সারাদেশে প্রতিনিধি নিয়োগ দিচ্ছে ফোরকানুল হক (সাকিব) সম্পাদিত " TV 26 NEWS " আগ্রহীরা দ্রুত যোগাযোগ করুন। সব খবর সবার আগে পেতে আমাদের সাথেই থাকুন। এগুলো ভাঙাড়ি নয়, মামলার আলামত। আর একটি আলামত, শুধু মামলার একটি নম্বর নয়। এর সঙ্গে জড়িয়ে একজন মানুষের সঞ্চয়, একটি পরিবারের জীবিকা কিংবা রাষ্ট্রের কোটি টাকার সম্পদ। অথচ সেই ঝাঁ চকচকে শরীরে জমেছে জং, কোথাও কাঁচ ভাঙা, কোথাও যন্ত্রাংশই গায়েব।
মামলার তদন্তের প্রয়োজনে আলামত হিসেবে জব্দ করা যানবাহন এগুলো। কিন্তু মামলা নিষ্পত্তির আগেই যদি তার মূল্য শেষ হয়ে যায়, প্রশ্ন ওঠে, সম্পদের এই ক্ষতির দায় কার? বিষয়টি গড়ায় উচ্চ আদালতে। প্রতিবেদন চান হাইকোর্ট। এরপর পুলিশের অনুসন্ধান। প্রতিবেদনে উঠে আসে, আলামত অ-ব্যবস্থাপনায়, অবাক করার মতো তথ্যচিত্র।
বর্তমানে জব্দকৃত যানবাহনের সংখ্যা সাড়ে ৩৫ হাজার হলেও, এর মধ্যে প্রায় ৪ হাজার গাড়ি ১০ বছরের বেশি সময় ধরে পড়ে আছে ডাম্পিং জোনে। অন্যান্য মূল্যবান আলামতের ক্ষেত্রে, এই সংখ্যাটা আরও বেশি। সেখানেও এক দশক ধরে জব্দকৃত চার ভাগের প্রায় এক ভাগ মালামাল, পড়ে আছে মালখানায়।
এ বিষয়ে রিটকারী আইনজীবী শিশির মনির বলেন, দীর্ঘদিন এভাবে থাকছে বিচারিক ব্যবস্থা যেহেতু ডিলে ডালে থাকতে থাকতে থাকতে থাকতে জংকার পড়ে যাচ্ছে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে, না ক্রেতার কাজে আসতেছে না বিক্রেতার কাজে আসতেছে না সরকারের কাজে আসতেছে।
এ বিষয়ে রিটকারী আইনজীবী শিশির মনির বলেন, দীর্ঘদিন ধরে এভাবেই বিচারিক ব্যবস্থা পড়ে আছে। দীর্ঘদিন যানবাহনগুলো পড়ে থাকতে থাকতে জং ধরে যাচ্ছে, নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। ফলে এটি না ক্রেতার কাজে আসছে, না বিক্রেতার কাজে আসছে, এমনকি সরকারেরও কোনো কাজে আসছে না।
প্রশ্ন হলো, এত বিপুল সম্পদের এমন বেহাল দশা কেন? পুলিশের অনুসন্ধান, জায়গা সংকট ছাড়া সারা দেশে ৯৬৭টি মালখানার ১২২টিই ব্যবহারের অনুপযোগী। আরও চমকপ্রদ তথ্য—আলামত সংরক্ষণে সরকারিভাবে অনুমোদিত কোনো ডাম্পিং ইয়ার্ডই নেই। আলামত তাই এভাবেই পড়ে আছে অরক্ষিত।
তবে পুলিশ সদর দপ্তরের মিডিয়া অ্যান্ড পিআর বিভাগের এআইজি এ এইচ এম শাহাদাত হোসাইন বলেন, এর কারণ হচ্ছে, যখন কোনো মামলা হয়, তখন তদন্তের যেসব আলামত থাকে, সেগুলো তদন্তের স্বার্থে সংরক্ষণ করা হয় এবং ভবিষ্যতে প্রমাণের সাপেক্ষে আদালতের নির্দেশে সেগুলো ডিসপোজাল দেয়া হয়। এখন আদালতের ডিসপোজাল ছাড়া পুলিশ নিজ দায়িত্বে এসব জিনিস ডিসপোজাল দেওয়ার সুযোগ নেই। এ ক্ষেত্রে পুলিশের একটি আইনি সীমাবদ্ধতা রয়েছে।
বছরের পর বছর মামলা ঝুলে থাকা কিংবা প্রয়োজনীয় নির্দেশনা যথাসময়ে সংশ্লিষ্ট থানায় না পৌঁছানো, সব মিলিয়েই বাড়ছে আলামতের পাহাড়। তাহলে সমাধান কী?
শিশির মনির আরও বলেন, একটি থানার সামনে একটি বাস রেখে দিচ্ছেন কেন? মোটরসাইকেলের কি বিচার করবেন? আপনি কি টেম্পুর বিচার করবেন? টেম্পুর তো বিচার হয় না। তাহলে আপনি আদালতে কী ব্যবহার করবেন? আপনি ৩৬০ ডিগ্রি অ্যাঙ্গেলে ছবি তুলতে পারেন এবং সেই ছবিকে প্রমাণ হিসেবে ব্যবহার করতে পারেন। একইভাবে ভিডিও ক্লিপও ব্যবহার করতে পারেন। বর্তমান এভিডেন্স সেক্টরের সব ধরনের বিধানই এখন চলে আসছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, দ্রুত মামলা নিষ্পত্তির পাশাপাশি প্রয়োজন নির্দিষ্ট ডাম্পিং ইয়ার্ড, আলামতের ডিজিটাল ব্যবস্থাপনা, নিয়মিত অডিট এবং আদালত-পুলিশের মধ্যে দ্রুত তথ্যের আদান-প্রদান।

রোববার, ০৪ অক্টোবর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৪ অক্টোবর ২০২৬
এগুলো ভাঙাড়ি নয়, মামলার আলামত। আর একটি আলামত, শুধু মামলার একটি নম্বর নয়। এর সঙ্গে জড়িয়ে একজন মানুষের সঞ্চয়, একটি পরিবারের জীবিকা কিংবা রাষ্ট্রের কোটি টাকার সম্পদ। অথচ সেই ঝাঁ চকচকে শরীরে জমেছে জং, কোথাও কাঁচ ভাঙা, কোথাও যন্ত্রাংশই গায়েব।
মামলার তদন্তের প্রয়োজনে আলামত হিসেবে জব্দ করা যানবাহন এগুলো। কিন্তু মামলা নিষ্পত্তির আগেই যদি তার মূল্য শেষ হয়ে যায়, প্রশ্ন ওঠে, সম্পদের এই ক্ষতির দায় কার? বিষয়টি গড়ায় উচ্চ আদালতে। প্রতিবেদন চান হাইকোর্ট। এরপর পুলিশের অনুসন্ধান। প্রতিবেদনে উঠে আসে, আলামত অ-ব্যবস্থাপনায়, অবাক করার মতো তথ্যচিত্র।
বর্তমানে জব্দকৃত যানবাহনের সংখ্যা সাড়ে ৩৫ হাজার হলেও, এর মধ্যে প্রায় ৪ হাজার গাড়ি ১০ বছরের বেশি সময় ধরে পড়ে আছে ডাম্পিং জোনে। অন্যান্য মূল্যবান আলামতের ক্ষেত্রে, এই সংখ্যাটা আরও বেশি। সেখানেও এক দশক ধরে জব্দকৃত চার ভাগের প্রায় এক ভাগ মালামাল, পড়ে আছে মালখানায়।
এ বিষয়ে রিটকারী আইনজীবী শিশির মনির বলেন, দীর্ঘদিন এভাবে থাকছে বিচারিক ব্যবস্থা যেহেতু ডিলে ডালে থাকতে থাকতে থাকতে থাকতে জংকার পড়ে যাচ্ছে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে, না ক্রেতার কাজে আসতেছে না বিক্রেতার কাজে আসতেছে না সরকারের কাজে আসতেছে।
এ বিষয়ে রিটকারী আইনজীবী শিশির মনির বলেন, দীর্ঘদিন ধরে এভাবেই বিচারিক ব্যবস্থা পড়ে আছে। দীর্ঘদিন যানবাহনগুলো পড়ে থাকতে থাকতে জং ধরে যাচ্ছে, নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। ফলে এটি না ক্রেতার কাজে আসছে, না বিক্রেতার কাজে আসছে, এমনকি সরকারেরও কোনো কাজে আসছে না।
প্রশ্ন হলো, এত বিপুল সম্পদের এমন বেহাল দশা কেন? পুলিশের অনুসন্ধান, জায়গা সংকট ছাড়া সারা দেশে ৯৬৭টি মালখানার ১২২টিই ব্যবহারের অনুপযোগী। আরও চমকপ্রদ তথ্য—আলামত সংরক্ষণে সরকারিভাবে অনুমোদিত কোনো ডাম্পিং ইয়ার্ডই নেই। আলামত তাই এভাবেই পড়ে আছে অরক্ষিত।
তবে পুলিশ সদর দপ্তরের মিডিয়া অ্যান্ড পিআর বিভাগের এআইজি এ এইচ এম শাহাদাত হোসাইন বলেন, এর কারণ হচ্ছে, যখন কোনো মামলা হয়, তখন তদন্তের যেসব আলামত থাকে, সেগুলো তদন্তের স্বার্থে সংরক্ষণ করা হয় এবং ভবিষ্যতে প্রমাণের সাপেক্ষে আদালতের নির্দেশে সেগুলো ডিসপোজাল দেয়া হয়। এখন আদালতের ডিসপোজাল ছাড়া পুলিশ নিজ দায়িত্বে এসব জিনিস ডিসপোজাল দেওয়ার সুযোগ নেই। এ ক্ষেত্রে পুলিশের একটি আইনি সীমাবদ্ধতা রয়েছে।
বছরের পর বছর মামলা ঝুলে থাকা কিংবা প্রয়োজনীয় নির্দেশনা যথাসময়ে সংশ্লিষ্ট থানায় না পৌঁছানো, সব মিলিয়েই বাড়ছে আলামতের পাহাড়। তাহলে সমাধান কী?
শিশির মনির আরও বলেন, একটি থানার সামনে একটি বাস রেখে দিচ্ছেন কেন? মোটরসাইকেলের কি বিচার করবেন? আপনি কি টেম্পুর বিচার করবেন? টেম্পুর তো বিচার হয় না। তাহলে আপনি আদালতে কী ব্যবহার করবেন? আপনি ৩৬০ ডিগ্রি অ্যাঙ্গেলে ছবি তুলতে পারেন এবং সেই ছবিকে প্রমাণ হিসেবে ব্যবহার করতে পারেন। একইভাবে ভিডিও ক্লিপও ব্যবহার করতে পারেন। বর্তমান এভিডেন্স সেক্টরের সব ধরনের বিধানই এখন চলে আসছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, দ্রুত মামলা নিষ্পত্তির পাশাপাশি প্রয়োজন নির্দিষ্ট ডাম্পিং ইয়ার্ড, আলামতের ডিজিটাল ব্যবস্থাপনা, নিয়মিত অডিট এবং আদালত-পুলিশের মধ্যে দ্রুত তথ্যের আদান-প্রদান।

আপনার মতামত লিখুন