ঢাকা    শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬
ঢাকা    শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬
টিভি ২৬ নিউজ
নোটিশ
  • টিভি ২৬ নিউজ  সারাদেশে প্রতিনিধি নিয়োগ দিচ্ছে ফোরকানুল হক (সাকিব) সম্পাদিত " TV 26 NEWS " আগ্রহীরা দ্রুত যোগাযোগ করুন। সব খবর সবার আগে পেতে আমাদের সাথেই থাকুন।
সর্বশেষ

রাত পেরোলেই ককরোচ পার্টির বিক্ষোভ, এবার ইন্টারনেট বন্ধ করলো মোদী সরকার


TV 26 NEWS ডেস্ক :
TV 26 NEWS ডেস্ক :
প্রকাশ ০৯ অক্টোবর ২০২৬ | ১১:১১ পিএম
| প্রিন্ট সংস্করণ

রাত পেরোলেই ককরোচ পার্টির বিক্ষোভ, এবার ইন্টারনেট বন্ধ করলো মোদী সরকার

ভারতের রাজধানী দিল্লিতে ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) বিক্ষোভের আগে যন্তর মন্তরসহ কেন্দ্রীয় দিল্লির বিস্তীর্ণ এলাকায় ২৪ ঘণ্টার জন্য মোবাইল ইন্টারনেট সেবা বন্ধের নির্দেশ দিয়েছে পুলিশ। শুক্রবার (৯ অক্টোবর) রাত ১০টা থেকে শনিবার রাত ১০টা পর্যন্ত জনপথ- কর্তব্য পথের সংযোগস্থল থেকে চার কিলোমিটার ব্যাসার্ধের এলাকায় এই নিষেধাজ্ঞা কার্যকর থাকবে।

শনিবার (১০ অক্টোবরের) বিক্ষোভের মূল দাবি প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ। ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়ায় অনিয়মের অভিযোগ তুলে সিজেপি ও বিভিন্ন ছাত্রসংগঠন এই আন্দোলনের ডাক দিয়েছে। নির্বাচন কমিশন ও ক্ষমতাসীন বিজেপি অবশ্য অনিয়মের অভিযোগ অস্বীকার করেছে।

শুক্রবার (৯ অক্টোবর) সন্ধ্যায় দিল্লি পুলিশের উপকমিশনারের কার্যালয় থেকে এ সংক্রান্ত নির্দেশ দেওয়া হয়। এতে এয়ারটেল, ভোডাফোন-আইডিয়া, জিও ও এমটিএনএলকে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সব প্রযুক্তির মোবাইল ইন্টারনেট সেবা বন্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে। ভারতের কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রসচিব এ বিষয়ে অনুমোদন দিয়েছেন বলে নির্দেশনায় উল্লেখ করা হয়েছে।

এই সিদ্ধান্তের কয়েক ঘণ্টা আগেই দিল্লি মেট্রোর ৫৭টি স্টেশনের প্রবেশ ও বের হওয়ার পথ বন্ধ রাখা এবং রাজধানীতে আসা ট্রেন চলাচলে বিধিনিষেধ আরোপের বিষয়ে প্রশ্ন তোলে দেশটির সুপ্রিম কোর্ট। আদালত সতর্ক করে বলে, আইনশৃঙ্খলা রক্ষার নামে সবকিছু থামিয়ে দেওয়া যায় না। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বিধিনিষেধ আরোপ করা আর সম্পূর্ণ বন্ধ করে দেওয়া এক বিষয় নয়।

ইন্টারনেট বন্ধের আওতায় পড়বে কনট প্লেস, মান্ডি হাউজ, প্রগতি ময়দান, গুরুদ্বার বাংলা সাহিব, বারাখাম্বা রোড, খান মার্কেট, লোধি রোড ও জংপুরার কিছু এলাকা বা পুরো এলাকা।

গত জুলাইয়ে নিট-ইউজি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের প্রতিবাদে সিজেপির বিক্ষোভের সময়ও যন্তর মন্তর এলাকায় কয়েক দিনের জন্য ইন্টারনেট সেবা বন্ধ রাখা হয়েছিল। তখন নিষেধাজ্ঞার আওতা ছিল দেড় কিলোমিটার ব্যাসার্ধের মধ্যে।

ইন্টারনেট বন্ধ থাকায় তরুণ বিক্ষোভকারীরা ও ঘটনাস্থল থেকে খবর সংগ্রহকারীরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও ইউটিউবে ভিডিও প্রকাশ করতে সমস্যায় পড়েন। মূলধারার সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন প্রকাশেও বিলম্ব হয়। এবার নিষেধাজ্ঞার আওতা আগের তুলনায় অনেক বড়।

পুলিশের বক্তব্য, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি বজায় রাখতেই এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

মেট্রো ও ট্রেন চলাচলে বিধিনিষেধ নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের প্রশ্ন

এর আগে শুক্রবার (৯ অক্টোবর) রাত ৯টা থেকে রাজীব চক, নয়াদিল্লি, সেন্ট্রাল সেক্রেটারিয়েট, প্যাটেল চক ও কাশ্মীরি গেটসহ দিল্লি মেট্রোর ৫৭টি স্টেশনের প্রবেশ ও বের হওয়ার পথ বন্ধ রাখার কথা জানানো হয়েছিল। এ ছাড়া শনিবার ভোর ৪টা থেকে দুপুর ২টার মধ্যে নয়াদিল্লি ও হজরত নিজামুদ্দিন স্টেশনে পৌঁছানোর কথা ছিল- এমন ৬০টির বেশি ট্রেন বাতিল করা হয়।

এসব বিধিনিষেধের বিরুদ্ধে করা একটি আবেদনের শুনানিতে শুক্রবার সুপ্রিম কোর্ট প্রশ্ন তোলে, একটি মাছি মারতে হাতুড়ি ব্যবহার করার মতো পদক্ষেপ কেন নেওয়া হচ্ছে। আদালত জানায়, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বিধিনিষেধ আরোপ করতে পারে, কিন্তু সে জন্য সাধারণ মানুষের যাতায়াতের সব ব্যবস্থা বন্ধ করে দেওয়া গ্রহণযোগ্য নয়।

প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ বলে, তরুণ ও বয়স্ক- সব বয়সের মানুষই যাতায়াত করেন। সাধারণ যাত্রীদের মৌলিক সুযোগ-সুবিধা পাওয়ার অধিকার রয়েছে। চলাচলে বিধিনিষেধ আরোপ এবং সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা দেওয়ার মধ্যে স্পষ্ট পার্থক্য আছে।

আদালত আরও বলে, অনিয়ন্ত্রিত চলাচল ঠেকাতে কর্তৃপক্ষ ব্যবস্থা নিতে পারে। কিন্তু এর অর্থ এই নয় যে সবকিছু বন্ধ করে দিয়ে মানুষকে যাতায়াতের কোনো উপায় ছাড়া ফেলে রাখা যাবে।

শুনানিতে ভারতের সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা বলেন, বিক্ষোভ করার অধিকার রক্ষা করার পাশাপাশি সাধারণ মানুষের অধিকার ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দায়িত্বও সরকারের রয়েছে।

আদালতের পর্যবেক্ষণে বলা হয়, সংশ্লিষ্ট বিজ্ঞপ্তিগুলোতে অত্যাবশ্যকীয় গণপরিবহন পুরোপুরি বন্ধ রাখার মতো ব্যাপক বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে বলে মনে হচ্ছে। নিষেধাজ্ঞা ও নিয়ন্ত্রণের মধ্যে পার্থক্য রয়েছে- আদালত এ বিষয়টি তুলে ধরার পর সলিসিটর জেনারেল কর্তৃপক্ষকে সিদ্ধান্তগুলো পুনর্বিবেচনা করতে বলবেন বলে সম্মত হন।


সূত্র: এনডিটিভি

আপনার মতামত লিখুন

টিভি ২৬ নিউজ

শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬


রাত পেরোলেই ককরোচ পার্টির বিক্ষোভ, এবার ইন্টারনেট বন্ধ করলো মোদী সরকার

প্রকাশের তারিখ : ০৯ অক্টোবর ২০২৬

featured Image

ভারতের রাজধানী দিল্লিতে ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) বিক্ষোভের আগে যন্তর মন্তরসহ কেন্দ্রীয় দিল্লির বিস্তীর্ণ এলাকায় ২৪ ঘণ্টার জন্য মোবাইল ইন্টারনেট সেবা বন্ধের নির্দেশ দিয়েছে পুলিশ। শুক্রবার (৯ অক্টোবর) রাত ১০টা থেকে শনিবার রাত ১০টা পর্যন্ত জনপথ- কর্তব্য পথের সংযোগস্থল থেকে চার কিলোমিটার ব্যাসার্ধের এলাকায় এই নিষেধাজ্ঞা কার্যকর থাকবে।

শনিবার (১০ অক্টোবরের) বিক্ষোভের মূল দাবি প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ। ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়ায় অনিয়মের অভিযোগ তুলে সিজেপি ও বিভিন্ন ছাত্রসংগঠন এই আন্দোলনের ডাক দিয়েছে। নির্বাচন কমিশন ও ক্ষমতাসীন বিজেপি অবশ্য অনিয়মের অভিযোগ অস্বীকার করেছে।

শুক্রবার (৯ অক্টোবর) সন্ধ্যায় দিল্লি পুলিশের উপকমিশনারের কার্যালয় থেকে এ সংক্রান্ত নির্দেশ দেওয়া হয়। এতে এয়ারটেল, ভোডাফোন-আইডিয়া, জিও ও এমটিএনএলকে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সব প্রযুক্তির মোবাইল ইন্টারনেট সেবা বন্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে। ভারতের কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রসচিব এ বিষয়ে অনুমোদন দিয়েছেন বলে নির্দেশনায় উল্লেখ করা হয়েছে।

