সারাদেশে প্রতিনিধি নিয়োগ দিচ্ছে ফোরকানুল হক (সাকিব) সম্পাদিত " TV 26 NEWS " আগ্রহীরা দ্রুত যোগাযোগ করুন। সব খবর সবার আগে পেতে আমাদের সাথেই থাকুন। দীর্ঘ তিন মাসের অবর্ণনীয় মানসিক যন্ত্রণা, উপেক্ষা আর প্রতিটি মুহূর্তের শঙ্কার অবসান ঘটিয়ে নিয়তির নির্মম পরিহাসে ঘর থেকে হারিয়ে যাওয়া নিজের ভালোবাসার মানুষ, মানসিকভাবে অসুস্থ স্ত্রীকে অবশেষে ফিরে পেয়েছেন এক স্বামী।
মানিকগঞ্জের সাটুরিয়া এলাকায় ঘটে যাওয়া এই হৃদয়স্পর্শী ও আবেগঘন পুনর্মিলনের দৃশ্য এখন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। ভিডিওটি দেখে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়ছেন অসংখ্য মানুষ।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রায় তিন মাস আগে মানিকগঞ্জের সাটুরিয়ার নিজ বাড়ি থেকে হঠাৎ নিখোঁজ হন মানসিকভাবে অসুস্থ ওই নারী। ঘর ফাঁকা করে প্রিয়তমা স্ত্রী কোথায় চলে গেলেন— এই চিন্তায় পাগলপ্রায় হয়ে যান তার স্বামী। দিন-রাত এক করে আত্মীয়-স্বজনের বাড়ি, রেলস্টেশন, বাস টার্মিনাল, মাজারসহ বিভিন্ন স্থানে এবং অচেনা শহরের অলিগলিতে হন্যে হয়ে খুঁজেছেন স্ত্রীকে।
অন্যদিকে, নিজের নাম-ঠিকানা পর্যন্ত ভুলে যাওয়া সেই অসহায় নারী তখন মানিকগঞ্জের সিংগাইরের গোবিন্দল গ্রামের রাস্তার পাশে দিন কাটাচ্ছিলেন। রোদ-বৃষ্টি মাথায় নিয়ে ক্ষুধার্ত অবস্থায় মানুষের দ্বারে দ্বারে ঘুরছিলেন একটু আশ্রয়ের আশায়। সমাজের চেনা ভিড়ের মধ্যেও তিনি তখন এক চরম একাকীত্বের অন্ধকারে নিমজ্জিত ছিলেন।
যখন সব আশা প্রায় ম্লান হয়ে আসছিল, ঠিক তখনই আশার আলো হয়ে সামনে আসেন ‘ভয়েস অব রবিউল ভাই’ নামের স্থানীয় এক ডিজিটাল কনটেন্ট ক্রিয়েটর। রাস্তার পাশে ওই নারীর অসহায়ত্বের বিষয়টি তুলে ধরে একটি হৃদয়স্পর্শী ভিডিও তৈরি করেন এবং তা ফেসবুকে শেয়ার করেন তিনি।
ভিডিওটি প্রকাশের পর দ্রুতই তা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। অসংখ্য মানুষের শেয়ারের মাধ্যমে একপর্যায়ে ভিডিওটি পৌঁছে যায় ওই নারীর স্বামীর মোবাইল ফোনে।
ভিডিওতে নিজের স্ত্রীকে দেখামাত্রই আর এক মুহূর্তও দেরি করেননি তিনি। পরিচয় ও অবস্থান নিশ্চিত করে দ্রুত ছুটে যান নির্দিষ্ট স্থানে। অবশেষে গত মঙ্গলবার ২৮ সেপ্টেম্বর দীর্ঘ প্রায় তিন মাস পর স্বামী তার নিখোঁজ স্ত্রীকে খুঁজে পান।
ঘটনাস্থলে স্বামী পৌঁছানোর পর তৈরি হয় এক অবিশ্বাস্য ও আবেগঘন মুহূর্ত। মানসিকভাবে অসুস্থ হলেও এতদিনের চেনা মানুষটিকে দেখামাত্রই চিনতে বিন্দুমাত্র ভুল করেননি ওই নারী। দীর্ঘদিনের অবহেলা, কষ্ট ও একাকীত্ব যেন মুহূর্তেই ভুলে গিয়ে রাস্তার পাশে পড়ে থাকা ধুলো মাখা স্ত্রীকে জড়িয়ে ধরেন স্বামী
স্ত্রী ও বুকে জড়িয়ে ধরে কান্নায় ভেঙে পড়েন। উপস্থিত পথচারী ও স্থানীয় বাসিন্দারা তখন অপলক দৃষ্টিতে তাকিয়ে দেখছিলেন ভালোবাসা ও আবেগে ভরা সেই পুনর্মিলনের দৃশ্য।
