ঢাকা    রোববার, ০৪ অক্টোবর ২০২৬
ঢাকা    রোববার, ০৪ অক্টোবর ২০২৬
টিভি ২৬ নিউজ
নোটিশ
  • টিভি ২৬ নিউজ  সারাদেশে প্রতিনিধি নিয়োগ দিচ্ছে ফোরকানুল হক (সাকিব) সম্পাদিত " TV 26 NEWS " আগ্রহীরা দ্রুত যোগাযোগ করুন। সব খবর সবার আগে পেতে আমাদের সাথেই থাকুন।
সর্বশেষ

নেপালে পালিয়ে মানবপাচার চক্র গড়ে তুলেছেন আওয়ামী লীগ নেত্রী


TV 26 NEWS ডেস্ক :
TV 26 NEWS ডেস্ক :
প্রকাশ ০৪ অক্টোবর ২০২৬ | ০১:১৭ পিএম
| প্রিন্ট সংস্করণ | ফটো কার্ড

নেপালে পালিয়ে মানবপাচার চক্র গড়ে তুলেছেন আওয়ামী লীগ নেত্রী
ফাহিমা আকতার হোসনা

ফাহিমা আকতার হোসনা, কার্যক্রম নিষিদ্ধ মহিলা আওয়ামী লীগের গাজীপুর মহানগরের সাধারণ সম্পাদক। আওয়ামী লীগের পতনের পরপর পালিয়ে নেপাল চলে যান। সেখানে তিনি গড়ে তুলেছেন মানবপাচারের ভয়ংকর সিন্ডিকেট। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ, তিনি কাজের কথা বলে নারীদের দিয়ে পতিতাবৃত্তি করান। ধনীদের টার্গেট করে ব্ল্যাকমেইল করেন। সম্প্রতি, ব্ল্যাকমেইল করে একজনকে বিয়ে করার অভিযোগও পাওয়া গেছে।

শুধু তাই নয়, কাঠমান্ডুর থামেলের মুসলিম গলিতে ঢাকা এক্সপ্রেস নামের একটি হোটেলের মালিককে ব্ল্যাকমেইল করে, তা দখল করে নেয়ার অভিযোগ রয়েছে ফাহিমার বিরুদ্ধে। এই অভিযোগে, সেপ্টেম্বরের প্রথম সপ্তাহে তাকেসহ ১০ জনকে গ্রেপ্তার করেছে নেপাল পুলিশ। তবে, দুই সপ্তাহ পর জামিনে বেরিয়ে শ্রীলঙ্কা পালিয়েছেন এই আওয়ামী লীগ নেত্রী।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কাঠমান্ডুতে অবস্থানরত এক বাংলাদেশী ব্যবসায়ী জানান, এখানে একটা সিন্ডিকেট চলে। আগে দেখতাম, প্রচুর পরিমাণে মেয়েরা আসত। গাজীপুরের যে হোসনা, উনি মূলত এখানকার ‘সর্দানি’ টাইপের ছিল। কিছু কিছু মেয়ে আছে, যারা প্রস্টিটিউশনের মধ্যে জড়ায়। আবার কিছু কিছু আছে যারা এখান থেকে চায়নায় চলে যেত।

কাঠমান্ডুতে এমন আরও ৩ থেকে ৪টি মানবপাচারকারী চক্র সক্রিয়। যারা মূলত ইউরোপে নেয়ার কথা বলে সেফ হাউজে রাখে এবং নারী-শিশুদের পাচার করে।

এ বিষয়ে নেপালে বাংলাদেশী দূতাবাসের ফার্স্ট কনস্যুলার শোয়েব আব্দুল্লাহ জানান, দালাল চক্র এ ধরনের পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে মানুষকে এক্সপ্লয়েট করা শুরু করে। যেমন, হয়তো ১০ জন যাওয়ার কথা ছিল, কিন্তু দালাল চক্র আরও ৩০ জনকে নিয়ে এসে বলত, ‘তোমাদের সবাইকে ক্রোয়েশিয়া পাঠাব। তোমাদের পরশুদিন ভিএফএস ফেস করতে হবে। তোমরা আসো।’ এরপর তারা ওই ব্যক্তিদের পাসপোর্ট নিয়ে নিত। পরে ৩০টি পাসপোর্ট নিয়ে দালাল চক্রের সদস্য উধাও হয়ে যেত। এরপর তাদের ব্ল্যাকমেইল করার মতো ঘটনাও ঘটতে শুরু করে। এ ধরনের ঘটনা আমরা সিরিয়া-লিবিয়াতেও অনেক শুনেছি। এখানেও এ ধরনের কিছু ঘটনা শুরু হয়েছিল।