এই সিদ্ধান্তের কয়েক ঘণ্টা আগেই দিল্লি মেট্রোর ৫৭টি স্টেশনের প্রবেশ ও বের হওয়ার পথ বন্ধ রাখা এবং রাজধানীতে আসা ট্রেন চলাচলে বিধিনিষেধ আরোপের বিষয়ে প্রশ্ন তোলে দেশটির সুপ্রিম কোর্ট। আদালত সতর্ক করে বলে, আইনশৃঙ্খলা রক্ষার নামে সবকিছু থামিয়ে দেওয়া যায় না। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বিধিনিষেধ আরোপ করা আর সম্পূর্ণ বন্ধ করে দেওয়া এক বিষয় নয়।

ইন্টারনেট বন্ধের আওতায় পড়বে কনট প্লেস, মান্ডি হাউজ, প্রগতি ময়দান, গুরুদ্বার বাংলা সাহিব, বারাখাম্বা রোড, খান মার্কেট, লোধি রোড ও জংপুরার কিছু এলাকা বা পুরো এলাকা।

গত জুলাইয়ে নিট-ইউজি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের প্রতিবাদে সিজেপির বিক্ষোভের সময়ও যন্তর মন্তর এলাকায় কয়েক দিনের জন্য ইন্টারনেট সেবা বন্ধ রাখা হয়েছিল। তখন নিষেধাজ্ঞার আওতা ছিল দেড় কিলোমিটার ব্যাসার্ধের মধ্যে।

ইন্টারনেট বন্ধ থাকায় তরুণ বিক্ষোভকারীরা ও ঘটনাস্থল থেকে খবর সংগ্রহকারীরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও ইউটিউবে ভিডিও প্রকাশ করতে সমস্যায় পড়েন। মূলধারার সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন প্রকাশেও বিলম্ব হয়। এবার নিষেধাজ্ঞার আওতা আগের তুলনায় অনেক বড়।

পুলিশের বক্তব্য, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি বজায় রাখতেই এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

মেট্রো ও ট্রেন চলাচলে বিধিনিষেধ নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের প্রশ্ন

এর আগে শুক্রবার (৯ অক্টোবর) রাত ৯টা থেকে রাজীব চক, নয়াদিল্লি, সেন্ট্রাল সেক্রেটারিয়েট, প্যাটেল চক ও কাশ্মীরি গেটসহ দিল্লি মেট্রোর ৫৭টি স্টেশনের প্রবেশ ও বের হওয়ার পথ বন্ধ রাখার কথা জানানো হয়েছিল। এ ছাড়া শনিবার ভোর ৪টা থেকে দুপুর ২টার মধ্যে নয়াদিল্লি ও হজরত নিজামুদ্দিন স্টেশনে পৌঁছানোর কথা ছিল- এমন ৬০টির বেশি ট্রেন বাতিল করা হয়।

এসব বিধিনিষেধের বিরুদ্ধে করা একটি আবেদনের শুনানিতে শুক্রবার সুপ্রিম কোর্ট প্রশ্ন তোলে, একটি মাছি মারতে হাতুড়ি ব্যবহার করার মতো পদক্ষেপ কেন নেওয়া হচ্ছে। আদালত জানায়, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বিধিনিষেধ আরোপ করতে পারে, কিন্তু সে জন্য সাধারণ মানুষের যাতায়াতের সব ব্যবস্থা বন্ধ করে দেওয়া গ্রহণযোগ্য নয়।

প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ বলে, তরুণ ও বয়স্ক- সব বয়সের মানুষই যাতায়াত করেন। সাধারণ যাত্রীদের মৌলিক সুযোগ-সুবিধা পাওয়ার অধিকার রয়েছে। চলাচলে বিধিনিষেধ আরোপ এবং সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা দেওয়ার মধ্যে স্পষ্ট পার্থক্য আছে।

আদালত আরও বলে, অনিয়ন্ত্রিত চলাচল ঠেকাতে কর্তৃপক্ষ ব্যবস্থা নিতে পারে। কিন্তু এর অর্থ এই নয় যে সবকিছু বন্ধ করে দিয়ে মানুষকে যাতায়াতের কোনো উপায় ছাড়া ফেলে রাখা যাবে।

শুনানিতে ভারতের সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা বলেন, বিক্ষোভ করার অধিকার রক্ষা করার পাশাপাশি সাধারণ মানুষের অধিকার ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দায়িত্বও সরকারের রয়েছে।

আদালতের পর্যবেক্ষণে বলা হয়, সংশ্লিষ্ট বিজ্ঞপ্তিগুলোতে অত্যাবশ্যকীয় গণপরিবহন পুরোপুরি বন্ধ রাখার মতো ব্যাপক বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে বলে মনে হচ্ছে। নিষেধাজ্ঞা ও নিয়ন্ত্রণের মধ্যে পার্থক্য রয়েছে- আদালত এ বিষয়টি তুলে ধরার পর সলিসিটর জেনারেল কর্তৃপক্ষকে সিদ্ধান্তগুলো পুনর্বিবেচনা করতে বলবেন বলে সম্মত হন।


সূত্র: এনডিটিভি


টিভি ২৬ নিউজ

সম্পাদক ও প্রকাশকঃ~ ফোরকানুল হক (সাকিব)

কপিরাইট © ২০২৬ টিভি ২৬ নিউজ । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত