ঢাকা    সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬
ঢাকা    সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬
টিভি ২৬ নিউজ
নোটিশ
  • টিভি ২৬ নিউজ  সারাদেশে প্রতিনিধি নিয়োগ দিচ্ছে ফোরকানুল হক (সাকিব) সম্পাদিত " TV 26 NEWS " আগ্রহীরা দ্রুত যোগাযোগ করুন। সব খবর সবার আগে পেতে আমাদের সাথেই থাকুন।
সর্বশেষ

পাবনায় হাসপাতালে প্রসবের পর দুই নবজাতকের মৃত্যু, অবহেলার অভিযোগ


TV 26 NEWS ডেস্ক :
TV 26 NEWS ডেস্ক :
প্রকাশ ১২ অক্টোবর ২০২৬ | ০৯:২৬ পিএম
| প্রিন্ট সংস্করণ

পাবনায় হাসপাতালে প্রসবের পর দুই নবজাতকের মৃত্যু, অবহেলার অভিযোগ

পাবনার ভাঙ্গুড়ায় একটি বেসরকারি হাসপাতালে সন্তান প্রসবের পর দুই নবজাতকের মৃত্যু হয়েছে। সময়মতো চিকিৎসক না পাওয়া এবং সিজারিয়ান অস্ত্রোপচারে বিলম্বসহ চিকিৎসা অবহেলার অভিযোগ তুলেছেন পৃথক দুটি পরিবারের স্বজনরা। তবে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ অবহেলার অভিযোগ অস্বীকার করেছে।

গত শনিবার (১০ অক্টোবর) উপজেলা সদরের শরৎনগরে অবস্থিত ভাঙ্গুড়া হেলথ কেয়ার লিমিটেড হাসপাতালে পৃথক এ ঘটনা ঘটে। একই দিনে দুই পরিবারে সন্তান জন্মের আনন্দ মুহূর্তেই পরিণত হয় শোকে।

প্রথম ঘটনাটি ঘটে উপজেলার ভবানীপুর গ্রামের মাসুদ রানা (৪০) ও তাঁর স্ত্রী অন্তরা খাতুনের (২৫) ক্ষেত্রে। স্বজনদের ভাষ্য, শনিবার ভোরে অন্তঃসত্ত্বা অন্তরার প্রসবব্যথা শুরু হলে সকাল সাড়ে ৭টার দিকে তাঁকে নাজিম উদ্দিন হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর মা ও সন্তান সুস্থ আছেন জানানো হলেও সিজারিয়ান অস্ত্রোপচারের জন্য চিকিৎসক না থাকায় সকাল ১০টার দিকে তাঁকে ভাঙ্গুড়া হেলথ কেয়ার লিমিটেড হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।

অন্তরার স্বজনদের অভিযোগ, সেখানে পৌঁছানোর পর চিকিৎসক আসার আশ্বাস দিয়ে স্বাভাবিক প্রসবের জন্য অপেক্ষা করতে বলা হয়। এভাবে প্রায় চার ঘণ্টা অপেক্ষার পর একজন নার্সের মাধ্যমে স্বাভাবিক প্রসব করানো হয়। কিন্তু সন্তান জন্মের পর নবজাতকের কোনো সাড়াশব্দ না পেয়ে পরিবারের সদস্যরা তাকে ভাঙ্গুড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে জরুরি বিভাগের চিকিৎসক উম্মে হুরাইরা নবজাতককে মৃত ঘোষণা করেন।

সন্তান হারিয়ে শোকাহত অন্তরা খাতুন ও তাঁর ভাই কামাল হোসেন অভিযোগ করেন, প্রসবের মতো জরুরি সময়ে চিকিৎসক ও প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা না পাওয়ায় এ মর্মান্তিক ঘটনা ঘটেছে। তাঁরা এ ঘটনায় জবাবদিহি নিশ্চিত করার পাশাপাশি দোষীদের শাস্তি দাবি করেন।

একই দিন সকাল সাড়ে ১১টার দিকে প্রসবব্যথা নিয়ে ওই হাসপাতালে ভর্তি হন উপজেলার চৌবাড়িয়া দক্ষিণপাড়ার তারেক আলীর স্ত্রী মুসলিমা আক্তার মনা। পরিবারের সদস্যদের অভিযোগ, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের চাহিদা অনুযায়ী দ্রুত রক্তের ব্যবস্থা করা হলেও সিজারিয়ান অস্ত্রোপচারের সার্জন না থাকায় তাঁকে তিন ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হয়।

পরে চিকিৎসক এসে অস্ত্রোপচার করলেও নবজাতকের শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটে। এরপর শিশুটিকে পাবনা সদর হাসপাতালে নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়। তবে হাসপাতালে নেওয়ার পথে শিশুটির মৃত্যু হয়।

দ্বিতীয় নবজাতকের চাচা মাসুদ রানা আক্ষেপ করে বলেন, রক্তের ব্যবস্থা করার পরও চিকিৎসকের জন্য দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হয়েছে। সময়মতো সিজারিয়ান অস্ত্রোপচার করা গেলে শিশুটিকে বাঁচানো সম্ভব হতো বলে তাঁদের ধারণা।

এ বিষয়ে ভাঙ্গুড়া হেলথ কেয়ার লিমিটেডের পরিচালক মো. আব্দুল জব্বার হাসপাতালের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অস্বীকার করেন। তিনি দাবি করেন, তাঁদের হাসপাতালে নিয়ম মেনেই স্বাভাবিক প্রসব ও সিজারিয়ান অস্ত্রোপচার করা হয়েছে। কোনো ধরনের অবহেলার ঘটনা ঘটেনি।

ভাঙ্গুড়া উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. হালিমা খানম জানান, ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত করে আইনানুগ ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

পাবনার সিভিল সার্জন আবুল কালাম আজাদ বলেন, ‘ঘটনাটি সম্পর্কে আমি আগে অবহিত ছিলাম না। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে বিষয়টি পর্যালোচনা করা হবে। পূর্ণাঙ্গ তদন্তের মাধ্যমে পরবর্তী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

বিষয় : অভিযোগ পাবনায় হাসপাতালে প্রসব

আপনার মতামত লিখুন

টিভি ২৬ নিউজ

সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬


পাবনায় হাসপাতালে প্রসবের পর দুই নবজাতকের মৃত্যু, অবহেলার অভিযোগ

প্রকাশের তারিখ : ১২ অক্টোবর ২০২৬

featured Image

পাবনার ভাঙ্গুড়ায় একটি বেসরকারি হাসপাতালে সন্তান প্রসবের পর দুই নবজাতকের মৃত্যু হয়েছে। সময়মতো চিকিৎসক না পাওয়া এবং সিজারিয়ান অস্ত্রোপচারে বিলম্বসহ চিকিৎসা অবহেলার অভিযোগ তুলেছেন পৃথক দুটি পরিবারের স্বজনরা। তবে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ অবহেলার অভিযোগ অস্বীকার করেছে।

গত শনিবার (১০ অক্টোবর) উপজেলা সদরের শরৎনগরে অবস্থিত ভাঙ্গুড়া হেলথ কেয়ার লিমিটেড হাসপাতালে পৃথক এ ঘটনা ঘটে। একই দিনে দুই পরিবারে সন্তান জন্মের আনন্দ মুহূর্তেই পরিণত হয় শোকে।

প্রথম ঘটনাটি ঘটে উপজেলার ভবানীপুর গ্রামের মাসুদ রানা (৪০) ও তাঁর স্ত্রী অন্তরা খাতুনের (২৫) ক্ষেত্রে। স্বজনদের ভাষ্য, শনিবার ভোরে অন্তঃসত্ত্বা অন্তরার প্রসবব্যথা শুরু হলে সকাল সাড়ে ৭টার দিকে তাঁকে নাজিম উদ্দিন হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর মা ও সন্তান সুস্থ আছেন জানানো হলেও সিজারিয়ান অস্ত্রোপচারের জন্য চিকিৎসক না থাকায় সকাল ১০টার দিকে তাঁকে ভাঙ্গুড়া হেলথ কেয়ার লিমিটেড হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।