যে নারী এতদিন কারও সঙ্গে ঠিকমতো কথা বলতে পারছিলেন না, তিনিই স্বামীর কাছে ফিরে এসে যেন খুঁজে পেলেন পৃথিবীর সবচেয়ে নিরাপদ আশ্রয়। স্ত্রীকে ফিরে পেয়ে চোখের জল মুছতে মুছতে আকাশের দিকে তাকিয়ে আল্লাহর প্রতি অসীম কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন তার স্বামী।
স্ত্রীকে খুঁজে পাওয়ার পরের দিন, ২৯ সেপ্টেম্বর, তাদের এই আবেগঘন পুনর্মিলনের ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে ভাইরাল হয়ে যায়। ভিডিওটি দেখে অনেকেই আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন এবং কনটেন্ট ক্রিয়েটরের এমন মানবিক উদ্যোগের প্রশংসা করেন।
কনটেন্ট ক্রিয়েটর রবিউল হক বলেন, ‘রাস্তার পাশে অসহায় অবস্থায় ওই নারীকে দেখে আমার ভীষণ কষ্ট হয়। তখনই মনে হয়েছিল, যেভাবেই হোক তাকে তার পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দিতে হবে। সেই উদ্দেশ্যেই তার বিষয়টি নিয়ে একটি ভিডিও করে ফেসবুকে শেয়ার করেছিলাম। অবশেষে গত মঙ্গলবার তার স্বামী এসে তাকে নিয়ে যান। সেই মুহূর্তটি আমার জন্য সত্যিই আবেগঘন ও স্মরণীয় হয়ে থাকবে। তাকে পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দিতে পেরে আমিও আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েছিলাম। সবশেষে, একজন অসহায় মানুষকে তার আপনজনদের কাছে ফিরিয়ে দিতে পেরেছি এটাই আমার কাছে সবচেয়ে বড় পাওয়া।’

শনিবার, ০৩ অক্টোবর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০২ অক্টোবর ২০২৬
দীর্ঘ তিন মাসের অবর্ণনীয় মানসিক যন্ত্রণা, উপেক্ষা আর প্রতিটি মুহূর্তের শঙ্কার অবসান ঘটিয়ে নিয়তির নির্মম পরিহাসে ঘর থেকে হারিয়ে যাওয়া নিজের ভালোবাসার মানুষ, মানসিকভাবে অসুস্থ স্ত্রীকে অবশেষে ফিরে পেয়েছেন এক স্বামী।
মানিকগঞ্জের সাটুরিয়া এলাকায় ঘটে যাওয়া এই হৃদয়স্পর্শী ও আবেগঘন পুনর্মিলনের দৃশ্য এখন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। ভিডিওটি দেখে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়ছেন অসংখ্য মানুষ।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রায় তিন মাস আগে মানিকগঞ্জের সাটুরিয়ার নিজ বাড়ি থেকে হঠাৎ নিখোঁজ হন মানসিকভাবে অসুস্থ ওই নারী। ঘর ফাঁকা করে প্রিয়তমা স্ত্রী কোথায় চলে গেলেন— এই চিন্তায় পাগলপ্রায় হয়ে যান তার স্বামী। দিন-রাত এক করে আত্মীয়-স্বজনের বাড়ি, রেলস্টেশন, বাস টার্মিনাল, মাজারসহ বিভিন্ন স্থানে এবং অচেনা শহরের অলিগলিতে হন্যে হয়ে খুঁজেছেন স্ত্রীকে।
অন্যদিকে, নিজের নাম-ঠিকানা পর্যন্ত ভুলে যাওয়া সেই অসহায় নারী তখন মানিকগঞ্জের সিংগাইরের গোবিন্দল গ্রামের রাস্তার পাশে দিন কাটাচ্ছিলেন। রোদ-বৃষ্টি মাথায় নিয়ে ক্ষুধার্ত অবস্থায় মানুষের দ্বারে দ্বারে ঘুরছিলেন একটু আশ্রয়ের আশায়। সমাজের চেনা ভিড়ের মধ্যেও তিনি তখন এক চরম একাকীত্বের অন্ধকারে নিমজ্জিত ছিলেন।
