সারাদেশে প্রতিনিধি নিয়োগ দিচ্ছে ফোরকানুল হক (সাকিব) সম্পাদিত " TV 26 NEWS " আগ্রহীরা দ্রুত যোগাযোগ করুন। সব খবর সবার আগে পেতে আমাদের সাথেই থাকুন। শিক্ষাব্যবস্থার উন্নয়ন ও বিভিন্ন সংস্কারের দাবিতে ফ্রান্সজুড়ে শিক্ষার্থী ও কর্মীদের বিক্ষোভ ক্রমেই জোরালো হয়ে উঠেছে।
মঙ্গলবার দেশটির বিভিন্ন শহরে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে দাঙ্গা নিয়ন্ত্রণকারী পুলিশের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। কয়েকটি এলাকায় বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ কাঁদানে গ্যাস ছুড়েছে।
মার্সেই, নঁতে ও লিওঁ শহরে মঙ্গলবার সকাল থেকেই শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ শুরু করে। এ সময় তাদের হাতে বিভিন্ন স্লোগান লেখা প্ল্যাকার্ড দেখা যায়। এর মধ্যে ছিল- ‘তারা সত্যিই আমাদের পরোয়া করে না’ এবং ‘বাঁচব, নাকি পড়ব’।
স্ট্রাসবুর, লিওঁ ও রেনে শহরে বিক্ষোভের একপর্যায়ে পরিস্থিতি সহিংস হয়ে ওঠে। পুলিশ কাঁদানে গ্যাস ছুড়ে বিক্ষোভকারীদের সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করে। অন্যদিকে বিক্ষোভকারীরা রাস্তায় আগুন জ্বালিয়ে দেয় এবং পুলিশের দিকে বিভিন্ন বস্তু ছুড়ে মারে।
গত দুই সপ্তাহ আগে ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসের অপেক্ষাকৃত সুবিধাবঞ্চিত উপশহরগুলোতে এ আন্দোলনের সূচনা হয়। এরপর ধীরে ধীরে তা দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়ে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কয়েকটি বিক্ষোভ সমাবেশে দাঙ্গা নিয়ন্ত্রণকারী পুলিশ মোতায়েন করেছে সরকার।
সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, শিক্ষা সংস্কারের দাবিতে শুরু হওয়া আন্দোলনের কিছু অংশ এখন নগর সহিংসতায় রূপ নিয়েছে।
সংঘর্ষে কিশোরের হাত উড়ে যাওয়ার দাবি সোমবার উত্তর ফ্রান্সে উচ্চবিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষের সময় ১৫ বছর বয়সী এক কিশোর গুরুতর আহত হয়েছে। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ওই সংঘর্ষে প্রায় ২০০ থেকে ২৫০ জন বিক্ষোভকারী পুলিশের দিকে বিভিন্ন বস্তু ছুড়ে মারে।
ফরাসি সংবাদপত্র লা ভোয়া দ্য নোর জানিয়েছে, বিক্ষোভের সময় ওই কিশোর পুলিশের একটি গ্রেনেড হাতে তুলে নেওয়ার পর সেটি বিস্ফোরিত হয়। এতে তার একটি হাত ও বাহুর একটি অংশ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।
ঘটনাটি বিক্ষোভের মাত্রা ও পুলিশের সঙ্গে শিক্ষার্থীদের সংঘর্ষ নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে।
এদিকে হাই স্কুল শিক্ষার্থীদের সংগঠনের তথ্য অনুযায়ী, দেশজুড়ে প্রায় দুই হাজার উচ্চবিদ্যালয় অবরুদ্ধ করা হয়েছে অথবা দিনের জন্য বন্ধ রাখতে হয়েছে।
স্ট্রাসবুরের সদ্য উচ্চবিদ্যালয় শেষ করা এবং দেশটির শীর্ষ বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ভর্তি হওয়ার প্রস্তুতি নেওয়া শিক্ষার্থী হুগো ভেটজেল বলেন, “উত্তর যখন সহিংসতা হয়, তখন বোঝা যায় গণতন্ত্র আর কাজ করছে না।”
তিনি আরও বলেন, “অভিজাত শ্রেণি ও আমাদের মধ্যে এত বড় ব্যবধান রয়েছে।”
শিক্ষার্থীদের দাবিতে পদক্ষেপের নির্দেশ বিক্ষোভ পরিস্থিতি সামাল দিতে ফ্রান্সের প্রধানমন্ত্রী সেবাস্তিয়েন লেকর্নু মন্ত্রীদের শিক্ষার্থীদের দাবিগুলো পর্যালোচনা করে পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন।
শিক্ষার্থীদের দাবির মধ্যে রয়েছে পর্যাপ্ত দক্ষতা নেই- এমন শিক্ষকদের পরিবর্তে যোগ্য শিক্ষক নিয়োগ, মধ্যাহ্নভোজের বিরতি দীর্ঘ করা এবং বিদ্যালয়ে প্রতিদিনের ক্লাস ও কার্যক্রমের সময়সূচি পরিবর্তন।
এছাড়া পুরোনো ও জরাজীর্ণ বিদ্যালয় ভবনগুলো সংস্কারের বিষয়টিও সরকার পর্যালোচনা করবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী লেকর্নু। এ বিষয়ে মন্ত্রীদের অক্টোবরের শেষ নাগাদ প্রস্তাব জমা দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
সরকারের এই উদ্যোগের মাধ্যমে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আলোচনার পথ তৈরি হতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে। তবে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বিক্ষোভ ও সংঘর্ষ অব্যাহত থাকায় পরিস্থিতি এখনও উত্তেজনাপূর্ণ।
গ্রেফতার ৬ হাজারের বেশি ফ্রান্সের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, আন্দোলন শুরুর পর থেকে রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত প্রায় ৬ হাজার ১০০ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। গ্রেফতার ব্যক্তিদের অধিকাংশই ১৮ বছরের কম বয়সী।
দেশটির বিচার মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, গ্রেফতারদের মধ্যে ১ হাজার ৮০০ জনের বেশি ব্যক্তির বিরুদ্ধে মামলা বা বিচারিক কার্যক্রম শুরু করা হবে। তাদের মধ্যে ১ হাজার ৪৮৩ জনই অপ্রাপ্তবয়স্ক।
প্রধানমন্ত্রী লেকর্নুর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, বিক্ষোভ চলাকালে অন্তত ২১৫ জন কিশোর আহত হয়েছে। একই সময়ে আহত হয়েছেন ৭১৫ জন পুলিশ সদস্য।
আন্দোলন ছড়িয়ে পড়ায় বাড়ছে চাপ শিক্ষাব্যবস্থার মানোন্নয়ন, শিক্ষক সংকট, বিদ্যালয়ের অবকাঠামো এবং শিক্ষার্থীদের দৈনন্দিন শিক্ষাজীবনের নানা সমস্যা নিয়ে শুরু হওয়া আন্দোলন এখন ফ্রান্সের বিভিন্ন শহরে ছড়িয়ে পড়েছে। বিক্ষোভকারীদের একাংশের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ এবং বিপুলসংখ্যক অপ্রাপ্তবয়স্কের গ্রেফতার পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।
সরকার একদিকে শিক্ষার্থীদের কিছু দাবির বিষয়ে পদক্ষেপ নেওয়ার কথা বলছে, অন্যদিকে সহিংসতা ঠেকাতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উপস্থিতি বাড়িয়েছে। ফলে শিক্ষা সংস্কারের দাবিতে শুরু হওয়া আন্দোলন এখন সরকারের জন্য একই সঙ্গে নীতিগত ও আইনশৃঙ্খলাজনিত চ্যালেঞ্জে পরিণত হয়েছে।
সূত্র: আল-জাজিরা

মঙ্গলবার, ০৬ অক্টোবর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৬ অক্টোবর ২০২৬
শিক্ষাব্যবস্থার উন্নয়ন ও বিভিন্ন সংস্কারের দাবিতে ফ্রান্সজুড়ে শিক্ষার্থী ও কর্মীদের বিক্ষোভ ক্রমেই জোরালো হয়ে উঠেছে।
মঙ্গলবার দেশটির বিভিন্ন শহরে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে দাঙ্গা নিয়ন্ত্রণকারী পুলিশের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। কয়েকটি এলাকায় বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ কাঁদানে গ্যাস ছুড়েছে।
মার্সেই, নঁতে ও লিওঁ শহরে মঙ্গলবার সকাল থেকেই শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ শুরু করে। এ সময় তাদের হাতে বিভিন্ন স্লোগান লেখা প্ল্যাকার্ড দেখা যায়। এর মধ্যে ছিল- ‘তারা সত্যিই আমাদের পরোয়া করে না’ এবং ‘বাঁচব, নাকি পড়ব’।
স্ট্রাসবুর, লিওঁ ও রেনে শহরে বিক্ষোভের একপর্যায়ে পরিস্থিতি সহিংস হয়ে ওঠে। পুলিশ কাঁদানে গ্যাস ছুড়ে বিক্ষোভকারীদের সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করে। অন্যদিকে বিক্ষোভকারীরা রাস্তায় আগুন জ্বালিয়ে দেয় এবং পুলিশের দিকে বিভিন্ন বস্তু ছুড়ে মারে।
গত দুই সপ্তাহ আগে ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসের অপেক্ষাকৃত সুবিধাবঞ্চিত উপশহরগুলোতে এ আন্দোলনের সূচনা হয়। এরপর ধীরে ধীরে তা দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়ে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কয়েকটি বিক্ষোভ সমাবেশে দাঙ্গা নিয়ন্ত্রণকারী পুলিশ মোতায়েন করেছে সরকার।
সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, শিক্ষা সংস্কারের দাবিতে শুরু হওয়া আন্দোলনের কিছু অংশ এখন নগর সহিংসতায় রূপ নিয়েছে।
সংঘর্ষে কিশোরের হাত উড়ে যাওয়ার দাবি সোমবার উত্তর ফ্রান্সে উচ্চবিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষের সময় ১৫ বছর বয়সী এক কিশোর গুরুতর আহত হয়েছে। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ওই সংঘর্ষে প্রায় ২০০ থেকে ২৫০ জন বিক্ষোভকারী পুলিশের দিকে বিভিন্ন বস্তু ছুড়ে মারে।
ফরাসি সংবাদপত্র লা ভোয়া দ্য নোর জানিয়েছে, বিক্ষোভের সময় ওই কিশোর পুলিশের একটি গ্রেনেড হাতে তুলে নেওয়ার পর সেটি বিস্ফোরিত হয়। এতে তার একটি হাত ও বাহুর একটি অংশ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।
ঘটনাটি বিক্ষোভের মাত্রা ও পুলিশের সঙ্গে শিক্ষার্থীদের সংঘর্ষ নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে।
এদিকে হাই স্কুল শিক্ষার্থীদের সংগঠনের তথ্য অনুযায়ী, দেশজুড়ে প্রায় দুই হাজার উচ্চবিদ্যালয় অবরুদ্ধ করা হয়েছে অথবা দিনের জন্য বন্ধ রাখতে হয়েছে।
স্ট্রাসবুরের সদ্য উচ্চবিদ্যালয় শেষ করা এবং দেশটির শীর্ষ বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ভর্তি হওয়ার প্রস্তুতি নেওয়া শিক্ষার্থী হুগো ভেটজেল বলেন, “উত্তর যখন সহিংসতা হয়, তখন বোঝা যায় গণতন্ত্র আর কাজ করছে না।”
তিনি আরও বলেন, “অভিজাত শ্রেণি ও আমাদের মধ্যে এত বড় ব্যবধান রয়েছে।”
শিক্ষার্থীদের দাবিতে পদক্ষেপের নির্দেশ বিক্ষোভ পরিস্থিতি সামাল দিতে ফ্রান্সের প্রধানমন্ত্রী সেবাস্তিয়েন লেকর্নু মন্ত্রীদের শিক্ষার্থীদের দাবিগুলো পর্যালোচনা করে পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন।
শিক্ষার্থীদের দাবির মধ্যে রয়েছে পর্যাপ্ত দক্ষতা নেই- এমন শিক্ষকদের পরিবর্তে যোগ্য শিক্ষক নিয়োগ, মধ্যাহ্নভোজের বিরতি দীর্ঘ করা এবং বিদ্যালয়ে প্রতিদিনের ক্লাস ও কার্যক্রমের সময়সূচি পরিবর্তন।
এছাড়া পুরোনো ও জরাজীর্ণ বিদ্যালয় ভবনগুলো সংস্কারের বিষয়টিও সরকার পর্যালোচনা করবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী লেকর্নু। এ বিষয়ে মন্ত্রীদের অক্টোবরের শেষ নাগাদ প্রস্তাব জমা দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
সরকারের এই উদ্যোগের মাধ্যমে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আলোচনার পথ তৈরি হতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে। তবে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বিক্ষোভ ও সংঘর্ষ অব্যাহত থাকায় পরিস্থিতি এখনও উত্তেজনাপূর্ণ।
গ্রেফতার ৬ হাজারের বেশি ফ্রান্সের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, আন্দোলন শুরুর পর থেকে রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত প্রায় ৬ হাজার ১০০ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। গ্রেফতার ব্যক্তিদের অধিকাংশই ১৮ বছরের কম বয়সী।
দেশটির বিচার মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, গ্রেফতারদের মধ্যে ১ হাজার ৮০০ জনের বেশি ব্যক্তির বিরুদ্ধে মামলা বা বিচারিক কার্যক্রম শুরু করা হবে। তাদের মধ্যে ১ হাজার ৪৮৩ জনই অপ্রাপ্তবয়স্ক।
প্রধানমন্ত্রী লেকর্নুর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, বিক্ষোভ চলাকালে অন্তত ২১৫ জন কিশোর আহত হয়েছে। একই সময়ে আহত হয়েছেন ৭১৫ জন পুলিশ সদস্য।
আন্দোলন ছড়িয়ে পড়ায় বাড়ছে চাপ শিক্ষাব্যবস্থার মানোন্নয়ন, শিক্ষক সংকট, বিদ্যালয়ের অবকাঠামো এবং শিক্ষার্থীদের দৈনন্দিন শিক্ষাজীবনের নানা সমস্যা নিয়ে শুরু হওয়া আন্দোলন এখন ফ্রান্সের বিভিন্ন শহরে ছড়িয়ে পড়েছে। বিক্ষোভকারীদের একাংশের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ এবং বিপুলসংখ্যক অপ্রাপ্তবয়স্কের গ্রেফতার পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।
সরকার একদিকে শিক্ষার্থীদের কিছু দাবির বিষয়ে পদক্ষেপ নেওয়ার কথা বলছে, অন্যদিকে সহিংসতা ঠেকাতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উপস্থিতি বাড়িয়েছে। ফলে শিক্ষা সংস্কারের দাবিতে শুরু হওয়া আন্দোলন এখন সরকারের জন্য একই সঙ্গে নীতিগত ও আইনশৃঙ্খলাজনিত চ্যালেঞ্জে পরিণত হয়েছে।
সূত্র: আল-জাজিরা

আপনার মতামত লিখুন