অন্তরার স্বজনদের অভিযোগ, সেখানে পৌঁছানোর পর চিকিৎসক আসার আশ্বাস দিয়ে স্বাভাবিক প্রসবের জন্য অপেক্ষা করতে বলা হয়। এভাবে প্রায় চার ঘণ্টা অপেক্ষার পর একজন নার্সের মাধ্যমে স্বাভাবিক প্রসব করানো হয়। কিন্তু সন্তান জন্মের পর নবজাতকের কোনো সাড়াশব্দ না পেয়ে পরিবারের সদস্যরা তাকে ভাঙ্গুড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে জরুরি বিভাগের চিকিৎসক উম্মে হুরাইরা নবজাতককে মৃত ঘোষণা করেন।

সন্তান হারিয়ে শোকাহত অন্তরা খাতুন ও তাঁর ভাই কামাল হোসেন অভিযোগ করেন, প্রসবের মতো জরুরি সময়ে চিকিৎসক ও প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা না পাওয়ায় এ মর্মান্তিক ঘটনা ঘটেছে। তাঁরা এ ঘটনায় জবাবদিহি নিশ্চিত করার পাশাপাশি দোষীদের শাস্তি দাবি করেন।

একই দিন সকাল সাড়ে ১১টার দিকে প্রসবব্যথা নিয়ে ওই হাসপাতালে ভর্তি হন উপজেলার চৌবাড়িয়া দক্ষিণপাড়ার তারেক আলীর স্ত্রী মুসলিমা আক্তার মনা। পরিবারের সদস্যদের অভিযোগ, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের চাহিদা অনুযায়ী দ্রুত রক্তের ব্যবস্থা করা হলেও সিজারিয়ান অস্ত্রোপচারের সার্জন না থাকায় তাঁকে তিন ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হয়।

পরে চিকিৎসক এসে অস্ত্রোপচার করলেও নবজাতকের শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটে। এরপর শিশুটিকে পাবনা সদর হাসপাতালে নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়। তবে হাসপাতালে নেওয়ার পথে শিশুটির মৃত্যু হয়।

দ্বিতীয় নবজাতকের চাচা মাসুদ রানা আক্ষেপ করে বলেন, রক্তের ব্যবস্থা করার পরও চিকিৎসকের জন্য দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হয়েছে। সময়মতো সিজারিয়ান অস্ত্রোপচার করা গেলে শিশুটিকে বাঁচানো সম্ভব হতো বলে তাঁদের ধারণা।

এ বিষয়ে ভাঙ্গুড়া হেলথ কেয়ার লিমিটেডের পরিচালক মো. আব্দুল জব্বার হাসপাতালের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অস্বীকার করেন। তিনি দাবি করেন, তাঁদের হাসপাতালে নিয়ম মেনেই স্বাভাবিক প্রসব ও সিজারিয়ান অস্ত্রোপচার করা হয়েছে। কোনো ধরনের অবহেলার ঘটনা ঘটেনি।

ভাঙ্গুড়া উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. হালিমা খানম জানান, ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত করে আইনানুগ ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

পাবনার সিভিল সার্জন আবুল কালাম আজাদ বলেন, ‘ঘটনাটি সম্পর্কে আমি আগে অবহিত ছিলাম না। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে বিষয়টি পর্যালোচনা করা হবে। পূর্ণাঙ্গ তদন্তের মাধ্যমে পরবর্তী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’


টিভি ২৬ নিউজ

সম্পাদক ও প্রকাশকঃ~ ফোরকানুল হক (সাকিব)

কপিরাইট © ২০২৬ টিভি ২৬ নিউজ । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত