সারাদেশে প্রতিনিধি নিয়োগ দিচ্ছে ফোরকানুল হক (সাকিব) সম্পাদিত " TV 26 NEWS " আগ্রহীরা দ্রুত যোগাযোগ করুন। সব খবর সবার আগে পেতে আমাদের সাথেই থাকুন। চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) ও এর ওভারফ্লো কনটেইনার ইয়ার্ড (ওসিওয়াই) ১৫ বছরের জন্য পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব বিদেশী অপারেটরের হাতে দেয়ার খসড়া কনসেশন চুক্তিতে নীতিগত অনুমোদন দিয়েছে সরকার। এর মধ্য দিয়ে বন্দরের ব্যস্ততম এই টার্মিনাল পরিচালনায় আন্তর্জাতিক অপারেটর নিয়োগের প্রক্রিয়া আরও এক ধাপ এগোল।
বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) অনুষ্ঠিত অর্থনৈতিক বিষয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের প্রস্তাবের পরিপ্রেক্ষিতে এ অনুমোদনের সুপারিশ করা হয়।
‘অপারেশন অ্যান্ড মেইনটেন্যান্স অব সিপিএ’স নিউ মুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) ইনক্লুডিং ওভারফ্লো ইয়ার্ড (ওসিওয়াই)’ শীর্ষক প্রকল্পটি সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্বের (পিপিপি) আওতায় বাস্তবায়নের পরিকল্পনা রয়েছে।
চট্টগ্রাম বন্দরের গুরুত্বপূর্ণ এই টার্মিনাল বিদেশী অপারেটরের হাতে দেয়ার উদ্যোগ অন্তর্বর্তী সরকারের শেষ সময়ে স্থবির হয়ে পড়ে। নতুন সরকারের সময়ে প্রক্রিয়াটি আবারও গতি পায়। সর্বশেষ খসড়া কনসেশন চুক্তিতে নীতিগত অনুমোদনের মধ্য দিয়ে দীর্ঘদিনের আলোচনা আরও এগোল।
পিপিপি কর্তৃপক্ষের প্রকল্প প্রোফাইল অনুযায়ী, চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ (চবক) এনসিটি আধুনিকায়ন, পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব দুবাইভিত্তিক ডিপি ওয়ার্ল্ডকে দেয়ার পরিকল্পনা করছে। সরকার-টু-সরকার (জিটুজি) কনসেশন কাঠামোয় প্রকল্পটি বাস্তবায়নের জন্য দুবাই সরকারও ডিপি ওয়ার্ল্ডকে মনোনীত করেছে।
এর আগে ২০২৩ সালের ২৩ মার্চ অর্থনৈতিক বিষয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি প্রকল্পটির চুক্তি প্রক্রিয়া এগিয়ে নেয়ার বিষয়ে প্রাথমিক নীতিগত অনুমোদন দিয়েছিল। এবার ১৫ বছরের জন্য টার্মিনাল পরিচালনার খসড়া কনসেশন চুক্তি অনুমোদনের সুপারিশ করা হলো।
বর্তমানে বাংলাদেশ নৌবাহিনীর প্রতিষ্ঠান চিটাগং ড্রাই ডক কোম্পানি লিমিটেড (সিডিডিএল) টার্মিনালটি পরিচালনা করছে। বছরে প্রায় ১৩ লাখ একক কনটেইনার (টিইইউ) এই টার্মিনাল দিয়ে হ্যান্ডলিং হয়, যা চট্টগ্রাম বন্দরের মোট কনটেইনার হ্যান্ডলিংয়ের প্রায় ৪৪ শতাংশ।
ডিপি ওয়ার্ল্ডের সঙ্গে আলোচনা আবারও গতি পেয়েছে
এনসিটি পরিচালনার দায়িত্ব ডিপি ওয়ার্ল্ডকে দেয়ার বিষয়ে সরকারের সঙ্গে প্রতিষ্ঠানটির আলোচনা কয়েক বছর ধরে চলছে। অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে প্রক্রিয়াটি এগোলেও খসড়া কনসেশন চুক্তি পর্যালোচনার জন্য ডিপি ওয়ার্ল্ড অতিরিক্ত সময় চাওয়ায় তা চূড়ান্ত হয়নি। পরে নতুন সরকার দায়িত্ব নেয়ার পর প্রক্রিয়াটি আবারও সচল হয়।
গত মে মাসে পিপিপি মডেলের আওতায় এনসিটি বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় পরিচালনার প্রস্তাব মূল্যায়নে গঠিত কমিটি পুনর্গঠনের জন্য চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেয় নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়। তখন মন্ত্রণালয় জানিয়েছিল, ডিপি ওয়ার্ল্ডের প্রস্তাব মূল্যায়ন করা হচ্ছে। অন্য কোনো প্রস্তাবের বিষয়ে তখনো সিদ্ধান্ত নেয়া হয়নি।
এরপর এনসিটি প্রকল্পের বিষয়ে আলোচনা পরিচালনাকারী কমিটিকে সহায়তা করতে ১২ সদস্যের একটি সাপোর্ট টিম গঠন করে চবক। এতে ডিপি ওয়ার্ল্ডের সঙ্গে আলোচনা আরও এগিয়ে নেয়ার প্রস্তুতির ইঙ্গিত পাওয়া যায়।
পিপিপি কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, প্রকল্পটির লেনদেন পরামর্শক হিসেবে নিয়োগ পেয়েছে আন্তর্জাতিক ফাইন্যান্স করপোরেশন (আইএফসি)। প্রকল্পের সম্ভাব্যতা যাচাই, লেনদেন কাঠামো নির্ধারণ, দরপত্রের অনুরোধ (আরএফপি) ও কনসেশন চুক্তির খসড়া তৈরি এবং নির্বাচিত আন্তর্জাতিক টার্মিনাল অপারেটরের সঙ্গে আলোচনা এগিয়ে নেয়ার দায়িত্ব পালন করছে সংস্থাটি।
বন্দরের সবচেয়ে বেশি কনটেইনার হ্যান্ডলিং হয় এনসিটিতে
চট্টগ্রাম বন্দরের সবচেয়ে বড় কনটেইনার হ্যান্ডলিং সুবিধা রয়েছে নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনালে। বন্দর কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে বন্দরের মোট কনটেইনার হ্যান্ডলিংয়ের প্রায় ৪৪ শতাংশ হয়েছে এই টার্মিনালে।
বর্তমানে চট্টগ্রাম বন্দরে চারটি কনটেইনার টার্মিনাল রয়েছে নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি), চট্টগ্রাম কনটেইনার টার্মিনাল (সিসিটি), জেনারেল কার্গো বার্থ (জিসিবি) এবং পতেঙ্গা কনটেইনার টার্মিনাল (পিসিটি)।
এনসিটি, সিসিটি ও জিসিবি স্থানীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর মাধ্যমে পরিচালিত হচ্ছে। অন্যদিকে সৌদি আরবভিত্তিক রেড সি গেটওয়ে টার্মিনাল ২২ বছরের কনসেশন চুক্তির আওতায় পতেঙ্গা কনটেইনার টার্মিনাল পরিচালনা করছে।
এনসিটি পরিচালনার দায়িত্বও বিদেশী অপারেটরের হাতে গেলে চট্টগ্রাম বন্দরের কনটেইনার টার্মিনাল ব্যবস্থাপনায় বিদেশী প্রতিষ্ঠানের অংশগ্রহণ আরও বাড়বে। এরই মধ্যে ডেনমার্কভিত্তিক এপিএম টার্মিনালসকে পিপিপি কনসেশনের আওতায় গ্রিনফিল্ড লালদিয়া কনটেইনার টার্মিনাল নির্মাণ ও পরিচালনার দায়িত্ব দিয়েছে সরকার।
তবে লালদিয়া প্রকল্পের সঙ্গে এনসিটির বড় পার্থক্য রয়েছে। লালদিয়া টার্মিনাল নতুন করে নির্মাণ করা হবে। অন্যদিকে এনসিটি আগে থেকেই চালু রয়েছে এবং এর অবকাঠামো উন্নয়নে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ উল্লেখযোগ্য বিনিয়োগ করেছে।

শুক্রবার, ০২ অক্টোবর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০১ অক্টোবর ২০২৬
চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) ও এর ওভারফ্লো কনটেইনার ইয়ার্ড (ওসিওয়াই) ১৫ বছরের জন্য পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব বিদেশী অপারেটরের হাতে দেয়ার খসড়া কনসেশন চুক্তিতে নীতিগত অনুমোদন দিয়েছে সরকার। এর মধ্য দিয়ে বন্দরের ব্যস্ততম এই টার্মিনাল পরিচালনায় আন্তর্জাতিক অপারেটর নিয়োগের প্রক্রিয়া আরও এক ধাপ এগোল।
বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) অনুষ্ঠিত অর্থনৈতিক বিষয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের প্রস্তাবের পরিপ্রেক্ষিতে এ অনুমোদনের সুপারিশ করা হয়।
‘অপারেশন অ্যান্ড মেইনটেন্যান্স অব সিপিএ’স নিউ মুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) ইনক্লুডিং ওভারফ্লো ইয়ার্ড (ওসিওয়াই)’ শীর্ষক প্রকল্পটি সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্বের (পিপিপি) আওতায় বাস্তবায়নের পরিকল্পনা রয়েছে।
চট্টগ্রাম বন্দরের গুরুত্বপূর্ণ এই টার্মিনাল বিদেশী অপারেটরের হাতে দেয়ার উদ্যোগ অন্তর্বর্তী সরকারের শেষ সময়ে স্থবির হয়ে পড়ে। নতুন সরকারের সময়ে প্রক্রিয়াটি আবারও গতি পায়। সর্বশেষ খসড়া কনসেশন চুক্তিতে নীতিগত অনুমোদনের মধ্য দিয়ে দীর্ঘদিনের আলোচনা আরও এগোল।
পিপিপি কর্তৃপক্ষের প্রকল্প প্রোফাইল অনুযায়ী, চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ (চবক) এনসিটি আধুনিকায়ন, পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব দুবাইভিত্তিক ডিপি ওয়ার্ল্ডকে দেয়ার পরিকল্পনা করছে। সরকার-টু-সরকার (জিটুজি) কনসেশন কাঠামোয় প্রকল্পটি বাস্তবায়নের জন্য দুবাই সরকারও ডিপি ওয়ার্ল্ডকে মনোনীত করেছে।
এর আগে ২০২৩ সালের ২৩ মার্চ অর্থনৈতিক বিষয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি প্রকল্পটির চুক্তি প্রক্রিয়া এগিয়ে নেয়ার বিষয়ে প্রাথমিক নীতিগত অনুমোদন দিয়েছিল। এবার ১৫ বছরের জন্য টার্মিনাল পরিচালনার খসড়া কনসেশন চুক্তি অনুমোদনের সুপারিশ করা হলো।
বর্তমানে বাংলাদেশ নৌবাহিনীর প্রতিষ্ঠান চিটাগং ড্রাই ডক কোম্পানি লিমিটেড (সিডিডিএল) টার্মিনালটি পরিচালনা করছে। বছরে প্রায় ১৩ লাখ একক কনটেইনার (টিইইউ) এই টার্মিনাল দিয়ে হ্যান্ডলিং হয়, যা চট্টগ্রাম বন্দরের মোট কনটেইনার হ্যান্ডলিংয়ের প্রায় ৪৪ শতাংশ।
ডিপি ওয়ার্ল্ডের সঙ্গে আলোচনা আবারও গতি পেয়েছে
এনসিটি পরিচালনার দায়িত্ব ডিপি ওয়ার্ল্ডকে দেয়ার বিষয়ে সরকারের সঙ্গে প্রতিষ্ঠানটির আলোচনা কয়েক বছর ধরে চলছে। অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে প্রক্রিয়াটি এগোলেও খসড়া কনসেশন চুক্তি পর্যালোচনার জন্য ডিপি ওয়ার্ল্ড অতিরিক্ত সময় চাওয়ায় তা চূড়ান্ত হয়নি। পরে নতুন সরকার দায়িত্ব নেয়ার পর প্রক্রিয়াটি আবারও সচল হয়।
গত মে মাসে পিপিপি মডেলের আওতায় এনসিটি বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় পরিচালনার প্রস্তাব মূল্যায়নে গঠিত কমিটি পুনর্গঠনের জন্য চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেয় নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়। তখন মন্ত্রণালয় জানিয়েছিল, ডিপি ওয়ার্ল্ডের প্রস্তাব মূল্যায়ন করা হচ্ছে। অন্য কোনো প্রস্তাবের বিষয়ে তখনো সিদ্ধান্ত নেয়া হয়নি।
এরপর এনসিটি প্রকল্পের বিষয়ে আলোচনা পরিচালনাকারী কমিটিকে সহায়তা করতে ১২ সদস্যের একটি সাপোর্ট টিম গঠন করে চবক। এতে ডিপি ওয়ার্ল্ডের সঙ্গে আলোচনা আরও এগিয়ে নেয়ার প্রস্তুতির ইঙ্গিত পাওয়া যায়।
পিপিপি কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, প্রকল্পটির লেনদেন পরামর্শক হিসেবে নিয়োগ পেয়েছে আন্তর্জাতিক ফাইন্যান্স করপোরেশন (আইএফসি)। প্রকল্পের সম্ভাব্যতা যাচাই, লেনদেন কাঠামো নির্ধারণ, দরপত্রের অনুরোধ (আরএফপি) ও কনসেশন চুক্তির খসড়া তৈরি এবং নির্বাচিত আন্তর্জাতিক টার্মিনাল অপারেটরের সঙ্গে আলোচনা এগিয়ে নেয়ার দায়িত্ব পালন করছে সংস্থাটি।
বন্দরের সবচেয়ে বেশি কনটেইনার হ্যান্ডলিং হয় এনসিটিতে
চট্টগ্রাম বন্দরের সবচেয়ে বড় কনটেইনার হ্যান্ডলিং সুবিধা রয়েছে নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনালে। বন্দর কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে বন্দরের মোট কনটেইনার হ্যান্ডলিংয়ের প্রায় ৪৪ শতাংশ হয়েছে এই টার্মিনালে।
বর্তমানে চট্টগ্রাম বন্দরে চারটি কনটেইনার টার্মিনাল রয়েছে নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি), চট্টগ্রাম কনটেইনার টার্মিনাল (সিসিটি), জেনারেল কার্গো বার্থ (জিসিবি) এবং পতেঙ্গা কনটেইনার টার্মিনাল (পিসিটি)।
এনসিটি, সিসিটি ও জিসিবি স্থানীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর মাধ্যমে পরিচালিত হচ্ছে। অন্যদিকে সৌদি আরবভিত্তিক রেড সি গেটওয়ে টার্মিনাল ২২ বছরের কনসেশন চুক্তির আওতায় পতেঙ্গা কনটেইনার টার্মিনাল পরিচালনা করছে।
এনসিটি পরিচালনার দায়িত্বও বিদেশী অপারেটরের হাতে গেলে চট্টগ্রাম বন্দরের কনটেইনার টার্মিনাল ব্যবস্থাপনায় বিদেশী প্রতিষ্ঠানের অংশগ্রহণ আরও বাড়বে। এরই মধ্যে ডেনমার্কভিত্তিক এপিএম টার্মিনালসকে পিপিপি কনসেশনের আওতায় গ্রিনফিল্ড লালদিয়া কনটেইনার টার্মিনাল নির্মাণ ও পরিচালনার দায়িত্ব দিয়েছে সরকার।
তবে লালদিয়া প্রকল্পের সঙ্গে এনসিটির বড় পার্থক্য রয়েছে। লালদিয়া টার্মিনাল নতুন করে নির্মাণ করা হবে। অন্যদিকে এনসিটি আগে থেকেই চালু রয়েছে এবং এর অবকাঠামো উন্নয়নে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ উল্লেখযোগ্য বিনিয়োগ করেছে।

আপনার মতামত লিখুন