সারাদেশে প্রতিনিধি নিয়োগ দিচ্ছে ফোরকানুল হক (সাকিব) সম্পাদিত " TV 26 NEWS " আগ্রহীরা দ্রুত যোগাযোগ করুন। সব খবর সবার আগে পেতে আমাদের সাথেই থাকুন। দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগকে কেন্দ্র করে এক বছরের বেশি সময় ধরে চলা শিক্ষার্থীদের নেতৃত্বাধীন বিক্ষোভ এবং ক্রমবর্ধমান জন অসন্তোষের মুখে অবশেষে পদত্যাগ করেছেন সার্বিয়ার প্রেসিডেন্ট আলেকজান্ডার ভুচিচ।
রাজধানী বেলগ্রেডে প্রেসিডেন্টের বাসভবনের বাইরে সমর্থকদের উদ্দেশে দেয়া এক ভাষণে ভুচিচ বলেন, তার ৯ বছরের শাসনামলে তিনি দেশে শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রেখেছেন। গত জুনেই তিনি পদত্যাগের ইচ্ছার কথা জানিয়েছিলেন।
সার্বিয়ার সংবিধান অনুযায়ী, প্রেসিডেন্ট হিসেবে তৃতীয়বার প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারবেন না ভুচিচ। তবে আসন্ন সংসদীয় নির্বাচনে নিজের দল প্রগ্রেসিভ পার্টির হয়ে প্রধানমন্ত্রী পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার পরিকল্পনা করছেন তিনি।
ভুচিচের সরকারের বিরুদ্ধে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগকে ঘিরে দীর্ঘদিন ধরেই ক্ষোভ ছিল। ২০২৪ সালে নোভী সাদ রেলস্টেশনের ছাদ ধসে ১৬ জন নিহত হওয়ার ঘটনা সেই ক্ষোভ আরও বাড়িয়ে দেয়। এরপর ছাত্র-শিক্ষক, শ্রমিক ও কৃষকসহ সমাজের বিভিন্ন শ্রেণির মানুষ বিক্ষোভে যোগ দেন।
বিক্ষোভকারীদের শান্ত করতে সরকারের বিভিন্ন পর্যায়ের একাধিক কর্মকর্তা পদত্যাগ করলেও আন্দোলন থামেনি। একপর্যায়ে সরকার পুলিশ মোতায়েন করলে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। পুলিশের বিরুদ্ধে হামলা, নির্যাতন ও নিপীড়নের অভিযোগও ওঠে। বিক্ষোভকারীরা ভুচিচ সরকারের পদত্যাগের পাশাপাশি নতুন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের দাবি জানান।
ভুচিচের পদত্যাগের ফলে সার্বিয়ায় নতুন করে প্রেসিডেন্ট নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।
দেশটির সংবিধান অনুযায়ী, প্রেসিডেন্ট পদত্যাগের তিন মাসের মধ্যে নির্বাচন আয়োজন করতে হবে। একই সময়ে আগামী অক্টোবরের শেষ দিকে সংসদীয় নির্বাচন হওয়ার কথা রয়েছে। ফলে চলতি বছরে সার্বিয়ার জনগণকে দুবার ভোট দিতে হতে পারে।
ভুচিচ জানিয়েছেন, সংসদীয় নির্বাচনের এক মাসের কিছু বেশি সময় পর প্রেসিডেন্ট নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। নতুন প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত সংসদের স্পিকার আনা ব্রনাবিচ অন্তর্বর্তীকালীন প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।
পদত্যাগের আগে সাংবিধানিক ক্ষমতা ব্যবহার করে ৪৯ জনকে ক্ষমা করেছেন ভুচিচ। তাদের মধ্যে ২৩ জন শিক্ষার্থী এবং তার দলের অনুগত নেতাকর্মী রয়েছেন বলে সরকারি গণমাধ্যম আরটিএস জানিয়েছে।
আসন্ন সংসদীয় নির্বাচনে ভুচিচের প্রগ্রেসিভ পার্টির প্রতিদ্বন্দ্বীদের মধ্যে রয়েছে সাম্প্রতিক দুর্নীতিবিরোধী আন্দোলনে নেতৃত্ব দেয়া শিক্ষার্থীদের গঠিত ‘স্টুডেন্টস উইন’ এবং পশ্চিমাপন্থী বিরোধী দলগুলোর জোট ‘ইউরোপিয়ান সার্বিয়া’।
২০১৪ সালে প্রধানমন্ত্রী এবং ২০১৭ সালে প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়ার পর এক দশকের বেশি সময় ধরে সার্বিয়ার রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন ভুচিচ। তিনি সার্বিয়াকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে যুক্ত করার কথা বললেও রাশিয়ার সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক এবং চীনা বিনিয়োগের জন্যও দেশটিকে উন্মুক্ত রাখার নীতি অনুসরণ করেছেন।

সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগকে কেন্দ্র করে এক বছরের বেশি সময় ধরে চলা শিক্ষার্থীদের নেতৃত্বাধীন বিক্ষোভ এবং ক্রমবর্ধমান জন অসন্তোষের মুখে অবশেষে পদত্যাগ করেছেন সার্বিয়ার প্রেসিডেন্ট আলেকজান্ডার ভুচিচ।
রাজধানী বেলগ্রেডে প্রেসিডেন্টের বাসভবনের বাইরে সমর্থকদের উদ্দেশে দেয়া এক ভাষণে ভুচিচ বলেন, তার ৯ বছরের শাসনামলে তিনি দেশে শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রেখেছেন। গত জুনেই তিনি পদত্যাগের ইচ্ছার কথা জানিয়েছিলেন।
সার্বিয়ার সংবিধান অনুযায়ী, প্রেসিডেন্ট হিসেবে তৃতীয়বার প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারবেন না ভুচিচ। তবে আসন্ন সংসদীয় নির্বাচনে নিজের দল প্রগ্রেসিভ পার্টির হয়ে প্রধানমন্ত্রী পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার পরিকল্পনা করছেন তিনি।
ভুচিচের সরকারের বিরুদ্ধে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগকে ঘিরে দীর্ঘদিন ধরেই ক্ষোভ ছিল। ২০২৪ সালে নোভী সাদ রেলস্টেশনের ছাদ ধসে ১৬ জন নিহত হওয়ার ঘটনা সেই ক্ষোভ আরও বাড়িয়ে দেয়। এরপর ছাত্র-শিক্ষক, শ্রমিক ও কৃষকসহ সমাজের বিভিন্ন শ্রেণির মানুষ বিক্ষোভে যোগ দেন।
বিক্ষোভকারীদের শান্ত করতে সরকারের বিভিন্ন পর্যায়ের একাধিক কর্মকর্তা পদত্যাগ করলেও আন্দোলন থামেনি। একপর্যায়ে সরকার পুলিশ মোতায়েন করলে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। পুলিশের বিরুদ্ধে হামলা, নির্যাতন ও নিপীড়নের অভিযোগও ওঠে। বিক্ষোভকারীরা ভুচিচ সরকারের পদত্যাগের পাশাপাশি নতুন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের দাবি জানান।
ভুচিচের পদত্যাগের ফলে সার্বিয়ায় নতুন করে প্রেসিডেন্ট নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।
দেশটির সংবিধান অনুযায়ী, প্রেসিডেন্ট পদত্যাগের তিন মাসের মধ্যে নির্বাচন আয়োজন করতে হবে। একই সময়ে আগামী অক্টোবরের শেষ দিকে সংসদীয় নির্বাচন হওয়ার কথা রয়েছে। ফলে চলতি বছরে সার্বিয়ার জনগণকে দুবার ভোট দিতে হতে পারে।
ভুচিচ জানিয়েছেন, সংসদীয় নির্বাচনের এক মাসের কিছু বেশি সময় পর প্রেসিডেন্ট নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। নতুন প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত সংসদের স্পিকার আনা ব্রনাবিচ অন্তর্বর্তীকালীন প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।
পদত্যাগের আগে সাংবিধানিক ক্ষমতা ব্যবহার করে ৪৯ জনকে ক্ষমা করেছেন ভুচিচ। তাদের মধ্যে ২৩ জন শিক্ষার্থী এবং তার দলের অনুগত নেতাকর্মী রয়েছেন বলে সরকারি গণমাধ্যম আরটিএস জানিয়েছে।
আসন্ন সংসদীয় নির্বাচনে ভুচিচের প্রগ্রেসিভ পার্টির প্রতিদ্বন্দ্বীদের মধ্যে রয়েছে সাম্প্রতিক দুর্নীতিবিরোধী আন্দোলনে নেতৃত্ব দেয়া শিক্ষার্থীদের গঠিত ‘স্টুডেন্টস উইন’ এবং পশ্চিমাপন্থী বিরোধী দলগুলোর জোট ‘ইউরোপিয়ান সার্বিয়া’।
২০১৪ সালে প্রধানমন্ত্রী এবং ২০১৭ সালে প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়ার পর এক দশকের বেশি সময় ধরে সার্বিয়ার রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন ভুচিচ। তিনি সার্বিয়াকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে যুক্ত করার কথা বললেও রাশিয়ার সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক এবং চীনা বিনিয়োগের জন্যও দেশটিকে উন্মুক্ত রাখার নীতি অনুসরণ করেছেন।

আপনার মতামত লিখুন