না থাকায় এখন আমদানি-রপ্তানি পণ্যের ৮০ শতাংশ পরিবহন করে বিদেশি পতাকাবাহী জাহাজ। দেশের পতাকাবাহী ১০৮টি জাহাজের পণ্য পরিবহন ক্ষমতা আছে মাত্র ৬০ লাখ টনের। এর মধ্যে কনটেইনারবাহী জাহাজ আছে মাত্র ৮টি। বন্দরে নোঙর করা এসব জাহাজের মধ্যে ৪৫ শতাংশ কনটেইনারবাহী। ৪৫ শতাংশ বাল্ক ক্যারিয়ার এবং ১০ শতাংশ তরল পণ্যবাহী জাহাজ থাকে। বাংলাদেশের বহরে থাকা বেশির ভাগ জাহাজই বাল্ক ক্যারিয়ার। বিএসসি ১৯৭২ সালের জুনে ‘এমভি বাংলার দূত’ জাহাজের মাধ্যমে সমুদ্রপথে পণ্য পরিবহন ব্যবসা শুরু করে। ১৯৮২ সালের মধ্যে ২৭টি জাহাজ যোগ হয় এ সংস্থার বহরে। পর্যায়ক্রমে এই সংখ্যা উন্নীত হয় ৩৭টিতে। সংস্থাটির বহরে ১৯৯১ সালের পর দীর্ঘ সময় নতুন কোনো জাহাজ যুক্ত হয়নি। উল্টো জাহাজের সংখ্যা কমে এক পর্যায়ে দুটিতে নেমে আসে। এখন এ সংখ্যা আবার বেড়ে হয়েছে মাত্র ৭। এটি প্রয়োজনের তুলনায় নগণ্য। নৌবাণিজ্য দপ্তরের সাবেক প্রিন্সিপাল অফিসার ক্যাপ্টেন হাবিবুর রহমান বলেন, ‘বিএসসির বহরে এখন ৭টি জাহাজ আছে। বেসরকারি খাতে ১৬টি কোম্পানির ১০১টি জাহাজ রয়েছে। নীতিমালা আরও সহজ ও ব্যবসাবান্ধব হলে উদ্যোক্তারা এই খাতে আগ্রহী হতে পারেন।’
বিষয় : জাহাজ

রোববার, ০৮ নভেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
সাগরপথে পণ্য পরিবহনের জন্য প্রয়োজনীয় জাহাজের ২০ শতাংশও নেই বাংলাদেশের। অথচ দেশের আমদানি-রপ্তানি পণ্যের ৯০ শতাংশেরও বেশি সমুদ্রপথে আনা-নেওয়া করা হয়। প্রতিবছর বাড়ছে এই চাহিদা। সে হারে বাড়ছে না দেশি জাহাজের সংখ্যা। এখন লাল-সবুজের পতাকাবাহী ১০৮টি জাহাজ থাকলেও তা দিয়ে দেশের চাহিদা মেটানো যাচ্ছে না এক-পঞ্চমাংশও। ঠিক এমন পরিস্থিতিতে জাহাজ আমদানিতে ভ্যাট অব্যাহতি পাওয়ার শর্ত হিসেবে সর্বোচ্চ বয়সসীমা ২৫ বছর থেকে কমিয়ে ১০ বছর নির্ধারণ করায় দেশীয় জাহাজ খাত আরও সংকুচিত হবে বলে আশঙ্কা করছেন ব্যবসায়ীরা। এ বিষয়ে কেএসআরএম গ্রুপের নির্বাহী পরিচালক মেহেরুল করিম বলেন, চাহিদার তুলনায় ২০ শতাংশ জাহাজও নেই বাংলাদেশের। অথচ জাহাজের বহর বেশি হলে দেশি নাবিকদের কর্মসংস্থান, নিজেদের পণ্য পরিবহন ও বৈদেশিক মুদ্রা আরও বেশি আয় করার সুযোগ আছে। উল্টো ১০ বছরের পুরোনো জাহাজ কিনতে না পারার বিধিনিষেধ আসছে। এটি এ সেক্টরকে এখন আরও সংকুচিত করবে। জানতে চাইলে নৌবাণিজ্য দপ্তর চট্টগ্রামের প্রিন্সিপাল অফিসার ক্যাপ্টেন শেখ জালাল মােহাম্মদ গাজী বলেন, সরকারের সংশোধিত প্রজ্ঞাপনে সমুদ্রগামী জাহাজ আমদানিতে ভ্যাট অব্যাহতি পাওয়ার শর্ত হিসেবে জাহাজের সর্বোচ্চ বয়সসীমা ২৫ বছর থেকে কমিয়ে ১০ বছর করা হয়েছে। একই সঙ্গে আমদানির পর অন্তত পাঁচ বছর বাংলাদেশি পতাকায় জাহাজ পরিচালনার শর্ত দেওয়া হয়েছে। এদিকে সমুদ্রবাণিজ্য বাড়লেও বাড়ছে না দেশের পতাকাবাহী জাহাজ। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে শুধু চট্টগ্রাম বন্দরে মোট ৩৫ লাখ ১৮ হাজার ৮৪১ টিইইউ (২০ ফুট দৈর্ঘ্যের সমতুল্য ইউনিট)) কনটেইনার হ্যান্ডলিং হয়েছে। আগের অর্থবছরে এটি ছিল ৩২ লাখ ৯৬ হাজার ৬৭ টিইইউ। এক বছরের ব্যবধানে কনটেইনার ওঠানামায় প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৬ দশমিক ৭৬ শতাংশের বেশি। একই সময়ে কার্গো পণ্যে প্রবৃদ্ধি হয়েছে প্রায় সাড়ে ৫ শতাংশ। সর্বশেষ অর্থবছরে জাহাজ এসেছে ৪ হাজার ৩৩৬টি। কিন্তু গত দুই বছরে দেশের পতাকাবাহী জাহাজের সংখ্যা বেড়েছে মাত্র ৭টি। চট্টগ্রাম বন্দরে মোট পণ্য পরিবহনের ২৩ শতাংশ কনটেইনার আনা-নেওয়া হয়। বাকি ৭৭ শতাংশ হচ্ছে কনটেইনারবিহীন পণ্য।
দেশে পর্যাপ্ত জাহাজ না থাকায় এখন আমদানি-রপ্তানি পণ্যের ৮০ শতাংশ পরিবহন করে বিদেশি পতাকাবাহী জাহাজ। দেশের পতাকাবাহী ১০৮টি জাহাজের পণ্য পরিবহন ক্ষমতা আছে মাত্র ৬০ লাখ টনের। এর মধ্যে কনটেইনারবাহী জাহাজ আছে মাত্র ৮টি। বন্দরে নোঙর করা এসব জাহাজের মধ্যে ৪৫ শতাংশ কনটেইনারবাহী। ৪৫ শতাংশ বাল্ক ক্যারিয়ার এবং ১০ শতাংশ তরল পণ্যবাহী জাহাজ থাকে। বাংলাদেশের বহরে থাকা বেশির ভাগ জাহাজই বাল্ক ক্যারিয়ার। বিএসসি ১৯৭২ সালের জুনে ‘এমভি বাংলার দূত’ জাহাজের মাধ্যমে সমুদ্রপথে পণ্য পরিবহন ব্যবসা শুরু করে। ১৯৮২ সালের মধ্যে ২৭টি জাহাজ যোগ হয় এ সংস্থার বহরে। পর্যায়ক্রমে এই সংখ্যা উন্নীত হয় ৩৭টিতে। সংস্থাটির বহরে ১৯৯১ সালের পর দীর্ঘ সময় নতুন কোনো জাহাজ যুক্ত হয়নি। উল্টো জাহাজের সংখ্যা কমে এক পর্যায়ে দুটিতে নেমে আসে। এখন এ সংখ্যা আবার বেড়ে হয়েছে মাত্র ৭। এটি প্রয়োজনের তুলনায় নগণ্য। নৌবাণিজ্য দপ্তরের সাবেক প্রিন্সিপাল অফিসার ক্যাপ্টেন হাবিবুর রহমান বলেন, ‘বিএসসির বহরে এখন ৭টি জাহাজ আছে। বেসরকারি খাতে ১৬টি কোম্পানির ১০১টি জাহাজ রয়েছে। নীতিমালা আরও সহজ ও ব্যবসাবান্ধব হলে উদ্যোক্তারা এই খাতে আগ্রহী হতে পারেন।’

আপনার মতামত লিখুন