নেপালের ইমিগ্রেশন বিভাগ বলছে, গত তিন মাসে মানবপাচারে জড়িত তিনটি গ্রুপকে আটক করা হয়েছে। স্টার নিউজকে ইমিগ্রেশন কর্মকর্তারা জানান, নেপালে মানবপাচারসহ অপরাধমূলক কাজে সবচেয়ে বেশি জড়িত চীনা নাগরিক। দ্বিতীয় অবস্থানে বাংলাদেশিরা। গত এক বছরে বিভিন্ন অপরাধে প্রায় ১০০ বাংলাদেশিকে আটক করে ঢাকায় ফেরত পাঠানো হয়েছে।

নেপাল ইমিগ্রেশন বিভাগের পরিচালক টিকা রাম ধাকাল জানিয়েছেন, বাংলাদেশী নাগরিকদের মধ্যে মানবপাচারের সঙ্গে অভিযুক্ত অনেককে শনাক্ত করতে পেরেছে নেপাল। তবে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে গিয়ে কিছু জটিলতার মুখে পড়তে হয়।

তিনি বলেন, মানবপাচারের ঘটনায় অনেক ভুক্তভোগী অভিযোগ করতে আগ্রহী হন না। পাশাপাশি অনেক ক্ষেত্রে অপরাধের যথেষ্ট প্রমাণও পাওয়া যায় না। এ কারণে আইনি প্রক্রিয়ায় তাদের আটকে রাখার সুযোগ থাকে না। এ ধরনের পরিস্থিতিতে দূতাবাসকে বিষয়টি জানিয়ে সংশ্লিষ্টদের নিজ দেশে ফেরত পাঠানো হয়।

মানবপাচারে জড়িত চক্রের কারণে বেশ বিব্রত নেপালের বাংলাদেশী দূতাবাস।

তবে, এসব নিয়ে জিরো টলারেন্সের কথা জানিয়ে নেপালে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত শফিকুর রহমান জানান, প্রায় ৫টা থেকে ৭টা হোটেলের নাম আমরা শুনেছি। কিছু ‘খাবার’ হোটেল এবং কিছু হলো ‘থাকা’ ও ‘খাবার’ হোটেল। এই ধরনের, মাঝে মাঝে আমাদের কাছে রিপোর্ট আসে যে, সেখান থেকে ২ থেকে ১ জন অ্যারেস্ট হয়।

ভিসা সহজ এবং খরচের দিক দিয়ে বাংলাদেশের সবচেয়ে বন্ধু রাষ্ট্র নেপাল। কিন্তু মানবপাচারকারী দৌরাত্ম্যে দুই দেশের সম্পর্কে হয়তো শিগগিরই টানাপোড়েন শুরু হবে। নেপালের মতো দেশও যদি বাংলাদেশের পাসপোর্ট দেখে মুখ ফিরিয়ে নেয়, তাহলে আন্তর্জাতিক পরিসরে বাংলাদেশের অবস্থান কোথায় গিয়ে দাঁড়াবে?

আপনার মতামত লিখুন

টিভি ২৬ নিউজ

রোববার, ০৪ অক্টোবর ২০২৬


নেপালে পালিয়ে মানবপাচার চক্র গড়ে তুলেছেন আওয়ামী লীগ নেত্রী

প্রকাশের তারিখ : ০৪ অক্টোবর ২০২৬

featured Image

ফাহিমা আকতার হোসনা, কার্যক্রম নিষিদ্ধ মহিলা আওয়ামী লীগের গাজীপুর মহানগরের সাধারণ সম্পাদক। আওয়ামী লীগের পতনের পরপর পালিয়ে নেপাল চলে যান। সেখানে তিনি গড়ে তুলেছেন মানবপাচারের ভয়ংকর সিন্ডিকেট। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ, তিনি কাজের কথা বলে নারীদের দিয়ে পতিতাবৃত্তি করান। ধনীদের টার্গেট করে ব্ল্যাকমেইল করেন। সম্প্রতি, ব্ল্যাকমেইল করে একজনকে বিয়ে করার অভিযোগও পাওয়া গেছে।

শুধু তাই নয়, কাঠমান্ডুর থামেলের মুসলিম গলিতে ঢাকা এক্সপ্রেস নামের একটি হোটেলের মালিককে ব্ল্যাকমেইল করে, তা দখল করে নেয়ার অভিযোগ রয়েছে ফাহিমার বিরুদ্ধে। এই অভিযোগে, সেপ্টেম্বরের প্রথম সপ্তাহে তাকেসহ ১০ জনকে গ্রেপ্তার করেছে নেপাল পুলিশ। তবে, দুই সপ্তাহ পর জামিনে বেরিয়ে শ্রীলঙ্কা পালিয়েছেন এই আওয়ামী লীগ নেত্রী।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কাঠমান্ডুতে অবস্থানরত এক বাংলাদেশী ব্যবসায়ী জানান, এখানে একটা সিন্ডিকেট চলে। আগে দেখতাম, প্রচুর পরিমাণে মেয়েরা আসত। গাজীপুরের যে হোসনা, উনি মূলত এখানকার ‘সর্দানি’ টাইপের ছিল। কিছু কিছু মেয়ে আছে, যারা প্রস্টিটিউশনের মধ্যে জড়ায়। আবার কিছু কিছু আছে যারা এখান থেকে চায়নায় চলে যেত।