যখন সব আশা প্রায় ম্লান হয়ে আসছিল, ঠিক তখনই আশার আলো হয়ে সামনে আসেন ‘ভয়েস অব রবিউল ভাই’ নামের স্থানীয় এক ডিজিটাল কনটেন্ট ক্রিয়েটর। রাস্তার পাশে ওই নারীর অসহায়ত্বের বিষয়টি তুলে ধরে একটি হৃদয়স্পর্শী ভিডিও তৈরি করেন এবং তা ফেসবুকে শেয়ার করেন তিনি।
ভিডিওটি প্রকাশের পর দ্রুতই তা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। অসংখ্য মানুষের শেয়ারের মাধ্যমে একপর্যায়ে ভিডিওটি পৌঁছে যায় ওই নারীর স্বামীর মোবাইল ফোনে।
ভিডিওতে নিজের স্ত্রীকে দেখামাত্রই আর এক মুহূর্তও দেরি করেননি তিনি। পরিচয় ও অবস্থান নিশ্চিত করে দ্রুত ছুটে যান নির্দিষ্ট স্থানে। অবশেষে গত মঙ্গলবার ২৮ সেপ্টেম্বর দীর্ঘ প্রায় তিন মাস পর স্বামী তার নিখোঁজ স্ত্রীকে খুঁজে পান।
ঘটনাস্থলে স্বামী পৌঁছানোর পর তৈরি হয় এক অবিশ্বাস্য ও আবেগঘন মুহূর্ত। মানসিকভাবে অসুস্থ হলেও এতদিনের চেনা মানুষটিকে দেখামাত্রই চিনতে বিন্দুমাত্র ভুল করেননি ওই নারী। দীর্ঘদিনের অবহেলা, কষ্ট ও একাকীত্ব যেন মুহূর্তেই ভুলে গিয়ে রাস্তার পাশে পড়ে থাকা ধুলো মাখা স্ত্রীকে জড়িয়ে ধরেন স্বামী
স্ত্রী ও বুকে জড়িয়ে ধরে কান্নায় ভেঙে পড়েন। উপস্থিত পথচারী ও স্থানীয় বাসিন্দারা তখন অপলক দৃষ্টিতে তাকিয়ে দেখছিলেন ভালোবাসা ও আবেগে ভরা সেই পুনর্মিলনের দৃশ্য।
যে নারী এতদিন কারও সঙ্গে ঠিকমতো কথা বলতে পারছিলেন না, তিনিই স্বামীর কাছে ফিরে এসে যেন খুঁজে পেলেন পৃথিবীর সবচেয়ে নিরাপদ আশ্রয়। স্ত্রীকে ফিরে পেয়ে চোখের জল মুছতে মুছতে আকাশের দিকে তাকিয়ে আল্লাহর প্রতি অসীম কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন তার স্বামী।
স্ত্রীকে খুঁজে পাওয়ার পরের দিন, ২৯ সেপ্টেম্বর, তাদের এই আবেগঘন পুনর্মিলনের ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে ভাইরাল হয়ে যায়। ভিডিওটি দেখে অনেকেই আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন এবং কনটেন্ট ক্রিয়েটরের এমন মানবিক উদ্যোগের প্রশংসা করেন।
কনটেন্ট ক্রিয়েটর রবিউল হক বলেন, ‘রাস্তার পাশে অসহায় অবস্থায় ওই নারীকে দেখে আমার ভীষণ কষ্ট হয়। তখনই মনে হয়েছিল, যেভাবেই হোক তাকে তার পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দিতে হবে। সেই উদ্দেশ্যেই তার বিষয়টি নিয়ে একটি ভিডিও করে ফেসবুকে শেয়ার করেছিলাম। অবশেষে গত মঙ্গলবার তার স্বামী এসে তাকে নিয়ে যান। সেই মুহূর্তটি আমার জন্য সত্যিই আবেগঘন ও স্মরণীয় হয়ে থাকবে। তাকে পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দিতে পেরে আমিও আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েছিলাম। সবশেষে, একজন অসহায় মানুষকে তার আপনজনদের কাছে ফিরিয়ে দিতে পেরেছি এটাই আমার কাছে সবচেয়ে বড় পাওয়া।’

আপনার মতামত লিখুন