সারাদেশে প্রতিনিধি নিয়োগ দিচ্ছে ফোরকানুল হক (সাকিব) সম্পাদিত " TV 26 NEWS " আগ্রহীরা দ্রুত যোগাযোগ করুন। সব খবর সবার আগে পেতে আমাদের সাথেই থাকুন। ডোনাল্ড ট্রাম্প যদি রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট হতেন, তবে পাঁচ বছরে পা দেওয়া ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধে হয়তো খুব দ্রুত ও সহজ একটি সমঝোতায় পৌঁছে যেতেন। ট্রাম্পের দৃষ্টিভঙ্গিতে এটি অত্যন্ত সহজ হিসাব, যুদ্ধ থামলে একদিকে যেমন হাজার হাজার তরুণের প্রাণহানি বন্ধ হবে, অন্যদিকে রাশিয়ার ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা উঠে গিয়ে শুরু হবে লাভজনক বাণিজ্য।
তবে ক্ষমতার মসনদে ট্রাম্প নন, আছেন ভ্লাদিমির পুতিন। ক্রেমলিনপ্রধান তার যুদ্ধ জয়ের লক্ষ্য থেকে সরে আসতে নারাজ, তা সে রুশ-ইউক্রেনীয়দের জীবন রক্ষাই হোক বা শত কোটি ডলারের আর্থিক সুবিধাই হোক। ট্রাম্প প্রশাসনের সমঝোতা প্রয়াস যে সফল হচ্ছে না, সেটির মূল কারণ বিষয়টিকে ভুলভাবে মূল্যায়ন করা। বিষয়টি সম্প্রতি সেন্ট পিটার্সবার্গে ট্রাম্পের শীর্ষ আলোচক স্টিভ উইটকফ ও পুতিনের মধ্যকার বৈঠকে আবারও স্পষ্ট হয়েছে।
বৈঠকে পুতিন উইটকফকে জানান, নরওয়েতে যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপ ও ন্যাটোর কর্মকর্তাদের সঙ্গে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির বৈঠক নিয়ে তিনি ‘কৌতূহলী’। পরবর্তীতে এক শীর্ষ ক্রেমলিন সহকারী নিশ্চিত করেন যে উইটকফ বৈঠকটি সম্পর্কে পুতিনকে অবহিত করেছেন। তবে তিনি আরও বলেন, সত্যি বলতে, ইউক্রেন সংকট সমাধানের ক্ষেত্রে সেগুলোতে বস্তুত তেমন কোনও মূল্য ছিল না।
পুরো ডনবাস অঞ্চলের নিয়ন্ত্রণ নেওয়া এবং কিয়েভের ভবিষ্যৎ নিরাপত্তা ব্যবস্থার ওপর প্রভাব রাখার মতো কঠোর অবস্থান থেকে সরতে পুতিনের অস্বীকৃতির কারণে এ ধরনের ফলাফল প্রত্যাশিতই ছিল।
তবুও হোয়াইট হাউস হয়তো ক্রেমলিনের আপসের আশা করেছিল। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে জ্বালানির দাম কমাতে গত সপ্তাহে ট্রাম্প রুশ ডিজেল রফতানির ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার পর মস্কো বড় অর্থনৈতিক সুবিধা পায়। এরপর ট্রাম্প একতরফাভাবে একটি জ্বালানি যুদ্ধবিরতির ঘোষণা দেন, যাতে রুশ তেল শোধনাগারে ইউক্রেনীয় ড্রোন হামলা বন্ধের বাধ্যবাধকতা ছিল। এ নিয়ে পাল্টাপাল্টি অভিযোগের মধ্যে মার্কিন গোয়েন্দা তথ্য আদান-প্রদানে প্রভাব পড়ে এবং ট্রাম্প ইউক্রেনের নেতৃত্ব পরিবর্তনের আহ্বান জানান, যা ছিল ক্রেমলিনের জন্যই লাভজনক।
তবে মস্কোর কাছে এই প্রস্তাব বা অর্থনৈতিক ছাড়গুলো পিছু হটার সংকেত নয়, বরং যুক্তরাষ্ট্রের বিষয়ে তাদের কৌশলের সফলতা। বৈঠকে পুতিন ডিজেল চুক্তির প্রশংসা করেন এবং সার রফতানি বৃদ্ধির পাশাপাশি ডেটা সেন্টার ও জ্বালানি সহযোগিতার মতো যৌথ প্রকল্পের প্রস্তাব দেন। রাশিয়ার সার্বভৌম ওয়েলথ ফান্ডের প্রধান কিরিল দিমিত্রিভ জানান, আমরা বিভিন্ন প্রকল্প, যেমন ডেটা সেন্টার, জ্বালানি খাত ও জ্বালানি সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা করছি।
অর্থনৈতিক সুবিধার পাশাপাশি পুতিন অন্য কৌশলও খাটাচ্ছেন। সেন্ট পিটার্সবার্গ বৈঠকের আগে ২০২২ সাল থেকে বন্দি ৭৪ বছর বয়সী মার্কিন নাগরিক স্টিফেন হাবার্ডকে মুক্তি দেন তিনি। উইটকফ এটিকে পুতিনের ‘মানবিক কাজ’ বলে প্রশংসা করেন। ট্রাম্পের ট্রুথ সোশ্যাল প্ল্যাটফর্মের এক বিবৃতিতে বলা হয়, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের প্রতি শ্রদ্ধাবোধ থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে বিনিময়ে কিছুই দিতে হয়নি, যা রাশিয়ার জন্য নজিরবিহীন।
তবে সাবেক কেজিবির এই কর্মকর্তা হয়তো বিষয়টিকে অন্যভাবে দেখছেন। ট্রাম্পের সঙ্গে চুক্তি করার সুযোগ তৈরি করতেই হাবার্ডকে বন্দি রাখা হয়েছিল বলে মনে করা হচ্ছে। আর এই একজন জিম্মির বিনিময়ে ট্রাম্পের কাছ থেকে পুতিন ক্রেমলিনের পদক্ষেপগুলোর অমূল্য স্বীকৃতি আদায় করে নিয়েছেন, যা ইউক্রেনের জন্য এক চরম তিক্ত আঘাত।

বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২২ অক্টোবর ২০২৬
ডোনাল্ড ট্রাম্প যদি রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট হতেন, তবে পাঁচ বছরে পা দেওয়া ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধে হয়তো খুব দ্রুত ও সহজ একটি সমঝোতায় পৌঁছে যেতেন। ট্রাম্পের দৃষ্টিভঙ্গিতে এটি অত্যন্ত সহজ হিসাব, যুদ্ধ থামলে একদিকে যেমন হাজার হাজার তরুণের প্রাণহানি বন্ধ হবে, অন্যদিকে রাশিয়ার ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা উঠে গিয়ে শুরু হবে লাভজনক বাণিজ্য।
তবে ক্ষমতার মসনদে ট্রাম্প নন, আছেন ভ্লাদিমির পুতিন। ক্রেমলিনপ্রধান তার যুদ্ধ জয়ের লক্ষ্য থেকে সরে আসতে নারাজ, তা সে রুশ-ইউক্রেনীয়দের জীবন রক্ষাই হোক বা শত কোটি ডলারের আর্থিক সুবিধাই হোক। ট্রাম্প প্রশাসনের সমঝোতা প্রয়াস যে সফল হচ্ছে না, সেটির মূল কারণ বিষয়টিকে ভুলভাবে মূল্যায়ন করা। বিষয়টি সম্প্রতি সেন্ট পিটার্সবার্গে ট্রাম্পের শীর্ষ আলোচক স্টিভ উইটকফ ও পুতিনের মধ্যকার বৈঠকে আবারও স্পষ্ট হয়েছে।
বৈঠকে পুতিন উইটকফকে জানান, নরওয়েতে যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপ ও ন্যাটোর কর্মকর্তাদের সঙ্গে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির বৈঠক নিয়ে তিনি ‘কৌতূহলী’। পরবর্তীতে এক শীর্ষ ক্রেমলিন সহকারী নিশ্চিত করেন যে উইটকফ বৈঠকটি সম্পর্কে পুতিনকে অবহিত করেছেন। তবে তিনি আরও বলেন, সত্যি বলতে, ইউক্রেন সংকট সমাধানের ক্ষেত্রে সেগুলোতে বস্তুত তেমন কোনও মূল্য ছিল না।
পুরো ডনবাস অঞ্চলের নিয়ন্ত্রণ নেওয়া এবং কিয়েভের ভবিষ্যৎ নিরাপত্তা ব্যবস্থার ওপর প্রভাব রাখার মতো কঠোর অবস্থান থেকে সরতে পুতিনের অস্বীকৃতির কারণে এ ধরনের ফলাফল প্রত্যাশিতই ছিল।
তবুও হোয়াইট হাউস হয়তো ক্রেমলিনের আপসের আশা করেছিল। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে জ্বালানির দাম কমাতে গত সপ্তাহে ট্রাম্প রুশ ডিজেল রফতানির ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার পর মস্কো বড় অর্থনৈতিক সুবিধা পায়। এরপর ট্রাম্প একতরফাভাবে একটি জ্বালানি যুদ্ধবিরতির ঘোষণা দেন, যাতে রুশ তেল শোধনাগারে ইউক্রেনীয় ড্রোন হামলা বন্ধের বাধ্যবাধকতা ছিল। এ নিয়ে পাল্টাপাল্টি অভিযোগের মধ্যে মার্কিন গোয়েন্দা তথ্য আদান-প্রদানে প্রভাব পড়ে এবং ট্রাম্প ইউক্রেনের নেতৃত্ব পরিবর্তনের আহ্বান জানান, যা ছিল ক্রেমলিনের জন্যই লাভজনক।
তবে মস্কোর কাছে এই প্রস্তাব বা অর্থনৈতিক ছাড়গুলো পিছু হটার সংকেত নয়, বরং যুক্তরাষ্ট্রের বিষয়ে তাদের কৌশলের সফলতা। বৈঠকে পুতিন ডিজেল চুক্তির প্রশংসা করেন এবং সার রফতানি বৃদ্ধির পাশাপাশি ডেটা সেন্টার ও জ্বালানি সহযোগিতার মতো যৌথ প্রকল্পের প্রস্তাব দেন। রাশিয়ার সার্বভৌম ওয়েলথ ফান্ডের প্রধান কিরিল দিমিত্রিভ জানান, আমরা বিভিন্ন প্রকল্প, যেমন ডেটা সেন্টার, জ্বালানি খাত ও জ্বালানি সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা করছি।
অর্থনৈতিক সুবিধার পাশাপাশি পুতিন অন্য কৌশলও খাটাচ্ছেন। সেন্ট পিটার্সবার্গ বৈঠকের আগে ২০২২ সাল থেকে বন্দি ৭৪ বছর বয়সী মার্কিন নাগরিক স্টিফেন হাবার্ডকে মুক্তি দেন তিনি। উইটকফ এটিকে পুতিনের ‘মানবিক কাজ’ বলে প্রশংসা করেন। ট্রাম্পের ট্রুথ সোশ্যাল প্ল্যাটফর্মের এক বিবৃতিতে বলা হয়, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের প্রতি শ্রদ্ধাবোধ থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে বিনিময়ে কিছুই দিতে হয়নি, যা রাশিয়ার জন্য নজিরবিহীন।
তবে সাবেক কেজিবির এই কর্মকর্তা হয়তো বিষয়টিকে অন্যভাবে দেখছেন। ট্রাম্পের সঙ্গে চুক্তি করার সুযোগ তৈরি করতেই হাবার্ডকে বন্দি রাখা হয়েছিল বলে মনে করা হচ্ছে। আর এই একজন জিম্মির বিনিময়ে ট্রাম্পের কাছ থেকে পুতিন ক্রেমলিনের পদক্ষেপগুলোর অমূল্য স্বীকৃতি আদায় করে নিয়েছেন, যা ইউক্রেনের জন্য এক চরম তিক্ত আঘাত।

আপনার মতামত লিখুন