কাঠমান্ডুতে এমন আরও ৩ থেকে ৪টি মানবপাচারকারী চক্র সক্রিয়। যারা মূলত ইউরোপে নেয়ার কথা বলে সেফ হাউজে রাখে এবং নারী-শিশুদের পাচার করে।

এ বিষয়ে নেপালে বাংলাদেশী দূতাবাসের ফার্স্ট কনস্যুলার শোয়েব আব্দুল্লাহ জানান, দালাল চক্র এ ধরনের পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে মানুষকে এক্সপ্লয়েট করা শুরু করে। যেমন, হয়তো ১০ জন যাওয়ার কথা ছিল, কিন্তু দালাল চক্র আরও ৩০ জনকে নিয়ে এসে বলত, ‘তোমাদের সবাইকে ক্রোয়েশিয়া পাঠাব। তোমাদের পরশুদিন ভিএফএস ফেস করতে হবে। তোমরা আসো।’ এরপর তারা ওই ব্যক্তিদের পাসপোর্ট নিয়ে নিত। পরে ৩০টি পাসপোর্ট নিয়ে দালাল চক্রের সদস্য উধাও হয়ে যেত। এরপর তাদের ব্ল্যাকমেইল করার মতো ঘটনাও ঘটতে শুরু করে। এ ধরনের ঘটনা আমরা সিরিয়া-লিবিয়াতেও অনেক শুনেছি। এখানেও এ ধরনের কিছু ঘটনা শুরু হয়েছিল।

নেপালের ইমিগ্রেশন বিভাগ বলছে, গত তিন মাসে মানবপাচারে জড়িত তিনটি গ্রুপকে আটক করা হয়েছে। স্টার নিউজকে ইমিগ্রেশন কর্মকর্তারা জানান, নেপালে মানবপাচারসহ অপরাধমূলক কাজে সবচেয়ে বেশি জড়িত চীনা নাগরিক। দ্বিতীয় অবস্থানে বাংলাদেশিরা। গত এক বছরে বিভিন্ন অপরাধে প্রায় ১০০ বাংলাদেশিকে আটক করে ঢাকায় ফেরত পাঠানো হয়েছে।

নেপাল ইমিগ্রেশন বিভাগের পরিচালক টিকা রাম ধাকাল জানিয়েছেন, বাংলাদেশী নাগরিকদের মধ্যে মানবপাচারের সঙ্গে অভিযুক্ত অনেককে শনাক্ত করতে পেরেছে নেপাল। তবে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে গিয়ে কিছু জটিলতার মুখে পড়তে হয়।

তিনি বলেন, মানবপাচারের ঘটনায় অনেক ভুক্তভোগী অভিযোগ করতে আগ্রহী হন না। পাশাপাশি অনেক ক্ষেত্রে অপরাধের যথেষ্ট প্রমাণও পাওয়া যায় না। এ কারণে আইনি প্রক্রিয়ায় তাদের আটকে রাখার সুযোগ থাকে না। এ ধরনের পরিস্থিতিতে দূতাবাসকে বিষয়টি জানিয়ে সংশ্লিষ্টদের নিজ দেশে ফেরত পাঠানো হয়।

মানবপাচারে জড়িত চক্রের কারণে বেশ বিব্রত নেপালের বাংলাদেশী দূতাবাস।

তবে, এসব নিয়ে জিরো টলারেন্সের কথা জানিয়ে নেপালে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত শফিকুর রহমান জানান, প্রায় ৫টা থেকে ৭টা হোটেলের নাম আমরা শুনেছি। কিছু ‘খাবার’ হোটেল এবং কিছু হলো ‘থাকা’ ও ‘খাবার’ হোটেল। এই ধরনের, মাঝে মাঝে আমাদের কাছে রিপোর্ট আসে যে, সেখান থেকে ২ থেকে ১ জন অ্যারেস্ট হয়।

ভিসা সহজ এবং খরচের দিক দিয়ে বাংলাদেশের সবচেয়ে বন্ধু রাষ্ট্র নেপাল। কিন্তু মানবপাচারকারী দৌরাত্ম্যে দুই দেশের সম্পর্কে হয়তো শিগগিরই টানাপোড়েন শুরু হবে। নেপালের মতো দেশও যদি বাংলাদেশের পাসপোর্ট দেখে মুখ ফিরিয়ে নেয়, তাহলে আন্তর্জাতিক পরিসরে বাংলাদেশের অবস্থান কোথায় গিয়ে দাঁড়াবে?


টিভি ২৬ নিউজ

সম্পাদক ও প্রকাশকঃ~ ফোরকানুল হক (সাকিব)

কপিরাইট © ২০২৬ টিভি ২৬ নিউজ । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত